

যা কিছু ঘেঁটেঘুঁটে ঝাপসা করে দেওয়া হয় তা-ই ‘ঘোলাটে’। পুকুরের স্বচ্ছ জল পাঁক করে দিলে তা ঘোলা জল। ওই জলে মাছ ধরা আবার খুবই সন্দেহজনক এবং খারাপ কাজ! মানুষের দৃষ্টি কমে গেলে, আবহাওয়ায় ধোঁয়া বা ধুলে বেড়ে গেলে, এমনকী কারও স্মৃতি দুর্বল হয়ে গেলে সেটাও ঘোলাটে!
বাঙাল বাড়ির ঘোল হবে সাচ্চা টক দইয়ের, যাতে জলের পরিমাণ থাকবে মেপে। সেই ঘোলে পড়বে কাঁচালঙ্কা বাটা বা চটকানো নির্যাস, সঙ্গে থাকবে জিরে ভাজার গুঁড়ো আর ধনেপাতা কুচি। কোথাও কোথাও একটু সরষে বাটার ছোঁয়াও দেওয়া হয় সেই ঘোলে।
জ্যোতির্ময়ী দেবীর তিনটি বইয়ের জন্য তাঁর ছবি-সহ রচনা-সংকলনের জন্মশতবার্ষিকী সংস্করণের অগ্রিম গ্রাহক পেতে (বইপাড়ার চলতি ভাষায় এখন যাকে ‘প্রি-বুকিং’ বলে) আমরা একটি ফোল্ডার প্রকাশ করেছিলাম। তাঁর শততম জন্মদিনে ‘বর্তমান’ পত্রিকায় একটি বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল। তাতে বেশ সাড়াও পাওয়া গিয়েছিল।
প্রায় ২০ জন কবিতা পড়লেন। গল্প ও নাটকের অংশবিশেষও পড়া হল। সে সাহিত্যের অন্যতম বিষয় তখন মণিপুরে ঘটে চলা রক্তক্ষয়ী ঘটনা ও মৃত্যু। সন্ধে নামলে গুলিগালার শব্দ আর আধাসামরিক বাহিনীর ভারী গাড়ির সশব্দ যাতায়াত তখন মণিপুরের মানুষের নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা।
অকিঞ্চিৎকর দৈনন্দিন উপাদান দিয়েই সত্যজিৎ আদর্শ লোকেশনকে চিহ্নিত করতেন। উপযোগী লোকেশন বাছাই করার সময়, ওই জায়গার বিশিষ্ট দু’-একটি বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের সন্ধান করতেন সত্যজিৎ। সেই নির্বাচিত লোকেশনের স্বাতন্ত্র্য-সূচক চিহ্নগুলোর অন্তরালে আমরা কখনও দেখতে পাই পরিযায়ী বন্যপ্রাণীর ইতিহাস, কখনও পুরাণের ছায়া, কখনও বা নৃতত্ত্ব।
রাঢ়বঙ্গে শিলাবতী নদীতীরে বাঁকুড়ার সিমলাপাল ব্লক। সেখানকার পুখুরিয়া গ্রামের নামটি আমাদের অনেকের কাছে অচেনা ঠেকলেও, কাঁসার তৈরি অভিনব ‘পেটাই ধ্বনিপাত্র’র (Singing bowl) সন্ধানে সেখানেই একদা এসে হাজির হয়েছিলেন জার্মান ইঞ্জিনিয়ার পিটার হেস।
নারী-কদর্যতা এই অত্যন্ত আধুনিক সময়ে দাড়িয়ে মূলধারার সাহিত্যে প্রবলভাবে প্রবেশ করতে না-পারলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘ফেমিনিন-গ্রোটেস্ক’-এর বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা হলেও বেড়েছে।
সতী-ভৈরবী ছিলেন মোটামুটি ফরসা, মুখমণ্ডল সবিশেষ গৌর। অথচ সেই মুহূর্তে তাঁর মুখখানা যেন গাঢ় মসীবর্ণ ধারণ করেছে। কপালে ও সিঁথিতে সিঁদুরের চিহ্ন যেন আরও বেশি জ্বলজ্বল করছে। এই সতী-ভৈরবীকে আমি এর আগে দেখিনি কখনও। কেমন যেন ভয়-ভয় করতে লাগল আমার।
মা খেতে খেতে একটা গল্প বলে। দেবী অন্নপূর্ণা। চলেছেন নদী ডিঙিয়ে। তাকে নিয়ে যাবে যে মাঝি, নাম তার ঈশ্বরী। সেই মাঝি বলেছিল দেবীকে, ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।’ সে ভাবে, নৌকায় দেবীর সঙ্গে দেখা হলে, দুধ-ভাত চাইবে না। কী চাইবে?
সাজ দেখানো, নটের দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়া, আবার ব্যাধের জীবিকা গ্রহণ করা ইত্যাদি একাধিক পেশার কথা জাতকে বলা হয়েছে। সাজ প্রদর্শন বা নটের দলে দণ্ডযুদ্ধ দেখানো বহুরূপী বৃত্তির পূর্বাভাস নিঃসন্দেহে। তা থেকে অনুমান করা যায় বহুরূপী সুপ্রাচীন লোকবৃত্তি ও লোককলা।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved