একটা পাত্রে অনেকগুলো গোটা গোটা লঙ্কা ছিল। সাহেব সেগুলো কী জিজ্ঞেস করতেই স্বামীজি বললেন, ‘এগুলো ভারতীয় কুল’– বলেই ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। স্বামী বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকীতে রোববার.ইন-এ বিশেষ নিবন্ধ।
মণীন্দ্র গুপ্তের মৃত্যুশোক সহ্য করতে করতে দেবারতি এই বিশ্বাসে চিরকাল স্থির থেকেছেন, তিনি আছেন। কেননা, দেবারতি আছেন বলেই মণীন্দ্র আছেন। সারদা আছেন বলেই রামকৃষ্ণ আছেন। পার্বতী আছেন বলেই শিব আছেন। সবাই অখণ্ড। সবই অখণ্ড। শিব-পার্বতীর যুগলকে মেনে রামকৃষ্ণ-সারদার বিবাহ তাই দেবারতির কাছে কবিতা।
তাঁর জীবৎকালের শেষদিন পর্যন্ত মাধব গাডগিল সোচ্চার ছিলেন ভারতের প্রতিটি অংশের পরিবেশ, জীববৈচিত্র ও তার ওপর স্থানীয় প্রান্তিক মানুষের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করতে। মুনাফালোভীদের উন্মত্ত ধ্বংসলীলায় আজ বিপন্ন এ সময়ে মাধব গাডগিলের নির্ভীক কণ্ঠ বয়সোচিত কারণে স্তব্ধ হল। এবার তাঁর পতাকা তুলে নেওয়ার দায়িত্ব বয়ঃকনিষ্ঠ অনুগামীদের।
বেলা তারের ‘দ্য তুরিন হর্স’-এর প্রথম ৭ মিনিট ৪০ সেকেন্ডেই ধরা পড়ে তাঁর সমগ্র সিনেমার দর্শন। নিৎসের ঘোড়ার কিংবদন্তি থেকে শুরু হয়ে ক্যামেরা, শব্দ ও নৈঃশব্দ্যের মধ্য দিয়ে খুলে যায় এক নির্দয় বাস্তবের দরজা। আন্দ্রেই তারকোভস্কির স্বপ্নদৃশ্য থেকে বেলা তারের শেষ সিনেমা– দু’টি ছবির মধ্যে যেন রয়েছে এক অমোঘ আলোকসেতু।
আজ নৃত্যশিল্পী, গুরু কেলুচরণ মহাপাত্রর শতবর্ষ। একজীবনে বহুবার নৃত্যের প্রকরণ গড়েছেন, ভেঙেছেনও। বিশ্বাস করেননি নেপোটিজমে। তাঁর শিল্পের হকদার শুধু পুত্র, পুত্রবধূতে আটকে নেই। ওডিসি নৃত্যকে এত জনপ্রিয় করে তোলার নেপথ্যে তো তিনিই!
প্রকৃতি পঙ্গু করেছে তাঁর দেহকে, কিন্তু থামাতে পারেনি তাঁর মনন। বিশ্বের নবম আশ্চর্য– একটি স্টেলার অ্যাচিভমেন্ট ফর আস ফ্র্যাজাইল হিউম্যানস। এই ইমেজটা বিবিসি ইন্টারভিউ হোক বা সংবাদমাধ্যমে– চালানো হচ্ছিল, মানুষ খাচ্ছিলেন। শুধু কি হকিং জনপ্রিয় পপুলার সায়েন্স লেখক, ধূর্ত ইমেজ বিক্রেতা, না সত্যিই মহাবিজ্ঞানী?
জপমালার প্রতিটি দানা শরচ্চন্দ্র ব্যবহার করতেন পথ মাপার জন্য। প্রতি ১০০ কদম হাঁটার পর তিনি একটি করে দানা সরাতেন। তাঁর প্রার্থনাচক্র বা জপযন্ত্রের ভেতরে পবিত্র মন্ত্রের বদলে লুকনো থাকত কম্পাস এবং জরিপের মানচিত্র। এমনকী তাঁর লাঠির খোপে লুকনো থাকত থার্মোমিটার।
গত শতকের আটের দশকের সূচনায় শান্তিনিকেতনের গুরুপল্লীতে এক পৌষসন্ধ্যায় নির্বাপিত হল নিভৃত বিপ্লবী সত্যেন সেনের প্রাণপ্রদীপ। কিছু নিকট আত্মীয়স্বজন ছাড়া শান্তিনিকেতনে তাঁর আট বছর অবস্থানের কথা জানবার চেষ্টা করেননি কেউ। অথচ উভয় বঙ্গের কমিউনিস্ট আন্দোলনের, কৃষক আন্দোলনের অন্যতম রূপকার ছিলেন এই অকৃতদার মানুষটি।
ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। জন্মাবধি দৃষ্টিহীন। পেশায় শিক্ষক। ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে জড়িয়ে রয়েছেন রামকৃষ্ণ মিশন ব্লাইন্ড বয়েজ অ্যাকাডেমির দৃষ্টিহীন ছাত্রদের শিক্ষাদানের সঙ্গে। জড়িয়ে রয়েছেন পূর্ব ভারতের প্রাচীনতম ব্রেইল প্রেসটির সঙ্গেও। বিশ্ব ব্রেইল দিবস উপলক্ষে তাঁর সঙ্গে কথাবার্তায় উঠে এল দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, মানসিক বিকাশ থেকে শুরু করে বাংলা ভাষায় ব্রেইল ছাপার বহু অজানা ইতিহাস।
তিনি মহাভারতের সঞ্জয়ের উত্তরসূরি, যুদ্ধক্ষেত্রে কী ঘটে যাচ্ছে তার বিশ্বস্ত বর্ণনাই তার কাজ। একেবারে আলাদা, অন্য লিখনরীতি, তবুও বাংলা ছোটগল্পের স্পন্দিত ভুবনে ‘মহেশ’, ‘আদাব’, এমনকী, ‘একটি তুলসী গাছের গল্প’ পাঠক যতটা মনে রাখেন, দিব্যেন্দুর ‘হিন্দু’ ততটা মনে থাকে কি?
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved