

সত্যজিৎ ও ঋত্বিক। ছবিতে রবীন্দ্রসংগীতকে ব্যবহার করেছেন দু’জনেই। সত্যজিতের ব্রাহ্ম প্রেক্ষাপট, শিল্পী নির্বাচন কিংবা তালবাদ্য ব্যবহারের অনীহা– গায়কি-বিষয়ক আমাদের সন্ধানকে গাঢ়তর করে তুলতে পারে। অপরদিকে গণনাট্য আন্দোলনের কর্মী হিসেবে ঋত্বিক, জ্যোতিরিন্দ্র, দেবব্রত প্রমুখ রবীন্দ্র-গানকে জনসমাজে ছড়িয়ে দেবার পন্থী। কম্যুনিকেশনের দর্শন ও ‘পলিসি’টি আলাদা।
রবীন্দ্রনাথ সমাজনির্মিত লিঙ্গের খাঁচাটিকে ভাঙতে ভাঙতে চলেন। প্রশ্ন করেন প্রণয়ের পরিসরে নারী-পুরুষ বাইনারির কেন্দ্রিকতাকে, ‘পুরুষালি’, ‘মেয়েলি’ এই একমাত্রিক সংজ্ঞাগুলির একাধিপত্যকে, তাঁর রচনাপথে জেন্ডার-এর পাঠ নিয়ে আসে নানা সন্ধানের বাতাস। প্রাইড মান্থ উপলক্ষে বিশেষ নিবন্ধ।
‘বহুরূপী’র ‘রাজা অয়দিপাউস’। তিনটে ‘হায়!’ লক্ষ করবেন, নাটক প্রায় শেষদিকটায় পৌঁছে গিয়েছে, তখন ইয়োকাস্তের কণ্ঠে একটা ‘হায়’ শুনি আমরা। রবীন্দ্রগানের তিনটি ‘হায়’-এর সঙ্গে বহুরূপী অভিনীত তিনটি ‘হায়’ যেন একটা যোগসূত্র তৈরি করে। সবটাই দৈবনির্দিষ্ট দুর্ভাগ্যের ফল।
রানাঘাট স্টেশনের বিকটাকৃতি মানুষটির ওই ‘নরহিংসা’ বলা জীবনে বারবার ধ্রুবপদের মতো ফিরে এসেছে।
মারের বদলা কি মার হয় রবীন্দ্রনাথে? না। শুরু হয় প্রতিহিংসাহীন ত্যাগ আর আত্মদানের মধ্য দিয়ে এক গভীর চলা। কখনও কখনও একলা চলা। আপন বুকের পাঁজর জ্বালিয়ে নিয়ে একলা চলা।
কোনও তালবাদ্য নেই, শুধু একটা হারমোনিয়াম নিয়ে উনি গাইছেন। ‘এমন দেশ টি কো-থাও খুঁজে...’– 'কোথাও' এর 'কো'-টা এক জায়গায় থাকছে, 'থাও'টা চলে যাচ্ছে অনেক দূরে। থাও-এর সুরটা একটা ঢেউয়ের মতো উঠে নেমে যেন ভেসে যাচ্ছে।
বাঙালি মুসলিমের পাকঘরে, আর দুলে-বাগদিদের মতো উচ্চবর্ণের হিন্দুয়ানি দ্বারা চিরকালের অপমানিত মানুষের হেঁশেলে আমিষ-নিরামিষের অত ভেদ নেই, সেই অসংখ্য কিন্তু অদম্য বাঙালির সব বঁটিই আঁশবঁটি।
আমাদের ‘চাচা’ বলে এক বন্ধু ছিল। গাঁজা খেত। শ্মশানে গিয়ে। আমিও তার সঙ্গে শ্মশানে যেতাম। চাচা একটু গোল গোল নেশা-জড়ানো স্বরে বলত, মাজমাওয়ালা গোপাল। চাচা কেন গোপালকে ‘মাজমাওয়ালা’ বলত, আর ওই কথাটার কী মানে, সে আমি আজও জানি না।
রোববার-এ ফিরলেন জয় গোস্বামী। লেখা নয়, অনন্ত কথাবার্তা পরিসর। যে-কথা ছুঁয়ে থাকবে তাঁর নানা স্মৃতি ও অনুসঙ্গকে। সঙ্গে শৈবাল বসু।
চন্দনার কাজ আমাদের সময়ের কাজ। আমরা যারা থিতু হতে চেয়েছি, দেশ চেয়েছি, ঘর চেয়েছি, রাষ্ট্রের কাছে সমাজের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছি, পড়শীর কাছে আত্মীয়তা আর মানুষের কাছে শুশ্রুষা চেয়েছি তাদের চুরমার করা যন্ত্রণাগুলি নিয়ে, প্রেম পীড়ন প্রতিরোধের আর্তিগুলি নিয়ে তাঁর নিজস্ব ব্যথার পূজা।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved