Robbar

মুসলিম কবির জগন্নাথভজন শরীরে তুলে নিয়েছিলেন কেলুচরণজি

Published by: Robbar Digital
  • Posted:July 24, 2026 7:32 pm
  • Updated:July 24, 2026 8:48 pm  

গুরু কেলুচরণ মহাপাত্র পরম নিষ্ঠায় মুসলিম কবি সালাবেগের জগন্নাথভজন শরীরে তুলে নিলেন। কথিত আছে, রথের দিন দূর থেকে পুরীতে পৌঁছতে বিলম্ব হওয়ায় সালাবেগ আকুল হয়ে জগন্নাথকে ডাকতে থাকেন। সেই ডাক পৌঁছয় দীনবন্ধুর বুকে। সালাবেগের বাড়ি বড়দারার কাছে এসে রথ থেমে যায়। ভক্ত সালাবেগ এসে পৌঁছন। সেই থেকে আজও রীতি মেনে বড়দারার সামনে রথ ক্ষণেক থামে। আমরা দেখতে পাই, সালাবেগের গানের সেই ‘নীল শৈল’কে। আর দেখতে পাই মঞ্চে গুরুজি নাচছেন সালাবেগের পদ ‘আহে নীল শৈল প্রবল মত্ত…’। সামনে তাঁর জনতাজনার্দন।

শৈবাল বসু

‘মোর গুরুর নৃত্য দেখিতে লোকে বর্তন বেচি দিত’– বলতে বলতে শিশুর মতো চকচক করে উঠল ওঁর চোখ। সালটা ১৯৯৫, ‘নৃত্তম’-এর আহ্বানে জলপাইগুড়িতে অনুষ্ঠান করতে এসেছেন তিনি। সন্ধ্যার আসরে তিনি ও তাঁর দলের শিল্পীরা নাচবেন রবীন্দ্র ভবনে। সকালবেলা তিস্তা ভবনের প্রশস্ত অলিন্দে বসে কথা বলতে রাজি হয়েছেন গুরু কেলুচরণ মহাপাত্র। পরনে ধুতি আর টেরিকটের পাঞ্জাবি, গলায় সোনার চেনে সেই চিরকালের রুদ্রাক্ষের লকেট, চিকন ঠোঁটের কোণে পানের রস, দু’চোখে বালকের তীব্র সরলতা। সবুজ কটকি গামছায় মাঝে মাঝে কপালের ঘামটি মুছছেন।

গুরু কেলুচরণ মহাপাত্র

স্বয়ং গুরু কেলুচরণ মহাপাত্রই যদি এমন হন, তবে কেমন তাঁর গুরু? ঘটিবাটি বিক্রি করে রঘুরাজপুর গ্রামের মানুষ যাঁর কৃষ্ণযাত্রা দেখতে আকুল হয়ে ছুটে যেতেন! কীরকম ছিল সেই অভিনয়? অমনি বালক কৃষ্ণ মা যশোদার কাছে কীভাবে দু’ হাতের তালু ঘষে ঘষে লুব্ধ চোখে ননী খাওয়ার বায়না করছেন, সেটি মূকাভিনয় করে দেখালেন গুরুজি। করেই খানিক নীরব। বলছেন, কৃষ্ণ মা যশোদার পিছু পিছু যাচ্ছেন। তা ‘গোবিন্দ কেমতি যাউছি’? বসে শুধু চোখ আর হাতের চলনে দেখিয়ে দিলেন তিনি।

শ্রীখোল বাদনরত

পটচিত্রকর পরিবারে জন্ম, বাবা বাজাতেন শ্রীখোল। ছন্দ আর ভক্তিরস বাবার থেকেই মিশেছিল তাঁর শরীরে, যে শরীর ক্রমশ হয়ে উঠবে পটচিত্রের মতো অনুপুঙ্খ, ভাস্কর্যের মতো জীবন্ত। গটিপুয়া নাচের দলে নাচ করেছেন কৈশোরে, কানের ফুঁটো দেখিয়ে আমায় বলছেন, রীতি অনুযায়ী ‘কর্ণছেদন করতে হয়েছে’। ঘুরেফিরে আসছে অতীত, বলছেন ‘দিল্লিতে ওড়িশি নাচ দেখিয়ে তাবড় সমঝদার দর্শককে মুগ্ধ করছে একটি ছ-বছরের মেয়ে।… কে?’, ধনুকের মতো ভুরু উঁচিয়ে দুষ্টু হাসি হেসে জিজ্ঞেস করছেন আমায়, পরক্ষণে নিজেই উত্তর দিচ্ছেন হেসে, ‘সংযুক্তা’। বলতে বলতে প্রাণাধিক প্রিয় শিষ্যার গর্বে আহ্লাদে মুখ আলো হয়ে উঠল তাঁর! তখন কে জানত তার ঠিক দু’বছর পরেই আষাঢ় মাসে তিনি হারাবেন সংযুক্তাকে, বিলাপ করে বলে উঠবেন, ‘আমার ডান হাত খসে পড়ে গেল…’।

হারমোনিয়াম হাতে রঘুনাথ পাণিগ্রাহী, নাচে কেলুচরণ মহাপাত্র ও সংযুক্তা পাণিগ্রাহী

অভিনয়ের দলে সেই অল্প বয়সে তাঁর সঙ্গে ভ্রমণ করছেন একটি মেয়ে, আমাদের গুরুমা। গুরুজি বললেন, ‘তখনও বিয়ে হয়নি আমাদের, আমরা সাথী’। আমার মনে পড়ে গেল, পদাতিকের কাঠের মেঝেতে একটি আসনে সম্বলপুরী শাড়িতে ঘোমটা দিয়ে বসে লক্ষ্মীপ্রিয়া মহাপাত্র, হলুদ লাল সম্বলপুরী সিল্কের ঘোমটার আড়ালে সলাজ মুখে নাকের হিরেতে বিদ্যুতের ঝলক। রাধার ভাব-অভিনয় দেখানোর জন্য ওঁকে পীড়াপীড়ি করছেন চেতনা জালান। গুরুজি গাঢ় চোখে মিটিমিটি হেসে গুরমার দিকে তাকিয়ে বলছেন ‘চারু…’।

গুরু কেলুচরণ ও গুরুমা লক্ষ্মীপ্রিয়া

অবশেষে গুরুজির অনুরোধেই কোমরে অঞ্চল দিয়ে রাধার লজ্জার ভাবটি দেখাতে লাগলেন লক্ষ্মীপ্রিয়া মহাপাত্র, সঙ্গে গুরুজি গাইছেন ওঁর প্রিয় ওড়িয়া চম্পু:

‘লীলানিধি হে, লাজে মু গলি কিশোরী…’। আসলে লক্ষ্মীপ্রিয়া মহাপাত্রকে ছাড়া, ভুবনেশ্বর মিশ্র, সংযুক্তা পাণিগ্রাহী, রঘুনাথ পাণিগ্রাহীকে ছাড়া, কুঁড়ি থেকে শতদলে ফুটে-ওঠা কেলুচরণ মহাপাত্র এবং তাঁর শাস্ত্রীয় ওড়িশি নৃত্যের আলোটিকে ছোঁয়া যাবে না। গরিব পটচিত্রকর পরিবার, পানের বরজে কাজ, যাত্রাপালার দলে তবলা বাজাবার চাকরি– এই সবকিছুর আড়ালে গভীরে বয়ে চলা সমুদ্রের ঢেউয়ের লীলা যেভাবে রূপ পেল ওড়িশি নাচের বক্ষহিন্দোলে, তা এক অশ্রান্ত সাধকের গভীর চলার ইতিহাস। আদ্যন্ত সরল গুরুজি তাঁর এই গভীর চলাটি গোপন রাখতেন। গুটেপুয়ো হল ছেলে আর মহারি হল ‘মহান উত্তম নারী’। পুরী থেকে পাঁচ মাইল দূরে ভার্গবী নদীর তীরে রঘুরাজপুর গ্রাম। ঘরে ঘরে পটচিত্রের সুনিপুণ চর্যা, আখড়ায় আখড়ায় মর্দলার বোলে গুটিপুয়া বালকদের নারী সেজে নাচ, অপরদিকে শ্রীমন্দিরে দেবতার সম্মুখে মাহারি অর্থাৎ, দেবদাসীদের নৃত্যগীত। মন্দিরে মন্দিরে শতশত ভাস্কর্যে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে যুগান্তের নৃত্যকলা, সেখানে স্থানক হিসেবে ত্রিভঙ্গি আর চৌকা। নানা সংযুক্ত ও অসংযুক্ত হস্তমুদ্রা নানা ভঙ্গিতে মর্দলা মৃদঙ্গ মুরলী মঞ্জিরের নীরব সভা। তিনি যেন শুনতে পাচ্ছেন এই স্তব্ধ ভাস্কর্যের আড়ালের মৃদঙ্গবোল, অনাহত নাদ। তাঁর শরীরে গভীরে বেজে উঠছে অশ্রুতবাঁশি। ১২ বছর বয়সে তাঁর বাবা তাঁকে পাঠিয়েছিলেন রাসলীলা পালার দলে, সেখানে অভিনয় ছাড়াও শিখলেন তবলা বাজানো। তারপর কটকের থিয়েটার গ্রুপে চাকরি। ‘রেল স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছি। ট্রেন আসছে। মনে হচ্ছে ছেড়ে চলে যাই। নাচ করি। শুধু নাচ।’ কোন নাচ? যে নাচ তিনি খুঁজছেন লোকভঙ্গিতে, মাহারিদের নৃত্যে, গুটিপুয়াদের কৃতকৌশলে, মন্দিরের গায়ে, লোকশিল্পে, পালা অভিনয়ে, পটচিত্রে। সবকিছুর সারাৎসার নিয়ে তিনি যে তৈরি করবেন এক লীলায়িত অভিজাত শৈলী, নিজেই একজীবনে নানা ভাঙাগড়ায় তাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন এক অন্য মার্গে। পথে যেতে যেতে পথিক নিজেই হয়ে উঠবেন পথ।

কেলুচরণ ও সংযুক্তা

স্বাধীন ভারতে পাঁচের দশকে রুক্মিণী দেবী অরুন্ডেলের হাত ধরে তৈরি হচ্ছে শাস্ত্রীয় অভিধার ‘ভরতনাট্যম’, উত্তর ভারতের লখনউ, জয়পুর, বেনারস– এই তিন নগরীর নৃত্যধারা রূপ নিচ্ছে ধ্রুপদী ‘কথক’-এ, কলিঙ্গ দেশ থেকে অক্লান্ত সাধনায় এই শাস্ত্রীয় সংজ্ঞার পরিসরে ওড়িশি নাচকে প্রতিস্থাপন করতে লড়ে যাচ্ছেন আপাত রূপহীন এক গ্রামীণ পুরুষ। সংস্কৃত টেক্সট জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দম’ থেকে যেমন অষ্টপদীকে ওড়িশার সাংগীতিক গড়নে সাজিয়ে নিচ্ছেন পণ্ডিত ভুবনেশ্বর মিশ্র বা রঘুনাথ পাণিগ্রাহীর স্বকণ্ঠ সাহচর্যে, তেমনই ওড়িয়া লোকসংগীত, ভক্তিগীতি, ভজন, যাত্রাভিনয়ের গান সবকিছুকে অন্তর্ভু্ক্ত করে নিচ্ছেন এক স্বতন্ত্র শাস্ত্রীয় রূপের আধারে। তাঁর হাত ধরেই উন্মোচিত হচ্ছে ওড়িয়া সংগীতের ধ্রুপদী অলংকারগুলি, প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে মর্দলা বা ওড়িশি পাখোয়াজের একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্রীয় বাজ আর নাচে তৈরি হচ্ছে ‘মঙ্গলাচরণ’ থেকে ‘মোক্ষ’ পর্যন্ত এক বহুমাত্রিক যাত্রাপথ।

ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “আচ্ছা গুরুজি, এই যে মঙ্গলাচরণ দিয়ে সূচনা, পল্লবীতে বিকশিত আর বিস্তৃত হওয়া, অভিনয়পদে নানা ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া আর শেষে ‘মোক্ষ’তে পরমে লীন হওয়া, এই কি জীবন?”

গাঢ় হয়ে উঠল ওঁর চঞ্চল চোখ।

মায়ের সঙ্গে গুরুজি

‘দ্যাখো, যে নাচ আগে দেবতার সম্মুখে হত, তাই এখন আমরা জনতার সম্মুখে করছি। নাচ জীবন থেকে আলাদা নয়। এই জীবনের যত রূপ যত রস তুমি দেখবে সব absorb করবে, তত তোমার আর্ট মানুষকে ছুঁয়ে যাবে…’।

লেখকের সঙ্গে গুরু কেলুচরণ মহাপাত্র

জীবনের অনুপুঙ্খগুলি নিপুণভাবে প্রকাশ করতেন তিনি। সে গাছের পাতা পড়াই হোক বা মাঝির দাঁড় বাওয়া। কিন্তু এই কি সব? না। সব অনুপুঙ্খ উত্তীর্ণ হত এক গভীর অধ্যাত্মলোকে। তাঁর প্রবেশ থেকে প্রস্থান পর্যন্ত মঞ্চ ভরে থাকত এক আশ্চর্য বিভায়। ওই আটপৌরে দেহ, ওই বিরলকেশ মাথা, ওই সাদা ধুতি আর প্রায় রূপসজ্জাহীন মুখ, সব কিছু যেন অলৌকিক হয়ে উঠত এক মুহূর্তে। দেহমাধ্যমসর্বস্ব শিল্প দেহকে অতিক্রম করে যেত।

আর ছিল তার স্নেহ। যে তাঁর কাছে গিয়েছে, সে-ই সেই সহজ স্নেহ পেয়েছে। গুরু কেলুচরণ অক্লান্তভাবে শিখিয়েছেন শিক্ষাপ্রার্থীকে। প্রথমে কটকে একটানা প্রায় ১৫ বছর কলাবিকাশ কেন্দ্রে, তারপর দীর্ঘদিন ভুবনেশ্বর ওডিসি রিসার্চ সেন্টারে, তারপর তাঁর সৃজন-এ। কতজনকে যে নিজের বাড়িতে রেখে খাইয়ে-দাইয়ে শাসনে-লালনে নাচ শিখিয়েছেন, তার ইয়ত্তা নেই!

একসময় নিয়মিত কলকাতা এসেছেন। সারারাত ট্রেনে সফর করে সকাল থেকেই ক্লাস নিচ্ছেন। তৈরি করছেন সুতপা তালুকদার, পৌষালী মুখোপাধ্যায়, রীনা জানা, নন্দিনী ঘোষাল প্রমুখ ওড়িশি উন্মুখ শিষ্যাদের। সুতপা তালুকদার আটের দশক থেকে গুরুর থেকে তালিম নিচ্ছেন। কুমকুম মহান্তি, ইলিয়ানা সিতারেস্তি প্রমুখ অগ্রণী শিল্পীদের সঙ্গে গুরুজির কটকের বাড়ির বারান্দায় বসে তাল শিখছেন তরুণী সুতপা। গুরুজির জমাটি ক্লাস হত সন্ধ্যার পর। দিনের বেলায় কখনও মুখে মুখে কত পুরাকথা বলছেন, মাত্রা গুনে গুনে তাল শেখাচ্ছেন। বুঝতে না পারলে বকুনি খাচ্ছি। ‘বোকা, বুকি’ এইসব বিশেষণ। মা (গুরুমা) কখনও চাটাই পেতে নাক ডেকে ঘুমিয়ে গিয়েছেন, আমাদের খিদে পেয়েছে। আমরা মায়ের পায়ে সুড়সুড়ি দিয়ে জাগিয়ে দিয়েছি। কখনও বলেছি, মা দেখব। একদিন, অনেক পীড়াপীড়িতে একটি ওড়িয়া অভিনয়পদ করে দেখালেন। কী যে সেই নাচ!

তাল শিখছেন মেয়েরা, সংগ্রহ: সুতপা তালুকদার

গুরুজির শরীরে তখনও যৌবন অস্তমিত হয়নি। রীনা জানাকে ডেকে নিচ্ছেন বারবার ওড়িশায়, কোনারক উৎসবে নিজের নির্মাণে অংশ নেওয়ার জন্য। নাচের আগে কপালে এঁকে দিচ্ছেন অলকা। এইভাবে সরাসরি তাঁর হাতে তৈরি বাংলার শিষ্য-শিষ্যাদের অন্তর্ভুক্ত করছেন ওঁর নানা নির্মাণে, তাঁদের সঙ্গে, নানা উৎসবে, নানা আয়োজনে দেশে-দেশান্তরে মঞ্চে নাচছেন, মর্দলা সঙ্গত করছেন, এইভাবে মান্য নৃত্যশিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছেন তাঁদের।

গুরুজি জানতেন কার কার শরীরের আধারে কোন কম্পোজিশনটি মানাবে। সেটাই তিনি দিতেন। নাচ একই, ঘরানাও এক। আর যে-কোনও ঘরানার মতোই তা জীবন্ত ও বিবর্তনময়। আর সেই কারণেই আমাদের বারবার ফিরে তাকাতে হয় সংযুক্তা পাণিগ্রহী, কুমকুম মহান্তি, পৌষালী মুখোপাধ্যায়, প্রতিমা বেদী প্রমুখ দিকপাল শিল্পীদের নাচের দিকে। আমেরিকা-প্রবাসী শিল্পী বিষ্ণুতত্ত্ব দাস তাঁর ‘ওডিসি বিলাস’-এর উদ্যোগে ইউটিউবে গুরুজি এবং সংযুক্তা পাণিগ্রাহীর নাচের অনেক মণিমাণিক্য প্রকাশ করে চলেছেন। তাতে ধরা আছে ওড়িশি নাচের অতুলনীয় ঐশ্বর্য।

গুরুর সঙ্গে মঞ্চে নৃত্যে প্রয়াত পৌষালী মুখোপাধ্যায়

ওড়িশার জনমানস জগন্নাথময়। রথযাত্রাকে ঘিরে মানুষের আবহমানের আবেগ। মন্দিরের বিগ্রহ পথের দেবতা হয়ে ওঠেন। জনতার মাঝে নেমে আসেন। ওড়িশি নাচও জগন্নাথ-কেন্দ্রিক। আঁখির আগে তিনি এসে না দাঁড়ালে নৃত্যশিল্পীর কলাশিল্প অনিবেদিত থেকে যায়। দর্শকজনতাও দেবতাস্বরূপ। রথে দেবতা আর জনতা একাত্ম হন। দেবতার চোখে ভক্তের কোনও ভেদ নেই।

রীনা জানার ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে প্রাপ্ত ছবি

গুরু কেলুচরণ মহাপাত্র পরম নিষ্ঠায় মুসলিম কবি সালাবেগের জগন্নাথভজন শরীরে তুলে নিলেন। কথিত আছে, রথের দিন দূর থেকে পুরীতে পৌঁছতে বিলম্ব হওয়ায় সালাবেগ আকুল হয়ে জগন্নাথকে ডাকতে থাকেন। সেই ডাক পৌঁছয় দীনবন্ধুর বুকে। সালাবেগের বাড়ি বড়দারার কাছে এসে রথ থেমে যায়। ভক্ত সালাবেগ এসে পৌঁছন। রথে আসীন পথের দেবতাকে দেখে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সেই থেকে আজও রীতি মেনে বড়দারার সামনে রথ ক্ষণেক থামে। আমরা দেখতে পাই, সালাবেগের গানের সেই ‘নীল শৈল’কে। আর দেখতে পাই মঞ্চে গুরুজি নাচছেন সালাবেগের পদ ‘আহে নীল শৈল প্রবল মত্ত…’। সামনে তাঁর জনতা-জনার্দন।

……………………..

রোববার.ইন-এ পড়ুন শৈবাল বসু-র অন্যান্য লেখা

……………………..