

নকুড়বাবুকে তাড়া করে আসছে চার-পাঁচটি দল। এই দলগুলির নানা পরিচয়। সেই পরিচয় তাদের মনুষ্য পরিচয়ের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে। একদলের ঝান্ডায় ত্রিশূল। আরেক দলের ঝান্ডায় চাঁদ। একদলের ঝান্ডায় এক ফুল তো আরেক দলের ঝান্ডায় আরেক ফুল। একদলের ঝান্ডা লাল, তো আরেক দলের ঝান্ডা কমলা। তাদের রাজনৈতিক দলত্ব, ধর্মীয় দলত্ব নানারকম। তবে একটা উদ্দেশ্য এক। তারা নকুড়বাবুর দৃষ্টি চায়, মুন্ডু চায়, মন চায়। কেন?
১৮৭৫-১৯২৫ সময়কালের মধ্যে কেবল আনন্দের জন্য ভারতে প্রায় ৪০ হাজার বাঘ শিকার করা হয়েছিল। মৃত বাঘের মাথার উপর পা রেখে আলোকচিত্র তুলেছিলেন বহু রাজা, যুবরাজ, জমিদাররা। ফল– বাঘের সংখ্যায় ভয়ংকর হ্রাস। আজ ২৯ জুলাই। আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস। সেই কলঙ্কিত ইতিহাস ফিরে দেখার দিন, সংরক্ষণের শপথ নেওয়ার দিন।
ভিনসেন্ট ভ্যান গখ ছবির কারণেই হয়েছিলেন প্রায়োন্মাদ। ছবির টানেই একদিন ভাই থিওর রক্ষিতার দিকে তিনি হাত বাড়ালেন, সূক্ষ্মভাবে। ভ্যান নিঃসঙ্কোচ, আমার স্টুডিওতেই আমরা তিনজনে একসঙ্গে আঁকব। তাতে উৎসাহ বাড়বে।
১৯১১-তে মোহনবাগানের ঐতিহাসিক আইএফএ শিল্ড-জয় অনেকের কাছে পলাশীর প্রতিশোধ, অনেকের কাছে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ময়দানি-রূপ। স্বাদেশিকতার বর্ণপরিচয়। তবে এ-কথা অনস্বীকার্য, ১৯১১-য় মোহনবাগানের এই সাড়া জাগানো জয় স্বদেশি আন্দোলন এবং ফুটবলকে যেন এক সুতোয় বেঁধে ফেলেছিল।
লীলা মুখোপাধ্যায়। ভারতীয় শিল্পের প্রথম আধুনিক ভাস্করদের একজন। শিল্পী বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়ের ছাত্রী, পরবর্তীকালে সঙ্গিনী। কলাভবন থেকে নেপাল– প্রায় সর্বত্রই সঙ্গে ছিলেন, কাজ করেছেন, শিখেছেন। সৃষ্টি করেছেন আধুনিক ভারতীয় ভাস্কর্যের এক নতুন অধ্যায়– যেখানে সহজ সরল ভাবনা ও মানবিক গহীন আবেগের প্রতিচ্ছবি।
উত্তরপ্রদেশের এক ব্যক্তির ফ্রিজের মধ্যে বরফ জমে শিবলিঙ্গের মতো হয়ে আছে– যা অনেকটা অমরনাথের মতো দেখতে। তা নিয়ে শুরু হয়েছে পূজা-অর্চনা-ভক্তিগীতি। আমাদের দেশের শিক্ষা, বিজ্ঞানচেতনা আর যুক্তিবাদী ধারণা ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু। এরপরেও এদেশে সোনাম ওয়াংচুকের মতো মানুষেরা শিক্ষার জন্য আন্দোলন করেন!
প্রাচীনকালে মুড়ির নাম ছিল ‘হুড়ুম’। চৈতন্যচরিতামৃতে রয়েছে, ‘চিড়া হুড়ুম সন্দেশ সকল’। হুড়ুম একপ্রকার শস্যদানা হলেও, শব্দটির প্রকৃত অর্থ হল হালকা ফাঁপা ভাজা চাল বা চিঁড়ে। খেতে গেলেই দাঁতের চাপে মুড়মুড় করে আওয়াজ বের হয়। তাই বোধহয় নাম হয়েছে ‘মুড়ি’।
গত তিন শতক ধরে বদলেছে বন্যার চরিত্র। উনিশ শতকের বন্যা ছিল প্রাকৃতিক, নদী প্লাবিত হয়ে। বিশ শতক থেকে মানুষের নদী-নিয়ন্ত্রণ শুরু। একুশে নগরায়ন। ফলে বন্যার চরিত্র এখন আরও জটিল। ভারী বৃষ্টিপাতজনিত নগর-বন্যা ক্রমশই ক্ষতিবৃদ্ধিকারী, কর্মনাশা হয়ে উঠছে। এর সমাধান কী?
বাদল সরকারের নাট্যদর্শনে আদি পাপের ধারণাটি কেবল সমাজ বা রাষ্ট্রের বৃহত্তর ক্যানভাসে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা প্রবেশ করেছে ব্যক্তিমানুষের মনস্তত্ত্বের গভীরতম স্তরে। বাদল সরকারের ঈশ্বরবিহীন পৃথিবীতে ‘কনফেশন বক্স’ হল– খোদ থিয়েটারের অঙ্গন, আর তার ফাদার হল– চরিত্রের দংশিত বিবেক।
নিজামুদ্দিন তাঁর দরগাহ খুলে দিয়েছিলেন। তবু আমির খুসরু অপেক্ষা করেছিলেন আট বছর। রক্তক্ষয়, যুদ্ধ, ক্ষমতা কি মূক করে দিয়েছিল তাঁকে? আজ সুদূর সিরিয়া থেকে আসা সালমান দারবিশের প্রিয় বাদ্যযন্ত্র যখন বোমার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত, তখন তার মুখের উপর আমির খুসরুর ছায়া পড়ে। ক্ষমতার ছায়া কি কবিতা মুছে দিতে পারে?
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved