‘দুধ মাঙ্গো তো ক্ষীর দেঙ্গে, কাশ্মীর মাঙ্গো তো চির দেঙ্গে’-এর মতো উগ্র জাতীয়তাবাদী স্লোগানকে বুকে আঁকড়ে, কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে দাবি করা রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারকরা কাশ্মীরের ভিন্নমতের মানুষদের শাপ-শাপান্ত ব্যাতীত আর কী দিতে পেরেছেন? কাশ্মীরের বিপুল সংখ্যক জনতা তাই জাতীয়তাবাদী চেতনায় একাত্মবোধ করার চেয়ে ঢের বেশি আবেগ অনুভব করেন তাঁদের প্রাদেশিক সাফল্যে- বকলমে যা ভারতের ‘ইউনয়ন অফ স্টেটস’ ভাবনার সমান্তরাল এবং সাংবিধানিকভাবে ভারতের রাষ্ট্রচেতনার ভিত্তিও বটে যা আজকের বহু রাষ্ট্রনেতার কাছেই বোধগম্য হয় না। এই কাশ্মীরের রনজি জয় ভারতকে নিশ্চিতভাবেই জাতীয় দলে একাধিক তারকা উপহার দেবে আগামীদিনে।
রোসিন্তা দেখভাল করার ছোকরাটার উদ্দেশ্যে হাঁক পেড়ে গাল দেয়। তার নীলচে সবুজ চোখে আলো পড়ে ঠিকরে যায়। ব্যস, কোথায় জেসিন্তা! তার নবীন আলো ঝলমল রূপ ছেড়ে মেদহীন, বাদামি চুলের মায়ের দিকে দৃষ্টি আটকে গেল বাঁধনের।
বেঁধে থাকার মতো, বেঁধে রাখার মতো জিনিসের খোঁজ মানুষের প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই। সেই প্রস্তর ও ব্রোঞ্জ যুগেও। আঠার ব্যবহার কখনও তাদের অস্ত্রশস্ত্রে, কখনও বাসস্থান নির্মাণে, কখনও শিকারে, আবার কখনও শিল্পকলায়। গুহাচিত্রকে দেওয়ালে ধরে রাখতে এবং সেটাকে টেকসই করতে আঠার ভূমিকা সাংঘাতিক।
ফেরা তো আসলে প্রত্যাবর্তনও। হারিয়ে যেতে যেতে ঘুরে দাঁড়ানো। যেমন করে ঘুরে দাঁড়ায় লড়াকু যোদ্ধা রঙ্গমঞ্চে নজর কেড়ে নেওয়া পার্শ্বচরিত্র। কিংবা নিঝুমপাড়ায় ফেরিওয়ালার ডাক।
যেখানে বর্তমানের কিছু মশলাদার সিনেমা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ইতিহাসকে বিকৃত করে একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে ক্রমাগত খলনায়কের কাঠগড়ায় দাঁড় করায়, সেখানে গিরিশচন্দ্র আক্ষরিক অর্থেই ছিলেন এক মহামানব।
আপাত নিরীহ রঙের পরতেই আছে অন্য রং। ‘বুরা না মানো হোলি হ্যায়’-এর ছদ্মবেশে, রুচির লক্ষ্মণরেখা লঙ্ঘিত করে, তৈরি হয় অবাঞ্ছিত স্পর্শচরিতকথা। রঙের ভিড়ে সাধারণত, পাখির চোখ নারীরাই। উৎসবের আছিলায় ‘দাগ আচ্ছে হ্যায়’– ট্যাগলাইনে এই অসভ্যতার অলিখিত ছাড়পত্র যেন হোলিতে সর্বজনসিদ্ধ।
রবিঠাকুর নোবেলটা পেয়েছিলেন বলে সর্বভারতীয় স্তরে বাংলার এখনও এত মান। নইলে কে দেখতে যাচ্ছে নজরুল, মধুসূদন, জীবনানন্দ, বিভূতিভূষণ কী লিখেছিলেন, তাঁদের কী প্রতিভা ছিল! এঁরা প্রত্যেকেই নোবেলের যোগ্য। আমরা কোন্দল করতে গিয়ে তাঁদের ঠিকমতো তুলে ধরতে পারিনি। বাংলাদেশ ভাষার জন্য প্রাণ দিতে পারল, আমাদের শিলচর শহিদ হতে পারল, আর আমরা একটা মরণান্তক আন্দোলন করতে পারি না?
যাত্রাশিল্প ফের গ্রামবাংলার মাঠে-ময়দানে ফিরলেও, চটুল বিনোদনের থাবা এড়াতে পারেনি। অনীক ব্যানার্জি সেই বিরল পালাকারদের একজন, যিনি দর্শকদের নতুন কিছু দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁর নির্দেশনায় ‘আমি ভিনদেশী বহুরূপী’ তেমনই এক উল্লেখযোগ্য কাজ।
এসআইআর কেবল একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়– খুঁচিয়ে তোলা এক হৃদয়বিদীর্ণ করা ক্ষত, যা নিয়ে আসে ভয়ংকর মানসিক ঝড়। মনোবিদরা একে বলবেন, ‘রি-অ্যাকটিভেশন অফ অ্যাটাচমেনট ইনজিওরি’, সম্বন্ধজনিত আঘাতের পুনঃসক্রিয়তা।
এই ভাষা ছাড়া আমি অস্তিত্বহীন। বাংলা ভাষা ছাড়া আমি কিচ্ছু না। যেটুকু কাজ আমি করতে পেরেছি, তা এই ভাষার জন্যই।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved