আজকের প্রজন্ম, যারা সামাজিক মাধ্যমের পরিসরে নির্বিচারে অপরকে ‘ছাপরি’ বলে সম্বোধন করছে, তাদের কাছে এটি মূলত একটি শ্রেণি-নির্দেশক ট্যাগ। এই শব্দ ব্যবহারের সময় অধিকাংশই নিজেদের নৈতিক দায় স্বীকার করে না; বরং নিজেদের উচ্চরুচির মনে করে। কিন্তু এই রুচি কার রুচি? কে ঠিক করে রুচির মানদণ্ড?
গত দেড় বছর ধরে নির্মাণ করা এইসব চিত্রকলার প্রদর্শনী শুরু হয়েছে রিজেন্ট এস্টেটের বিসিএএফ গ্যালারিতে, ১৩ মার্চ থেকে। চলবে ৩১ মার্চ অবধি! শিল্পী হিসেবে সমীর আইচের এই ‘নবজন্ম’ বা ‘রেজারেকশান’-এর অবশ্যই সাক্ষী থাকা প্রয়োজন শিল্প-পিপাসু দর্শকবৃন্দদের!
অতীতের স্বদেশি আন্দোলন থেকে আজকের উত্তপ্ত রাজনৈতিক বাস্তবতা– সব ক্ষেত্রেই রবীন্দ্রনাথের গান আমাদের শিখিয়ে দেয়, সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো, মানুষকে ভালোবাসা এবং বিবেককে জাগ্রত রাখাই প্রকৃত সাহস। তাই রবীন্দ্রসংগীত আজ শুধু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নয়, আমাদের সামাজিক ও নৈতিক পুনর্জাগরণের এক অনির্বাণ শক্তি।
রোজা বা উপবাস কেবল কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের একক সম্পদ নয়, এটি আসলে মানব ইতিহাসের এক সুদীর্ঘ এবং অবিচ্ছিন্ন আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য। যা যুগের পর যুগ মানুষকে বস্তুগত মোহত্যাগ করে নৈতিক ও আত্মিক উন্নতির শিক্ষা দিয়ে আসছে।
যুদ্ধের প্রভাব থেকে জাত শিল্পের ভাষা প্রতিমার মুখের মতো নির্মল নয়। তা বক্র; তির্যক; জটিল। কারণ সত্য প্রকাশের ভাষা নিটোল হয় না। এই truth of art-এর কথাটা মনে রাখাটা আমাদের আশু কর্তব্য। না হলে সত্যনিষ্ঠ শিল্প প্রান্তিক হয়ে পড়ে। তার জায়গা নেয় falsity of art।
হারিয়ে গিয়েছে প্রেমের পাহারাদাররা। একটা ভালোবাসা পরিপূর্ণ হতে অনেক মানুষের অবদান থাকে, যাদের পাশে থাকা বৃত্তকে পূর্ণ করে। প্রেমের মতো একটা বৃহৎ বৃত্ত থেকে এখন সেই মানুষগুলো ক্রমশ সরে যাচ্ছে। ছোট হয়ে আসছে বৃত্ত। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রেম এখন একটা কনটেন্ট হয়ে উঠেছে।
বাংলার মাটিতে ‘বিপ্লব’ কোনও আকাশ থেকে পড়া বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণ নয়। শ্রীচৈতন্যদেব যে সাম্য ও মুক্তির বীজ এই পলিমাটিতে রোপণ করেছিলেন, বাদল সরকার তাকেই আধুনিক রাজনৈতিক মনন ও মার্কসীয় দ্বান্দ্বিকতার জলসিঞ্চনে এক মহীরুহে পরিণত করেছেন।
ছবি তোলা আজ শিল্পের স্বীকৃতি পেয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রত্যহ অগুনতি ছবির ছড়াছড়ি, কতরকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা আজ ফোটোগ্রাফি নিয়ে। আজ তাই স্মৃতিমেদুর দীর্ঘ দৃষ্টিপাত সেই মানুষগুলোর যাপনের ওপর যাঁরা নিজস্ব প্রত্যয়ে ঘরের সঙ্গে সেতু বেঁধেছিলেন আরও অনেক ঘরের। নিজের অজান্তেই নাম লিখিয়েছিলেন সেই প্রথমাদের দলে, যারা নিঃশব্দে নীরবে লিখে গিয়েছেন যুগবদলের খতিয়ান। একান্ত চারণে আগামীর জন্য তুলে রাখে সমকালের চালচিত্রখানি।
সত্যিকারের ‘বসন্ত’কে একদিন চিনতে পারলাম বোলপুরে গিয়ে ভুবনডাঙার জলা মাঠটা পেরিয়ে। শান্তিনিকেতন ফার্স্ট গেট পেরিয়ে বাঁদিকে গেলে অথবা সোজা সেন্ট্রাল অফিসের মোড় পেরিয়ে যেতে যেতে দু’-দিকে ছাতার মতো শিরীষ গাছের বিশালত্ব দেখে মুগ্ধ হতে হতে এদিক-ওদিক তাকালে পলাশ চোখ টানবেই।
রোসিন্তা দেখভাল করার ছোকরাটার উদ্দেশ্যে হাঁক পেড়ে গাল দেয়। তার নীলচে সবুজ চোখে আলো পড়ে ঠিকরে যায়। ব্যস, কোথায় জেসিন্তা! তার নবীন আলো ঝলমল রূপ ছেড়ে মেদহীন, বাদামি চুলের মায়ের দিকে দৃষ্টি আটকে গেল বাঁধনের।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved