Robbar

পাঁচমিশালি

বন্দে মাতরম্‌-এ ভাষা যা হইলেন

ভবানন্দ গাইছিল দেবভাষায়, যেন স্তবগীতি। আন্দাজ করি, আরাধ্যার রূপ-মাধুর্য বর্ণনার পরে তার কণ্ঠ ক্রমশ উদ্দীপনার তীব্রতায় আচ্ছন্ন হয়ে উঠেছিল, ‘সপ্তকোটিকণ্ঠকলকলনিনাদকরালে–’; হঠাৎ নেহাৎ প্রাকৃতভাষায় বালকোচিত অনুযোগে সে আত্মধিক্কার ব্যক্ত করে বসে– ‘অবলা কেন মা এত বলে?’ স্তোত্র নেমে আসে স্লোগানে। দার্শনিকের অধ্যাত্ম সশস্ত্র বিপ্লবের উপযোগী হয়ে ওঠে।

→

চক্ষে আমার তৃষ্ণা

যোগেন চৌধুরী তাঁর ছবিতে কবিতার স্পর্শ নিয়ে এলেও, বিশেষত নারীদের চোখে, এইসব নারীচরিত্র সৃষ্টিতে অনেক বেশি বাস্তব ও প্রাণবন্ত। তাঁর নারীরা রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলার নারীদের চেয়ে অনেক বেশি ‘রক্তমাংস’-এর!

→

সমুদ্র আঁকড়ে বেঁচে থাকা কোলিদের কি আমরা ক্লাইমেট রিফিউজি বানিয়ে দেব?

আজ থেকে ৮০০ বছর আগে একটা জনগোষ্ঠী পরিব্রজন করেছিলেন তাঁদের অসাধারণ সামুদ্রিক দক্ষতা ও জ্ঞান নিয়ে। তারপর তাঁরা শুধু মন দিয়ে সেই পেশাতেই নিযুক্ত থেকেছেন। আজ হঠাৎ সেই পেশা ছেড়ে তাঁরা কোথায় যাবেন? কী করবেন আগামী দিনে? তাঁরা কি এত বছরের প্রকৃতিলব্ধ জ্ঞান, ভাষা, সংস্কৃতি হারিয়ে ফেলবেন?

→

এক বঙ্গ মহিলার জাপান যাত্রা

১৯১২-র পয়লা নভেম্বর ইয়েটস-এর ভূমিকা-সহ রবীন্দ্রনাথের নিজের করা ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হচ্ছে ‘দ্য ইন্ডিয়া সোসাইটি’ থেকে। আর এই নভেম্বরেই বাংলাদেশের ঢাকা শহরে প্রায় নীরবে ঘটছে এক অভূতপূর্ব ঘটনা। এই শহরের এক ২২ বছরের বাঙালি তরুণী তাঁর জাপানি স্বামীর সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির দেশ দেখবেন বলে রওনা দিচ্ছে জাহাজে। তরুণীর নাম হরিপ্রভা।

→

রিমি বিশ্বাসের মুঠোজগৎ

গোটা গোটা করে পরিষ্কার হাতের লেখায় ছ’টি শব্দ লেখে সাদা পাতায়। বাংলায়। পরের লাইনে ইংরেজিতে। ফের ছ’টি শব্দ। কারণ সে বিপদে ফেলতে চায় না বিম্বিসারকে,... যশোময়কে,... তার পরিচিত কাউকে।

→

‘অমানুষ’ ছবি দেখে উচ্ছ্বসিত দর্শকরা শক্তি সামন্তকে কাঁধে তুলে নিয়েছিল

নকশাল আতঙ্কের মধ্যে প্রাণের ভয়ে মুম্বই চলে গিয়েছিলেন উত্তমকুমার। সেখানেই আলাপ হয় শক্তি সামন্তর সঙ্গে। শক্তি তাঁকে নিয়ে বানান ভারতের প্রথম বাই-লিঙ্গুয়াল ছবি ‘অমানুষ’। হিন্দি ধাঁচে বানানো এই ছবি বাঙালি কতটা পছন্দ করবে, তা নিয়ে সংশয় ছিল পরিচালকের। কিন্তু ঘটল সম্পূর্ণ বিপরীত।

→

এঁদো এলাকাকে আকর্ষণীয় দিঘায় পরিণত করেছিলেন এক সাহেব

যতদিন দিঘা থাকবে, ততদিন দিঘার সমুদ্রতটে প্রতিটি ঢেউয়ের ছোঁয়ায় লেখা হবে জন স্নেইথের নাম। দিঘার স্থপতি থেকে যাবেন তাঁর প্রাণপ্রিয় সমুদ্র-সৈকতে।

→

‘গোমাতার সন্তান’ বনাম স্বামী বিবেকানন্দ!

এই বাংলায় সেই কোন কালে জয়রামবাটি নামের এক অজ পাড়া-গাঁয়ে সারদামণি নামের এক বামুনের বিধবা আমজাদ নামের এক মুসলিম জোলার এঁটো পাত কুড়িয়ে তাঁকে সন্তানের সম্মান দিয়েছিলেন, এই কথাটি ভুলে গেলে চলবে?

→

অস্তিত্বের সংকটে পেপারব্যাক বিপ্লবের আদিপুরুষ

দূরপাল্লা আর বই, এককালে সমান্তরালে চলত। জানলার পাশে আলগা আলোয়, ফুরিয়ে যেত কত ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনি, কত রহস্য় উদ্ধার হত স্টেশনের পর স্টেশন পেরিয়ে গেলে। বই ও ভারতীয় রেলের সম্পর্কটি দূরসম্পর্কের নয়, তারা ছিল নিকটবন্ধুই। এ এইচ হুইলার সেই বন্ধুত্বের প্রমাণ। ক্রমশ নানা সরকারি নীতিতেই রেলস্টেশন থেকে হারাচ্ছে বইয়ের দোকানগুলি, অথচ ‘ইন্ডিয়ান রেলওয়ে লাইব্রেরি সিরিজ’ নামে বেশ কিছু বই ছাপা হয়েছিল এককালে। পেপারব্যাক বিপ্লবের সেই আদিপুরুষ, এ এইচ হুইলার হয়তো হারিয়েই যাবে চিরতরে। হুইলারের সার্ধশতবর্ষের গোড়ায়, সেই ইতিহাস ফিরে দেখা, আজকের দৈন্য সময়ের ক্লান্ত বিশ্লেষণ।

→

প্রাচীন বঙ্গের নদীরূপা সরস্বতী পাড়ের কথা

হুগলি নদী থেকে উৎপন্ন সরস্বতী আরও দক্ষিণে প্রবাহিত হয়েছে। এই প্রবাহপথে নদীকে ঘিরে আছে পৌরাণিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সব স্থান। সরস্বতী নদীর পাড়ে হুগলির চণ্ডীতলা। চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে ধনপতি সওদাগরের কথা জানা যায়। শোনা যায়, তাঁর পুত্র শ্রীমন্ত সওদাগর বাণিজ্যের কারণে সরস্বতী নদী পথে নৌকায় হুগলি নদী পেরিয়ে সমুদ্রযাত্রা করতেন। যাত্রাপথে চণ্ডীতলায় দেবী চণ্ডীর ঘট স্থাপন করে পুজো করেন। সেইস্থানে মন্দির নির্মাণ করে দেন।

→