আজ শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুদিন। এই শহরের রাখালের মৃত্যুদিন। যে রাখাল, কলকাতায় নয়, প্রয়াত হয়েছিলেন শান্তিনিকেতনে। স্মৃতিশক্তি-র এই লেখাটি সেই শেষদিনের শক্তি চট্টোপাধ্য়ায়কে নিয়ে। বসন্তের সমস্ত রং নিয়ে যিনি চলে গিয়েছিলেন ১৯৯৫ সালের, ২৩ মার্চ। শেষদিনের সে অভিজ্ঞতা, লিখেছেন তাঁর কন্যা।
বিয়ের ১০ বছরের মধ্যে, আদালতের যাচিত নির্দেশে, আমাদের বিয়ের আলো যখন নিভে গেল, তার ক’দিনের মধ্যে শক্তিদার সঙ্গে আমার দেখা। চৌরঙ্গীর কোনও পানঘরে। আমার বিচ্ছেদের ব্যথা ফুটে উঠল শক্তিদার চোখে। ঈশ্বরকে আজও বুঝিনি। কত মানুষকে কত কষ্ট দিচ্ছেন বিশ্ব জুড়ে। অথচ আমার ঠুনকো কষ্টে তাঁর চোখে জল!
শহীদুল জহিরের গল্পে কোনও চূড়ান্ত উচ্চারণ নেই। অর্থ বারবার সরে যায়, ঘটনা ফিরে আসে, পরিসমাপ্তি স্থগিত থাকে। এই স্থগিত করে রাখা, না-বলা, দ্বিধাই– শহীদুল জহিরের আখ্যানের কেন্দ্র, তাঁর গভীরতম রাজনৈতিক অবস্থান।
‘ভালোবাসার দীঘিতে কতো করেছো অবগাহন/ পেয়েছ সুখদুঃখ আর ছলে ভোলানো দাহ’– এরকম কয়েকশ জোড়ালাইন শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে সেই ছুটন্ত আবহমান বাসের টিকিট দিয়ে দিয়েছে যে বাসের নাম ‘অমরত্ব’। সেই বাস থেকে আর শক্তিকে নামানো যাবে না।
১৯৯০ সাল নাগাদ দে’জ থেকে সুভাষদার কবিতার বই ছাপা নিয়ে আমি দুটো সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। প্রথমত, তাঁর পুরোনো কবিতার বইগুলো আলাদা-আলাদা বই হিসেবে ছাপা হবে এবং দ্বিতীয়ত, তাঁর কবিতাসংগ্রহ খণ্ডে-খণ্ডে দে’জ থেকে প্রকাশ করা হবে।
আত্ম-উন্মোচনকে, প্রসূন, ব্যবহারিক এমন একটি স্তরে নিয়ে গিয়েছে তা সাধনা-ছুঁইছুঁই। নিজেকে দাঁড় করিয়ে রেখে, বা বসিয়ে রেখে, কিংবা থামিয়ে দিয়ে দূর থেকে সে দেখেছে। ঘুরে ঘুরে সে দেখেছে। ব্যথিত মনের কোনও যুবতীর বয়ানেও সে লিখে গেছে। গভীর গাঙ্গেয় দেশে ঢুকে পড়ার সাধে বারবার আমোদে সে নিজেকে বহন করছে।
এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে, গ্রামোফোন কোম্পানির রেকর্ডের জনপ্রিয়তার মূল হয়ে দাঁড়ায় ইসলামি গান। এরপর থেকেই ইসলামি গান বাংলা ভাষায় ভীষণভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করে। ইসলামি গানের জনপ্রিয়তার জন্য অনেক হিন্দু সংগীতশিল্পীও মুসলিম ছদ্মনামে ইসলামি গান গাইতে শুরু করেন।
অতিরিক্ত কোনও আবেগের সঞ্চালন সন্তর্পণে এড়িয়ে চলছেন, আর পরিমিতিই হয়ে উঠছে শিল্প, এইটা ক্রমাগত বুঝতে বুঝতে শঙ্খ ঘোষের কবিতা পড়ি। নীরবতা আর নিয়ন্ত্রণকে তাঁর কবিতায় চারিয়ে দিচ্ছেন তিনি; প্রচার নয় প্রকাশ, জোর নয় বিশ্বাস প্রবল হয়ে উঠছে। তাঁর নিজের কবিতা-ভাষা নীরবতার ভিতর থেকে, নেপথ্য থেকে সময়ের আশ্চর্য পরিক্রমা।
কবিতা চর্চাকারীদের মধ্যে এক ধরনের আদিম ব্যামো রয়েছে। তা, কবিতায় ব্যবহৃত ব্যক্তিনামের খোঁজ। বাংলা কবিতায়, বহু বিখ্যাত কবিতায় নামের ব্যবহার রয়েছে। জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন থেকে শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের অবনী– এ নিয়ে পাঠকের জিজ্ঞাসা গোয়েন্দাগিরির পর্যায়ে পৌঁছেছে। সত্য আর কবিতার সত্য কি এক? বাস্তবের পিন ফুটিয়ে কবিতার বুদ্বুদ ফাটিয়ে দেখার এই চেষ্টা কি কবিতার পক্ষে ক্ষতিকারক? বিশ্ব কবিতা দিবসে সে নিয়েই বিশেষ নিবন্ধ।
এই দেশের রাজনীতির যে মূল ন্যারেটিভ, যে গণতান্ত্রিক পরিসর, যে ধর্মনিরপেক্ষতা– সম্পূর্ণ লীন হয়ে ছিল সর্দার বল্লভাই প্যাটেলের মূর্তিতে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে, এই তিনটি উপাদানই স্থানান্তরিত হয়েছে। গুজরাতে। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের দীর্ঘকায় মূর্তির ওপরে। কেউ কেউ বলবেন, এ-হল রাজনৈতিক ক্ষমতা বদলের অবধারিত ফলাফল। তবু হে পাঠক, একুশ শতকের ভারত কি বল্লভভাই প্যাটেল অথবা তাঁর উজ্জ্বল মূর্তির মতোই লৌহসম?
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved