

‘ডন থ্রি’র ক্ষেত্রে রণবীর সিংয়ের সরে যাওয়া, শুটিং শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে নেওয়া সেই সিদ্ধান্ত– সব মিলিয়ে গুরুতর একটা প্রশ্ন মাথাচাড়া দেয়– অভিনেতা কি সিনেমার কর্মী? শিল্পী? অংশীদার? না কি নিজের ব্র্যান্ডের মালিক, যাঁর ইচ্ছে হলে কোনও প্রকল্পে ঢুকবেন, ইচ্ছে হলে বেরিয়ে যাবেন? এই যা-ইচ্ছে-তাই প্রশ্ন ধরে এগলেই, বলিউডের অস্বস্তিকর পরিবর্তন চোখে পড়বে ঠিক।
নোলানের দুয়ারে দর্শক অতিথি, তিনি জানেন না তিনি যা পরিবেশন করছেন, তা থেকে দর্শক কী গ্রহণ করবে? কোনটাকে বড় করে দেখবে? হিংসাকে না আত্মোপলব্ধিকে? সমস্তরকম সম্ভাবনা সত্ত্বেও তিনি আতিথেয়তায় কোনও ত্রুটি কিন্তু রাখেননি।
‘Palermo Shooting’ এবং ‘Blow-Up’ চলচ্চিত্র– দুই নিরাসক্ত আলোকচিত্রীর জীবন নিয়ে। ফটোগ্রাফির যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য উভয়েই মরিয়া। দিনের পর দিন, একই রকমের ছবির ভিড়ে, তারা আর নিজেদের অস্তিত্ব খুঁজে পাচ্ছে না। আমাদের সকলের মতো: তাদেরও কাঙ্ক্ষিত: মুক্তি।
ট্যাক্সি ড্রাইভারের ট্রাভিস আমাদের নিজেদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। কোনও এক গভীর রাতে, শহরের আলো পেরিয়ে কোনও ট্যাক্সির রিয়ার-ভিউ মিররে তাকালে সেখানে আমরা শুধু ট্রাভিস বিকলকে দেখি না– নিজেদেরও দেখি। দেখি নাগরিক জীবনের একাকিত্বকে।
প্রবল ঝড়বাদলের এক রাতে উমাকে পাওয়া যায় তার স্বামী বৃদ্ধ বটগাছটির সঙ্গে। এক মাথা সিঁদুর, দু’ চোখের পাতা খোলা। প্রতিবন্ধী উমা, সহমরণে যাওয়াই যার জন্য সম্মানের হত বলে ভেবেছিল প্রতিবেশীরা, এই মৃত্যু কি তাদের মানসিক প্রতিবন্ধকতা থেকে মুক্তি দেয়?
মৃত্যু। তার সঙ্গে একদান। দাবায়। এ দৃশ্য তৈরি করেছিলেন বার্গম্যান। মৃত্যু কি এতই সহজ? এতই সহজ তার সঙ্গে সংলাপ? মৃত্যুর সৌন্দর্য ও ভয়াবহতার মিশেলে গড়ে উঠেছিল চলচ্ছবির এক নতুনতর ভাষ্য। বার্গম্যানের জন্মদিনে রইল তাঁর ছবির মৃত্যুর দর্শন।
‘ব্যাকরুমস’ আদতে আমাদের ব্রেন। এবং এর ভিতরে থরে থরে ছড়িয়ে থাকা আসবাবগুলো অবহেলায় পড়ে থাকা আমাদের স্মৃতিচিহ্ন।
ভেঙে টুকরো হয়ে যাওয়া দুটো দেশ। দুটো মন। দুটো আত্মা। অসংখ্য কাঁটাতার পেরিয়ে। রক্ত পেরিয়ে। যন্ত্রণা পেরিয়ে। একে অপরের কাছাকাছি আসে। তাকায়। মুহূর্ত চলে যাওয়ার আগে বিদায়ের অনুমতি চায়।
মৃত্যুর পাশে দীর্ঘ সময় কাটালে মানুষের ভিতরে অদ্ভুত পরিবর্তন আসে। প্রথমে ভয় লাগে। তারপর অভ্যেস হয়। তারপর একসময় মৃত্যু আর ভয়ের বিষয় থাকে না, বরং প্রশ্নের বিষয় হয়ে ওঠে। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই হয়তো আমি বারবার ফিরে গিয়েছি বেনারসে।
১৯৮৫ সালের ৯ জুন ‘পরমা’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল। একটি আদ্যন্ত বাঙালি উচ্চবর্ণ, উচ্চবিত্ত পরিবারের বিবাহিত নারীর কাহিনি। কিন্তু নারীর অস্তিত্ব, নারী-জীবনের বাস্তবতা ও পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রে বাস করা নারীকে যে হেনস্থা-হিংসার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়, কেবলমাত্র সিকিভাগ স্বাধীনতার জন্য, সেই ক্যানভাস আজকের ভারতে এতটুকু পুরনো হয়নি।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved