Robbar

তালাচাবির বন্ধুত্ব

জীবনের ব্যক্তিগত স্তরেও আসলে আমরা বহু তালা বয়ে বেড়াই। অভিমান, ভয়, অপরাধবোধ। এসব আমাদের ভিতরের কক্ষগুলো বন্ধ করে রাখে। বাইরে থেকে কেউ জোর করলে দরজা ভাঙতে পারে, কিন্তু ভাঙা দরজা নিরাপত্তা দেয় না। দরকার হয়, সমঝোতা, ক্ষমা, ভালোবাসার মতো একটি উপযুক্ত চাবি।

→

বেঁধে থাকা বেঁধে রাখা

বেঁধে থাকার মতো, বেঁধে রাখার মতো জিনিসের খোঁজ মানুষের প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই। সেই প্রস্তর ও ব্রোঞ্জ যুগেও। আঠার ব্যবহার কখনও তাদের অস্ত্রশস্ত্রে, কখনও বাসস্থান নির্মাণে, কখনও শিকারে, আবার কখনও শিল্পকলায়। গুহাচিত্রকে দেওয়ালে ধরে রাখতে এবং সেটাকে টেকসই করতে আঠার ভূমিকা সাংঘাতিক।

→

এই দুনিয়া ঘোরে বনবন বনবন

‘আমরা কোথায় যাচ্ছি কে তা জানে’, তবুও প্রশ্ন আমরা কি ঘুরে ঘুরে আবার পুরনো জায়গায় ফিরে আসি? গোটা পৃথিবীটাই তার আহ্নিক গতিতে নিজ অক্ষে এবং বার্ষিক গতিতে সূর্যের চারপাশে ঘুরতে ঘুরতে আগের জায়গায় ফিরে আসে বলেই তো শুনি। এই ঘূর্ণি দুর্নিবার, এক অনন্ত ঘূর্ণিপাক।

→

শিল্পিত চুম্বন

প্রেমের দৃশ্যায়নে দেখলাম ‘চুম্বন’-এর আধিক্য। চুম্বন দীর্ঘদিন ধরেই ভালোবাসা, আবেগ এবং ঘনিষ্ঠতার প্রতীক। ইতিহাস জুড়ে শিল্পীরা তাঁদের কাজে এই মুহূর্তগুলিকে ধারণ করেছেন। কোমল আলিঙ্গন থেকে শুরু করে আবেগপূর্ণ অধরে চুম্বন।

→

শরীরের ক্যানভাসে আঁকা শিল্প

সমাজে উলকি মানে পরিচয়ের চিহ্ন। আফ্রিকার উপজাতি সমাজে, পলিনেশিয়ান দ্বীপপুঞ্জে কিংবা উত্তর ইউরোপের যোদ্ধাদের শরীরে ট্যাটু ছিল বংশ, বীরত্ব কিংবা দেবতার সঙ্গে সম্পর্কের সাক্ষ্য। জাপানের ইরেজুমি কখনও ছিল সাহসের অলংকার, আবার কখনও অপরাধীর গায়ে আঁকা সমাজবিরোধীর দাগ। ভারতীয় উপমহাদেশেও গ্রামীণ সমাজে নারীরা শরীরে ধারণ করেছে দেবদেবীর নাম, সৌন্দর্যের পাশাপাশি বিশ্বাসের আশ্রয়ে।

→

বিজ্ঞান পরিবেশনা ও মিউজিয়ামের অজানা গল্প

প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পশিক্ষার বাইরে মিউজিয়ামে প্রদর্শনী সাজাতে গিয়ে শুরুতে দুটো জিনিস খুব মজার লেগেছিল। ‘ডায়োরামা’ আর ‘ট্যাক্সিডার্মি’। ডায়োরামা একেবারেই নাটকের একটা মঞ্চের মতোই। আর কোনও জন্তু-জানোয়ারের তার নিজস্ব লোমওয়ালা চামড়াটা ব্যবহার করে, ভেতরে খড়কুটো বা তুলো ভরে সেটাকে সত্যিকারের সাইজে তৈরি করার নাম ট্যাক্সিডার্মি।

→

মরণের পরেও, এই পৃথিবীর জন্য আপনি রইলেন

এত সব কাব্যগাথা, এত সব মনের কথা, এত সুন্দর জীবন বেঁচে থাকার পরে উচিত হবে, চমৎকার বন্ধুর মতো মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা।

→

মন রে কৃষিকাজ জানো না

আজকের কৃষিকর্মী অনেক সতর্ক। কখনও প্রচণ্ড, কখনও কোমল। কখনও সে তপস্বী কিংবা বৈজ্ঞানিক। দারুণ তার আবেগ-প্রবণতা আর শৃঙ্খলা। তাই তো সে দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারে, আমার কাজ– ফসল উৎপাদন। সেটাই তার অহংকার।

→

গুপ্তধন কিম্বা লুপ্তধন

যখন কার্টুনিস্ট চণ্ডী লাহিড়ীর সঙ্গে কাজ করতাম, তখন একটা অদ্ভুত জিনিস জানলাম। ওঁর লেখা, মানুষ কী করে মানুষ হল– এই বিষয়ের ওপরে একটা বইয়ে বলেছেন: কড়ি যেমন ছোট ছোট পয়সা, তেমনই তার চেয়ে বড় পয়সার জন্য কাঠঠোকরার মাথায় আয়োজন। আশ্চর্য! কাঠঠোকরার মাথার খুলি না কি ছিল কড়ির চেয়ে দামি মুদ্রা!

→

ছবির শরীর, শরীরের ছবি

মানব শরীরই এক ‘মহাকাব্য’। প্রতিটি অঙ্গ, অংশ, প্রতিটি কোষ, শরীরের প্রতিটা অভিজ্ঞতা সে মহাকাব্য ছাড়া আর কিছু হতেই পারে না। শরীর সংগ্রাম, জয়-পরাজয় এবং বিবর্তনের গল্প বলে। শরীরেও থাকে শক্তি ও দুর্বলতার দ্বন্দ্ব।

→