

সম্প্রতি হিমাচল প্রদেশের পর্যটনের আঁতুর মানালি সোশাল মিডিয়ায় আলোচনার গোলটেবিলে। তবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, বরং তা চর্চায় উঠে এসেছে সেখানকার পাবলিক প্লেসে একটি ফোন চার্জিং সেন্টার, কীভাবে, কয়েক ঘণ্টায় আবর্জনাময় স্পটে পরিণত হল, সেই কারণে।
হঠাৎ পেচ্ছাপ কেন? তাহলে বলি। অ্যামাজনের বিভিন্ন ওয়্যার-হাউসে কর্মরত যে-সমস্ত শ্রমিক, যারা এ-সমাজে উৎপাদন-ক্ষম, প্রত্যেককে দেওয়া হয়েছে ছোট একটি বোতল। বাথরুম ব্রেক বলে আর কিছু নেই। যদি পেচ্ছাপ পায়, সেরে নিতে হবে বোতলেই।
সাধারণ ছবি এআই-এর সাহায্যে বদলে যাচ্ছে খানিক রঙিন, খানিক অসমান হাতে আঁকা অবয়বে। অ্যালগরিদম বা প্রম্পট এমনভাবেই বানানো হয়েছে যাতে করে প্রতিটি জেনারেটেড ইমেজেই থাকে শিশুসুলভ অসম্পূর্ণতার ছাপ। নিখুঁত, পরিপাটি ডিজিটাল ছবির ভিড়ে এই খানিক এলোমেলো চেহারা যেন অনলাইন দুনিয়ায় সতেজ হাওয়া বইয়ে দিয়েছে।
ভাড়াটে ভোটার, মাইগ্রেটেড, ডুপ্লিকেট, সংখ্যালঘু, মৃত, অবৈধ অনুপ্রেশকারী, কতরকমের অ্যালিগেশন! কাল দেখলাম একজন লিখেছেন, প্রচুর মেয়ের নাম বাদ এবারের ভোটে। বোঝো! সংখ্যালঘু আর মহিলাদের কেন যে সরকার এমন যমের মতো ভয় পায়, কে জানে!
২০১৪ লোকসভা ভোটে ‘বার্জার’ রঙের বিজ্ঞাপন– দেওয়াল জুড়ে ‘ক্রাইম’, ‘কোরাপশন’, ‘রেপ’-এর মতো নানা শব্দ লেখা; তারপরই ‘বার্জার’ রঙের পক্ষ থেকে বক্তব্য: ‘দেশ থেকে এই দাগ উঠুক না-উঠুক, বার্জার ইজি ক্লিন দিয়ে এই দাগ সহজেই উঠে যাবে।’ কিংবা ‘পাওয়ার’ কোম্পানির পাখার বিজ্ঞাপনী বার্তা– “জনগণের অবিসংবাদী প্রার্থী ‘পাওয়ার ফ্যান’কে নিশ্চিন্তে আপনার ভোটটি দিন।”
আমরা কোনওদিনই গরিব, বস্তিবাসীদের ঠিক আমাদের সমতুল্য মানুষ ভাবিনি, ভাবি না। তার ওপর সেই মানুষদের কেউ যদি ধর্মে মুসলমান হন, তাহলে তো কথাই নেই! আমরা ধরেই নিই, মুসলমান মানেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী!
আপাতদৃষ্টিতে এমন ভিত্তিহীন মন্তব্য তাচ্ছিল্যের সঙ্গে উড়িয়ে দেওয়াই যেতে পারে। কিন্তু যেখানে প্রধানমন্ত্রী এ-কথা বলছেন এবং ‘দেশবিরোধী’– এই শব্দচয়ন করছেন, তখন বুঝতে হবে, এর নেপথ্যে সুচতুর একটি রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে।
খাদ্য সংস্কৃতিকে বাঙালির ‘পরিচয়’ হিসেবে যাঁরা ভেবে, খাদ্যরুচিতে অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন, তাঁদের জানা দরকার ‘খাদ্য সংস্কৃতি’কে আত্মপরিচয় মনে করা বাঙালি অনেকটাই একই শ্রেণির। গরিব, ক্ষুধার্ত মানুষের কোনও খাদ্যসংস্কৃতি নেই। কিন্তু ভোট আছে।
সব রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে উন্নত হাসপাতালকেন্দ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থার কথাই বলা হয়েছে। অথচ স্বাস্থ্য তো শুধু রোগ নিরাময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
এই সংকটের সমাধান শুধু সরকারি হস্তক্ষেপ বা ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিলে মিলবে না; প্রয়োজন চাষি ও সরকার– উভয়পক্ষের সদিচ্ছা ও সচেতনতা।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved