

১০০ বছর পরেও আঁদ্রে ব্রেতোঁর সেই পরাবাস্তববাদী আন্দোলনের প্রাসঙ্গিকতা শেষ হয়ে যায়নি। আজও আমাদের তা শিখিয়ে চলেছে যে, চেনা বাস্তবতার বাইরেও মানুষের মনের ভিতরে আরেকটি বিশাল জগৎ আছে।
যতদিন পৃথিবীতে যুদ্ধ থাকবে, যতদিন বোমার আঘাতে শিশুরা কাঁদবে, ততদিন ‘ফ্লাওয়ার পাওয়ার’ দর্শন আমাদের মনে করিয়ে দেবে, মারণাস্ত্রের চেয়েও মানুষের ভালোবাসা অনেক বেশি স্থায়ী। শক্তির জোরে সাময়িকভাবে জয়ী হওয়া যায়, কিন্তু পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রাখতে গেলে শেষ পর্যন্ত ভালোবাসারই শরণাপন্ন হতে হবে। সেখানেই মানুষের চূড়ান্ত মুক্তি।
‘গ্লোব স্কিমার’। হলদে বা কমলা রঙের এই বিশেষ ফড়িং বাংলায় দেখা যায় মূলত বর্ষাকালেই। তাদের এই আর্বিভাবের নেপথ্যে থাকে এক সুদীর্ঘ পথযাত্রা। ভারত থেকে মধ্য এশিয়া হয়ে আফ্রিকা– গ্লোব স্কিমারদের এই পরিযাণ-চক্রের পরিসীমা প্রায় ১৮,০০০ কিলিমিটারের। বিস্ময় বটে, কিন্তু ঘোর বাস্তব!
গাজায় নতুন করে শুরু হয়েছে মৌ-পালন। ধ্বংসের মধ্য দিয়ে যাত্রা। মৌমাছি উড়ছে। কিছু ফুল এখনও অবশিষ্ট আছে। ফুলেরা একবার মৌমাছিকে অথবা মৌমাছিরা ফুলকে একবার খুঁজে পেলে বানচাল হয়ে যাবে তামাম এই যুদ্ধের দলিল। মাটি ফাটিয়ে সমস্ত সীমানা ঘুচিয়ে তারা আবার ফিরিয়ে আনবে সবুজ। আবার প্রাণ। আবার সেই এক জীবনীশক্তি, যার অধীনে ক্ষুদ্র মানুষের জন্ম।
গত তিন শতক ধরে বদলেছে বন্যার চরিত্র। উনিশ শতকের বন্যা ছিল প্রাকৃতিক, নদী প্লাবিত হয়ে। বিশ শতক থেকে মানুষের নদী-নিয়ন্ত্রণ শুরু। একুশে নগরায়ন। ফলে বন্যার চরিত্র এখন আরও জটিল। ভারী বৃষ্টিপাতজনিত নগর-বন্যা ক্রমশই ক্ষতিবৃদ্ধিকারী, কর্মনাশা হয়ে উঠছে। এর সমাধান কী?
বাদল সরকারের নাট্যদর্শনে আদি পাপের ধারণাটি কেবল সমাজ বা রাষ্ট্রের বৃহত্তর ক্যানভাসে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা প্রবেশ করেছে ব্যক্তিমানুষের মনস্তত্ত্বের গভীরতম স্তরে। বাদল সরকারের ঈশ্বরবিহীন পৃথিবীতে ‘কনফেশন বক্স’ হল– খোদ থিয়েটারের অঙ্গন, আর তার ফাদার হল– চরিত্রের দংশিত বিবেক।
কৃপাময়ী কর্মকার পটচিত্র আঁকেন। সাঁঝ পুজনীর ব্রতের আলপনা দেন, গড়েন যমপুকুর ব্রতের পুতুল। ব্রতের আলপনা, ছড়া বা মাটির পুতুলের আড়ালে শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে এক বৃহত্তর সত্য, ধরা পড়ে বাংলার মেয়েদের আনন্দ, বেদনা, আকাঙ্ক্ষা ও সংগ্রামের ইতিহাস।
শিশুসাহিত্য হিংসাকে অনেক সময় নৈতিকতা দেয়, ন্যায্য বলে প্রতিষ্ঠা করে– সব মিলিয়ে এক ধরনের বৈধতা দান করে। তখন সেই আচরণ বা মনোভাবকে আমরা ‘হিংসা’ বলে চিনতেই পারি না।
লেখার জন্য যে ‘রিপোর্টাজ’ স্টাইল রেণুর সহজাত ছিলই, সেটাই উপন্যাসের ছাঁচে ঢেলে, তিনি খুলে-মেলে দেখিয়ে দিতে চাইলেন আঞ্চলিক মানুষ কীভাবে বাঁচে প্রতিদিন, দারিদ্র-শোষণ-সংস্কারের মধ্যেই, করুণা আর বিদ্বেষ মিলিয়ে নিয়ে।
রথ টানলেই জিলিপি আসে। রসগোল্লা-সন্দেশের বাবুয়ানি তার নেই; তবু বাঙালি রথে জিলিপি খাবে না, এ হতেই পারে না। বাঙালির এত আপন যে মিষ্টি, তার শুরু না কি বাংলায় নয়, ইরানে। আর সে খাবারকে ভারতে জনপ্রিয় করেছিল মোঘল শাসকরা। মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলায় আসার রসচক্রটি ঠিক কেমন ছিল?
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved