Robbar

Satyajit Ray

পিতৃস্নেহ বিষম বস্তু!

দশরথের এত স্নেহ পেয়েছিলেন বলেই কৃতজ্ঞতাস্বরূপ পিতৃ-আজ্ঞা পালনে রাজত্ব ত্যাগ করে বিষম জীবনযাপন বেছে নিয়েছিলেন রাম। সেই রামই নিজের পুত্রদের স্নেহ করার সুযোগই পেলেন না। মহাভারতে যেমন পিতার স্নেহ কী বস্তু জানলই না পঞ্চপাণ্ডব। শকুন্তলা-দুষ্মন্তের পুত্র ভরতকেও পিতৃস্নেহ বঞ্চিত হতে হয়েছিল শৈশবে।

→

ঋত্বিক-মানিক রবীন্দ্রসেতু

সত্যজিৎ ও ঋত্বিক। ছবিতে রবীন্দ্রসংগীতকে ব্যবহার করেছেন দু’জনেই। সত্যজিতের ব্রাহ্ম প্রেক্ষাপট, শিল্পী নির্বাচন কিংবা তালবাদ্য ব্যবহারের অনীহা– গায়কি-বিষয়ক আমাদের সন্ধানকে গাঢ়তর করে তুলতে পারে। অপরদিকে গণনাট্য আন্দোলনের কর্মী হিসেবে ঋত্বিক, জ্যোতিরিন্দ্র, দেবব্রত প্রমুখ রবীন্দ্র-গানকে জনসমাজে ছড়িয়ে দেবার পন্থী। কম্যুনিকেশনের দর্শন ও ‘পলিসি’টি আলাদা।

→

লেখার বিরতিও আসলে লিখনপদ্ধতি

এক বছর কিছু লিখবেন না– এই মর্মে আনন্দমেলা সম্পাদক দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি চিঠি লিখেছিলেন বুদ্ধদেব গুহ। চিঠিটি কোনও বিদায়পত্র নয়, কোনও ক্লান্তির বিবরণও নয়। এটি যেন এক শিল্পীর আত্মার দিকে ফিরে তাকানোর মুহূর্ত। যেন তিনি বলছেন– আমি লিখতে জানি, তাই থামতেও জানি।

→

অমলের জানলা

রবীন্দ্রনাথের নাটকে অমল যখন মারা যাবে, তার আগে এসেছিল রাজ কবিরাজ। সেই রাজ কবিরাজের পদ্ধতি সম্পূর্ণ আলাদা। সেই পদ্ধতিতে জানলা খুলে দিতে হয়। খুলে দিতে হয় জীবন-মৃত্যুর সীমার বাইরে যে বড় সময় সেই বড় সময়ের দিকে।

→

দুধের উট-কর্ষ

উট নিয়ে জটায়ুর যে রকম অপার কৌতূহল ছিল– কাঁটাওয়ালা গাছ উট কাঁটা বেছে খায় কি না ইত্যাদি– সেরকম নানা বেয়াড়া প্রশ্ন মনে এসেছিল। ভাবছিলাম, প্রায় ৭-৮ ফুট উঁচু উটের দুধ দোয়ানো হয় কীভাবে?

→

রে-লোকেশন

অকিঞ্চিৎকর দৈনন্দিন উপাদান দিয়েই সত্যজিৎ আদর্শ লোকেশনকে চিহ্নিত করতেন। উপযোগী লোকেশন বাছাই করার সময়, ওই জায়গার বিশিষ্ট দু’-একটি বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের সন্ধান করতেন সত্যজিৎ। সেই নির্বাচিত লোকেশনের স্বাতন্ত্র্য-সূচক চিহ্নগুলোর অন্তরালে আমরা কখনও দেখতে পাই পরিযায়ী বন্যপ্রাণীর ইতিহাস, কখনও পুরাণের ছায়া, কখনও বা নৃতত্ত্ব।

→

সত্যজিতের অন্ধভক্ত বললেও কম বলা হয়

দিনকয়েক আগেও আমার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল অনীকের। আমার কাছে আসবে, দেখা করবে, এমনটাই বলেছিল। কী কথা, ফোনে কি বলা যায়? জিজ্ঞেস করাতে বলেছিল, ‘না, না। সামনাসামনি গিয়ে কথা বলব।’ দুর্ভাগ্য, সেই বসাটাও হল না, কী কথা যে ওর বলার ছিল, সেটাও আর জানার কোনও উপায় রইল না।

→

গলাগলি

গলা অতি বিষম বস্তু। যারা গলা তোলে, আর তাদের বিরুদ্ধে যারা গলা তোলে, দু’-পক্ষেরই বাইরে থেকে আড়ি কিন্তু ভিতর থেকে গলাগলি ভাব।

→

এক সাহিত্যপ্রেমিকের সত্যজিৎ দর্শন

একটি বিশেষ মাত্রা বইটিকে সমৃদ্ধ করেছে। তা হল, চিন্ময়ের গভীর সাহিত্যবোধ। সত্যজিতের সৃষ্টির মর্ম অনুধাবন করতে গিয়ে, তিনি ইংরেজি ও ইউরোপীয় সাহিত্যের প্রতিচ্ছায়া মেলে ধরেছেন নৈপুণ্য সহকারে। পাশাপাশি উঠে এসেছে সত্যজিতের রাজনৈতিক নন্দন-ভাবনা এবং সামাজিক অঙ্গীকারের স্পর্শকাতর বিষয়টি।

→

মোমরঙা শৈশবের খোঁজে

সাধারণ ছবি এআই-এর‌ সাহায্যে বদলে যাচ্ছে খানিক রঙিন, খানিক অসমান হাতে আঁকা অবয়বে। অ্যালগরিদম বা প্রম্পট এমনভাবেই বানানো হয়েছে যাতে করে প্রতিটি জেনারেটেড ইমেজেই থাকে শিশুসুলভ অসম্পূর্ণতার ছাপ। নিখুঁত, পরিপাটি ডিজিটাল ছবির ভিড়ে এই খানিক এলোমেলো চেহারা যেন অনলাইন দুনিয়ায় সতেজ হাওয়া বইয়ে দিয়েছে।

→