

কেমন ছিল রবীন্দ্রসংগীতের স্রষ্টার নিজের গাওয়ার ভঙ্গি? কবি গাইতেন মূলত কথা বলার ছন্দে, তালবাদ্যহীন, তাঁর গানে ছিল সূক্ষ্ম অলংকার, ছোট ছোট তানের পরিমিত কারুকাজ (যার অনেকটাই স্বরলিপিতে নেই) আর কাব্যগীতি গাওয়ার সহজ দেশীয় চলন। কিন্তু এই ভঙ্গি কি আদৌ রাবীন্দ্রিক?
কবিতা রাজনৈতিক ইশতেহার হয়ে ওঠে। লাতিন আমেরিকার প্রতিবাদী কবিতার সঙ্গে সেই সূত্র ধরেই সমগোত্রে অবস্থান করে সুকান্তের কবিতা। পূর্ণ আয়ু নিয়ে বাঁচলে সুকান্তের কবিতা কোন পথে এগত বলা সম্ভব নয়, তবে এই চেহারা প্রকরণ বা অন্তর্বস্তুতে স্থিত থাকত না, তা বলাই যায়।
১৯৪৭-এর ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করেছিল ঠিকই, কিন্তু দেশের সর্বত্র ১৫ আগস্ট তা উদযাপিত হয়নি। হয়নি, তার কারণ এক বিদেশির কলমের খোঁচা! তিনি সিরিল র্যাডক্লিফ। তাঁর নির্ধারিত রূপরেখায় ভারতবাসী লাভ করেছিল দেশভাগ। গুলিয়ে গিয়েছিল ভারতবর্ষের ইতিহাস, ভূগোল আর সংস্কৃতি।
‘গীতা পাঠের চাইতে ফুটবল খেলা ভালো’– এই বাণী অবশ্য স্বামী বিবেকানন্দের মুখে মানায়। কারণ, নরেন্দ্রনাথ দত্ত বেশ ডাকাবুকো। খেলাধুলোয় পারঙ্গম। স্বভাব আমুদে। রবীন্দ্রনাথ বিবেকানন্দের মতো খেলা-পারঙ্গম ছিলেন না। কুস্তি তাঁকে শিখতে হয়েছিল। শরীরের কাঠামোও চমৎকার। তাঁর ব্রহ্মচর্যাশ্রমে খেলাধুলোর বিশেষ গুরুত্ব ছিল।
ইউরোপ থেকে ফেরার খবর পেয়ে ম্যাগনোলিয়া ফুল নিয়ে রবীন্দ্রনাথ অভিনন্দন জানাতে গেলেন জগদীশচন্দ্রকে। কিন্তু সেদিন সস্ত্রীক জগদীশচন্দ্র কোথাও গিয়েছিলেন। তাঁর টেবিলের ওপর ফুলটি রেখে আসেন কবি। অবলার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের বন্ধুত্বকে কোনও কোনও গবেষক ভিন্ন আলোকে ব্যাখ্যা করলেও তার মধ্যে সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায় না।
যে রবীন্দ্রনাথ সারাজীবন প্রথার অনর্থক খাঁচাগুলি ভাঙতে ভাঙতে চলেছেন, মার্কা দেওয়ার সংস্কৃতিকে নস্যাৎ করতে চেয়েছেন– তাঁরই রচিত আশ্রম ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁরই গানের আত্মাকে আড়াল করেছে অনুষঙ্গের ভার। আর এভাবেই ‘রাবীন্দ্রিক’ শব্দটি ক্রমশ দূরে সরে গিয়েছে স্বয়ং এবং সমগ্র রবীন্দ্রনাথের থেকে!
রবীন্দ্রনাথ মানেই কি মৃত্যুকে এক অদ্ভুত আধ্যাত্মিক চোখে দেখা? একটা ভীষণ রোমান্টিক, শান্ত, স্নিগ্ধ ব্যাপার? যেন মৃত্যু কোনও শোকের জিনিস নয়, স্রেফ পরমাত্মার সঙ্গে মিলনের একটা রাস্তা। কিন্তু ব্যাপারটা কি এতটাই সোজা? ২২ শ্রাবণ উপলক্ষে রবীন্দ্র-নাটকে মৃত্যুর নানা প্রেক্ষিত নিয়ে বিশেষ নিবন্ধ।
রবীন্দ্রনাথের বন্ধু হওয়া তো সোজা ব্যাপার নয়! জগদীশচন্দ্র হয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ স্বীকার করেছেন যে, ঠাকুরবাড়ির বাইরে জগদীশচন্দ্র বসুই তাঁর প্রথম বন্ধু। স্বীকার করেছেন, তাঁর নিঃসঙ্গ জীবনের কোণ থেকে জগদীশচন্দ্র তাঁকে টেনে বের করেছিলেন।
জীবনে সুখেদুঃখে একাধিক প্রকৃত বন্ধুকে পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। বয়সে খানিক অগ্রজ প্রিয়নাথ সেন ছিলেন তাঁদের অন্যতম। লেখালিখির প্রথম সমালোচক, পারিবারিক বন্ধু প্রিয়নাথকে নিয়ে জীবনস্মৃতিতে একটি গোটা অধ্যায় লিখেছেন তিনি। গতকাল ৩০ জুলাই ছিল আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস। সেই উপলক্ষে রবীন্দ্র-প্রিয়নাথ বন্ধুত্ব নিয়ে বিশেষ নিবন্ধ।
লীলা মুখোপাধ্যায়। ভারতীয় শিল্পের প্রথম আধুনিক ভাস্করদের একজন। শিল্পী বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়ের ছাত্রী, পরবর্তীকালে সঙ্গিনী। কলাভবন থেকে নেপাল– প্রায় সর্বত্রই সঙ্গে ছিলেন, কাজ করেছেন, শিখেছেন। সৃষ্টি করেছেন আধুনিক ভারতীয় ভাস্কর্যের এক নতুন অধ্যায়– যেখানে সহজ সরল ভাবনা ও মানবিক গহীন আবেগের প্রতিচ্ছবি।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved