Robbar

আয়নার ওধারে

যে দিন ভেসে গেছে

ভাত খেতে হাতের আঙুল লাগে, মাটির ওপর দিয়ে চলে ফিরে বেড়াতে হলে পায়ের পাতার দরকার, এখন খাওয়ার সময় যদি আমি আমার আঙুলগুলোকে ঘেন্না করি, চলার সময় যদি পায়ের ওপর ঘেন্না হয়, তাহলে ধীরে ধীরে নিজের সমস্ত জীবনটার ওপরেই ঘেন্না ধরে যায়।

→

হাসে অন্তর্যামী

এক দেবীরই কতরকম রূপ। সাধনাও কত আলাদা আলাদা। কোথাও সাড়ম্বরে ষোড়শোপচারে পূজা হয়। কোথাও আবার তারই সঙ্গে পশুবলিও হয়। কোথাও পুজো-আচ্চা সবই গোপন। কেউ শ্মশানে শবসাধনা করে।

→

ভুলে যাওয়া অতল জীবন

সতী-ভৈরবী ছিলেন মোটামুটি ফরসা, মুখমণ্ডল সবিশেষ গৌর। অথচ সেই মুহূর্তে তাঁর মুখখানা যেন গাঢ় মসীবর্ণ ধারণ করেছে। কপালে ও সিঁথিতে সিঁদুরের চিহ্ন যেন আরও বেশি জ্বলজ্বল করছে। এই সতী-ভৈরবীকে আমি এর আগে দেখিনি কখনও। কেমন যেন ভয়-ভয় করতে লাগল আমার।

→

স্বপ্ন কি সত্যি নয়?

একটু থেমে হাতের তামার ঘটিটা থেকে একটু জল খেয়ে ভৈরবী বললেন, ‘সেই যুবতী মেয়েটিকে আমি কিন্তু অনেক পরে চিনতে পেরেছিলাম!’

→

ডানায় মুক্তির গন্ধ

মানুষ তার ইতিহাসের জন্মলগ্ন থেকেই কখনও নিজের সীমাবদ্ধতা মানতে পারেনি। সব সীমা অতিক্রম করে সে স্বাধীনতার মুক্ত আকাশে অবাধে উড়তে চেয়েছে। চিরকাল। কারণ, সেটাই তার প্রকৃত স্বভাব।

→

সতীর সন্ধানে

সতী কে? শুনলাম, তিনি না কি এই গাঁয়েরই মেয়ে। পরে অন্যরকম জীবন হয় তাঁর। তিনি কিছু একটা দেখেছেন ওই মুকুরটিলায় গামারের বনে। কীভাবেই বা খোঁজ পাব তাঁর? অপরিচিতা একজন মহিলা সম্পর্কে গাঁয়ের লোকের কাছে কিছু জানতে যাওয়া ভালো দেখাবে কি?

→

ধুলামলিন লাইব্রেরি

একতলা বাড়ি একটা, রাজারাজড়ার আমলে তৈরি, ছয়-সাতটা ছোট ছোট ঘর সম্পূর্ণ বই আর বইতে ঠাসা, তেমন ভালো করে ক্লাসিফাই করা নয় বইগুলো। প্রায়শই মলাটছেঁড়া, ধুলোর গন্ধমাখা, হলুদ হয়ে যাওয়া সারি সারি সব জনপরিত্যক্ত অপঠিত বই।

→

অন্ধকারে, মৃতদেহ কাঁধে

যখন কেউ কাউকে খুন করে লাশ গায়েব করে, তখন সে কি লাশ ঘাড়ে করে এমন আরামদায়ক দুলকিচালে নিশ্চিন্তে হেঁটে যেতে পারে?

→

ওধারে এক আগন্তুক

আমার মনটাও একটা সুবৃহৎ আয়না। মনের ভিতরে যেন ওই আয়নার ওধারের জগৎটা রয়েছে। অথবা, ঠিক উল্টোটা। আমার মনের ভেতরে যা আছে, সেটাই আসল জগৎ। বাইরের জগৎটা আসলে ওই ভিতরের জগতেরই প্রতিবিম্ব।

→