Robbar

সাম্প্রতিকী

গড় হিন্দু বাঙালির বাংলাদেশ ঘৃণা ভোটের আবহে কব্জা করতে চাইছে হিন্দুত্ববাদীরা

নিপুণ রাজনৈতিক কৌশলে বাঙালি আর বাংলাদেশী, পরিযায়ী শ্রমিক আর উদ্বাস্তু, বাংলাদেশী আর অনুপ্রবেশকারী, এসআইআর আর নাগরিকত্ব– প্রত্যেকটা বিষয়কে একেবারে ঘুলিয়ে-ঝালিয়ে একসা করে দেওয়া হল, যার নিট ফল– মানুষ দিশেহারা, বিভ্রান্ত, আতঙ্কিত। এই ‘আতঙ্ক’-ই ভোটের বাক্সে কেরামতি দেখাবে বলে বিজেপির বিশ্বাস?

→

‘দীপক কুমার’কে যে কারণে ‘মহম্মদ দীপক’ হতে হল!

যখন চারিদিকে এই ঘৃণার পরিবেশ, যখন আমাদের চেনা শহরেও চিকেন প্যাটিস বিক্রি করার অপরাধে হেনস্তা হতে হচ্ছে, যখন একটি কলকাতার বিখ্যাত রেস্তরাঁতে একজন মুসলমান বেয়ারাকে, একটি অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য তাঁর ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ শুনতে হচ্ছে তখন উত্তরাখণ্ডের ‘মহম্মদ দীপক’ যেন রূপকথার চরিত্র হিসেবে সামনে আসছেন।

→

ইফেল টাওয়ারে পুরুষদের পাশাপাশি জায়গা পেলেন মহিলারা

শেষপর্যন্ত তাঁদের চার বছরের লড়াইটা জিতেই গেল লাসোসিয়াসিও ফাম এ সিয়ঁস (উইমেন অ্যান্ড সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন)। এবারে প্যারিসের ইফেল টাওয়ারে খোদিত ৭২ জন নামী পুরুষের নামের পাশে থাকবে ৭২ জন বিশিষ্ট নারীর নামও।

→

ছিল নেই, মাত্র এই

শেষমেশ রাত ৯টার ঘণ্টাধ্বনি। একযোগে হাততালি। স্টল থেকে রাস্তায় নেমে আসা। চারপাশ দেখে নেওয়া, চারপাশের মধ্যে আকাশের পতনোন্মুখ চাঁদটিও পড়ে। চোখ ছলছল। হাতে হাত, জড়িয়ে ধরা। বন্ধুবান্ধব, অর্ধপরিচিত-অপরিচিতর দিকেও কয়েক পলক বাড়তি দৃষ্টি। মলিন হাসি। বারেবারে আর আসা হবে না। ওই যে অলীক বন্ধুত্ব দিয়ে শুরু হয়েছিল বইপত্রিকা, প্রকাশন– হয়তো প্রকাশন আর নেই, বন্ধুত্বও– তবুও আলিঙ্গন, তবু কিছু মায়া রয়ে গেছে।

→

বইমেলায় ভূতের কেত্তন

বইমেলার আনাচেকানাচে পেত্নী, ব্রহ্মদৈত্য, ভূত-মুখোশ পরে উদ্দাম নাচ– ভয়াল, ভয়ংকর, আতঙ্ক, অঘোরী, পিশাচ, বই, বাণিজ্য, বিপণনে মিলে মেলার মাঠে এক্কেবারে কুম্ভীপাক! অজানার উদ্দেশে বাঙালির দুর্মর আকর্ষণ বরাবরই। আবার মোচ্ছবেও বাঙালির বেজায় আগ্রহ। সেই পথ ধরেই বীভৎস রস ক্রমে আসিতেছে।

→

‘গোমাতার সন্তান’ বনাম স্বামী বিবেকানন্দ!

এই বাংলায় সেই কোন কালে জয়রামবাটি নামের এক অজ পাড়া-গাঁয়ে সারদামণি নামের এক বামুনের বিধবা আমজাদ নামের এক মুসলিম জোলার এঁটো পাত কুড়িয়ে তাঁকে সন্তানের সম্মান দিয়েছিলেন, এই কথাটি ভুলে গেলে চলবে?

→

বইমেলার বিবিধ কৌতুকী

এক ফোক্কড় যুবককে গীতা বেচতে এসেছিলেন এক টিকি-রসকলি ভক্ত-সেলসম্যান। যুবকের চটজলদি উত্তর: ‘হরেকৃষ্ণ, আমি সিপিয়েম করি’ এবং পলায়ন। আরেক জন, ৫৫০ নম্বরে আদমের স্টলের ভেতরে এক সুন্দরীকে দেখে মন্তব্য করে গেলেন– ‘দ্যাখ, দ্যাখ, আদমের স্টলে ইভ!’ আবেগপ্রবণ হয়ে কবিতা পাঠ করতে গিয়ে একটি ছেলে, স্পষ্ট শুনলাম, মাইকে বললেন– ‘শীৎকার কবে আসবে, সুপর্ণা!’ মেলা ভাঙার পরে পশ্চিমবঙ্গ মণ্ডপে ঢুকতে বাধা পেয়ে এক যুবক বন্ধুকে ফোনে জানালেন– পশ্চিমবঙ্গে লকআউট, নিশ্চয়ই বাম সরকার ফিরছে।

→

মেলায় পাবেন শ্রেষ্ঠ শত্রুর জন্য উপহারের বই!

শনিবারের বারবেলায়, নিশ্চিতভাবেই বহু বাঙালিই পরস্পরের পাদুকায় পদাঘাত করেছেন, নেহাত বইমেলার সঙ্গে সংস্কৃতির একটা ঘাঁতঘোঁত আছে, বাস-ট্রাম-মেট্রো-ট্রেন হলে একটা এসপার-ওসপার হয়ে যেত নিশ্চিত! তবে মেলাতেও খাস বাংলায়, সাংস্কৃতিক পদ্ধতিতে খিস্তি করার বেশ কিছু উপায় আছে। সত্রাজিৎ গোস্বামীর ‘অকথ্য শব্দের অভিধান’, অভ্র বসুর ‘বাংলা স্ল্যাং: সমীক্ষা ও অভিধান’, কিন্নর রায়ের ‘খিস্তোলজি’র মতো বই অনায়াসে শত্রুপক্ষকে গিফট করে বলুন, ‘সব আপনারই জন্য!’

→

‘না কিনুন, একবার হাতে নিয়ে দেখুন!’

ভিড়ভর্তি মেলার মাঠে দু’ হাত অন্তর ছবি! হাতছানি দিয়ে ডাকছে, কতকটা আদ্যিকালের ছাপানো বিজ্ঞাপনের অদৃশ্য সুরে– ‘না কিনুন, একবার হাতে নিয়ে দেখুন!’ বিস্তর শিল্পী, লেখক, সম্পাদক, ছাপাখানার কর্মীদের সমবেত সম্মেলনে এক মহা ধুমধাম। বইয়ের ছবি? ছবির বই? নাকি ছবিতে গল্প? কোনটা? বোধহয় সবগুলোই সত্যি।

→

বইমেলার লিটল ম্যাগ টুকরো টুকরো দৃশ্যের আনন্দভৈরবী

টেবিল, টেবিল নয়। কাগজের চোখ। এক ঝলক চোখে চোখ রেখেছ কি টেবিলের নিজস্ব চরিত্র পড়া যাবে। কী খায়, কোন দিকে হাঁটে, আহত-আক্রান্ত হলে কত রাগে, কতটুকু কাঁদে। সবই তো টেবিলে। দাহপত্র, জারি বোবাযুদ্ধের অবিন্যস্ত মাংস কেটে কেটে ছড়িয়ে রাখা; কালি কলম ইজেলের নিপুণ গৃহিণীপনা; সবই তো টেবিলে। কড়চার এ পর্বে লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়ন।

→