

হেলসিঙ্কি লাভ অ্যান্ড অ্যানার্কি উৎসবের ফেস্টিভ্যাল ডিরেক্টর পেক্কা ল্যানেরভা বলেছিলেন, ‘কান আসলে শিল্পের চেয়ে ব্যবসার জায়গা বেশি।’ কথাটা প্রথমে খারাপ লেগেছিল। পরে ধীরে ধীরে বুঝেছি, পুরোপুরি মিথ্যে নয়। এখানে কবিতা আছে, কিন্তু তার পাশে বাজারও আছে। এখানে শিল্প আছে, কিন্তু তার পাশেই অদৃশ্য ক্ষমতার লিফট।
আমাদের সমাজের যাবতীয় অপদার্থতা, পরিবেশ ও সমাজের ক্রমাগত অবক্ষয়, এই ছবির পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে। তবে তা কখনই গল্প থেকে বেরিয়ে এসে দেখনদারি হয়ে দাঁড়ায় না।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের আদিযুগে সিনেমার মক্কা-মদিনা ছিল কলকাতা। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির পূর্বসূরিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বম্বের এক পারসি ব্যবসায়ী, জামশেদজি ফ্রামজি ম্যাডান; যাঁর হাতে গোড়াপত্তন হয়েছিল অধুনা ‘টলিউড’-এর।
প্রতিটি উনিশে এপ্রিল আমাদের ঋতুপর্ণ ঘোষ এবং তাঁর সিনেমাশিল্পকে মনে করিয়ে দিয়ে যায়। আমরা সেই স্মৃতিতে অনেক প্রহর থেকে যেতে চাই। তাঁর শিল্পের প্রভাব বাঙালি জীবনে নেভার নয়। ঋতুপর্ণ এরপরেও বহু ছবি করেছেন, কিন্তু তাঁর অননুকরণীয় কথাবিশ্ব তৈরি হয়েছিল ‘১৯শে এপ্রিল’ থেকে, এমন বললে অত্যুক্তি হয় না।
‘জাম্প স্কেয়ার’-এর অনুপস্থিতি এবং তেমন কোনও পুরনো ফর্মুলা ব্যবহার না-করে উৎকৃষ্ট ভয়ের-ছবির নির্মাণের নতুন ঝোঁকে পরপর অনেকগুলি ছবি তৈরি হয়েছে আমেরিকায়। ‘ওয়েপন্স’ এই নতুন ঘরানার ভয়ের-ছবি।
পানাহি ২০০৩-এর কলকাতার বুকে, বাংলার মাটির মেয়ের পাল্টে ফেলা ছায়ায়, দাঙ্গাবাজ মানুষের প্রচারের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাবেন হয়তো। আর আবার তিনি হাঁটবেন কান থেকে বার্লিন, অফসাইডে গোল করে আবার কারাগারের পথে। অবন ঠাকুর তাকিয়ে থাকবেন রিভার্স বঙ্গভঙ্গের এক ডিসটোপিয়ান ইতিহাসের দিকে।
এবারের আন্তর্জাতিক ছবি বিভাগের প্রায় সব ক’টি ছবিই নানাবিধ স্বৈরশাসন বা যুদ্ধ পরিস্থিতি, আগ্রাসন, তৎপ্রসূত দুঃসহ ব্যক্তি-স্মৃতি ও ট্রমাকে উপজীব্য করেছে। তবে অলিভার ল্যাক্সের ‘সিরাত’ এই তালিকায় একটি উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম।
ঝুলন্ত বারান্দার জানলার আয়তন দেখলেই বোঝা যায়– হাল্লার ঘরগুলোয় আলো কেন এত কম ঢোকে! হাল্লার সব ঘরের লাইট সেট আপ করার সময় এটাই মাথায় রেখেছিলেন সৌম্যেন্দু রায়। এখানেই সৌম্যেন্দু রায়ের অসাধারণত্ব।
ব্রিজিট বার্দোর ক্যামিল চরিত্রটি প্রেম, নির্ভরতা ও স্বায়ত্তশাসনের টানাপোড়েনের প্রতীক। ‘লে মেপ্রি’-তে গদার দেখান, কীভাবে গ্রিক পুরাণের ওডিসি আধুনিক পুঁজিবাদী প্রযোজনার ভেতর পুনর্লিখিত হয়। বাস্তবের দুনিয়ায় দেবতারা নেই– আছে প্রযোজক, বাজার, আর আপসের নীরব হিংসা।
এই ডকুমেন্টারিতে নাটকীয়তা আছে, কিন্তু সেটা মোটেও অতিপ্রাকৃতিক নয়। বরং সেটা যেন দৈনন্দিন ঘেশকুটে জীবন থেকে উঠে আসা খুব ব্যক্তিগত, মানসিক বিষয়; যা আমরা চাপা দিয়ে রাখি, দেখতে বা দেখাতে চাই না।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved