Robbar

রোজনামচা

শোষণ মুক্তির পথ সত্যেন সেন দেখিয়েছিলেন তাঁর গানযাপনে

গত শতকের আটের দশকের সূচনায় শান্তিনিকেতনের গুরুপল্লীতে এক পৌষসন্ধ্যায় নির্বাপিত হল নিভৃত বিপ্লবী সত্যেন সেনের প্রাণপ্রদীপ। কিছু নিকট আত্মীয়স্বজন ছাড়া শান্তিনিকেতনে তাঁর আট বছর অবস্থানের কথা জানবার চেষ্টা করেননি কেউ। অথচ উভয় বঙ্গের কমিউনিস্ট আন্দোলনের, কৃষক আন্দোলনের অন্যতম রূপকার ছিলেন এই অকৃতদার মানুষটি।

→

ছাত্র পড়াতে গেলে তো আর অন্ধের যষ্টি লাগে না!

ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। জন্মাবধি দৃষ্টিহীন। পেশায় শিক্ষক। ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে জড়িয়ে রয়েছেন রামকৃষ্ণ মিশন ব্লাইন্ড বয়েজ অ্যাকাডেমির দৃষ্টিহীন ছাত্রদের শিক্ষাদানের সঙ্গে। জড়িয়ে রয়েছেন পূর্ব ভারতের প্রাচীনতম ব্রেইল প্রেসটির সঙ্গেও। বিশ্ব ব্রেইল দিবস উপলক্ষে তাঁর সঙ্গে কথাবার্তায় উঠে এল দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, মানসিক বিকাশ থেকে শুরু করে বাংলা ভাষায় ব্রেইল ছাপার বহু অজানা ইতিহাস।

→

অন্ধকার জমে জমে গাঢ় হয়েছে দিব্যেন্দু পালিতের গল্পে

তিনি মহাভারতের সঞ্জয়ের উত্তরসূরি, যুদ্ধক্ষেত্রে কী ঘটে যাচ্ছে তার বিশ্বস্ত বর্ণনাই তার কাজ। একেবারে আলাদা, অন্য লিখনরীতি, তবুও বাংলা ছোটগল্পের স্পন্দিত ভুবনে ‘মহেশ’, ‘আদাব’, এমনকী, ‘একটি তুলসী গাছের গল্প’ পাঠক যতটা মনে রাখেন, দিব্যেন্দুর ‘হিন্দু’ ততটা মনে থাকে কি?

→

পুরনো হওয়ার আগেই যে বছর নতুন হয়ে এল, তার জন্য তোলা থাক আশা

আগামী কেমন ভাবে তাদের জীবনে আসবে, তা কেউই জানে না। সবাই আশা করে। আসলে তো সময় বলে কিছু নেই। আছে এক মুহূর্ত থেকে অন্য আরেক মুহূর্তের ব্যবধান। এই ব্যবধানকে আমরা ভুলে গেলেই আর নতুন কোনও বছর আসবে না ক্যালেন্ডারে।

→

লন্ডনের শ্রমিক মিছিলে মার্চিং সং হয়ে উঠেছিল কালী দাশগুপ্তর শেখানো গান

ছোটনাগপুর অঞ্চল থেকে আসা শ্রমিকরা বহন করে এনেছিল তাঁদের আঞ্চলিক ঝুমুর সুরের ঐতিহ্য। সেই সুর আর ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার সুর মিশে সৃষ্টি হয়েছিল এক অন্যরকম লোকসংগীতের ধারা– বাগিচা ঝুমুর। পরম যত্নে কালী দাশগুপ্ত সংগ্রহ করেছিলেন এই নিপীড়িত, বঞ্চিত মানুষদের জীবন সংগ্রামের দলিল।

→

অসম্ভবের সন্ধানী এক সাংবাদিক

জ্যোতিদা চিরদিনই ছিলেন জীবনীশক্তিতে ভরপুর এক নবীন যুবক- বয়স এবং দৃষ্টিহীনতা যাঁকে কোনওভাবে পরাস্ত করতে পারেনি। তাঁর সারা জীবনটাই ছায়াছবির দুর্ধর্ষ দুঃসাহসী নায়কের মতো রোমাঞ্চকর।

→

কলকাতাই নজরুল এবং জসীমউদ্দিনের সঙ্গে মিলিয়ে দিয়েছিল আব্বাসউদ্দিনকে

দীর্ঘ বিশ বছরের বেশি সময় কেটেছে তাঁর কলকাতায়। কলকাতা তাঁকে সব দিয়েছে। বেতারে গান গাওয়ার সাধ পূর্ণ হয়েছে। কলকাতাতেই তিনি সান্নিধ্য লাভ করেছেন তাঁর প্রধান গীতিকার, সুহৃদ, ফ্রেন্ড-ফিলোজফার-গাইড কাজী নজরুল ইসলামের; পেয়েছেন পল্লীকবি জসীমউদ্দিন ও গোলাম মোস্তফাকে।

→

নৌকা থেকে পড়ে গিয়ে জ্যোতিদা বলেছিলেন, আজ স্নানটা ভালো হল

কাঠের নৌকো। নাম ‘মণিমেখলা’। তাতে চড়ে সমুদ্রযাত্রার দুঃসাহসিক পরিকল্পনা চেপেছিল জ্যোতিদার মাথায়। ‘কলকাতা’ পত্রিকা যখন নিয়মিত, আমি রোজ যাচ্ছি, হাতে-কলমে কাজ শিখছি– এক মায়াবী অবিশ্বাস্য বিকেলে তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘ডিঙিনৌকা নিয়ে সমুদ্র অভিযানে যাব মায়া, তুমিও আমাদের সঙ্গে যাবে।’

→

তিনি নিজেই একটা বিশাল জমায়েত

হিন্দি কবি ও কথাকার বিনোদ কুমার শুক্ল গত ২৩ ডিসেম্বর চলে গেলেন। তাঁর যাওয়ার সঙ্গে কাকতালীয়ভাবে জুড়ে গেল আরাবল্লি বাঁচানোর আন্দোলন। প্রকৃতির ওপর শ‍্যেন দৃষ্টির কারণ যে মানুষের সীমাহীন চাহিদা আর প্রাকৃতিক সম্পদের চড়া বাজারদর, সেই কথাটা তিনি আমাদের অনেক দিন আগে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন।

→

জ্যোতির্ময় দত্ত আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর আন্ডারগ্রাউন্ডের ডেরায়

প্রয়াত সাংবাদিক, কবি, কিংবদন্তি পত্রিকা ‘কলকাতা’র সম্পাদক জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁকে নিয়ে স্মৃতিলিখন তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের। জ্যোতির্ময় দত্তর অনুরোধে, তাঁর ‘কলকাতা’ পত্রিকাতেই হয়েছিল গদ্যের হাতেখড়ি হয়েছিল তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

→