মদ নিয়ে বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে অজস্র বইয়ের নাম করা যায়। যখন হাতের কাছে নেই কোনও পানীয়, ধীরে ধীরে চুমুক দিন এইসব বইয়ের পাতায়। তবে মনে রাখবেন পাস্তুরের সেই অমোঘ উক্তি: ‘A bottle of wine contains more philosophy than all the books in the world.’
বৈরাগ্যতলার ভাঙামেলা যেন মেলার ক্লাইম্যাক্স। কিছুটা সস্তায় পাওয়া যায় বলে লোকে আরও ভিড় জমায়। মেলায় দোকানদারদের কথায় বাবা গোপালদাসের কৃপায় মেলার কোনও জিনিস অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে থাকে না।
টেবিল, টেবিল নয়। কাগজের চোখ। এক ঝলক চোখে চোখ রেখেছ কি টেবিলের নিজস্ব চরিত্র পড়া যাবে। কী খায়, কোন দিকে হাঁটে, আহত-আক্রান্ত হলে কত রাগে, কতটুকু কাঁদে। সবই তো টেবিলে। দাহপত্র, জারি বোবাযুদ্ধের অবিন্যস্ত মাংস কেটে কেটে ছড়িয়ে রাখা; কালি কলম ইজেলের নিপুণ গৃহিণীপনা; সবই তো টেবিলে। কড়চার এ পর্বে লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়ন।
সমীক্ষা বলছে, দেশের অধিকাংশ শ্রমিক কাজ করেন গুদাম, ছোট কারখানা বা অঘোষিত শিল্পক্ষেত্রে, যেখানে সরকারি নথিভুক্তি নেই। কঠোর অগ্নিনিরাপত্তা বা জীবনবিমা আইন মানে এই শ্রমিকদের স্বীকৃতি দেওয়া, তাদের সুরক্ষার দায় রাষ্ট্রের কাঁধে নেওয়া। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে সেই দায় নিতে কেন্দ্রীয় সরকার আগ্রহী নয়।
আমি প্রায়ই বলতাম, লীলাদি আপনি রান্নার ওপর একটা বই তো লিখতে পারেন! নানা কাজের চাপে উনি তখন না-লিখতে পারলেও, পরে, ১৯৭৯ সালে, ‘রান্নার বই’ তাঁর মেয়ের সঙ্গে লেখেন। জনপ্রিয়তার নিরিখে এ আমার নয়, সমস্ত বাঙালি জাতির গর্ব ও বিশেষ প্রাপ্তি।
বইমেলার এক এবং দুই নম্বর গেট, বাকি প্রবেশ-ফটকের তুলনায় একটু বেশিই শান্ত, জনহীন। প্রথমত, মাসের শেষ, দ্বিতীয়ত, সপ্তাহের কেজো-দিনের মাঝামাঝি। ফলে ভরদুপুরে বইমেলার ‘এক’ ও ‘দুই’ ভাতঘুমের মতো আয়েশি, ঝিমধরা। সেই ঝিমুনিকে অট্টহাসিতে আত্মারাম খাঁচা করে দিলেন দুই সত্তরোর্ধ্ব। একজনের প্রবেশ ঘটছিল, অন্যজনের প্রস্থান। সেই আসা-যাওয়ার মাঝেই দুই বন্ধুর দীর্ঘদিন পর সাক্ষাৎ। ‘অনেকদিন পর আবার চেনা মুখ, বন্ধু কী খবর মুহূর্ত বলুক!’ সুখ-দুখের নানা কথায় বইমেলা তখন আক্ষরিক অর্থেই ‘মিলনমেলা’।
এই বইয়ের সূচনাবিন্দু যদি হয় আদিপর্বের সিনেমা, তারপর ক্রমে শহর ও পঞ্চাশের জনপ্রিয় ছবি, মধ্যপর্বে সে পৌঁছে যায় ক্রম-প্রসরমান ইমেজ কালচারে, টেলিভিশন আর গণপরিসরের অস্বস্তিকর নানা প্রশ্নে। কিন্তু শেষে গিয়ে সে আবার বেরিয়ে যায় আপাত-সময়পঞ্জী অনুসারী চলন থেকে।
এ এক অন্য অনন্য গ্রন্থ। পড়তে পড়তে কেবলই মনে হয়, বাজার শুধু কেনা-বেচার জায়গা নয়। বাজার একজন জবরদস্ত হেডমাস্টার। আপনাকে মানুষ চেনায়। রুচি শেখায়। মানুষে মানুষে সম্পর্ক বোঝায়। সহানুভূতিশীল করে তোলে।
যে বইমেলায় একটা বই বেরলেই, খানিক বিক্রিটিক্রি হলেই, তরুণ লেখক ভাবেন, পরের বইয়ের আগে অগ্রিম পুরস্কার তাঁর প্রাপ্য, যে বইমেলায় স্টলের নিচে লেখা থাকে ফেসবুকের ফলোয়ার সংখ্যা, যে বইমেলায় রোবটের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করতেও ভিড় হয়, যে মেলা অফুরন্ত সেলেব-সেলফি শিকারোৎসব– সেই মেলায় এক প্রবীণ শিল্পী, বাংলা সাহিত্যের প্রচ্ছদ-অলংকরণের ইতিহাস সংরক্ষক ও লিখিয়ে আত্মপরিচয় যতসম্ভব ঝাপসা করে দিয়ে বলছেন, ‘ওই আর কী।’
অঞ্জনের ‘অঞ্জন নিয়ে’ এমন এক আত্মস্মৃতি, যেখানে কিছু এমন ভাঙচুর হয়েছে, যা ঘটানো অঞ্জন ছাড়া কারও পক্ষে সম্ভব নয়।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved