

সতী-ভৈরবী ছিলেন মোটামুটি ফরসা, মুখমণ্ডল সবিশেষ গৌর। অথচ সেই মুহূর্তে তাঁর মুখখানা যেন গাঢ় মসীবর্ণ ধারণ করেছে। কপালে ও সিঁথিতে সিঁদুরের চিহ্ন যেন আরও বেশি জ্বলজ্বল করছে। এই সতী-ভৈরবীকে আমি এর আগে দেখিনি কখনও। কেমন যেন ভয়-ভয় করতে লাগল আমার।
মা খেতে খেতে একটা গল্প বলে। দেবী অন্নপূর্ণা। চলেছেন নদী ডিঙিয়ে। তাকে নিয়ে যাবে যে মাঝি, নাম তার ঈশ্বরী। সেই মাঝি বলেছিল দেবীকে, ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।’ সে ভাবে, নৌকায় দেবীর সঙ্গে দেখা হলে, দুধ-ভাত চাইবে না। কী চাইবে?
সাজ দেখানো, নটের দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়া, আবার ব্যাধের জীবিকা গ্রহণ করা ইত্যাদি একাধিক পেশার কথা জাতকে বলা হয়েছে। সাজ প্রদর্শন বা নটের দলে দণ্ডযুদ্ধ দেখানো বহুরূপী বৃত্তির পূর্বাভাস নিঃসন্দেহে। তা থেকে অনুমান করা যায় বহুরূপী সুপ্রাচীন লোকবৃত্তি ও লোককলা।
অনীকের সঙ্গে যতবার কথা হয়েছে আমার, সিনেমা নিয়ে নয়, জীবনবোধ নিয়ে, মনে হয়েছে আমার, সে বেছে নিয়েছে কার্নিশ দিয়ে চলার পথ। উপনিষদ যাকে বলেছে, ক্ষুরের ধার দিয়ে চলা।
ডার্ক রং থেকে ক্রমশ আলো দিকে। অরুন্ধতী রায়চৌধুরীর ছবি আসলে উত্তরণের গল্প। যে ধোঁয়াশা, যে আত্মবিশ্বাস, যে অনিশ্চয়তা মানুষকে ঘিরে রাখে– তার বাইরে গিয়ে, সেই বন্ধনকে অস্বীকার করে, সে নিজের একক অস্তিত্বকে, তার মনুষ্যত্বের অন্তর্নিহিত সম্ভাবনাকে ঘোষণা করছে।
যে-শিল্পী শিল্পের স্বার্থে দেশের মাটি ছাড়ে না, আর্মি ব্রিগেডিয়ারের মেয়ে হয়েও দেশদ্রোহী তকমা পায়; সে বিপ্লবী না-হয়ে যায় না। সে রাষ্ট্রের রক্তচক্ষু অবজ্ঞা করে রাষ্ট্রের জন্য প্রাণপাত করে রাষ্ট্রযন্ত্রের হাতে গ্রেফতার হবে– এটাই তার নিয়তি। যেমনটা হল গত ৫ মে। সীমা কিরমানির ক্ষেত্রে।
দিন ১৫ পরই শুরু ফুটবল বিশ্বকাপ। কিন্তু এই ভূ-ভারতে সম্প্রচার কোথায় হবে, তার কোনও ঠিকঠিকানা নেই এখনও! কাটছেই না জটিলতা। নেপথ্যে ফিফার বিপুল অঙ্কের টাকার চাহিদা। এদিকে ফুটবল খেলার আঙ্গিকেই বিজ্ঞাপনী ঝলকের কোনও জায়গা নেই। সরকারি নয়, বেসরকারি সংস্থাগুলোও সম্প্রচার থেকে সরে আসছে। তাছাড়া, বিশ্বকাপের অধিকাংশ ম্যাচই ভারতীয় সময়ানুসারে রাত ১২টা থেকে সাড়ে ৩টের মধ্যে। দর্শক পাওয়া যাবে? এই প্রশ্নে জ্বর আসছে না তো সম্প্রচার সংস্থাগুলির?
দিনকয়েক আগেও আমার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল অনীকের। আমার কাছে আসবে, দেখা করবে, এমনটাই বলেছিল। কী কথা, ফোনে কি বলা যায়? জিজ্ঞেস করাতে বলেছিল, ‘না, না। সামনাসামনি গিয়ে কথা বলব।’ দুর্ভাগ্য, সেই বসাটাও হল না, কী কথা যে ওর বলার ছিল, সেটাও আর জানার কোনও উপায় রইল না।
রকেটের মধ্যে কৃত্রিম মাধ্যাকর্ষণ শক্তি হঠাৎ চলে যাওয়ায় গ্লাসের হুইস্কি বলের মতো হয়ে ভেসে যেতে থাকে, আর ক্যাপ্টেন আকুল স্বরে বলতে থাকেন, ‘আরে, হুইস্কি, তুমি এত অবাধ্য কেন? এসো... গেলাসের মধ্যে ফিরে এসো!’
হকার, হকার, হকার। একজীবন, ট্রেনজীবন। কু ঝিকঝিক। বিক্রিবাট্টা। হাঁকডাক। চিরুনি, সেফটিফিন, ঝালমুড়ি, ছুরি, কলম। কলম থেকে লেখা। লেখা সীমান্ত ছিঁড়ে চলে যায়।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved