Robbar

বই-মানবী

যাদবপুর স্কুল অফ উইমেনস স্টাডিজ শুরু থেকেই কিছু-কিছু বই প্রকাশ করার কথা ভেবেছিল। মানবীচর্চা কেন্দ্রের প্রকাশনার পুরো দায়িত্বটাই সুবীর রায়চৌধুরীর কাঁধে ছিল, এবং আমার যতদূর মনে পড়ছে তিনিই আমাকে এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল বাংলা ভাষায় লেখা মহিলাদের হারিয়ে যাওয়া লেখা পুনরুদ্ধার করা এবং সেগুলি সুসম্পাদিত আকারে প্রকাশ করা।

→

প্রেসের কাজে গাফিলতি দেখলে কড়া চিঠি লিখতেন সুবীরদা

মানবদা যেমন বলতেন অনুবাদের কাজ কখনও শেষ হতে পারে না, নিরন্তর চলতে থাকে। আমার মনে হয়, সুবীরদাও বিশ্বাস করতেন সম্পাদনা-সংকলনের কাজও কখনও শেষ হয় না, চলতেই থাকে।

→

করোগেটেড কাগজের অভাবে আটকে ছিল সুধীন্দ্রনাথ দত্তের কাব্যসংগ্রহ

কাব্যসংগ্রহ প্রকাশের সময় আমি বইয়ের ডাস্ট জ্যাকেটের কাগজ জোগাড় করতে গিয়ে হিমশিম খেয়েছিলাম। নাভানা সংস্করণের বইয়ে ডাস্ট জ্যাকেটে এক ধরনের করোগেটেড অফ-হোয়াইট কাগজ ব্যবহার করা হয়েছিল। সেটা আবার স্বপনদার খুবই পছন্দ ছিল। তিনি চেয়েছিলেন, আমাদের সংস্করণেও ওইরকম কাগজ ব্যবহার করা হোক।

→

অমিয় চক্রবর্তীর ‘কবিতাসংগ্রহ’ ছিল নরেশ গুহ-র গুরুদক্ষিণা

নরেশদার সম্পাদনার একটা বিশেষ রীতি আমি অমিয় চক্রবর্তীর বই থেকেই লক্ষ করেছি। তিনি বই সম্পাদনা করলে সচরাচর বইয়ের শুরুতে নিজে কিছু লিখতেন না। সম্পাদকীয় থেকে শুরু করে যাবতীয় লেখালিখি থাকত বইয়ের শেষে। সম্ভবত তিনি মনে করতেন যাঁর সংগ্রহ বা সংকলন প্রকাশিত হচ্ছে তাঁর লেখাই সে-বইয়ের প্রধান পরিচয়।

→

এক মুখে কবিতা, অন্য মুখে মিছিলের স্লোগান

সুভাষদার আশ্চর্য গদ্যবই ‘আমার বাংলা’র লেখাগুলো প্রকাশিত হয়েছিল ছোটদের কাগজ– ‘রংমশাল’-এ। ১৯৫১ সালে ১১টি গদ্যের এই সংকলন প্রথম প্রকাশিত হয় ‘ঈগল পাবলিশার্স’ থেকে। ‘আমার বাংলা’ বইটি অলংকরণের ছবিগুলো ছিল চিত্তপ্রসাদের আঁকা, সেইসঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছিল সুনীল জানার তোলা কয়েকটা ফটোগ্রাফও।

→

সুভাষিত অনুবাদ

সুভাষদা একজন সত্যিকারের ব্যতিক্রমী অনুবাদক। সালিম আলির আত্মকথা– ‘Fall of a Sparrow’, সুভাষদা তার বাংলা নাম দিয়েছিলেন ‘চড়াই উতরাই’। অনুবাদের ক্ষেত্রে লক্ষ্যভাষায় দখল আর তার ভাণ্ডার থেকে বেছে আনা লাগসই প্রবাদ-প্রবচনের প্রয়োগ তাঁর অনুবাদকে একেবারেই অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।

→

শঙ্খদাই চেয়েছিলেন, সুভাষদার কবিতাসংগ্রহ সুবীর রায়চৌধুরী সম্পাদনা করুন

১৯৯০ সাল নাগাদ দে’জ থেকে সুভাষদার কবিতার বই ছাপা নিয়ে আমি দুটো সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। প্রথমত, তাঁর পুরোনো কবিতার বইগুলো আলাদা-আলাদা বই হিসেবে ছাপা হবে এবং দ্বিতীয়ত, তাঁর কবিতাসংগ্রহ খণ্ডে-খণ্ডে দে’জ থেকে প্রকাশ করা হবে।

→

সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতা দিয়েই শুরু হয়েছিল দে’জের ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ সিরিজ

বাংলা কবিতায় সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের আবির্ভাব চমকপ্রদই ছিল। বুদ্ধদেব এক-এক করে চিনিয়ে দিয়েছিলেন সুভাষের প্রথম কবিতার বইয়ের অভিনবত্বগুলি। তাঁর ধারণায় সুভাষ সম্ভবত প্রথম বাঙালি কবি যিনি প্রেমের কবিতা লিখে কবি-জীবনের সূচনা ঘটাননি। ‘পদাতিক’ বইয়ের প্রথম লাইন হল– ‘কমরেড, আজ নবযুগ আনবে না?’

→

প্রেমেনদার উৎসর্গ করা বই বেচে দিয়েছিলেন বন্ধু ‘শিব্রাম’!

শিবরামের সঙ্গে প্রেমেন্দ্র মিত্রের বন্ধুত্ব কিন্তু তাতে নষ্ট হয়নি। বন্ধু ‘শিব্রাম’কে নিয়ে একাধিক লেখা লিখেছেন প্রেমেনদা। আবার ‘পাতালে পাঁচ বছর’ প্রথমবার প্রকাশের পরে শিবরাম লিখেছিলেন– ‘পাতালে বছর পাঁচেক’ নামে একটি গল্প।

→

প্যাঁচানো লোহার সিঁড়ি দিয়ে উঠলেই প্রেমেন্দ্র মিত্রর অবারিত দ্বার!

প্রেমেন্দ্র মিত্র ছিলেন আধুনিক বাঙালি সাহিত্যিকদের সর্বজনীন প্রেমেনদা আর তাঁর স্ত্রী বীণা মিত্র ছিলেন সকলের বৌদি। তাঁদের বাড়িটা ছিল কতকটা ধর্মশালার মতো। সারাক্ষণ দরজা খোলা, ভেতরে কাঠের তক্তপোশ, টিনের চেয়ার, বেতের মোড়া। কিছু জোড়া আছে, কিছু পাতা আছে। সারাক্ষণ চা-ভর্তি কাপ আসছে আর খালি কাপ ফেরত যাচ্ছে আর অবিরাম হাজার বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছে।

→