

রথ টানলেই জিলিপি আসে। রসগোল্লা-সন্দেশের বাবুয়ানি তার নেই; তবু বাঙালি রথে জিলিপি খাবে না, এ হতেই পারে না। বাঙালির এত আপন যে মিষ্টি, তার শুরু না কি বাংলায় নয়, ইরানে। আর সে খাবারকে ভারতে জনপ্রিয় করেছিল মোঘল শাসকরা। মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলায় আসার রসচক্রটি ঠিক কেমন ছিল?
জগন্নাথের রথযাত্রা কেবলমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, তা আসলে মানুষ ও ঈশ্বরের, মানুষ ও মানুষের, মানুষ ও প্রকৃতির এবং জীবন ও মহাবিশ্বের মধ্যকার গভীর সম্পর্কের এক জীবন্ত উদ্যাপন। পুরীর তিন রথ আমাদের শেখায় যে, জীবনের প্রকৃত অর্থ নিহিত রয়েছে ভক্তি ও কর্মে, প্রকৃতি ও সভ্যতায়, ব্যক্তি ও সমাজে এবং আত্মা ও বিশ্বচৈতন্যের সমন্বয়ে।
‘চালচিত্র এখন’ ছবিতে অভিনেতার ক্যানভাস রঙিন হয়ে উঠেছে অঞ্জনের চোখে ‘মৃণালদা’র যে প্রতিফলন হয়েছিল, তাই দিয়ে। সম্পূর্ণ মানুষটাকে নয়, বরং তাঁদের নিবিড় গুরু-শিষ্যের সম্পর্কটিকে অঞ্জন দত্ত তুলে ধরতে চেয়েছেন।
বাঙালির রথের মেলা আগে আলো করে থাকত মাটির পুতুল। সঙ্গে অবশ্যই থাকত কাঠের পুতুল, খেলনা গাড়ি ও তালপাতার সেপাই। আর বিকেলে পুতুলনাচের আসর। রথের মেলা থেকে পুতুল কিনেই গ্রামীণ বঙ্গজীবন ঝুলন সাজিয়ে তুলত। সেই ধারা কার্যত তলানিতে এসে ঠেকেছে! তবু বিক্ষিপ্তভাবে সে আজও নিজের অস্তিত্বের কথা জানান দিয়ে চলেছে।
নব্বই-উত্তর গান নিয়ে এল বিষয়গত ভিন্নতা। অভাবনীয় সব স্থান, সামগ্রী ও চরিত্ররা। এমন সব সাধারণ মানুষজনের জীবনের আখ্যান যা আগে বাংলা গানের উপাদান বলে গণ্য হত না। কিন্তু তথাকথিত ‘জীবনমুখী’ গানে জাতপাতের প্রসঙ্গটি পেতে ২০১৯ অবধি অপেক্ষা করতে হল।
বাদশাহ আকবর না কি দাবা খেলতেন রক্তমাংসের মানুষ সাজিয়ে। সেরকমই ‘শতরঞ্জ কে খিলাড়ী’ ছবিতে লর্ড ডালহৌসি থেকে শুরু করে দুই দাবাড়ু পর্যন্ত সব চরিত্রই দাবার ঘুঁটি হয়ে উঠেছিল সত্যজিতের কলমের ডগায়। কীভাবে? বিশ্ব দাবা দিবসে বিশেষ নিবন্ধ।
সত্তরের কলকাতার অলিগলিতে হঠাৎই ঢুকে পড়েছিলেন ব্রুস লি। ‘এন্টার দি ড্রাগন’ ছবির মাধ্যমে। যদিও তখন তিনি আর জীবিত নেই। তবু ডিভিডি-ভিসিআর, পাড়ায় পাড়ায় ক্যারাটে ইশকুল আর রকের আড্ডায় একটা প্রজন্মের সকলেই আমরা ব্রুস লি হতে চেয়েছিলাম।
বাংলা সাহিত্যে কে প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক– তাই নিয়ে যথেষ্ট বিতর্কের অবকাশ আছে। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকারেরা প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিকের শিরোপাটি অর্পণ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথের অগ্রজা সুসাহিত্যিকা স্বর্ণকুমারী দেবীকে, কিন্তু কুসুমকুমারী দেবীর ‘স্নেহলতা’ কি তার আগেই প্রকাশিত নয়?
আর্টসি ক্যাফে কফি অ্যান্ড কালচারে চলছে দেবদত্ত গুপ্তর প্রদর্শনী ‘আই লার্নড দ্য রিভার বিফোর আই স ইট’। বাংলার নদীকেন্দ্রিক সংস্কৃতির আবেগ তাঁর ছবির মধ্যে লক্ষ করা যায়। সেখানে কোথাও পাঁচপীরের গল্প, কোথাও মনসামঙ্গলের ছায়া।
গণেশ পাইনকে আমি একবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম: মৃত্যুচিন্তা কি আপনাকে ভাবায়? তিনি বলেছিলেন, মৃত্যুর প্রয়োজন আছে জীবনের। একটা বাক্যের শেষে যেমন দাঁড়ির প্রয়োজন আছে, তেমনই জীবনের শেষে মৃত্যুর ওই অন্তিম উপস্থিতিটা খুব জরুরি!
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved