

‘Palermo Shooting’ এবং ‘Blow-Up’ চলচ্চিত্র– দুই নিরাসক্ত আলোকচিত্রীর জীবন নিয়ে। ফটোগ্রাফির যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য উভয়েই মরিয়া। দিনের পর দিন, একই রকমের ছবির ভিড়ে, তারা আর নিজেদের অস্তিত্ব খুঁজে পাচ্ছে না। আমাদের সকলের মতো: তাদেরও কাঙ্ক্ষিত: মুক্তি।
পূর্ণেন্দুদা বইয়ের ছাপাছাপি নিয়ে খুঁতখুঁতে ছিলেন। তবু নিজের লেখা বা বইয়ের নাম ভুল ছাপা হওয়ায় তাঁকেই সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বিত হতে হয়েছে বলে শুনেছি। প্রথম উপন্যাসের বিজ্ঞাপনে না কি ‘দাঁড়ের ময়না’ ছাপাখানার ভূতের কারসাজিতে ‘দাঁতের ময়লা’ ছাপা হয়েছিল।
রবীন্দ্রনাথের বন্ধু হওয়া তো সোজা ব্যাপার নয়! জগদীশচন্দ্র হয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ স্বীকার করেছেন যে, ঠাকুরবাড়ির বাইরে জগদীশচন্দ্র বসুই তাঁর প্রথম বন্ধু। স্বীকার করেছেন, তাঁর নিঃসঙ্গ জীবনের কোণ থেকে জগদীশচন্দ্র তাঁকে টেনে বের করেছিলেন।
গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্যের জীবনকাহিনি আজ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, বড় কিছু করার জন্য সবসময় প্রাচুর্য বা বড় ডিগ্রির প্রয়োজন হয় না, যা প্রয়োজন তা হল একাগ্রতা, নিষ্ঠা এবং চারপাশের প্রকৃতিকে ভালোবাসার এক সত্যান্বেষী মন।
জে কে রাউলিং কিংবা তাঁর সৃষ্ট শুভশক্তির মশালধারী শিশু হ্যারি– বড় হয়ে উঠতে উঠতে বারবার দেখায় জীবনে ভালোবাসার থেকে বড় জাদু আর কিছু হতে পারে না। মনে করিয়ে দেয়, যুদ্ধ যদি করতেই হয় তবে শুধুমাত্র তা ভালোবাসার জন্য করা যেতে পারে।
রাতের যে-ট্রেন যাত্রী বমি করতে-করতে শেষ স্টেশনের দিকে এগিয়ে চলে, সে-ই তো পরের ভোরে সরীসৃপের মতো যাত্রী খেতে-খেতে শহরগামী হয়। সপ্তাশ্ব ঘোড়ায় চেপে টহল দেওয়া সূর্যের আলো কি তখন তার রাতপোশাক ও রাতসিঁদুর মুছে দিতে চায়?
প্ল্যানচেটের দীর্ঘ ইতিহাস জড়িয়ে আছে আমার পরিবারের সঙ্গে। বাবা তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় প্ল্যনচেটে কথা বলতে চেয়েছিলেন বিভূতিভূষণের সঙ্গে। এসেছিলেন তিনি। স্পষ্ট সই করেছিলেন নিজের নাম। মা জানতে চেয়েছিলেন ইউনিভার্সিটি পরীক্ষায় পাস করবেন কি না, কিন্তু লজ্জায় সেই প্রশ্ন করে উঠতে পারেননি।
কলকাতায় তসলিমা নাসরিনের আগমনের কিছুদিন মাত্র আগে, ২২ জুলাই, যাদবপুরের এক ছোট্ট বইয়ের স্টল, ‘কাউন্টার এরা’য় একদল কট্টর এসে শাসিয়ে যায়। তারা জানায়, এই বইয়ের স্টলে ‘দেশদ্রোহী’ বই বিক্রি হয়। তাদের দোকান ভেঙে, পুড়িয়ে দেওয়া হবে– এতদূর শান্তির বার্তাও ক্ষমতাধারীরা জানিয়ে গিয়েছে। সময়ের দূরত্বে তসলিমা নাসরিনের ফেরা আর যাদবপুরের বইয়ের স্টলে হামলা খুব দূরবর্তী নয়।
‘রাত করে বাড়ি ফেরা’ আর ‘একজন মেয়ের রাত করে বাড়ি ফেরা’র মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে একজন মেয়ের কাছে ঘরের প্রোটেক্টিভ পেট্রিয়ার্কির চেয়ে পথই হয়ে উঠতে পারে বেশি নিরাপদ। ফেরার শান্তি কি তখন আর একরকম থাকে?
বাস্তব জীবনে দেখেছি, কিছু ঘটনা সরাসরি ফিরে আসে, কিছু ঘটনা নব নব রূপে ফিরে আসে। চলে যায় চুরি, ফিরে আসে পুকুর চুরি। চলে যায় গুন্ডা, ফিরে আসে গুন্ডাদমন আইনের ভীতি। চলে যায় তোলা, ফিরে আসে খাটের তলার টাকার ঝোলা।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved