মাঠ ও মাঠের বাইরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই তীব্র হোক, ক্রিকেট শেষপর্যন্ত ছিল একটি মানবিক সম্পর্কের জায়গা। আজ, যখন হাত মেলানো নিয়েও প্রশ্ন ওঠে, তখন সেই সম্প্রীতি যেন আরও দূর সময়ের গল্প বলে মনে হয়।
বাংলা থিয়েটারে নারী চরিত্রে দীর্ঘদিন নিষিদ্ধপল্লির নারীরা অভিনয় করতেন। এঁদের মঞ্চে দেখার জন্য মারামারি চলত, কিন্তু সামাজিক প্রাপ্তি শূন্য। 'রঙ্গালয়' পত্রিকা এঁদের ছবি ছাপছে, তা হাতে হাতে পৌঁছে যাচ্ছে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে। এ নিছক জনপ্রিয়তা নয়, বরং সমাজের অপাংক্তেয় মানুষদের একই পরিবারভুক্ত করে নেওয়া। তাঁদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে সামাজিক দূরত্ব ঘোচানোর প্রক্রিয়া।
৩২ নম্বর ধানমন্ডি, শেখ মুজিবের মূর্তি বা মুক্তিযুদ্ধের সমস্ত বিধ্বস্ত চিহ্ন পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হবে কি না জানা নেই, কিন্তু আমরা বাংলাদেশকে আমরা আবার একটি শান্ত ও অগ্রমুখী রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই, শেখ হাসিনার আমলে তার যা সাধারণ চরিত্র ছিল। তা কি আবার ফিরে পাওয়া যাবে?
পরিতোষ সেনের বর্ণনায় জানা যায়, মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের কাছে সংবাদ আসে যে তাঁর প্রিয় সভাসদ এনায়েত খাঁ মৃত্যুপথযাত্রী। খবরটি শোনামাত্র সম্রাট তাঁকে দেখার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন। এই মুহূর্তেই একটি ঐতিহাসিক শিল্পকর্মের জন্মের ইতিহাস সূচিত হয়। ইনায়েত খাঁ-র জীর্ণ দেহের নির্লিপ্ত প্রতিকৃতি অঙ্কনের নির্দেশ দিলেন জাহাঙ্গীর।
ভবানন্দ গাইছিল দেবভাষায়, যেন স্তবগীতি। আন্দাজ করি, আরাধ্যার রূপ-মাধুর্য বর্ণনার পরে তার কণ্ঠ ক্রমশ উদ্দীপনার তীব্রতায় আচ্ছন্ন হয়ে উঠেছিল, ‘সপ্তকোটিকণ্ঠকলকলনিনাদকরালে–’; হঠাৎ নেহাৎ প্রাকৃতভাষায় বালকোচিত অনুযোগে সে আত্মধিক্কার ব্যক্ত করে বসে– ‘অবলা কেন মা এত বলে?’ স্তোত্র নেমে আসে স্লোগানে। দার্শনিকের অধ্যাত্ম সশস্ত্র বিপ্লবের উপযোগী হয়ে ওঠে।
ডাকবাংলো মানেই কি কেবল তথ্য ও শুষ্ক ইতিহাসের ধারাবিবরণী? লেখক অভিষেক চট্টোপাধ্যায় নিজেই আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, ‘ডাকবাংলোর ইতিহাস, স্থাপত্য, প্রয়োজনীয়তা– সমস্ত কেজো তথ্যকে একত্রিত করলেও আরও একটি আঙ্গিক ছোঁয়া বাকি থেকে যায়, তা হল ডাকবাংলোর মজার গল্পকাহিনি।’
শেষপর্যন্ত তাঁর গোলাপ– কনসুয়েলোকেই ভালোবেসেছিলেন আঁতোয়া দ্য স্যাঁত একজুপেরি। ‘মেমোয়ার দ্য লা রোজ’ হল অনন্য এক দম্পতির কাহিনি, যাতে পুরুষটি ছিলেন মহিলার জীবনের একমাত্র জাদুকর এবং মহিলা সেই পুরুষটির রোমাঞ্চকর যাপনের নিয়ত অনুপ্রেরণা।
১৯৮৮ সালে ‘ভাবনার ভাস্কর্য’ দিয়ে দে'জ পাবলিশিং থেকে কেতকীদির বই-প্রকাশ শুরু। সংখ্যায় খুব বেশি না হলেও ২০০৫ সাল পর্যন্ত তাঁর বই এখান থেকে প্রকাশিত হয়েছে। বাঙালীর সংস্কৃতি-জগতে এরকম দু'-একজনকে পাওয়া গিয়েছে ব’লেই এ যাবৎ উৎকৃষ্ট যা-কিছু পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া গিয়েছে।
নন্দিনীর জীবনে একপিঠে রঞ্জন অন্যপিঠে বিশু। খুব ফালতু লাগছে? মনোগ্যামি পলিগ্যামি এই সব মাথায় উঁকি দিচ্ছে? কিংবা, মনে হচ্ছে একালে যেমন লেখা থাকে ‘ওপেন-রিলেশনশিপ’ সেই রকম কিছু একটা।
প্রেমের আরেক রকমারি-ঝকমারি– পার্টিপ্রেম। দলের আনুগত্য থাকা। চিরকাল। দল কী দিল-টিল, সেসব হিসেবে তেমন যায় আসে না। এমনকী, ভেঙে যাওয়া, ছিন্নভিন্ন হাল সত্ত্বেও, বহু পার্টিকর্মীই মফস্সলে ধরে রাখে আপনপার্টি। বুকের মধ্যে, একটা নিশ্চিন্দিপুর গজিয়ে ওঠে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়েও পার্টি করতে করতেই তো প্রেম ঘটে যায় দুম করে। প্রেমই পার্টি, পার্টিই প্রেম। তাও, কেউ কেউ হাঁটে না মিছিলে, শোনা যায়, তারও দল আছে। কোথায়?
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved