

আগে পাণ্ডবানী অভিনয় করত শুধু ছেলেরা। সেখানে স্বচ্ছন্দে ঢুকে পড়েছিলেন তীজন বাই। বেছে নিয়েছিলেন ‘কাপালিক’ জাতের পাণ্ডবানী, যেখানে স্মৃতিনির্ভর পুরো পারফরম্যান্সটি দাঁড়িয়ে, হেঁটে-চলে, নেচে-গেয়ে করতে হয়। একই গাথা, কিন্তু প্রতি অভিনয়ে আলাদা আলাদা হত তাঁর উপস্থাপনা।
প্রশ্নপত্রের ছাই ঘেঁটে কেউ কেউ যেন খুঁজে পায় ভাষার আগুন। যে আগুন, তারা ছড়িয়ে দিতে পারে উত্তরপত্রে। ভাইরাল জগৎ পারাবার থেকে দূরে, ওই গোপন উত্তরপত্রগুলি যেন ভবিষ্যতের পাণ্ডুলিপির বীজ হয়ে ওঠে, এইটুকু আশা।
কেউ ধর্ষক হয়ে জন্মায় না। সমাজ, রাষ্ট্র, পরিবার ধর্ষক তৈরি করে। একজন ধর্ষককে পিটিয়ে মারলে বা ফাঁসি দিলেও ধর্ষণ বন্ধ হয়ে যায় না, যাবে না, যতদিন না ধর্ষক তৈরি হওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটাকে আমরা পালটাতে পারি।
মাত্র ৫০ বছরের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র সেই বাণিজ্যকেন্দ্র, পথ সমস্ত গ্রাস করেছে। রাস্তাটির অর্ধেক ইতিমধ্যেই নদীগর্ভে। এপারের অল্প কিছুটা তীরের জমি পার হয়েই যে স্কুল, তা যেন মাঠের মধ্যে পা ছড়িয়ে বসে থাকা এক অসহায় মা, সন্তানদের সংসারের ধ্বংস নিশ্চিত জেনেও যাঁর রক্ষা করার বা পালিয়ে যাওয়ার কোনও উপায় নেই।
শাস্ত্রবিরোধী আন্দোলনের আদর্শে গল্প লিখতে এসে বলরাম মুখরোচক কাহিনি কিংবা জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য উপস্থাপন করেননি কোনও গল্পে। শুধু অন্তর্জীবনের অনুভূতিটুকু তাঁর গল্পে ফুটে উঠেছে সচেতন শব্দ সমাবেশে। গতানুগতিক গল্পপাঠে অভ্যস্ত পাঠক দুর্বোধ্য বাহানা দিয়ে বলরামের গল্পগুলিকে বাতিল করতেই পারেন, কিন্তু সংখ্যা নয়, বলরাম দাবি করেন সহানুভূতি, সূক্ষ্ম সংবেদন।
‘ভালো-বাসার বারান্দা’ এখনও পর্যন্ত পাঁচ খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে। ২০১০-এ প্রথম খণ্ড প্রকাশের পর দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশ করতে অনেকটাই সময় লেগে গিয়েছিল। সেই সময় নবনীতাদি রেগে গিয়ে আমাকে একটা চিঠি লিখে ওই বই ছাপতে নিষেধ করেছিলেন।
দশরথের এত স্নেহ পেয়েছিলেন বলেই কৃতজ্ঞতাস্বরূপ পিতৃ-আজ্ঞা পালনে রাজত্ব ত্যাগ করে বিষম জীবনযাপন বেছে নিয়েছিলেন রাম। সেই রামই নিজের পুত্রদের স্নেহ করার সুযোগই পেলেন না। মহাভারতে যেমন পিতার স্নেহ কী বস্তু জানলই না পঞ্চপাণ্ডব। শকুন্তলা-দুষ্মন্তের পুত্র ভরতকেও পিতৃস্নেহ বঞ্চিত হতে হয়েছিল শৈশবে।
সত্যজিৎ ও ঋত্বিক। ছবিতে রবীন্দ্রসংগীতকে ব্যবহার করেছেন দু’জনেই। সত্যজিতের ব্রাহ্ম প্রেক্ষাপট, শিল্পী নির্বাচন কিংবা তালবাদ্য ব্যবহারের অনীহা– গায়কি-বিষয়ক আমাদের সন্ধানকে গাঢ়তর করে তুলতে পারে। অপরদিকে গণনাট্য আন্দোলনের কর্মী হিসেবে ঋত্বিক, জ্যোতিরিন্দ্র, দেবব্রত প্রমুখ রবীন্দ্র-গানকে জনসমাজে ছড়িয়ে দেবার পন্থী। কম্যুনিকেশনের দর্শন ও ‘পলিসি’টি আলাদা।
ককবরক ভাষার লোকসংগীত ও কবিতা সংগ্রহের কাজ প্রায় শেষ হলেও সরকার বা ত্রিপুরার কোনও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনুবাদ কর্মশালার কাজে উৎসাহ দেখাচ্ছিল না। ফলে সহযোগী প্রতিষ্ঠানের অভাবে সকলের সমন্বয়ে গড়ে উঠল ‘ককবরক সাহিত্য অকাদেমি’।
সম্ভবত ইলেকট্রিক গাড়িই ভবিষ্যৎ। হয়তো কয়েক দশক পর পেট্রোল-চালিত মোটর-সাইকেলকে মানুষ ঠিক সেইভাবেই দেখবে, যেভাবে আজ স্টিম ইঞ্জিন বা গ্রামোফোনকে দেখে– একটি সুন্দর ইতিহাস হিসেবে।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved