

স্টেলার ক্লাসে ইম্প্রেশনিস্ট থেকে কিউবিস্ট আর্ট পর্যন্ত বিশদ আলোচনা হত। উল্লেখ করতে হয়, এই সব আলোচনা তিনি যখন করেছেন, তখন আমাদের দেশের শিল্পী ও শিল্পরসিকরা পশ্চিমের এই আধুনিক বিষয় সম্পর্কে একেবারেই অবহিত ছিলেন না।
শিক্ষক নন্দলাল, আপামর ছাত্রকুলের ‘মাস্টারমশাই’– যিনি ভারতীয় পরম্পরার প্রতি ভাবে প্রবল নির্ভর থেকেও ভারতীয় ট্র্যাডিশন ভাঙার শক্তিকে আহ্বান করেন। খুব সহজ ভঙ্গিতে আর্টের গোড়ার কথাটুকু মেলে ধরতে তাঁর জুড়ি ছিল না।
শুরুর কলাভবনের অন্দরমহল। শান্তিনিকেতনে ক্লাসের সহজ অনাড়ম্বর অন্দরসজ্জা ছিল আশ্রমজীবনের সঙ্গে বেশ মানানসই। মার্কা দেওয়া আর্ট কলেজের মতো নয়, একেবারে সাদাসাপ্টা। ব্যবস্থাপনাও খানিক আলাদা।
রবীন্দ্রনাথের গান অবলম্বনে একাধিক শিল্পী ছবি এঁকেছেন। অথচ রবিঠাকুর কোনও শিল্পীর ছবি দেখে গান রচনা করেছেন, এমন নজির একেবারে হাতে-গোনা। এঁদের মধ্যে নন্দলাল আর অসিতকুমারের কথাই সবার আগে মনে পড়ে।
নন্দলাল চলে যাওয়ায় অসিতকুমার পুনরায় আর্ট কলেজের চাকরি ছেড়ে কলাভবনে যুক্ত হতে চাইলে রবীন্দ্রনাথ খুশি হয়েছেন। নন্দলাল ফিরে গিয়েছিলেন নভেম্বরের শেষে। জানুয়ারির গোড়াতেই রবীন্দ্রনাথের চিঠিতে অসিতকুমারের শান্তিনিকেতনে আসার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
নন্দলাল বসুর এমন অপ্রত্যাশিত ভাবে চলে যাওয়ায় কলাভবন ঘিরে রবীন্দ্রনাথের আশা যেন নিভে গেল। নিজের ইচ্ছেয় নন্দলাল চলে গিয়েছিলেন বলে মনে হয় না। ঘটনার সময়ে রবীন্দ্রনাথ কি আশ্রমে ছিলেন না? যদি থাকেন তাহলে কি তাঁর সঙ্গে দেখা না-করেই চলে গেলেন নন্দলাল?
অবনীন্দ্রনাথের প্রিয় শিষ্য নন্দলাল তখন চিত্রীমহলে বিশেষ পরিচিত। ‘সতীর দেহত্যাগ’, ‘দয়মন্তীর স্বয়ম্বর’, ‘সুজাতা’, ‘অহল্যা উদ্ধার’, ‘জতুগৃহ দাহ’, ‘উমার তপস্যা’ ইত্যাদি অজস্র ছবি তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে। বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠার বেশ কিছু আগে, ১৯১৪ সালে, রবীন্দ্রনাথ নন্দলালকে শান্তিনিকেতনে আমন্ত্রণ করেছিলেন।
কলাভবন তো আর হঠাৎ করে গড়ে ওঠেনি, ধীর গতিতে এক-পা এক-পা করে এগিয়েছে। আমরা জানি, রবীন্দ্রনাথ প্রতিষ্ঠিত ‘বিশ্বভারতী’র অন্যতম প্রধান অঙ্গের নাম ‘কলাভবন’। তার পুরো চেহারা গড়ে উঠেছে ধীরে ধীরে। ভেবে দেখলে, তার সূচনা কি ব্রহ্মচর্যাশ্রমের অন্তরে নিহিত ছিল না?
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved