প্রেমের দৃশ্যায়নে দেখলাম ‘চুম্বন’-এর আধিক্য। চুম্বন দীর্ঘদিন ধরেই ভালোবাসা, আবেগ এবং ঘনিষ্ঠতার প্রতীক। ইতিহাস জুড়ে শিল্পীরা তাঁদের কাজে এই মুহূর্তগুলিকে ধারণ করেছেন। কোমল আলিঙ্গন থেকে শুরু করে আবেগপূর্ণ অধরে চুম্বন।
সমাজে উলকি মানে পরিচয়ের চিহ্ন। আফ্রিকার উপজাতি সমাজে, পলিনেশিয়ান দ্বীপপুঞ্জে কিংবা উত্তর ইউরোপের যোদ্ধাদের শরীরে ট্যাটু ছিল বংশ, বীরত্ব কিংবা দেবতার সঙ্গে সম্পর্কের সাক্ষ্য। জাপানের ইরেজুমি কখনও ছিল সাহসের অলংকার, আবার কখনও অপরাধীর গায়ে আঁকা সমাজবিরোধীর দাগ। ভারতীয় উপমহাদেশেও গ্রামীণ সমাজে নারীরা শরীরে ধারণ করেছে দেবদেবীর নাম, সৌন্দর্যের পাশাপাশি বিশ্বাসের আশ্রয়ে।
প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পশিক্ষার বাইরে মিউজিয়ামে প্রদর্শনী সাজাতে গিয়ে শুরুতে দুটো জিনিস খুব মজার লেগেছিল। ‘ডায়োরামা’ আর ‘ট্যাক্সিডার্মি’। ডায়োরামা একেবারেই নাটকের একটা মঞ্চের মতোই। আর কোনও জন্তু-জানোয়ারের তার নিজস্ব লোমওয়ালা চামড়াটা ব্যবহার করে, ভেতরে খড়কুটো বা তুলো ভরে সেটাকে সত্যিকারের সাইজে তৈরি করার নাম ট্যাক্সিডার্মি।
এত সব কাব্যগাথা, এত সব মনের কথা, এত সুন্দর জীবন বেঁচে থাকার পরে উচিত হবে, চমৎকার বন্ধুর মতো মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা।
আজকের কৃষিকর্মী অনেক সতর্ক। কখনও প্রচণ্ড, কখনও কোমল। কখনও সে তপস্বী কিংবা বৈজ্ঞানিক। দারুণ তার আবেগ-প্রবণতা আর শৃঙ্খলা। তাই তো সে দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারে, আমার কাজ– ফসল উৎপাদন। সেটাই তার অহংকার।
যখন কার্টুনিস্ট চণ্ডী লাহিড়ীর সঙ্গে কাজ করতাম, তখন একটা অদ্ভুত জিনিস জানলাম। ওঁর লেখা, মানুষ কী করে মানুষ হল– এই বিষয়ের ওপরে একটা বইয়ে বলেছেন: কড়ি যেমন ছোট ছোট পয়সা, তেমনই তার চেয়ে বড় পয়সার জন্য কাঠঠোকরার মাথায় আয়োজন। আশ্চর্য! কাঠঠোকরার মাথার খুলি না কি ছিল কড়ির চেয়ে দামি মুদ্রা!
মানব শরীরই এক ‘মহাকাব্য’। প্রতিটি অঙ্গ, অংশ, প্রতিটি কোষ, শরীরের প্রতিটা অভিজ্ঞতা সে মহাকাব্য ছাড়া আর কিছু হতেই পারে না। শরীর সংগ্রাম, জয়-পরাজয় এবং বিবর্তনের গল্প বলে। শরীরেও থাকে শক্তি ও দুর্বলতার দ্বন্দ্ব।
মানুষ-গাছ-জন্তু-পাখি-নদী-পাহাড়-সূর্য-তারা– এ সমস্ত নানান জিনিসের একটা প্রতীকী মোটিফ মানে একটা সিম্বল থাকে অস্ট্রেলিয়ান অ্যাবরিজিনাল আর্টে। সেগুলো বেশিরভাগই ডট, মানে ফুটকি দিয়ে করা। ছবির পটে কাজটা শেষ হয়ে গেলে ওরা যেটা করে সেটাই রহস্য।
সবকিছু তো আর মেপে হয় না, আবার মাপজোখ ছাড়াও কিছু হয় না। গড়, আন্দাজ, বিশ্বাস– এসবের একটা বড়সড় ভূমিকা থাকত, সেকালের হিসেব-নিকেশে।
কুইন্সল্যান্ড মিউজিয়ামের বিরাট একটা অংশ জুড়ে আছে সাউন্ড আর্ট গ্যালারি। তার ভেতরে জাপানি শিল্পী ইউকো মোহরি-র নতুন শিল্পশৈলী, এক অভিনব প্রদর্শনী: ‘ব্রেদ অর ইকো’। দৃশ্যের সঙ্গে শব্দের আত্মীয়তা আর বিরোধ, সম্পর্ক এবং শত্রুতা নিয়ে সে এক চমৎকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved