Robbar

rathayatra

মুসলিম কবির জগন্নাথভজন শরীরে তুলে নিয়েছিলেন কেলুচরণজি

মুসলিম কবি সালাবেগের ডাকে আজও বড়দারায় থামে পুরীর রথ। সালাবেগের জগন্নাথভজন ‘আহে নীল শৈল প্রবল মত্ত…’ পরম নিষ্ঠায় অভিনয় করতেন গুরু কেলুচরণ মহাপাত্র। আটপৌরে দেহ, বিরলকেশ মাথা, সাদা ধুতি আর প্রায় রূপসজ্জাহীন মুখ, অলৌকিক হয়ে উঠত এক মুহূর্তে।

→

রথের রূপক

জগন্নাথের রথযাত্রা কেবলমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, তা আসলে মানুষ ও ঈশ্বরের, মানুষ ও মানুষের, মানুষ ও প্রকৃতির এবং জীবন ও মহাবিশ্বের মধ্যকার গভীর সম্পর্কের এক জীবন্ত উদ্‌যাপন। পুরীর তিন রথ আমাদের শেখায় যে, জীবনের প্রকৃত অর্থ নিহিত রয়েছে ভক্তি ও কর্মে, প্রকৃতি ও সভ্যতায়, ব্যক্তি ও সমাজে এবং আত্মা ও বিশ্বচৈতন্যের সমন্বয়ে।

→

বাঁকুড়ার রথ পুতুলের মেলা

বাঙালির রথের মেলা আগে আলো করে থাকত মাটির পুতুল। সঙ্গে অবশ্যই থাকত কাঠের পুতুল, খেলনা গাড়ি ও তালপাতার সেপাই। আর বিকেলে পুতুলনাচের আসর। রথের মেলা থেকে পুতুল কিনেই গ্রামীণ বঙ্গজীবন ঝুলন সাজিয়ে তুলত। সেই ধারা কার্যত তলানিতে এসে ঠেকেছে! তবু বিক্ষিপ্তভাবে সে আজও নিজের অস্তিত্বের কথা জানান দিয়ে চলেছে।

→

মাহেশের রথের সারথি

মাহেশের রথের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে কমলাকর পিপিলাইয়ের নাম। ইতিহাস লিখতে গিয়ে কেউ তাঁকে বলেছেন বহিরাগত, কেউ বলেছেন তিনিই মাহেশের জগন্নাথের আদি প্রতিষ্ঠাতা। মতভেদ থাকলেও কমলাকরকে বাদ দিয়ে মাহেশের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ইতিহাস অসম্পূর্ণ।

→

শিল্পতীর্থ জগন্নাথ

বিশাল তিনটি রথ থেকে শুরু করে শ্রীজগন্নাথের অনসরকালের পটচিত্র, রথের অলংকরণ, কাঠের বিগ্রহ, মুখোশ, খেলনা, তালপাতার সূক্ষ্ম খোদাই এবং পাথরের ভাস্কর্য– পুরীর শিল্প একটি সাংস্কৃতিক পরম্পরা। এর গভীরে রয়েছে শ্রীজগন্নাথ সংস্কৃতির ধর্মীয় দর্শন, মন্দির-কেন্দ্রিক সেবাপরম্পরা, তীর্থযাত্রার ইতিহাস এবং বংশপরম্পরায় শিল্পচর্চার এক দীর্ঘ ঐতিহ্য।

→

পুরীর পেটপুজো

সজনে ডাঁটার মুচমুচে প্যান-ফ্রাই হোক, বা পুরভরা কচুপাতা মুড়ে ভাপিয়ে সারুপত্র তরকারি, পাখালা হোক বা বেসর– কলিঙ্গ আহারের স্বাদমাহাত্ম্য অতুলনীয়। তবে জানেন কি, বাঙালি রসনায় ডাল ও বড়ি, এমনকী, সরষের ব্যবহারের সূত্রপাতও করেছিলেন উৎকলবাসী রাঁধুনেরাই?

→

জগন্নাথের শবরযোগ

শবরদের ধর্ম-ভাবনায় ত্রিমূর্তির উপাসনা উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। ত্রিমূর্তি হলেন তানাপেনু, জাকেরিপেনু এবং মুরভিপেনু। শবর ভাষায় ‘পেনু’ শব্দের অর্থ ঈশ্বর। ওড়িশার শবর-প্রধান গ্রামগুলিতে জগন্নাথের নাম ‘জগনেলো’। শব্দটির অর্থ– কাঠের তৈরি দেবমূর্তি। শবর ভাষায় দেবতার নাম ‘সানাম’ এবং মূর্তিকে বলে ‘কিটুঙ্গা’। সকল কিটুঙ্গাদের মধ্যে জগনেলো হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনি বিশ্বের অধিপতি হিসাবে বন্দিত।

→

বাঙালি জিলিপির মতোই রসিক এবং প্যাঁচালো

বড় বাহারি পাকমারা বস্তুটি যদি অমৃতি হয়, তবে জিলিপির ভালো নাম নির্ঘাত অমৃতলাল বসু। বাঙালির ভোর মোরগডাকে হয় না, জিলিপির পাকে হয়। ধোঁয়াওঠা চায়ের পাশে গরম রসের শালপাতা আমাদের প্রাতকালীন ব্যায়াম।

→