বোকামি নিয়ে কোনও কথা বলতে যাওয়া মানে আসলে আরও বড় বোকামির সমুদ্রে ডুব দেওয়া। পল তাবোরি-র এমনটাই মনে হয়েছিল ‘দ্য ন্যাচরাল হিস্ট্রি অফ স্টুপিডিটি’ বইটি লেখার সময়। প্রায় একই কথা অন্য প্রসঙ্গে এবং অন্য সুরে বলেছিলেন কবি জন ডান।
পয়লা এপ্রিল সেই ক্যাবলা মানুষদের দিন, যারা ক্যাব না-ধরে ট্যাক্সি ধরে। পৃথিবীর গতির চেয়ে সেই ক্যাবলাকাটিংদের গতি বেশ খানিকটা ধীর। যারা একই মানুষের প্রেমে বছর-বছর আটকে থাকে। বইয়ের ভাঁজে লুকিয়ে রাখে কবেকার শুকনো ফুল।
প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত কাজে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করার ঔপনিবেশিক মানসিকতা আজকের ডিজিটাল প্রজন্মে এসে খানিক বদলে গিয়েছে। এখন বিজ্ঞান-প্রযুক্তি না জানা মানেই সরাসরি রাষ্ট্র ও তার অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত না-থাকা। পিছিয়ে পড়া। সহনাগরিকদের তুলনায় বোকা হয়ে যাওয়া। কিন্তু তাতে কি সম্ভাবনার দিগন্ত ছোট হয়ে যাচ্ছে না?
এযাবৎ শুনে এসেছি, তিনি না কি বোহেমিয়ানের চরম, নিয়মের বাঁধ ভাঙার মানুষ, অতএব– আশায় আশায় থাকি, দু’কান ভরে কবিতা শুনব আর দিন যাবে আড্ডার গতে। যথাকালে দেখা গেল সে গুড়ে বড় বড় পাথর! কবিমানুষটি যেমনই হোন, মাস্টারমশাই শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ক্লাসে দেরি করার জো নেই, তিনি বেশ একটু বকুনিও দিয়ে থাকেন।
আজ শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুদিন। এই শহরের রাখালের মৃত্যুদিন। যে রাখাল, কলকাতায় নয়, প্রয়াত হয়েছিলেন শান্তিনিকেতনে। স্মৃতিশক্তি-র এই লেখাটি সেই শেষদিনের শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে। বসন্তের সমস্ত রং নিয়ে যিনি চলে গিয়েছিলেন ১৯৯৫ সালের, ২৩ মার্চ। শেষদিনের সে অভিজ্ঞতা, লিখেছেন তাঁর কন্যা।
বিয়ের ১০ বছরের মধ্যে, আদালতের যাচিত নির্দেশে, আমাদের বিয়ের আলো যখন নিভে গেল, তার ক’দিনের মধ্যে শক্তিদার সঙ্গে আমার দেখা। চৌরঙ্গীর কোনও পানঘরে। আমার বিচ্ছেদের ব্যথা ফুটে উঠল শক্তিদার চোখে। ঈশ্বরকে আজও বুঝিনি। কত মানুষকে কত কষ্ট দিচ্ছেন বিশ্ব জুড়ে। অথচ আমার ঠুনকো কষ্টে তাঁর চোখে জল!
‘ভালোবাসার দীঘিতে কতো করেছো অবগাহন/ পেয়েছ সুখদুঃখ আর ছলে ভোলানো দাহ’– এরকম কয়েকশ জোড়ালাইন শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে সেই ছুটন্ত আবহমান বাসের টিকিট দিয়ে দিয়েছে যে বাসের নাম ‘অমরত্ব’। সেই বাস থেকে আর শক্তিকে নামানো যাবে না।
গোটা ভারতবর্ষ যে-বাংলার ছানাকে ‘অপবিত্র’, ‘মৃতদুগ্ধ’ বলে অচ্ছুৎ করে রেখেছিল, সেই ছানা কীভাবে দেবভোগ্য হল! অসম্ভবকে সম্ভব করলেন যে-মহাপুরুষ তিনি হলে বাংলার শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু।
ভারতীয় সংগীতে বিশেষত নৃত্যকলায় শ্রীচৈতন্যদেবের অবদান অপরিসীম। কৃষ্ণ-প্রেমিক, দার্শনিক, সাধক-পণ্ডিত হিসেবে শ্রীচৈতন্যদেব বিশ্ববাসীর কাছে যতখানি পরিচিত, নৃত্যশিল্পী হিসেবে সে তুলনায় একেবারেই পরিচিত নন।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved