হাঁটতে হাঁটতে অন্নদাশঙ্কর প্রায় সারাক্ষণই গান্ধীজির অর্থনীতি ও নীতিতত্ত্ব নিয়ে একাই বলে গেলেন। যেন তিনি মুখে মুখে কথা বলে গান্ধীকে নিয়ে কোনও লেখার জন্য মনে মনে খসড়া তৈরি করছিলেন। এক ফাঁকে তাঁকে আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতির পত্রিকা প্রকাশের পরিকল্পনা জানাই ও সেই সঙ্গে তাঁর কাছে আধুনিক শিল্পের উপর লেখা চাই।
জীবনের টানে আর কাজের প্রয়োজনে আমি অনেক জায়গায় গেলাম, অনেক মানুষের সঙ্গে মিশলাম, তাদের ভাষা শুনলাম, তাই আমার বাংলা ভাষার মানচিত্রটা অনেকটা বড় হয়ে গেল। এ আমার মস্ত প্রাপ্তি। সঙ্গে সঙ্গে সেই মানচিত্র জটিলও হল, কাঁটাতারের দাগ লেখা হল তার গায়ে, আমার ভাষা রক্তাক্ত হল।
লেখালেখি জীবনের ৬০ বছর অতিক্রম করলেন লেখক, সম্পাদক, রবীন্দ্র-গবেষক অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য। তাঁর বাবা, অধ্যাপক বিজনবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন রবীন্দ্রনাথের রিসার্চ স্কলার, পরবর্তীকালে রবীন্দ্র রচনাবলি-র গুরুত্বপূর্ণ সম্পাদকীয় সদস্য। তাঁর শুরু করা রবীন্দ্র-গবেষণার বিস্তৃত ভুবনটিকে বর্তমানে আরও ঐশ্বর্যময় করে তুলেছেন অমিত্রসূদন। তাঁর লেখালেখি, পাঠ ও অন্বেষণ নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকার।
যে শ্যামলেন্দু ভালোবাসত শেক্সপিয়র পড়তে, সে যখন নিজের কর্পোরেট উচ্চাশার কাছে সমর্পণ করে ক্ষমতার নিষ্ঠুর নোনাজল মেখে ফেলে– তার গভীর আত্মগ্লানি যে ভাষায়, যে রূপকল্পে দেখান শংকর, তাতে বোঝা যায়, কীভাবে তিনি প্লটের গাঁথনিতে মিশিয়ে রাখছেন তাঁর শেক্সপিয়র ট্রাজেডির পাঠ।
কোনও শিশুকে ঘুম পাড়ানোর সময় ভূতের গল্প বলার সময়, ভূতের আগমনের সময় বাবা বা মা সব কথার আগে চন্দ্রবিন্দু যোগ করে বলেন। ভূত কথা বলে প্রতিধ্বনিতে, স্মৃতিতে, বস্তুতে— চিঠি, গান, ডায়েরি, রেকর্ডে। তাই ভূতের কণ্ঠ সবসময় শব্দ ও নীরবতার মাঝখানে, স্মৃতি ও বর্তমানের মাঝখানে দুলতে থাকে।
শংকর চলে গেলেন। রেখে গেলেন বাঙালির, চাকরিজীবী বাঙালির ও চাকরিকেন্দ্রিক বাঙালির মুখ দেখার সাহিত্য দর্পণ।
আমি এই ভাষাতেই গল্প-কবিতা-উপন্যাস-চিঠি লিখব। আমি সেই ভাষাতেই তিরস্কার করব, সেই ভাষাতেই সোহাগ-আদর করব। সে কারণে ‘আয় বাবা’ বলে আমার মা আমাকে জড়িয়ে ধরতেন– যেন মনে হত ভাষাই হাত বাড়িয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরছে।
বিশ্বে যেসব স্তন্যপায়ী প্রাণীদের চোরাচালান করা হয় তাদের মধ্যে সর্বাধিক চালান করা হয় প্যাঙ্গোলিন, জীবিত ও মৃত দুই অবস্থাতেই। যেকোনো প্রজাতিকে রক্ষা করতে গেলে আগে সেই প্রজাতিটি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। সচেতনতাই বদলে দিতে পারে এই প্যাঙ্গোলিনদের বর্তমান অবস্থা।
‘হিমালয় শীর্ষে আপনি দাঁড়িয়ে রয়েছেন, কিন্তু আপনার আসল উচ্চতা কত?’ এমনই উদ্ভট প্রশ্ন করেছিলেন শংকর, স্বয়ং সত্যজিৎকে। চলচ্চিত্রচর্চার বাইরে গিয়ে সত্যজিৎকে খানিকটা ভেতর থেকে, কাছ থেকে দেখার আগ্রহ সেই সাক্ষাৎকার জুড়ে।
প্রশ্নটা শুধু একজন শিক্ষক আর বিধায়কের দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নয়। এ হল, ক্ষমতার ঔদ্ধত্যকে প্রশ্ন করা, চোখে চোখ রেখে অধিকারের কথা বলা। হ্যাঁ হ্যাঁ বলা সঙ আর ব্যক্তিত্বহীন মানুষের ভিড়ে এমন শিক্ষকও তাহলে এখনও আছেন এ রাজ্যে!
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved