Robbar

Sangbad Pratidin

বিখ্যাত বাঙালিদের পুরীস্কোপ

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ১৩১২ বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৯০৫-এ ‘মুকুল’ পত্রিকার কয়েকটি সংখ্যা জুড়ে পুরী ভ্রমণের বর্ণনা লিখেছিলেন। সেই বর্ণনার শুরুতেই উপেন্দ্রকিশোরকে বলতে শোনা যায়: ‘আজকাল রেল হইয়া পুরী যাইবার বেশ সুবিধা হইয়াছে, তাই এখন অনেকেই শখ করিয়া সেখানে গিয়া থাকেন।’

→

সাহেব, সমুদ্র, জগন্নাথ

পুরীর রথযাত্রার ইতিহাস বলতে গেলে ব্রিটিশ আমলের কলেরা মহামারির প্রসঙ্গ উত্থাপিত হবেই। ঐতিহাসিক ডেভিড আর্নল্ড বলছেন যে, ১৮৬৬ সালে কনস্ট্যানটিনোপলে সংঘটিত একটি সভায় পুরীর তীর্থ সমাগমকে দায়ী করা হয় বিশ্বে বিবিধ স্থানে কলেরা ছড়ানোর জন্য। ইতিপূর্বে মক্কাকেও দায়ী করা হয়েছিল এই রোগ সংক্রমণের হেতু হিসেবে।

→

আবার বছর চব্বিশ পরে

র‍্যামসের ঘৃণা, তারুণ্যের প্রতিশোধ, যুদ্ধের হিসেব, মারাদোনার স্মৃতি, রেড কার্ড, হার্স্ট, শিল্টন, রেফারি, দৃষ্টিনন্দন গোল। ২০২৬-এ দাঁড়িয়ে এ সবই বহু দূরের স্মৃতি। ২৪ বছর পরের খেলায় কি তবে ইতিহাসের কোনও যোগসূত্রই নেই?

→

এক ‘বহিরাগত’ কবি

চমকপ্রদ অন্ত্যমিল, যার সঙ্গে জুড়েছিল তাঁর নিজস্ব প্রায়-কথ্য ভাষায় লেখা অন্বয়। এইসব বৈশিষ্ট্য তাঁকে পরিচিতি দিচ্ছিল প্রতিভাময়ী কবি হিসেবে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ তাঁকে নাড়িয়ে দিয়ে গেলেও, রুশ বিপ্লবের মতো প্রভাব তাঁর কবিজীবন ও জীবনীর উপর আর কোনও ঘটনা ফেলেনি।

→

জগন্নাথের শবরযোগ

শবরদের ধর্ম-ভাবনায় ত্রিমূর্তির উপাসনা উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। ত্রিমূর্তি হলেন তানাপেনু, জাকেরিপেনু এবং মুরভিপেনু। শবর ভাষায় ‘পেনু’ শব্দের অর্থ ঈশ্বর। ওড়িশার শবর-প্রধান গ্রামগুলিতে জগন্নাথের নাম ‘জগনেলো’। শব্দটির অর্থ– কাঠের তৈরি দেবমূর্তি। শবর ভাষায় দেবতার নাম ‘সানাম’ এবং মূর্তিকে বলে ‘কিটুঙ্গা’। সকল কিটুঙ্গাদের মধ্যে জগনেলো হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনি বিশ্বের অধিপতি হিসাবে বন্দিত।

→

স্মৃতি সত্তা ইতিহাস

বইয়ের নিরাভরণ শিরোনামটি দেখেই চকে উঠেছিলাম– ‘জাস্ট বিইং’ অর্থাৎ ‘মাত্র জীবনধারণ’। এ কী বিস্ময়কর বিনয়! ৭০০ পৃষ্ঠার এই বইটি তিন রাত জেগে পড়া শেষ করলাম! এর গঠনশৈলী অনবদ্য, নির্ভার কিন্তু দ্যুতিময়, এবং বিষয়ের প্রাচুর্য সব সীমারেখা অতিক্রম করে।

→

রমণীয় পিকাসো

মারির সঙ্গে পিকাসোর জীবন সান্ধ্যপ্রদীপের মতো শান্ত। অনন্য নারীদের সঙ্গে যেমন তার ঝোড়ো সম্পর্ক, তীব্র প্রেম ও তীব্র ঘৃণায় তোলপাড় সম্পর্ক, মারির সঙ্গে তা নয়। মারির সঙ্গে পিকাসোর সম্পর্ক তাঁর কবিতাগুচ্ছের মতো। গভীর অন্তরাল। প্রচারের আলোর বাইরে।

→

মৃত্যুর সঙ্গে একদান

মৃত্যু। তার সঙ্গে একদান। দাবায়। এ দৃশ্য তৈরি করেছিলেন বার্গম্যান। মৃত্যু কি এতই সহজ? এতই সহজ তার সঙ্গে সংলাপ? মৃত্যুর সৌন্দর্য ও ভয়াবহতার মিশেলে গড়ে উঠেছিল চলচ্ছবির এক নতুনতর ভাষ্য। বার্গম্যানের জন্মদিনে রইল তাঁর ছবির মৃত্যুর দর্শন।

→

গোপালের মা: বাংলার অবহেলিত আধ্যাত্মিক স্মৃতি

উনিশ শতকের আটের দশকে সাধক হিসেবে শ্রীরামকৃষ্ণের খ্যাতি দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল। অঘোরমণি তাঁর সঙ্গে দেখা করার তাগিদ অনুভব করলেন। ১৮৮৪ সালের এক শরৎকালের বিকেলে, গোবিন্দ দত্তের আত্মীয়ার সঙ্গে তিনি দক্ষিণেশ্বরে গেলেন। তখন তাঁর বয়স প্রায় ৬২। গুরুর চেয়ে ১৪ বছরের বড়।

→

আমার সন্ততি স্বপ্নে থাক

মনে হবে, ডিসটোপিয়া। দু’পাশে ভাঙাচোরা হাইরাইজ। অর্ধেক ছাদ। লোহার খাঁচা। ধ্বংসের ভেতরে দাঁড়িয়ে কিছু মানুষ। ঠাসাঠাসি করে। দেখছে, আর্জেন্টিনা বনাম মিশর। গাজা শহরে। কয়েকটা আলো আর মিশরের লাল-কালো পতাকা। যুদ্ধবিমান, ড্রোনের শব্দ আর অনর্গল বম্বিং ভুলে থাকার ৯০ মিনিট। ট্রমা নেই। মৃত্যুভয় নেই। খিদে নেই।

→