

গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্যের জীবনকাহিনি আজ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, বড় কিছু করার জন্য সবসময় প্রাচুর্য বা বড় ডিগ্রির প্রয়োজন হয় না, যা প্রয়োজন তা হল একাগ্রতা, নিষ্ঠা এবং চারপাশের প্রকৃতিকে ভালোবাসার এক সত্যান্বেষী মন।
জে কে রাউলিং কিংবা তাঁর সৃষ্ট শুভশক্তির মশালধারী শিশু হ্যারি– বড় হয়ে উঠতে উঠতে বারবার দেখায় জীবনে ভালোবাসার থেকে বড় জাদু আর কিছু হতে পারে না। মনে করিয়ে দেয়, যুদ্ধ যদি করতেই হয় তবে শুধুমাত্র তা ভালোবাসার জন্য করা যেতে পারে।
রাতের যে-ট্রেন যাত্রী বমি করতে-করতে শেষ স্টেশনের দিকে এগিয়ে চলে, সে-ই তো পরের ভোরে সরীসৃপের মতো যাত্রী খেতে-খেতে শহরগামী হয়। সপ্তাশ্ব ঘোড়ায় চেপে টহল দেওয়া সূর্যের আলো কি তখন তার রাতপোশাক ও রাতসিঁদুর মুছে দিতে চায়?
প্ল্যানচেটের দীর্ঘ ইতিহাস জড়িয়ে আছে আমার পরিবারের সঙ্গে। বাবা তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় প্ল্যনচেটে কথা বলতে চেয়েছিলেন বিভূতিভূষণের সঙ্গে। এসেছিলেন তিনি। স্পষ্ট সই করেছিলেন নিজের নাম। মা জানতে চেয়েছিলেন ইউনিভার্সিটি পরীক্ষায় পাস করবেন কি না, কিন্তু লজ্জায় সেই প্রশ্ন করে উঠতে পারেননি।
কলকাতায় তসলিমা নাসরিনের আগমনের কিছুদিন মাত্র আগে, ২২ জুলাই, যাদবপুরের এক ছোট্ট বইয়ের স্টল, ‘কাউন্টার এরা’য় একদল কট্টর এসে শাসিয়ে যায়। তারা জানায়, এই বইয়ের স্টলে ‘দেশদ্রোহী’ বই বিক্রি হয়। তাদের দোকান ভেঙে, পুড়িয়ে দেওয়া হবে– এতদূর শান্তির বার্তাও ক্ষমতাধারীরা জানিয়ে গিয়েছে। সময়ের দূরত্বে তসলিমা নাসরিনের ফেরা আর যাদবপুরের বইয়ের স্টলে হামলা খুব দূরবর্তী নয়।
‘রাত করে বাড়ি ফেরা’ আর ‘একজন মেয়ের রাত করে বাড়ি ফেরা’র মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে একজন মেয়ের কাছে ঘরের প্রোটেক্টিভ পেট্রিয়ার্কির চেয়ে পথই হয়ে উঠতে পারে বেশি নিরাপদ। ফেরার শান্তি কি তখন আর একরকম থাকে?
বাস্তব জীবনে দেখেছি, কিছু ঘটনা সরাসরি ফিরে আসে, কিছু ঘটনা নব নব রূপে ফিরে আসে। চলে যায় চুরি, ফিরে আসে পুকুর চুরি। চলে যায় গুন্ডা, ফিরে আসে গুন্ডাদমন আইনের ভীতি। চলে যায় তোলা, ফিরে আসে খাটের তলার টাকার ঝোলা।
গাজায় নতুন করে শুরু হয়েছে মৌ-পালন। ধ্বংসের মধ্য দিয়ে যাত্রা। মৌমাছি উড়ছে। কিছু ফুল এখনও অবশিষ্ট আছে। ফুলেরা একবার মৌমাছিকে অথবা মৌমাছিরা ফুলকে একবার খুঁজে পেলে বানচাল হয়ে যাবে তামাম এই যুদ্ধের দলিল। মাটি ফাটিয়ে সমস্ত সীমানা ঘুচিয়ে তারা আবার ফিরিয়ে আনবে সবুজ। আবার প্রাণ। আবার সেই এক জীবনীশক্তি, যার অধীনে ক্ষুদ্র মানুষের জন্ম।
জীবনে সুখেদুঃখে একাধিক প্রকৃত বন্ধুকে পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। বয়সে খানিক অগ্রজ প্রিয়নাথ সেন ছিলেন তাঁদের অন্যতম। লেখালিখির প্রথম সমালোচক, পারিবারিক বন্ধু প্রিয়নাথকে নিয়ে জীবনস্মৃতিতে একটি গোটা অধ্যায় লিখেছেন তিনি। গতকাল ৩০ জুলাই ছিল আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস। সেই উপলক্ষে রবীন্দ্র-প্রিয়নাথ বন্ধুত্ব নিয়ে বিশেষ নিবন্ধ।
যে-নদীর সঙ্গে আমার বিগত নিশীথে দেখা হয়েছিল, যার সঙ্গে মন দেওয়া-নেওয়া হয়েছিল, কত কথা হয়েছিল, সে এক চিন্ময়ী সত্তা। তার সম্পর্কে এসব ভৌগোলিক ও পৌরাণিক তথ্য জেনে আমার কী-ই বা লাভ? সে তো তথ্যের নদী নয়, সে চেতনার নদী।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved