

মোহন ভাগবতের সঙ্গে জেন জি-র সরাসরি কথোপকথনকে শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ কিংবা আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি বলে দেখলে হয়তো পুরো ছবিটা ধরা পড়বে না। এর মধ্যে হয়তো রয়েছে আরও অনেক দীর্ঘমেয়াদি প্রশ্ন। সেই প্রশ্নগুলোর মধ্যে অন্যতম– জেন জি কি আদৌ সংসদীয় রাজনীতির অংশ হতে ইচ্ছুক?
ভূমিকম্প শুরু হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শেল্টারে পৌঁছতে হয় জাপানে। কিন্তু পোষ্য শিরো আর কু-কে ফেলে রেখে একা শেল্টারে যেতে পারেনি মেয়েটি। তাদের নিয়ে সারারাত গাড়িতে কাটিয়েছে। কেন? কারণ পোষ্য হল পরিবার। সত্যিই কি পোষ্য কখনও পরিবার হয়ে উঠতে পারে?
নাসিরুদ্দিন শাহ জীবনকৃতি সম্মান পুরস্কার গ্রহণে অসম্মতি জানিয়েছেন। কেন? উত্তর সহজ, একজন অভিনেতার সফর কখনও ফুরয় না। সেই কাজ আমৃত্যু করে যেতে হয়। এমনই নিয়তি। তাই নাসিরুদ্দিন বিশ্বাস করেন, তাঁর কেরিয়ার এখনও শেষ হয়নি।
অসমের বন্যার কারণ অনুসন্ধান করতে গেলে শেষপর্যন্ত আমাদের ব্রহ্মপুত্রকে বুঝতে হয় শুধু একটি নদী হিসেবে নয়, বরং হিমালয় থেকে বঙ্গীয় বদ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি জীবন্ত, পরিবর্তনশীল ভূ-প্রাকৃতিক ব্যবস্থা হিসেবে। নদীকে আটকানোর চেয়ে নদীকে বোঝা, তাকে প্রয়োজনীয় স্থান দেওয়া এবং তার পরিবর্তনশীলতার সঙ্গে মানুষের জীবনকে অভিযোজিত করাই অসমের দীর্ঘমেয়াদি বন্যা মোকাবিলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ।
আমেরিকার যে কৃষি-মডেলের ফাঁসে বিপর্যস্ত সেখানকার কৃষকদের জীবন, সেই কর্পোরেট মডেল ভারতের মতো দেশে ক্ষুদ্র কৃষকদের আদৌ কি আশার আলো দেখাতে পারবে? বরং আমেরিকার নীতি থেকে শিক্ষা না নিয়ে সেই একই কর্পোরেট-নির্ভরতার পথে হাঁটলে তা ভারতীয় কৃষকদের জন্য ডেকে আনতে পারে ঋণের মরণফাঁদ।
বিক্ষোভ-বিদ্রোহের কোনও শীর্ষচূড়া হয় না, যেখানে পৌঁছে গেলেই লিখে ফেলা যায় ‘We won’। জয়ের জন্য এই পৃথিবীতে কোনও বিদ্রোহ বোধহয় আয়োজিত হয়ও না। বিরুদ্ধাচরণ এক ধরনের যাত্রা, যা শুধু দাঁড়িয়ে থাকে শাসককে প্রশ্ন করার মধ্যে দিয়েই। সেই ইতিহাস যতখানি লিখিত নথি, ঠিক ততখানিই জরুরি সেই ইতিহাসের ছবি।
গাজায় নতুন করে শুরু হয়েছে মৌ-পালন। ধ্বংসের মধ্য দিয়ে যাত্রা। মৌমাছি উড়ছে। কিছু ফুল এখনও অবশিষ্ট আছে। ফুলেরা একবার মৌমাছিকে অথবা মৌমাছিরা ফুলকে একবার খুঁজে পেলে বানচাল হয়ে যাবে তামাম এই যুদ্ধের দলিল। মাটি ফাটিয়ে সমস্ত সীমানা ঘুচিয়ে তারা আবার ফিরিয়ে আনবে সবুজ। আবার প্রাণ। আবার সেই এক জীবনীশক্তি, যার অধীনে ক্ষুদ্র মানুষের জন্ম।
উত্তরপ্রদেশের এক ব্যক্তির ফ্রিজের মধ্যে বরফ জমে শিবলিঙ্গের মতো হয়ে আছে– যা অনেকটা অমরনাথের মতো দেখতে। তা নিয়ে শুরু হয়েছে পূজা-অর্চনা-ভক্তিগীতি। আমাদের দেশের শিক্ষা, বিজ্ঞানচেতনা আর যুক্তিবাদী ধারণা ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু। এরপরেও এদেশে সোনাম ওয়াংচুকের মতো মানুষেরা শিক্ষার জন্য আন্দোলন করেন!
১ সেপ্টেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গের সর্বস্তরে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক ও কার্যকর হতে চলেছে। শুভ উদ্যোগ। যদিও এ উদ্যোগ আগেও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে ভাষার কোনও উন্নতি হবে কি? বাংলা ভাষা নিয়ে পড়াশোনা করা ছাত্রটির ভবিষ্যৎ কি সুনিশ্চিত হবে?
সোনাম ওয়াংচুক। আজ তাঁর অনশনের ২০তম দিন। তিনি ক্ষুধার্ত নন, ক্ষুব্ধ। তাঁর শরীরের ক্ষয়, আসলে রাষ্ট্রের পরীক্ষা।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved