পরিতোষ সেনের বর্ণনায় জানা যায়, মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের কাছে সংবাদ আসে যে তাঁর প্রিয় সভাসদ এনায়েত খাঁ মৃত্যুপথযাত্রী। খবরটি শোনামাত্র সম্রাট তাঁকে দেখার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন। এই মুহূর্তেই একটি ঐতিহাসিক শিল্পকর্মের জন্মের ইতিহাস সূচিত হয়। ইনায়েত খাঁ-র জীর্ণ দেহের নির্লিপ্ত প্রতিকৃতি অঙ্কনের নির্দেশ দিলেন জাহাঙ্গীর।
ভবানন্দ গাইছিল দেবভাষায়, যেন স্তবগীতি। আন্দাজ করি, আরাধ্যার রূপ-মাধুর্য বর্ণনার পরে তার কণ্ঠ ক্রমশ উদ্দীপনার তীব্রতায় আচ্ছন্ন হয়ে উঠেছিল, ‘সপ্তকোটিকণ্ঠকলকলনিনাদকরালে–’; হঠাৎ নেহাৎ প্রাকৃতভাষায় বালকোচিত অনুযোগে সে আত্মধিক্কার ব্যক্ত করে বসে– ‘অবলা কেন মা এত বলে?’ স্তোত্র নেমে আসে স্লোগানে। দার্শনিকের অধ্যাত্ম সশস্ত্র বিপ্লবের উপযোগী হয়ে ওঠে।
ডাকবাংলো মানেই কি কেবল তথ্য ও শুষ্ক ইতিহাসের ধারাবিবরণী? লেখক অভিষেক চট্টোপাধ্যায় নিজেই আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, ‘ডাকবাংলোর ইতিহাস, স্থাপত্য, প্রয়োজনীয়তা– সমস্ত কেজো তথ্যকে একত্রিত করলেও আরও একটি আঙ্গিক ছোঁয়া বাকি থেকে যায়, তা হল ডাকবাংলোর মজার গল্পকাহিনি।’
শেষপর্যন্ত তাঁর গোলাপ– কনসুয়েলোকেই ভালোবেসেছিলেন আঁতোয়া দ্য স্যাঁত একজুপেরি। ‘মেমোয়ার দ্য লা রোজ’ হল অনন্য এক দম্পতির কাহিনি, যাতে পুরুষটি ছিলেন মহিলার জীবনের একমাত্র জাদুকর এবং মহিলা সেই পুরুষটির রোমাঞ্চকর যাপনের নিয়ত অনুপ্রেরণা।
১৯৮৮ সালে ‘ভাবনার ভাস্কর্য’ দিয়ে দে'জ পাবলিশিং থেকে কেতকীদির বই-প্রকাশ শুরু। সংখ্যায় খুব বেশি না হলেও ২০০৫ সাল পর্যন্ত তাঁর বই এখান থেকে প্রকাশিত হয়েছে। বাঙালীর সংস্কৃতি-জগতে এরকম দু'-একজনকে পাওয়া গিয়েছে ব’লেই এ যাবৎ উৎকৃষ্ট যা-কিছু পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া গিয়েছে।
নন্দিনীর জীবনে একপিঠে রঞ্জন অন্যপিঠে বিশু। খুব ফালতু লাগছে? মনোগ্যামি পলিগ্যামি এই সব মাথায় উঁকি দিচ্ছে? কিংবা, মনে হচ্ছে একালে যেমন লেখা থাকে ‘ওপেন-রিলেশনশিপ’ সেই রকম কিছু একটা।
প্রেমের আরেক রকমারি-ঝকমারি– পার্টিপ্রেম। দলের আনুগত্য থাকা। চিরকাল। দল কী দিল-টিল, সেসব হিসেবে তেমন যায় আসে না। এমনকী, ভেঙে যাওয়া, ছিন্নভিন্ন হাল সত্ত্বেও, বহু পার্টিকর্মীই মফস্সলে ধরে রাখে আপনপার্টি। বুকের মধ্যে, একটা নিশ্চিন্দিপুর গজিয়ে ওঠে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়েও পার্টি করতে করতেই তো প্রেম ঘটে যায় দুম করে। প্রেমই পার্টি, পার্টিই প্রেম। তাও, কেউ কেউ হাঁটে না মিছিলে, শোনা যায়, তারও দল আছে। কোথায়?
তথ্যভ্রান্তি! দ্বিতীয় সংস্করণেও? অবন-গগন ঠাকুরকে নিয়ে, তাঁদের শিল্পচর্চা প্রসঙ্গে লেখা বই এত ভুলেভরা হবে কেন? প্রশ্নটি সহজ, উত্তর সম্ভবত ততটা সহজ নয়।
যোগেন চৌধুরী তাঁর ছবিতে কবিতার স্পর্শ নিয়ে এলেও, বিশেষত নারীদের চোখে, এইসব নারীচরিত্র সৃষ্টিতে অনেক বেশি বাস্তব ও প্রাণবন্ত। তাঁর নারীরা রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলার নারীদের চেয়ে অনেক বেশি ‘রক্তমাংস’-এর!
এখন এই প্রেমের মাসে, গ্রেট ইন্ডিয়ান মেটিং সিজনে, কোটি মানুষের বিয়ে হচ্ছে, এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেটা মেয়েটির অনিচ্ছায়, মুখ্যত সামাজিক চাপে। আর অনেক ক্ষেত্রে সামাজিকভাবে অনুমোদিত যৌনতার জন্য। এখানেই সন্দেহ হয় কামসূত্র সত্যি আমাদের দেশে লেখা হয়েছিল? আর কতকাল আমরা কামনা-প্রেম গুলিয়ে ঘুলিয়ে বেঁচে থাকব?
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved