Robbar

ঠাকুরদার ঝুলি

অলৌকিক জলযাত্রা

প্রাচীনকালে সর্পচিকিৎসায় জলের ব্যবহার করা হত। একালের বিচারে এর নাম ‘হাইড্রোথেরাপি’। একইভাবে আয়ুর্বেদ অনুসারে মারণব্যাধি মসূরিকা বা বসন্তরোগের চিকিৎসায় জলের মাধ্যমে শীতলীকরণ থেরাপির ব্যবহার করা হত। শীতলাদেবীর নামকরণটি এই শীতলতা থেকেই এসেছে।

→

হরেক রকম হুড়ুম

প্রাচীনকালে মুড়ির নাম ছিল ‘হুড়ুম’। চৈতন্যচরিতামৃতে রয়েছে, ‘চিড়া হুড়ুম সন্দেশ সকল’। হুড়ুম একপ্রকার শস্যদানা হলেও, শব্দটির প্রকৃত অর্থ হল হালকা ফাঁপা ভাজা চাল বা চিঁড়ে। খেতে গেলেই দাঁতের চাপে মুড়মুড় করে আওয়াজ বের হয়। তাই বোধহয় নাম হয়েছে ‘মুড়ি’।

→

মাহেশের রথের সারথি

মাহেশের রথের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে কমলাকর পিপিলাইয়ের নাম। ইতিহাস লিখতে গিয়ে কেউ তাঁকে বলেছেন বহিরাগত, কেউ বলেছেন তিনিই মাহেশের জগন্নাথের আদি প্রতিষ্ঠাতা। মতভেদ থাকলেও কমলাকরকে বাদ দিয়ে মাহেশের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ইতিহাস অসম্পূর্ণ।

→

জগন্নাথের শবরযোগ

শবরদের ধর্ম-ভাবনায় ত্রিমূর্তির উপাসনা উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। ত্রিমূর্তি হলেন তানাপেনু, জাকেরিপেনু এবং মুরভিপেনু। শবর ভাষায় ‘পেনু’ শব্দের অর্থ ঈশ্বর। ওড়িশার শবর-প্রধান গ্রামগুলিতে জগন্নাথের নাম ‘জগনেলো’। শব্দটির অর্থ– কাঠের তৈরি দেবমূর্তি। শবর ভাষায় দেবতার নাম ‘সানাম’ এবং মূর্তিকে বলে ‘কিটুঙ্গা’। সকল কিটুঙ্গাদের মধ্যে জগনেলো হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনি বিশ্বের অধিপতি হিসাবে বন্দিত।

→

ভিটের ভাস্কর্য

বাংলাবাড়ি থেকে ইউরোপীয় বাংলো আসেনি। সেটি কুঁড়েঘর বা দোচালার আইডিয়া থেকে কপি করা। আসলে বাংলাবাড়ি থেকেই আটচালা যুক্ত মাটির দেবালয় চণ্ডীমণ্ডপ গড়ে উঠেছিল। গড়ে উঠেছিল ইসলামিক মৃৎস্থাপত্য দেহলিজ বা দলিজখানা।

→

হারানো নদীপথ, হারানো জলরেখা

বালি-মাফিয়ারা নদীর গর্ভ থেকে দেদার বালি তুলছে প্রকাশ্য দিবালোকে। গড়ে উঠছে চোরাবালির মৃত্যু-ফাঁদ। নদী বুজিয়ে তৈরি হচ্ছে জমি-কারখানা। হারিয়ে গিয়েছে কত কত নদী। হারিয়ে গিয়েছে তার ইতিহাস। নদনদীর বিলুপ্তপ্রায় তালিকাটিও অশেষ বলাই ভালো। মুমূর্ষু নদনদী নিয়ে সরকার উদাসীন। উদাসীন আমরাও।

→

বর্ষামঙ্গল

বর্ষামঙ্গলকে কেন্দ্র করে কৃষিজীবী তথা পল্লিসংস্কৃতির বৈচিত্রও কোনও অংশে কম নয়। আষাঢ় মাসে ক্ষেতিজমিতে ‘চাষের জল লাগলে’ চাষিরা প্রথম চাষ দিতে দিতে এক ধরনের গান করতেন। একে বলা হত ‘আচোট ভাঙার গান’।

→

তরুর ঠাকুরঘর

বৃক্ষ-উপাসনা অতি প্রাচীন এক ধর্মীয় ধারা। প্রাচীনকালে এই ধরনের বৃক্ষমন্দিরকে বলা হত চৈত্যবৃক্ষ বা যক্ষচৈত্য। চৈত্যবৃক্ষ আসলে বৃহৎ গাছ। মহাভারতে বলা হয়েছে, এ গাছ গ্রামের সম্পদ এবং সেই গাছ কাটা সর্বৈব নিষিদ্ধ। দেবতা অপদেবতা রাক্ষস সকল অতিপ্রাকৃত দৈবী শক্তির আধার। তিনি বৃক্ষদেবতা।

→

জাল রাজার রাজনীতি

প্রতাপচাঁদ যে রাজনীতিতে অতি বিচক্ষণ ছিলেন, তা এই শ্রীখণ্ড পর্ব থেকে বোঝা যায়। বেশ আঁটঘাট বেঁধেই জালপ্রতাপচাঁদ বর্ধমানে গিয়েছিলেন। অজ্ঞাতবাস পর্ব শেষ করে কলকাতার বরানগরে ঘাঁটি গাড়েন। আর তাঁর দোসরকে পাঠান উত্তররাঢ় পরিভ্রমণ করতে। তা যে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ছিল তা বোঝা যায়।

→

ঢেঁকি মোটেই অকম্মার নয়

ঢেঁকির সঙ্গে শিবের গাজনের যোগ ছিল। কাঠের তৈরি বাণেশ্বরের সঙ্গে সাদৃশ্য থাকার জন্য লোকে বলত ‘ঢেঁকি বাণেশ্বর’। উত্তর রাঢ়ের শিবগাজনে ভক্তদের সঙ্গে অনেকে মাথায় ঢেঁকি চাপিয়ে নাচতেন। আবার শিবতলায় গিয়ে কোনও ভক্তকে ঢেঁকির উপর বসিয়ে সাতপাক ঘোরাতেন।

→