


আমার ‘অমল আশ্রম’ দিব্বি লাগল। জায়গাটা প্রায় মাইল দুয়েক লম্বা, মাইল দেড়েক চওড়া। পাঁচিল যদি না-থাকত, তাহলে একে আশ্রম না বলে ছোট একটি গ্রামই বলতাম আমি। যেদিকটায় ধানের খেত, গমের খেত, আমের বাগান, আদড়া ডাঙা, সেদিকটায় জলাজমি পেরিয়ে দেখা পাওয়া যায় একটি শীর্ণতোয়া নদীর। ফ্রের আঁরির আশ্রমের একটি প্রান্তসীমা এই নদীর চর। ঝিরঝিরে বালুচর নদীটির।
২৩.
ফ্রের আঁরির ‘অমল আশ্রম’কে ‘আশ্রম’ না বলে ‘কমিউন’ বলাই শ্রেয়। এর কিছুটা অংশ ফাদার আঁরি নিজেই আমাকে ঘুরিয়ে দেখিয়েছিলেন। বাকিটা আমি নিজে নিজেই দেখেছি, যে-কয়েকদিন আশ্রমে ছিলাম, সেই কয়েকদিনে। কিছু মানুষ, নারী পুরুষ দুই-ই, এই পাঁচিল ঘেরা সুবিস্তৃত জায়গাটায় বাস করছেন। কেউ কেউ একা। কেউ কেউ আবার সপরিবারে। বেশিরভাগই সমাজ-পরিত্যক্ত মানুষ। এখানে এসে কোনও-না-কোনও কাজে হাত লাগিয়েছেন যে যার দক্ষতা অনুসারে। পশুপালন, কৃষিকাজ, সবজি ও ঋতু-অনুসারী ফুলের চাষ, সেলাই-ফোঁড়াই, মাটির শৌখিন পটারি, কাঠের আসবাব, স্বাস্থ্যকেন্দ্র… নানারকম কাজ হয় এই আশ্রমে। ছোট ছোট ঘরবাড়ি। যাঁরা এখানে এসেছেন, তাঁরাই নিজেদের চেষ্টায় ঘর তুলেছেন। কোনওটা ধানখেতের ধারে, কোনওটা তালসারির একপাশে, কোনওটা-বা পুকুরের ওই পাড়ে। ঘরগুলো কোথাও ঘেঁষাঘেঁষি নয়, ছাড়াছাড়া। ধরাবাঁধা কোনও নিয়ম নেই, শুধু তিনবেলা বড় ঘণ্টার শব্দে সকলে মিলে একটা বড় হলঘরে জমায়েত হয়ে একত্রে আহারাদি করেন। তারপর যে যার কাজে ফিরে যান।

আশ্রমে উৎপাদিত দ্রব্যাদি আশেপাশের গ্রামের হাটে বিক্রি করতে নিয়ে যান আশ্রমিকেরাই। একটা ব্যাপারে আমি বেশ অবাক হয়েছিলাম, এঁরা সকলেই যে ধর্মবিশ্বাসে খ্রিশ্চান, তা নয়। সব ধর্মের মানুষই আছেন এখানে। যাঁরা খ্রিশ্চান, তাঁরা সন্ধেবেলা চার্চে সমবেত হন প্রার্থনায়। অন্যদেরও চার্চে যেতে মানা নেই। ‘চার্চ, চার্চ’ লিখছি, কিন্তু তাকে ‘চার্চ’ বলা যায় কি? একখানা লম্বা দালান, তার মধ্যিখানে একখানা বড় অয়েল পেইন্টিং, পাহাড়ি এক উপত্যকায় যিশু দু’পাশে দু’হাত ছড়িয়ে কিছু বলে চলেছেন, সম্ভবত ‘সারমন অন দ্য মাউন্ট’-এর চিত্ররূপ। ব্যস, ক্রশফ্রশ কিছুই নেই! ওখানেই একটা টেবিলে ধর্মগ্রন্থ রেখে ফ্রের আঁরি দাঁড়ান, প্রার্থনা করেন, বাইবেল পড়েন, আর অন্যরা চাইলে তাঁর সঙ্গে গলা মেলান। পিয়ানো আছে একখানা বেশ পুরনো। সেই পিয়ানো বাজান একজন বুড়ো মানুষ, অন্য একজন ভাঙা গলায় গান করেন। যাঁরা খ্রিশ্চান নন, তাঁরা চাইলে যে যাঁর ঘরে নিজ নিজ ধর্মবিশ্বাস অনুসারে পুজো-পাঠও করতে পারেন। এর বাইরে ধর্ম বিষয়ে এ-আশ্রমে তেমন মাতামাতি কিছু দেখলাম না। আশ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে যা বুঝলাম, ফ্রের আঁরি তাঁদের কাউকেই খ্রিশ্চান হতে উৎসাহ দেননি, চার্চে যেতেও তেমন কোনও পীড়াপীড়ি করেননি। এই যে ব্যাপারটা, মানে এই যে ব্যাপারটা…
সম্ভবত এই ব্যাপারটার জন্যেই ফ্রের আঁরি তাঁর খ্রিশ্চান কমিউনিটিতে একাবোকা হয়ে আছেন। শুধু এই ব্যাপারটার জন্যেই যে নয়, আরও যে অন্য কারণও ছিল, সেটা পরে তাঁর সঙ্গে কথা বলে আমি বুঝতে পেরেছিলাম।
আমি যে-ক’দিন ছিলাম, আমার জন্য কাঠের তৈরি একটি কেবিন নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। একটা জিনিস আমার খ্রিশ্চান হারমিটেজগুলোতে দারুণ লাগে। এর আগেও যখনই কোনও ক্রিশ্চান মনাস্ট্রিতে আশ্রয় পেয়েছি, এটা আমি লক্ষ করেছি। কত কম খরচে কত বেশি বেনিফিট পাওয়া যায়, সেদিকে সবিশেষ নজর থাকে এঁদের। অনাড়ম্বর একখানা তক্তপোশ, কিন্তু তার ওপর সুন্দর করে বালিশ বিছানা পাতা। প্লাইউড দিয়ে বানানো দেওয়াল, দেওয়ালের গায়ে একফালি জানালা। জানালার ওদিকে শালবন। ঘরের দেওয়ালে একখানা মেরিমাতার ছবি; যিশু কোলে মরিয়ম। ছোট একটা বুককেস বা ভালো করে বললে একখানা অনাড়ম্বর বইয়ের তাক। সেই তাকে অল্প কিছু বই। সস্তা কাঠের টেবিল চেয়ার, টেবিলের ওপর একদম সাধারণ একটা বাতিদান। কারেন্ট চলে গেলে সেই বাতিদানে মোমবাতি জ্বালানো যায়। ঘরে একটিই বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা। ঘরের সঙ্গে লাগোয়া বাথরুম। বাথরুমে জলের ট্যাপ, বেসিন, কমোড সবই আছে। কিন্তু স্পেস বেশি নয়। অথচ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। অর্থাৎ, যা না-থাকলে আজকের দিনে বেঁচে থাকা যায় না, শুধু সেই ক’টি জিনিসই রয়েছে। বাড়াবাড়ি নেই কোথাও।
আমার ‘অমল আশ্রম’ দিব্বি লাগল। জায়গাটা প্রায় মাইল দুয়েক লম্বা, মাইল দেড়েক চওড়া। পাঁচিল যদি না-থাকত, তাহলে একে আশ্রম না বলে ছোট একটি গ্রামই বলতাম আমি। যেদিকটায় ধানের খেত, গমের খেত, আমের বাগান, আদড়া ডাঙা, সেদিকটায় জলাজমি পেরিয়ে দেখা পাওয়া যায় একটি শীর্ণতোয়া নদীর। ফ্রের আঁরির আশ্রমের একটি প্রান্তসীমা এই নদীর চর। ঝিরঝিরে বালুচর নদীটির।
একদিন বিকেলবেলায় ফাদার আঁরি আর আমি ওই নদীচরে বেড়াতে গিয়েছিলাম। অনেকটা পথ নদীর ধারে ধারে ফাদারের সঙ্গে হাঁটছি, বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামছে, এপারের চখাচখি আকাশ বেয়ে ওপারে উড়ে যাচ্ছে, নানারকম গল্পগুজব হচ্ছিল, তেমন ভারভারিক্কি কথা কিছু নয়, এই ক’দিনেই বেশ সখ্য হয়ে গিয়েছিল ফাদারের সঙ্গে, হাসিঠাট্টাও হচ্ছিল, এই যেমন লিখছি টুকরো টুকরো বাক্যে কমাচিহ্ন দিয়ে দিয়ে, এরকমই টুকরো টুকরো অসংলগ্ন বাক্যালাপ, মাঝে মাঝে এক লহমার একটু বিরতি, তার বেশি কিছু নয়।

কথায় কথায় আমি শুধালাম, ‘আপনি তো ফরাসি। ফ্রান্স থেকে এদেশে এসেছিলেন কবে?’
হাতের সিগারেটটার ছাই ঝেড়ে ফেলে চোখ মটকে ফ্রের আঁরি আমাকে বললেন, ‘ইন্টারভিউ? না কি?’
আমি বললাম, ‘আরে, না-না। কৌতূহল হওয়াটা কি খুবই অস্বাভাবিক, ফাদার?’
তিনি দু-পাশে মাথা নেড়ে কৌতুকী ভঙ্গিতে জবাব দিলেন, ‘অস্বাভাবিক নয়, অস্বাভাবিক নয়!’ তারপর গম্ভীর হয়ে বললেন, ‘আমার জন্ম হয়েছিল মঁপেলিয়ে-তে। তোমরা যাকে বলো, মন্টপিলিয়া। সাউদার্ন ফ্রান্সে। সে কি আজকের কথা গো? সেই উনিশশো তেতাল্লিশ। কত বুড়ো হয়ে গেলাম, বলো তো!’
আমি বললাম, ‘মোটেই আপনাকে বুড়ো দেখায় না। যাই হোক, ভারতে এলেন কবে?’
তিনি দূরের দিকে চেয়ে বললেন, ‘ভারতে এলাম…’ নিজের ভিতরে হারিয়ে যাচ্ছিলেন ফাদার। পরে নিজেকে নিজের কাছে ফিরিয়ে এনে বললেন, “ভারতে এলাম যখন, তখন আমার বয়েস চব্বিশ। উনিশশো সাতষট্টি-তে। আমি চব্বিশ। ড্যানিয়েলও ওরকমই হবে… পঁচিশ, ছাব্বিশও হতে পারে। দু’জনেই একসঙ্গে এসেছিলাম ফ্রান্স থেকে…”
‘ক্যাথলিক?’
‘হ্যাঁ। জ্যাভেরিয়ান ব্রাদারস।’
‘ভারতের কোথায় প্রথমে এসেছিলেন?’
‘কলকাতা, কলকাতা! তবে ড্যানিয়েল প্রথমে কিছুদিন নানা কারণে জেসুইটদের দ্বারা পরিচালিত মাদ্রাজের লয়োলা কলেজে ছিল। পরে কলকাতায় আসে।’
‘আপনি বারবার ড্যানিয়েল ফাদারের কথা বলছেন। উনি কি আপনার খুব বন্ধু?’
‘বন্ধু, ভাই– যা বলতে পারো। আসলে এই ব্যাপারটা তোমাদের বোঝানো একটু কঠিন। হিন্দুইজম ওয়াজ নেভার অ্যান অরগানাইজড রিলিজিয়ন অ্যান্ড ইট উইল নেভার বি। হিন্দুজ নেভার কেয়ার ফর অরগানাইজেশনস। ইট স্ট্যান্ডস আপন পারসোনাল রিয়ালাইজেশন। খ্রিশ্চান, বুদ্ধিস্ট, মোহামেডান– এরা হচ্ছে অর্গানাইজড ধর্ম। একই অর্গানাইজেশনের সদস্য যারা, তাদের মধ্যে একটা অদ্ভুত ভ্রাতৃত্ব, ফ্রেন্ডশিপ গড়ে ওঠে। আমরা বলি–ব্রাদারস অব রোব। এক পোশাকের বন্ধু। তো ড্যানিয়েল হচ্ছে আমার ব্রাদার অব রোব। একই সঙ্গে আমাদের ট্রেনিং হয়েছিল। একই সঙ্গে আমরা এদেশে এসেছিলাম। শুধু ড্যানিয়েল কেন, আমাদের সমসাময়িক সব মিশনারিরাই আমার বিশেষ বন্ধু; ব্রাদারস অব রোব। তবে ওই বন্ধন থেকেও আমি বেরিয়ে এসেছি, বলতে পারো!’
‘হ্যাঁ, সেইটেই আমি জানতে চাইছি। বেরিয়ে আসতে হল কেন?’ আমি তড়িঘড়ি প্রশ্ন করে উঠলাম।
ফ্রের আঁরি রসিক মানুষ। আমার দিকে চেয়ে তিনি সুর করে বললেন, ‘হায় তাত! উচিত কি তব এ কাজ? শুড ইউ আস্ক সাচ রেকন্ডাইট কোয়েশ্চেন?’
আমি বললাম, ‘না-না, আপনার আপত্তি থাকলে আমি এখানেই ক্ষান্ত দেব!’
‘নাহ্, আপত্তি কীসের? আমি তো বললামই তোমাকে, আমি সোজাসুজি কলকাতাতেই এসেছিলাম। আমি যুক্ত হয়েছিলাম মিশনারি পরিচালিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। স্কুল নয়। কলেজ। কলেজটার নাম এখানে অনুক্ত থাক। না কি?’
‘হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। কলেজের নাম আমার কী দরকার জানার?’
‘সেই। তা সেই কলেজের হস্টেল ওয়ার্ডেন ছিলাম আমি। আমার বয়েস তখন কম। খুব সহজেই ছাত্ররা আমাকে আপন করে নিয়েছিল। আমি তাদের সঙ্গে গপ্পোগাছা করতাম। ভলি, বাস্কেট-বল, টিটি খেলতাম এন্তার। ক্রিকেট, তাও ছিল মারকাটারি। মোটের ওপর ছাত্রদের সঙ্গে মিশে আমিও ওদেরই একজন হয়ে গেছলাম।’
শুনতে শুনতে মনে মনে আঁকছিলাম তরুণ ফ্রের আঁরি-র ছবি। ২৪-২৫ বছরের উজ্জ্বল, প্রাণবন্ত, প্রীতিপূর্ণ যুবক পাদ্রি। হঠাৎ চুপ করে গিয়েছি দেখে ফাদার জিজ্ঞেস করলেন, ‘কিছু কি ভাবছ?’
আমি চমকে জেগে উঠে বললাম, ‘অ্যাঁ? হ্যাঁ? না, না, কিছু না। আপনি বলুন, তারপর কী হল?’
তিনি বলতে লাগলেন, ‘ওই সময়টা খেয়াল করো। উনিশশো সাতষট্টি আটষট্টি। কলকাতা উত্তাল হয়ে উঠছে ক্রমশ ছাত্র-আন্দোলনের জেরে। সেই সময় একদিন রাত্রে…’
থেমে গেলেন ফাদার। আমি চুপচাপ অপেক্ষা করছিলাম। কিছু পরে আবার আরম্ভ করলেন, “একদিন রাত্রে হস্টেলের অফিসঘরে বসে ছাত্রদের কশন-মানি ডিপোজিটের হিসেব দেখছি। কখন যেন রাত ১০টা বেজে গেছে। হঠাৎ দুটি ছেলে হন্তদন্ত হয়ে অফিসে এসে ঢুকল। দেখি, আলোক আর সুধীর। দু’জনেই ঘেমে নেয়ে একশা। ওরা দু’বছর আগে গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করে কলেজ থেকে বেরিয়ে গেছে। উত্তরবঙ্গের ছেলে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কী ব্যাপার? ওরা বলল যে ওরা আজ রাতটা হস্টেলে থাকতে চায়। জায়গা মিলবে কি? আমি বললাম, আলবাত মিলবে। গেস্ট রুমে থাকো, চাবি নিয়ে যাও। এরকম অনেকেই আসত, তাদের ব্যবস্থাও করে দিতাম থাকার। কিন্তু ওরা বলল, গেস্ট রুমে না। আমরা লাইব্রেরির ওপরের অ্যাটিকটায় থাকতে চাই। এবার আমার বুঝতে আর একবিন্দুও দেরি হল না, কেন ওরা এখানে এসেছে।”

আমি কিন্তু বুঝতে পারলাম না কথাটা। বললাম, ‘কেন এসেছিল ওরা?’
‘পুলিশের তাড়া খেয়ে। আমি বললাম, তোরা বালুরঘাট চলে যাচ্ছিস না কেন? ওরা বলল, সেফ নয়, তাই। যাই হোক, ছেলেদুটোকে খাইয়েদাইয়ে অ্যাটিকে নিয়ে গিয়ে শোয়ালাম। ভাবলাম, এই মিশনারি কলেজ-হস্টেলে অন্তত ওরা নিরাপদই থাকবে। কিন্তু আমার সেই ধারণা ভুল ছিল!’
‘তাই?’
‘হুম্, তাই। ভোররাতের দিকে পুলিশ এল। আমাকে নানা জিজ্ঞাসাবাদ করতে লাগল ওদের ব্যাপারে। আরেকদল পুলিশ হস্টেলের ঘরগুলো সার্চ করতে লাগল যা-তা ভাবে। লাইব্রেরির অ্যাটিকেও গেল। কিন্তু কাউকে পেল না সেখানে। ভোরের দিকে কুকুরের ঘেউ ঘেউ ডাক আর পুলিশ ভ্যানের শব্দ শুনে আমি আলোক আর সুধীরকে কলেজের ব্যাকগেট দিয়ে আগেই চলে যেতে বলেছিলাম…’
রুদ্ধশ্বাস ঔৎসুক্য নিয়ে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘ওরা কি পালাতে পেরেছিল, ফাদার?’
ফ্রের আঁরি গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তারপর মাথা নেড়ে বললেন, ‘নাহ্, তিনদিনের মধ্যে পুলিশ ওদের স্পট করে ফেলে। থানায় নিয়ে যায়। তারপর শুনলাম কাস্টডিয়াল ডেথ। আসলে ওদের ওপর অত্যাচার করে পুলিশ মেরে দিয়েছে!’
‘তারপর?’
‘তারপর আর কী? আমার ওপর পুলিশের সন্দেহ ছিলই। কিন্তু মিশনারি বলে খুব একটা কিছু করতে পারেনি। তা সত্ত্বেও ঝামেলা শুরু হল ওখান থেকেই। পুলিশ কিছু করতে না-পারলেও আমার সম্প্রদায়ের লোকেরাই আমার কাল হয়ে দাঁড়াল। কথাটা কানে হেঁটে আমার কর্তৃপক্ষের কানে গিয়ে উঠল। আমাকে রিকনসিলিয়েশনের জন্য বারবার ডাকা হতে লাগল। পুলিশের জেরা তার কাছে কিছুই নয়। একের পর এক জোরালো সব প্রশ্ন করা হতে লাগল। আমি কি ওই ছেলেদুটিকে সে-রাত্রে আশ্রয় দিয়েছিলাম? আমি কি এই ছাত্র-আন্দোলন সমর্থন করি? আমার কোনও পলিটিকাল মোটিভ আছে কি নেই? আমার এত কীসের ইন্টারেস্ট? ছাত্রদের সঙ্গে আমার এত হবনবস কেন? চার্চের সঙ্গে আমি কতটা আইডেন্টিফিকেশন ফিল করি?’
……………………..
রোববার.ইন-এ পড়ুন আয়নার ওধারে-র অন্যান্য পর্ব
……………………..
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved