বাবার তোলা মানিকজেঠুর ছবি আজও দেখলে মনে হয়, নতুনভাবে সত্যজিৎ রায়কে দেখছি। একটা ফ্রেশ দেখার চোখ আছে তাতে। অন্য অনেকেই তো সত্যজিতের ছবি তুলেছেন। কিন্তু এতটা জনপ্রিয় হয়েছে কি সেইসব? আলোকচিত্রী নিমাই ঘোষের মৃত্যুদিনে বিশেষ নিবন্ধ।
ঝুলন্ত বারান্দার জানলার আয়তন দেখলেই বোঝা যায়– হাল্লার ঘরগুলোয় আলো কেন এত কম ঢোকে! হাল্লার সব ঘরের লাইট সেট আপ করার সময় এটাই মাথায় রেখেছিলেন সৌম্যেন্দু রায়। এখানেই সৌম্যেন্দু রায়ের অসাধারণত্ব।
জমির ফসল বাঁচানোর জন্য চাষিরা এখনও মরা কাক অনেক সময় জমিতে দড়ি বেঁধে ঝুলিয়ে দেয়। এর ফলে অন্যান্য পাখি সেই মরা কাক দেখে খুব ভয় পায়। সেই কারণেই এর নাম ‘কাকতাড়ুয়া’ হয়েছে বলে মনে হয়। এভাবে ভাবলে বিষয়টা সহজ হলেও গলায় বেঁধা কাঁটার মতো প্রশ্নটা অনেকের মনে খচখচ করবে: কাকের প্রতিকৃতি না-করে মানবাকৃতি করা হল কেন?
যে শ্যামলেন্দু ভালোবাসত শেক্সপিয়র পড়তে, সে যখন নিজের কর্পোরেট উচ্চাশার কাছে সমর্পণ করে ক্ষমতার নিষ্ঠুর নোনাজল মেখে ফেলে– তার গভীর আত্মগ্লানি যে ভাষায়, যে রূপকল্পে দেখান শংকর, তাতে বোঝা যায়, কীভাবে তিনি প্লটের গাঁথনিতে মিশিয়ে রাখছেন তাঁর শেক্সপিয়র ট্রাজেডির পাঠ।
শংকর চলে গেলেন। রেখে গেলেন বাঙালির, চাকরিজীবী বাঙালির ও চাকরিকেন্দ্রিক বাঙালির মুখ দেখার সাহিত্য দর্পণ।
‘হিমালয় শীর্ষে আপনি দাঁড়িয়ে রয়েছেন, কিন্তু আপনার আসল উচ্চতা কত?’ এমনই উদ্ভট প্রশ্ন করেছিলেন শংকর, স্বয়ং সত্যজিৎকে। চলচ্চিত্রচর্চার বাইরে গিয়ে সত্যজিৎকে খানিকটা ভেতর থেকে, কাছ থেকে দেখার আগ্রহ সেই সাক্ষাৎকার জুড়ে।
প্রশ্নটা শুধু একজন শিক্ষক আর বিধায়কের দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নয়। এ হল, ক্ষমতার ঔদ্ধত্যকে প্রশ্ন করা, চোখে চোখ রেখে অধিকারের কথা বলা। হ্যাঁ হ্যাঁ বলা সঙ আর ব্যক্তিত্বহীন মানুষের ভিড়ে এমন শিক্ষকও তাহলে এখনও আছেন এ রাজ্যে!
দারিদ্র, দুর্ভোগ বা অসহায়তাকে অতিরঞ্জিত এবং চমৎকার সেনসেশনালভাবে ছোট-বড় ভিডিও, ডকুমেন্টারি কিংবা ফিকশন ফিচার ফিল্ম, কিংবা নিছক মোবাইল ফটোগ্রাফির মাধ্যমে দেখিয়ে দর্শকের সহানুভূতি, দান, ভিউ ফান্ড ফলোয়ার আদায় করা। এ হল আজকের নতুন ট্রেন্ড। পভার্টি পর্ন।
ভিড়ভর্তি মেলার মাঠে দু’ হাত অন্তর ছবি! হাতছানি দিয়ে ডাকছে, কতকটা আদ্যিকালের ছাপানো বিজ্ঞাপনের অদৃশ্য সুরে– ‘না কিনুন, একবার হাতে নিয়ে দেখুন!’ বিস্তর শিল্পী, লেখক, সম্পাদক, ছাপাখানার কর্মীদের সমবেত সম্মেলনে এক মহা ধুমধাম। বইয়ের ছবি? ছবির বই? নাকি ছবিতে গল্প? কোনটা? বোধহয় সবগুলোই সত্যি।
আমি প্রায়ই বলতাম, লীলাদি আপনি রান্নার ওপর একটা বই তো লিখতে পারেন! নানা কাজের চাপে উনি তখন না-লিখতে পারলেও, পরে, ১৯৭৯ সালে, ‘রান্নার বই’ তাঁর মেয়ের সঙ্গে লেখেন। জনপ্রিয়তার নিরিখে এ আমার নয়, সমস্ত বাঙালি জাতির গর্ব ও বিশেষ প্রাপ্তি।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved