

কী আশ্চর্য! সাপকে আমরা দেবতার আসনে বসিয়েছি আবার সেই দেবতাই সর্পবিষহরা, বিষের চিকিৎসা করেন। মনসা হোক বা লোকদেবী ঝাঁকলাই, সকলেই আসলে একাধারে সাপ ও ওঝা। বিষ ও বিষের ওষধি।
সমাজের ওপর অভিমান থেকেই প্যারিসের নৈশজীবনের নেশায় মেতে উঠেছিলেন পৌনে পাঁচ ফুটের তুলুস-লোত্রেক, তাঁর দানবীয় প্রতিভা আর যৌনখিদে নিয়ে। মূলত মুলারুজের পোস্টার এঁকে এমন প্রসিদ্ধি এবং বাণিজ্যিক সাফল্যে পৌঁছন তিনি যে, ইউরোপীয় শিল্পের রূপকথায় তিনি এক অনন্য রাজকুমার।
‘গীতা পাঠের চাইতে ফুটবল খেলা ভালো’– এই বাণী অবশ্য স্বামী বিবেকানন্দের মুখে মানায়। কারণ, নরেন্দ্রনাথ দত্ত বেশ ডাকাবুকো। খেলাধুলোয় পারঙ্গম। স্বভাব আমুদে। রবীন্দ্রনাথ বিবেকানন্দের মতো খেলা-পারঙ্গম ছিলেন না। কুস্তি তাঁকে শিখতে হয়েছিল। শরীরের কাঠামোও চমৎকার। তাঁর ব্রহ্মচর্যাশ্রমে খেলাধুলোর বিশেষ গুরুত্ব ছিল।
মিসিং ভাষার লেখাপত্র প্রকাশের প্রতিষ্ঠানের অভাব। মিসিং সাহিত্য মূলত মৌখিক আর লিপিও কোনও নির্দিষ্ট রূপ পায়নি। মিসিং জনজাতির অধিকাংশ শিক্ষিত মানুষ অসমিয়া ভাষা ব্যবহার করতেন কারণ সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যম ওটিই। জীবন নরহের উদ্যোগেই মিসিং কথন সাহিত্য সারা ভারতে পোঁছেছিল।
শুষ্ক মরুভূমির অভিশাপ কাটিয়ে কীভাবে আজ শস্য-শ্যামল হয়ে উঠল রাজস্থানের এক প্রান্তের নেমি? সরকারি নথিতে যা আজও ‘নেমি-ডেসার্ট’! ভোলবদলের নেপথ্যে আছে যে স্বপ্ন আর পরিশ্রম– সেই লড়াইয়ের কথা আজও কেন পাহাড় ডিঙিয়ে পায়ে হেঁটে বলে চলেন চরণদাস বাবা?
যে রবীন্দ্রনাথ সারাজীবন প্রথার অনর্থক খাঁচাগুলি ভাঙতে ভাঙতে চলেছেন, মার্কা দেওয়ার সংস্কৃতিকে নস্যাৎ করতে চেয়েছেন– তাঁরই রচিত আশ্রম ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁরই গানের আত্মাকে আড়াল করেছে অনুষঙ্গের ভার। আর এভাবেই ‘রাবীন্দ্রিক’ শব্দটি ক্রমশ দূরে সরে গিয়েছে স্বয়ং এবং সমগ্র রবীন্দ্রনাথের থেকে!
কথাগুলো নিয়ে আমি এত গভীরভাবে ভাবছিলাম যে, চুপ করে গিয়েছিলাম বহুক্ষণ। কিছুক্ষণ আর কোনও শব্দ নেই। সামনে শুধু অন্তহীন জলস্রোত মৃদু শব্দ তুলে বয়ে যাচ্ছে। কৈলাশহর থেকে ফিরে এলাম। ফিরে এলাম আমতলির মুকুরটিলার সেই নিভৃত ঘরটিতে।
প্রাচীনকালে সর্পচিকিৎসায় জলের ব্যবহার করা হত। একালের বিচারে এর নাম ‘হাইড্রোথেরাপি’। একইভাবে আয়ুর্বেদ অনুসারে মারণব্যাধি মসূরিকা বা বসন্তরোগের চিকিৎসায় জলের মাধ্যমে শীতলীকরণ থেরাপির ব্যবহার করা হত। শীতলাদেবীর নামকরণটি এই শীতলতা থেকেই এসেছে।
ফরসা নয় কালো। ‘দ্য ওডিসি’-তে এভাবেই হেলেন এবং এবং ক্লিটেমনেস্ট্রাকে ভেবেছেন পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান। চরিত্রের সেই ভার বহনের জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন অভিনেত্রী লুপিটা নিয়ং’ও-কে। সেই ছকভাঙা ভাবনার নেপথ্যে কোন ভূমিকা পালন করেছে নোলানের লেখার টেবিল?
পূর্ণেন্দুদা বইয়ের ছাপাছাপি নিয়ে খুঁতখুঁতে ছিলেন। তবু নিজের লেখা বা বইয়ের নাম ভুল ছাপা হওয়ায় তাঁকেই সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বিত হতে হয়েছে বলে শুনেছি। প্রথম উপন্যাসের বিজ্ঞাপনে না কি ‘দাঁড়ের ময়না’ ছাপাখানার ভূতের কারসাজিতে ‘দাঁতের ময়লা’ ছাপা হয়েছিল।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved