

জীবনে সুখেদুঃখে একাধিক প্রকৃত বন্ধুকে পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। বয়সে খানিক অগ্রজ প্রিয়নাথ সেন ছিলেন তাঁদের অন্যতম। লেখালিখির প্রথম সমালোচক, পারিবারিক বন্ধু প্রিয়নাথকে নিয়ে জীবনস্মৃতিতে একটি গোটা অধ্যায় লিখেছেন তিনি। গতকাল ৩০ জুলাই ছিল আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস। সেই উপলক্ষে রবীন্দ্র-প্রিয়নাথ বন্ধুত্ব নিয়ে বিশেষ নিবন্ধ।
লীলা মুখোপাধ্যায়। ভারতীয় শিল্পের প্রথম আধুনিক ভাস্করদের একজন। শিল্পী বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়ের ছাত্রী, পরবর্তীকালে সঙ্গিনী। কলাভবন থেকে নেপাল– প্রায় সর্বত্রই সঙ্গে ছিলেন, কাজ করেছেন, শিখেছেন। সৃষ্টি করেছেন আধুনিক ভারতীয় ভাস্কর্যের এক নতুন অধ্যায়– যেখানে সহজ সরল ভাবনা ও মানবিক গহীন আবেগের প্রতিচ্ছবি।
কলাভবনের ছাত্র নির্বাচনের ভার এসে পড়েছিল নন্দলালের ওপর। রামকিঙ্কর বেইজকে ছাত্র হিসেবে নির্বাচন বা চিত্তপ্রসাদকে মনোনীত না করা– যাবতীয় সিদ্ধান্তই নিতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু কীভাবে ছাত্রদের নির্বাচন করতেন তিনি? কী ছিল তাঁর নির্বাচনের মাপকাঠি?
এক আষাঢ়ে যাত্রা শুরু করেছিল উল্টোরথ পত্রিকা। সম-চরিত্রের আরও বেশ কয়েকটি পত্রিকার জন্মে হারিয়ে গেলেও ‘উল্টোরথ’ পত্রিকার ‘গণেশ’ পরবর্তী প্রায় তিন দশক উল্টোয়নি। বরং তার জনপ্রিয়তা উত্তরোত্তর বেড়েছে।
আগেকার দিনে মেয়েদের গঙ্গাস্নান ছিল ঝক্কির। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, পার্বণের দিনে গিন্নিকে বন্ধ পালকি-সুদ্ধ গঙ্গায় ডুবিয়ে আনা হত। প্রযুক্তির কল্যাণে আজ সেই সমস্যা মিটেছে। এখন নিত্য গঙ্গাস্নান। সকাল-বিকেল। প্রযুক্তিই এখন যুগপৎ ভক্তিযোগ ও কর্মযোগের সহায়।
কলাভবনের বীজ তখনও রোপণ করা হয়নি, রবীন্দ্রনাথ চাইছিলেন অন্ততপক্ষে নন্দলাল তাঁর জাপানযাত্রার সফরসঙ্গী হিসেবে সঙ্গে চলুক– ‘বিচিত্রা’কে যথাযথভাবে গড়ে তুলতেও তাঁর যাওয়া দরকার। কিন্তু অবন ঠাকুর তাঁর প্রিয়তম শিষ্যটিকে ছাড়বেন না, ফলে সে যাত্রায় কবির সঙ্গে রইলেন মুকুল দে।
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ১৩১২ বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৯০৫-এ ‘মুকুল’ পত্রিকার কয়েকটি সংখ্যা জুড়ে পুরী ভ্রমণের বর্ণনা লিখেছিলেন। সেই বর্ণনার শুরুতেই উপেন্দ্রকিশোরকে বলতে শোনা যায়: ‘আজকাল রেল হইয়া পুরী যাইবার বেশ সুবিধা হইয়াছে, তাই এখন অনেকেই শখ করিয়া সেখানে গিয়া থাকেন।’
বইয়ের নিরাভরণ শিরোনামটি দেখেই চকে উঠেছিলাম– ‘জাস্ট বিইং’ অর্থাৎ ‘মাত্র জীবনধারণ’। এ কী বিস্ময়কর বিনয়! ৭০০ পৃষ্ঠার এই বইটি তিন রাত জেগে পড়া শেষ করলাম! এর গঠনশৈলী অনবদ্য, নির্ভার কিন্তু দ্যুতিময়, এবং বিষয়ের প্রাচুর্য সব সীমারেখা অতিক্রম করে।
শোনা যায়, পূর্ব দিক থেকে কলাভবনের অবস্থানগত পরিবর্তন ক্রমশ পশ্চিমদিকে সরে আসায় নন্দলাল একটু রসিকতা করেছেন। ঘনিষ্ঠ বৃত্তে গল্পচ্ছলে তিনি বলেছেন, কলাভবনের গতি দেখছি ক্রমে পুব থেকে পশ্চিমে চলেছে। অর্থাৎ শিল্পের অভিমুখ যেন প্রাচ্য থেকে ধীরে ধীরে পাশ্চাত্যের দিকেই এগিয়ে চলেছে।
ভিড় বাস চলেছে। দ্রুত। ভিড় পিছন দিকে এগিয়ে গিয়েছে। পিছন দিকে এগতে এগতে কেউ ভাবছে– পিছনটাই সামনে! এই ভাবনা ততক্ষণই সত্য, যতক্ষণ না গন্তব্য আসছে। গন্তব্য একটা মুহূর্ত, সময়ের বিন্দু।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved