Robbar

Sangbad Pratidin

বসন্ত-বিলাস বনাম বসন্ত বিলাপ

আপাত নিরীহ রঙের পরতেই আছে অন্য রং। ‘বুরা না মানো হোলি হ্যায়’-এর ছদ্মবেশে, রুচির লক্ষ্মণরেখা লঙ্ঘিত করে, তৈরি হয় অবাঞ্ছিত স্পর্শচরিতকথা। রঙের ভিড়ে সাধারণত, পাখির চোখ নারীরাই। উৎসবের আছিলায় ‘দাগ আচ্ছে হ্যায়’– ট্যাগলাইনে এই অসভ্যতার অলিখিত ছাড়পত্র যেন হোলিতে সর্বজনসিদ্ধ।

→

বাংলা ভাষার থেকে আমি কী পেলাম

রবিঠাকুর নোবেলটা পেয়েছিলেন বলে সর্বভারতীয় স্তরে বাংলার এখনও এত মান। নইলে কে দেখতে যাচ্ছে নজরুল, মধুসূদন, জীবনানন্দ, বিভূতিভূষণ কী লিখেছিলেন, তাঁদের কী প্রতিভা ছিল! এঁরা প্রত্যেকেই নোবেলের যোগ্য। আমরা কোন্দল করতে গিয়ে তাঁদের ঠিকমতো তুলে ধরতে পারিনি। বাংলাদেশ ভাষার জন্য প্রাণ দিতে পারল, আমাদের শিলচর শহিদ হতে পারল, আর আমরা একটা মরণান্তক আন্দোলন করতে পারি না?

→

মেলোড্রামা-মুক্ত যাত্রাশিল্প কি ব্যবসা বাড়াবে?

যাত্রাশিল্প ফের গ্রামবাংলার মাঠে-ময়দানে ফিরলেও, চটুল বিনোদনের থাবা এড়াতে পারেনি। অনীক ব্যানার্জি সেই বিরল পালাকারদের একজন, যিনি দর্শকদের নতুন কিছু দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁর নির্দেশনায় ‘আমি ভিনদেশী বহুরূপী’ তেমনই এক উল্লেখযোগ্য কাজ।

→

ভিটে হারানোর স্মৃতি, সত্তা, ভবিষ্যৎ

এসআইআর কেবল একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়– খুঁচিয়ে তোলা এক হৃদয়বিদীর্ণ করা ক্ষত, যা নিয়ে আসে ভয়ংকর মানসিক ঝড়। মনোবিদরা একে বলবেন, ‘রি-অ্যাকটিভেশন অফ অ্যাটাচমেনট ইনজিওরি’, সম্বন্ধজনিত আঘাতের পুনঃসক্রিয়তা।

→

বাংলা ভাষার থেকে আমি কী পেলাম

এই ভাষা ছাড়া আমি অস্তিত্বহীন। বাংলা ভাষা ছাড়া আমি কিচ্ছু না। যেটুকু কাজ আমি করতে পেরেছি, তা এই ভাষার জন্যই।

→

মায়া মমতায় গড়া বাংলা বিয়ের ছড়া

বিয়ের পদ্য বর ও কনে দুই পক্ষেই ছাপাত। বরের বন্ধুরা আবার আলাদা করে বিয়ের পদ্য পাঠ করে বিলি করত বিবাহসভায়। পদ্য পাঠের সাধারণ নিয়ম ছিল– কনেকে সিঁদুর দান করার পরে অথবা বাসরঘরে যাওয়ার পূর্বে নাপিত ঘোষণা করতেন বিয়ের পদ্য পড়ার পালা।

→

ঋতুপর্ণ, অন্তরমহল আর রবীন্দ্রনাথ

নিজের শরীর, মন আর এই সমাজ নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল ঋতুপর্ণ ঘোষের। সেইখানে রবীন্দ্রনাথ ছাড়া আর কার হাতই বা ধরবেন তিনি? কিন্তু তার সিনেমায় এসে হাজির হলেন প্রথম রবীন্দ্রনাথ। মধ্যবিত্ত বাঙালির খাটো অনুভব পরিধির রবীন্দ্রনাথ। এই দ্বিধার মূল কোথায় লুকিয়ে আছে, সে প্রশ্ন একা ঋতুপর্ণ-র জন্য নয়, আমাদেরও।

→

নিছক ‘খেলনা’ নয়

একটা বাঁদর ছানা একটি পুতুলকে জড়িয়ে আছে। চোখ ছলছল করছে ছোট্ট বাঁদর ছানার। একবার সে পুতুলটাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত, আবার তাকে জড়িয়ে ধরছে। কখনও পুতুলের হাত ধরে আছে। প্রতিটা দৃশ্য অন্য একটা দৃশ্যের জন্ম দিচ্ছে। প্রতিটা মুহূর্ত, একটা বেঁচে থাকার গল্প বলছে।

→

বাংলা ভাষার থেকে আমি কী পেলাম

একটা সময় এল। একটা চাকরি জুটল। তখনও মাথায় কবিতার ভূত। কয়েক মাস চাকরি করার পর কৃত্তিবাসের একটা সংখ্যা এনে আমার বস বললেন, ‘তুমি যে কবিতা ছাপাচ্ছ বড়?’ ততদিনে টুকটাক এদিক-সেদিক নানা কাগজে, পত্রপত্রিকায় আমার কবিতা ছাপা শুরু হয়েছে। আমি তাঁকে বললাম যে, ‘হ্যাঁ, কবিতা আমি লিখি তো।’ তিনি তখন বললেন, ‘এই পত্রিকায় কাজ করলে অন্য কোথাও লেখা যাবে না।’ পত্রিকাটি ছিল খবরের পত্রিকা। তাঁকে আমি বলেছিলাম, ‘কিন্তু, আমাদের পত্রিকায় তো কবিতা ছাপা হয় না। তাহলে আমি কবিতা কোথায় ছাপাব?’ তিনি তখন বলেছিলেন, ‘এর সহজ উত্তর হল: কবিতা ছাপাবে না, কারণ তুমি এখানে চাকরি করো।’

→

এক মৃত্যুহীন ক্লাসিক কিংবা যৌনতার সহজপাঠ

স্যর রিচার্ড সংস্কৃতে কথা বলতে পারেন। ‘অনঙ্গরঙ্গ’ অনুবাদের সময় তিনি জানতে পারলেন, বাৎস্যায়নের ‘কামসূত্র’-এর কথা। এবং বোম্বাই থেকে জোগাড় করলেন সংস্কৃত কামসূত্রের একটি পুরনো কপি। জয়পুর আর বারাণসী থেকে আরও তিনটি পৃথক পুঁথি জোগাড় করলেন। শুরু হল রিচার্ডের নিপুণ সম্পাদনা এবং অনুবাদ।

→