


রাস্তা যতই বাজে হোক, রাস্তার দু’পাশের প্রকৃতি কিন্তু নয়নাভিরাম। দু’পাশে মাটির স্তূপ অসুরের মুণ্ডের মতো মাথা উঁচু করে আছে, সেসব টিলার ওপরে ঘন সবুজ বনাঞ্চল, টুই টুই করে নাম-না-জানা পাখিরা ক্রমাগত ডেকে চলেছে। আবার সাইকেল চালাতে চালাতে এ-ও শুনছি, বাঁ-দিকের ঝোপ থেকে একজন প্রেমিক টেনে টেনে সুর করে বিহগভাষায় কী যেন বলে থেমে গেল। তার পাঁচ-সাত সেকেন্ড পরেই ডানদিকের ঝোপ থেকে প্রেমিকার উত্তর আসছে; একই রকম টানা টানা সুর, কিন্তু তাতে যেন ঈষৎ অনুযোগ, অভিযোগ, অভিমান মিশে রয়েছে। বেজায় আফসোস হচ্ছিল, পাখিদের ভাষা জানি না বলে।
১৯.
আমতলি থেকে গড়ের পুকুর সেই আগের দিনেরই রাস্তা; আজ বরং সাইকেলে সময় লাগল আরও কিছুটা কম। যেহেতু আজ একা যাচ্ছি, আর সেদিন যাচ্ছিলাম দেবব্রতর সঙ্গে গল্প করতে করতে। গড়ের পুকুর থেকে কুহুডাঙার রাস্তা একে ওকে তাকে জিজ্ঞেস করে করেই এগচ্ছিলাম। যাকেই জিজ্ঞেস করি, সে-ই কেমন অদ্ভুত চোখে তাকায় আমার দিকে। যেন আমি খুব খারাপ ছেলে অথবা আমার মাথাফাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে, এরকমই ভাব তাদের চাহনিতে। তা আমি তো চিরকালই বেপরোয়া; তোদের চাহনি তোদের চোখেই থাক, রাস্তার হদিশ জানা নিয়ে কথা। এই পথ প্রথমে বেশ ঢালু, যাতায়াতের অযোগ্য সত্যিই, এমন উঁচুনিচু এবড়োখেবড়ো আর মধ্যে মধ্যে বিচ্ছিরি সব গাড্ডা যে, সাইকেলের ঝাঁকুনিতে প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে উঠল। বেশিক্ষণ এই রাস্তা দিয়ে গেলে যাদের কোমরে ব্যথা নেই, তাদের কোমরে ব্যথা ধরে যাবে। আর যাদের কোমরে ব্যথা আছে, এ পথ দিয়ে গেলে কোমরব্যথা ভালো হয়ে যাবে। মোটের ওপর এ রাস্তার শেষ কবে যে সংস্কার হয়েছে বলা মুশকিল; সম্ভবত বৃকোদর ভীমসেন যে-বছর কীচকবধ করেন, সেই বছরেই এই রাস্তার শেষ সংস্কার হয়েছিল!
তবে হ্যাঁ, রাস্তা যতই বাজে হোক, রাস্তার দু’পাশের প্রকৃতি কিন্তু নয়নাভিরাম। দু’পাশে মাটির স্তূপ অসুরের মুণ্ডের মতো মাথা উঁচু করে আছে, সেসব টিলার ওপরে ঘন সবুজ বনাঞ্চল, টুই টুই করে নাম-না-জানা পাখিরা ক্রমাগত ডেকে চলেছে। আবার সাইকেল চালাতে চালাতে এ-ও শুনছি, বাঁ-দিকের ঝোপ থেকে একজন প্রেমিক টেনে টেনে সুর করে বিহগভাষায় কী যেন বলে থেমে গেল। তার পাঁচ-সাত সেকেন্ড পরেই ডানদিকের ঝোপ থেকে প্রেমিকার উত্তর আসছে; একই রকম টানা টানা সুর, কিন্তু তাতে যেন ঈষৎ অনুযোগ, অভিযোগ, অভিমান মিশে রয়েছে। খুব কথাবার্তা আলাপবিলাপ হচ্ছে, যা হোক। বেজায় আফসোস হচ্ছিল, পাখিদের ভাষা জানি না বলে। সত্যি! পৃথিবীতে তেমন একটাও ভাষা শেখানোর স্কুল নেই-গা যে মন ভরে ওই ভাষাটি শিক্ষা করব! কী যে জ্ঞানবিজ্ঞানের উন্নতি হল ছাই! খালি খালি এ ওকে কেমন করে মেরে ফেলবে, কি অসম্মান করবে, তারই কসরৎ আয়ত্ত করতে করতে পৃথিবীর জ্ঞানী ফাজিলদের দিন চলে গেল। রাগারাগি করার দরকার নেই, আমি এখানে বাংলা ভাষার ‘ফাজিল’-দের কথা বলিনি, আরবি ভাষায় ‘ফাজিল’ শব্দের যা অর্থ, ওই অর্থেই বলেছি, অভিধান দেখে নেবেন। যাকগে মরুগ-গে, মোটের ওপর সত্যিই যদি ওই পাখিদের ভাষা জানতাম, তাহলে সেই কলকাকলিমুখরিত বনভূমির মধ্য দিয়ে প্রসারিত বন্ধুর পন্থায় উচ্চাবচ ভূমির ওপর সদা-উল্লম্ফননিরত সাইকেলের ওপরে আরূঢ় আমি ভিন্নজাতীয় এক ভাষায় নিবেদিত প্রণয়পিপাসার্ত পক্ষী-পক্ষিণীর প্রণয়সংলাপ শুনে শুনে অভিনব এক প্রেমবিরহব্যথাতুর আখ্যান অতি সহজেই যে রচনা করে ফেলতে পারতাম, তাতে আমার অণুমাত্র সন্দেহ নেই।

ঘণ্টাদুয়েক ওইভাবে চলার পরে এক গ্রাম এসে পড়ল। চোখের পাতার মতো নিভু নিভু সেই গ্রাম। মাত্র কয়েকটি বাড়ি এখানে-ওখানে ছড়ানো। বেশির ভাগ লোকজন দেখে যা মনে হল, এ গ্রাম গরিব মুসলমানদের গ্রাম। একখানা চায়ের দোকান নেই-নেই করেও আছে, পথের একপাশে। সারি সারি কতগুলো বয়ামে চানাচুর, বিস্কুট, লজেন্স– এই সব। একটা তারের জালি ময়নাপাখির খাঁচার মতো ওপরের শিক থেকে ঝুলছে, তার মধ্যে বেশ বড়সড় হাঁসের ডিম। একজন বুড়ো মুসলমান লোক একপাশে স্টোভের ওপর গরম জল বসিয়েছে, আরেকজন কম বয়েসি মুসলমান বউ অতি মনোযোগ সহকারে চা ঘুঁটছে। দোকানের সামনে মুখোমুখি দুটো বাঁশের মাচা, তারই একটায় গিয়ে বসলাম আমি। সাইকেলটাকে দাঁড় করিয়ে রেখেছি একটা সুপুরিগাছের গুঁড়িতে। চা দিতে বললাম। অতি অতি অতি চিনির মাধুর্য মিশ্রিত এক গরম সরবত দিয়ে গেল বউটি, চায়ের উপর দুধের পুরু সর পড়েছে, চুমুক দিতে গেলেই আমার উপরের ঠোঁটে সেই বাদামি সর জড়িয়ে যাচ্ছে। জিভ দিয়ে সেই বিড়ম্বনা ঠোঁট থেকে সরানোর চেষ্টায় ব্যাকুল হতে গিয়ে চমকে উঠে থেমে গেলাম; আমার উলটোদিক থেকে দু’টি তীক্ষ্ণ চোখের জ্বলজ্বলে দৃষ্টি মোটা গোল চশমার আড়াল থেকে আমাকে আপাদমস্তক জরিপ করে চলেছে, দেখলাম।
উলটোদিকের বাঁশের মাচার ওপর বসে থাকা মানুষটি বৃদ্ধ। পরনে ধপধপে সাদা লুঙ্গির জমিনের ওপর নীল রঙের সমান্তরাল লাইন টানা। গায়ে একখানা হাফহাতা শার্ট বা ফতুয়া। মাথায় একটা গোল ফেজটুপি। চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা, দাড়িগোঁফ দুধসাদা, তবে দাড়ির তুলনায় গোঁফের পরিমাণ কম। পায়ে ধুলাভরা একটা সাধারণ হাওয়াই চটি। লাঠি ব্যবহার করেন সম্ভবত, কেননা বেশ একটি রুপোয় বাঁধানো পাকা বাঁশের লাঠি লোকটির কোলের ওপর পড়ে আছে। বয়েস কত হবে? ৭০-৭২-এর কম নয়। সব মিলিয়ে বৃদ্ধ ভদ্রলোক বাংলাদেশের বিশিষ্ট অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান সাহেবের মতো দেখতে খানিকটা।

পরিচয়-বিনিময় হল। ভদ্রলোক স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। পথ দিয়ে আসতে আসতে টানাবারান্দাযুক্ত টিনের চালের একটা প্রাইমারি স্কুল চোখে পড়েছে বটে! বারান্দায় বাঁশের খুঁটিতে একটা ব্ল্যাকবোর্ড নারকেলদড়ি দিয়ে বাঁধা। ইনি ওই বিদ্যালয়েরই প্রধান শিক্ষক। নাম– ওসমান ফারাবি। কথাবার্তা চালাচালি করে জানতে পারলাম, ওসমান ফারাবি প্রথম যৌবনে কলকাতায় চলে গিয়েছিলেন, সেখানে রিপন কলেজ থেকে বিএ পাশ করে এসে এই গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপন করেছিলেন। সেসব বহুদিন আগের ব্যাপার। আমার সঙ্গে কথাবার্তা বলে মনে হল, তিনি বেশ খুশি হয়েছেন। গরম গরম চা ও ভাজা ছোলা খেতে খেতে স্নেহভরে আমাকে ‘বাজান’ সম্বোধন সহকারে কথা বলছিলেন। মাঝে হঠাৎ জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এদিকে তুমি কোথায় যাচ্ছ, বাজান?’
আমি বললাম, ‘কুহুডাঙা।’
তিনি বেজায় চমকে উঠলেন! কাঁচের গেলাস থেকে খানিকটা চা ছলকে বাইরে পড়ল। নিজেকে খানিক সামলে নিলেন তখনই, তারপর জিজ্ঞেস করলেন আবার, ‘কুহুডাঙা যাচ্ছ কেন?’
আমি বললাম, “ক’দিন আগেই গড়ের পুকুরের কাছে এক সাহেব ফাদারকে দেখলাম। লোকে বলল, ওঁর নাম হরিবাবা। ব্যাপারটা আমার কাছে অদ্ভুত ঠেকল। শুনেছি, কুহুডাঙায় নাকি ওঁর আশ্রম। সেই আশ্রম দেখতেই যাচ্ছি।”
ওসমান ফারাবি আমার দিকে চেয়ে জিভে চুকচুক শব্দ করে বললেন, ‘হরিবাবা?’
‘হ্যাঁ, ঠিক। এরকম অদ্ভুত নাম কেন বলুন তো? উনি তো খ্রিশ্চান ফাদার। তাহলে হরি কি কখনও খ্রিশ্চানদের নাম হতে পারে?’
‘ভুল উচ্চারণ করলে হতে পারে!’ তিনি সকৌতুকে বললেন।
‘ভুল?’
“হ্যাঁ, বাজান, ভুল। তুমি যাঁকে দেখেছ, তাঁর নাম ফ্রের আঁরি থমাস। এই ‘আঁরি’-ই গাঁয়ের লোকের ভুল উচ্চারণে হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘হরি’!”
‘আচ্ছা! আঁরি? ফরাসি না কি?’
‘আলবাত! একশোভাগ ফরাসি!’ ওসমান ফারাবির চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
‘তাহলে ঠিকই ধরেছি,’ আমি বললাম, ‘ইংরেজিতে যা উচ্চারিত হয় হেনরি-রূপে, ফরাসিতে সেই হেনরিই হয়ে যায় আঁরি। যেমন, মাইকেল মধুসূদনের দ্বিতীয়া সঙ্গিনীর নাম। আমরা বানান অনুসরণ করে বলি, হেনরিয়েটা। কিন্তু আসলে তাঁর নামের উচ্চারণ হবে– আঁরিয়েত্তা। তিনি তো ফরাসি ছিলেন!’
‘ব্রিলিয়ান্ট!’ চশমার গোল গোল কাঁচে খুশির আলো ঠিকরালো বৃদ্ধ ওসমান ফারাবির। তারপর আবার চায়ে চুমুক দিয়ে বললেন, ‘কুহুডাঙায় যে যাবে, বাজান, পথটা তো ভালো নয়!’
আমি বললাম, ‘হ্যাঁ, আমিও তাই-ই শুনেছি গাঁয়ের লোকেদের মুখে। সে না কি ভয়ানক বিপজ্জনক পথ!’
হো-হো অট্টহাস্য করে হেসে উঠলেন ওসমান ফারাবি, ‘গাঁয়ের লোকে তোমাকে বলেছে বুঝি এই সব কথা?’
তারপরই হঠাৎ বিষণ্ণ হয়ে গেলেন কেন যেন! কিছুক্ষণ পরে ধীরে ধীরে বলতে লাগলেন, ‘দেখো, বাজান। এই গাঁ-খানাতেই আমার জন্ম। এখানে শিক্ষা নেই, দীক্ষা নেই, সত্যিকারের মানুষ হয়ে ওঠার প্রেরণা নেই, বিজ্ঞানচর্চা কিংবা স্বাস্থ্যচেতনার কথা তো বাদই দিলাম। আমি এই অন্ধকার গাঁ-ঘর থেকে উঠে কলকাতা গিয়েছিলাম শিক্ষা উপার্জন করে নিয়ে আসার জন্য। হ্যাঁ, আমি জানি, বাংলাভাষায় বলা হয়, অর্থ-উপার্জন আর শিক্ষা-অর্জন। কিন্তু, বাজান! অর্জন নয়, শিক্ষা আমি উপার্জন করেই এনেছিলাম এখানে। লোকের বাড়িতে বাসন মেজে, চাকরের কাজ করে, গৃহশিক্ষকতা করে, মায় শেয়ালদা স্টেশন এলাকায় রিকশা পর্যন্ত টেনে নিজের লেখাপড়ার খরচ জুটিয়েছিলাম, শিক্ষা কিনে এনেছিলাম শহর থেকে নিজের গা-গতর খাটিয়ে। এখানে এসে স্কুলটা করলাম। ভেবেছিলাম, স্থানীয় লোকের সহায়তায় স্কুলটা বড় হবে আরও, আরও ভালো হবে। কিন্তু কোথায় কী? এখানকার লোকের এ নিয়ে কোনও আগ্রহই নেই। তারা যে-তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই পড়ে রইল। দেখো না, এখন তুমি একটা অ্যাডভেঞ্চারে যাচ্ছ, কত আগ্রহ, কত উৎসাহ! কোথায় তোমাকে এরা সাহায্য করবে কি উৎসাহ দেবে, তা নয়, যত্তোসব আলতুফালতু গালগপ্পো বানায়ে-ছানায়ে বলতে লেগেছে। কী, ঠিক বলছি তো?’

আমি হাসতে হাসতে বললাম, ‘হ্যাঁ, সত্যি। আমি শুনলাম, কুহুডাঙার পথে যে গিয়েছে, সে আর ফিরে আসেনি। একজন বলল, ওই পথে নাকি ভূত, প্রেত, পিশাচ, ভৈরব– সব নাকি ওঁত পেতে বসে আছে!’
ওসমান ফারাবি পুনরায় সেই আকাশ-কাঁপানো হাসি হেসে বলে উঠলেন, ‘হ্যাঁ, তা বই-কী! ভূত, প্রেত, পিশাচ, ভৈরব! চারিদিকে জাদুকরদের তেলেসমাতি কারবার! বলে, পাগলা খাবি, না ঝালে মরে যাবি!’
তারপরেই একটু গম্ভীর হয়ে বললেন, ‘তবে, বাজান, ও পথটা যে বিপদসংকুল, তা অস্বীকার করব না। ওসব ভূতপ্রেত সব বাজে কথা। কিন্তু সাপ, জোঁক, বিছুটি, কুয়াশা, মাকড়সা বেজায় ওই পাহাড়ি পথে। শোনো, আমি তোমাকে একটা গামবুট দিচ্ছি, আর একটা কার্বলিক অ্যাসিডের বোতল। কোথাও যদি বিশ্রাম নিতে বসো, তাহলে কার্বলিক অ্যাসিড ছড়িয়ে বসবে। আজকে রাতটা, তোমার যদি আপত্তি না থাকে, তাহলে এই বুড়ো দাদাটির বাসায় থেকে যেতে পারো। কাল সকাল হতেই নবোদ্যমে যাত্রা করবে, কেমন?’
আমি তাঁর প্রস্তাবে কৃতজ্ঞচিত্তে সম্মত হলাম। এমন আন্তরিক সাহায্য এ তল্লাটে আমাকে কেউই করেননি। শুধু বললাম, ‘আচ্ছা, একটা কথা বলুন! ফ্রের আঁরি থমাসের এই আশ্রমে কী হয়? যার জন্যে এই আশ্রমের নাম করলেই লোকে মুখ বেঁকিয়ে চলে যায়? আর একজন ফরাসি সাহেব, হোন তিনি ধর্মপ্রচারক, এমন একটা পাণ্ডববর্জিত প্রদেশে এত বছর পড়ে থেকে কী-ই বা করছেন?’
ওসমান ফারাবি বললেন, ‘তুমি তো সেখানে যাচ্ছই, বাজান! এই ঘাটের মড়া বুড়োর কাছে ওসব শুনে কী করবে? নিজের চোখে, নিজের কানেই দেখে এসো সব। তখন তুমি নিজেই বুঝতে পারবে, কেন বলেছি, এ তল্লাট অন্ধকারময়…’
তারপর আবার এই গ্রামের দুরবস্থার সেই দীর্ঘ ফিরিস্তি আওড়াতে লাগলেন ওসমান ফারাবি।
……………………….
রোববার.ইন-এ পড়ুন আয়নার ওধারে-র অন্যান্য পর্ব
……………………….
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved