

সাঁঝের কুয়াশামাখা রিক্ত, শস্যহীন খেত। আলপথ দিয়ে হেঁটে চলেছি। জানিই না, কেন যাচ্ছি, কোথায়ই বা যাচ্ছি। পিছনে ফেলে এসেছি অর্থহীন জীবন। সামনে কীসের সার্থকতা? তাও জানি না আমি।
এমন সে আকাশভাঙা বিরতিবিহীন বৃষ্টি যে, সেই ঘনঘোরের মধ্যে বসে তখন মনে হয়, হে প্রভু! জীবনের এই ঝড়, এই বৃষ্টিপাত আর বুঝি কখনও থামবে না!
দিনান্তের অস্তরাগ আকাশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছিল বসন্তের বর্ণিল গুলালের মতো। আমার মনও রাঙা হয়ে উঠছিল অজানিত দিনের স্বপ্নে। যেন কত অন্ধকার রাত্রির পরে আমার জীবনে ঘনিয়ে উঠছে আরক্তসুন্দর সূর্যোদয়।
ভাত খেতে হাতের আঙুল লাগে, মাটির ওপর দিয়ে চলে ফিরে বেড়াতে হলে পায়ের পাতার দরকার, এখন খাওয়ার সময় যদি আমি আমার আঙুলগুলোকে ঘেন্না করি, চলার সময় যদি পায়ের ওপর ঘেন্না হয়, তাহলে ধীরে ধীরে নিজের সমস্ত জীবনটার ওপরেই ঘেন্না ধরে যায়।
এক দেবীরই কতরকম রূপ। সাধনাও কত আলাদা আলাদা। কোথাও সাড়ম্বরে ষোড়শোপচারে পূজা হয়। কোথাও আবার তারই সঙ্গে পশুবলিও হয়। কোথাও পুজো-আচ্চা সবই গোপন। কেউ শ্মশানে শবসাধনা করে।
সতী-ভৈরবী ছিলেন মোটামুটি ফরসা, মুখমণ্ডল সবিশেষ গৌর। অথচ সেই মুহূর্তে তাঁর মুখখানা যেন গাঢ় মসীবর্ণ ধারণ করেছে। কপালে ও সিঁথিতে সিঁদুরের চিহ্ন যেন আরও বেশি জ্বলজ্বল করছে। এই সতী-ভৈরবীকে আমি এর আগে দেখিনি কখনও। কেমন যেন ভয়-ভয় করতে লাগল আমার।
একটু থেমে হাতের তামার ঘটিটা থেকে একটু জল খেয়ে ভৈরবী বললেন, ‘সেই যুবতী মেয়েটিকে আমি কিন্তু অনেক পরে চিনতে পেরেছিলাম!’
মানুষ তার ইতিহাসের জন্মলগ্ন থেকেই কখনও নিজের সীমাবদ্ধতা মানতে পারেনি। সব সীমা অতিক্রম করে সে স্বাধীনতার মুক্ত আকাশে অবাধে উড়তে চেয়েছে। চিরকাল। কারণ, সেটাই তার প্রকৃত স্বভাব।
সতী কে? শুনলাম, তিনি না কি এই গাঁয়েরই মেয়ে। পরে অন্যরকম জীবন হয় তাঁর। তিনি কিছু একটা দেখেছেন ওই মুকুরটিলায় গামারের বনে। কীভাবেই বা খোঁজ পাব তাঁর? অপরিচিতা একজন মহিলা সম্পর্কে গাঁয়ের লোকের কাছে কিছু জানতে যাওয়া ভালো দেখাবে কি?
একতলা বাড়ি একটা, রাজারাজড়ার আমলে তৈরি, ছয়-সাতটা ছোট ছোট ঘর সম্পূর্ণ বই আর বইতে ঠাসা, তেমন ভালো করে ক্লাসিফাই করা নয় বইগুলো। প্রায়শই মলাটছেঁড়া, ধুলোর গন্ধমাখা, হলুদ হয়ে যাওয়া সারি সারি সব জনপরিত্যক্ত অপঠিত বই।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved