

যে সারল্য আজকের নিদারুণ চালাকি আর শঠতার যুগে একেবারে বিরল। বিরল বললেও হয়তো কম বলা হয়, গতির যুগের মেশিনের জাঁতাকলে ফেলে এমনভাবে পিষে দেওয়া হয়েছে আমাদের যে, সেই সারল্যের শেষ বিন্দুটুকু মেশিনের উত্তাপে মিলিয়ে গেছে। সেই সারল্যকেই কি রাজা সেন জিতিয়ে দিতে চেয়েছিলেন ‘দামু’ ছবিতে?
কেমন ছিল রবীন্দ্রসংগীতের স্রষ্টার নিজের গাওয়ার ভঙ্গি? কবি গাইতেন মূলত কথা বলার ছন্দে, তালবাদ্যহীন, তাঁর গানে ছিল সূক্ষ্ম অলংকার, ছোট ছোট তানের পরিমিত কারুকাজ (যার অনেকটাই স্বরলিপিতে নেই) আর কাব্যগীতি গাওয়ার সহজ দেশীয় চলন। কিন্তু এই ভঙ্গি কি আদৌ রাবীন্দ্রিক?
অরবিন্দ কিন্তু কখনও-ই জীবন বা সংসার থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনও বৈরাগী ছিলেন না। সংসারবিমুখ আধ্যাত্মিকতা নয়, বরং আধ্যাত্মিকতার মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার অন্বেষণ করেছেন। তাঁর এই ‘সবকিছুই আধ্যাত্মিক জীবনের অন্তর্ভুক্ত’– এই বিশ্বজনীন দর্শনেরই সবচেয়ে বড় এবং বর্ণময় ক্যানভাস ছিল তাঁর নাটকগুলো।
কবিতা রাজনৈতিক ইশতেহার হয়ে ওঠে। লাতিন আমেরিকার প্রতিবাদী কবিতার সঙ্গে সেই সূত্র ধরেই সমগোত্রে অবস্থান করে সুকান্তের কবিতা। পূর্ণ আয়ু নিয়ে বাঁচলে সুকান্তের কবিতা কোন পথে এগত বলা সম্ভব নয়, তবে এই চেহারা প্রকরণ বা অন্তর্বস্তুতে স্থিত থাকত না, তা বলাই যায়।
৩১ জন বিপ্লবীর সঙ্গে বসে আছেন ১৭ নম্বর কয়েদি। একেবারে শেষ বেঞ্চে। তিনিই নায়ক এই মামলার, কিন্তু তিনি নির্লিপ্ত। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার কোনও চেষ্টাই নেই আসামির। অরবিন্দ ঘোষের জন্মদিনে বিশেষ নিবন্ধ।
একটা রহস্য চোখের সামনে পেয়ে হাত নিশপিশ নিশপিশ করতে লাগল আমার। হরিবাবা ও তাঁর আশ্রমের চেয়েও আমাকে বেশি আকর্ষণ করতে লাগল কুহুডাঙার ওই বিপদাকীর্ণ পথ।
কলেজের অনুষ্ঠানে স্ট্যানলি জ্যাকসনকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে জেলে গিয়েছিলেন বীণা দাস। পরবর্তীকালে সুভাষচন্দ্রের সঙ্গে পরিচয়, কংগ্রেসে যোগ দেওয়া; এমনকী স্বাধীনতার পরেও দাঙ্গা কিংবা মরিচঝাঁপির ঘটনায় সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া স্বাধীনতা সংগ্রামী বীণা দাসকে আমরা কি শুধুই কারাকাহিনি লেখিকা হিসেবেই মনে রাখব?
১৯৪৭-এর ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করেছিল ঠিকই, কিন্তু দেশের সর্বত্র ১৫ আগস্ট তা উদযাপিত হয়নি। হয়নি, তার কারণ এক বিদেশির কলমের খোঁচা! তিনি সিরিল র্যাডক্লিফ। তাঁর নির্ধারিত রূপরেখায় ভারতবাসী লাভ করেছিল দেশভাগ। গুলিয়ে গিয়েছিল ভারতবর্ষের ইতিহাস, ভূগোল আর সংস্কৃতি।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কিংবা ভার্চুয়াল জগৎ কি পারে নাড়ির টানের বিকল্প হতে? বিশেষ করে যে নাড়ির যোগের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রয়েছে বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক।
যখনই খুদে অ্যাসটেরিক্স বা সরল-সোজা ওবেলিক্স তাদের অলৌকিক পানীয় খেয়ে মহাশক্তিশালী রোমান লিজিয়নদের কচুকাটা করেছে, তখনই পাঠক এক অদ্ভুত মানসিক তৃপ্তির স্বাদ পেয়েছেন। দুই স্রষ্টা গোসিনি ও ইউদেরজোর জন্মের ১০০ বছর পরেও তাঁদের তৈরি চরিত্রগুলো একইভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে রয়েছে।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved