
এই বইয়ের সূচনাবিন্দু যদি হয় আদিপর্বের সিনেমা, তারপর ক্রমে শহর ও পঞ্চাশের জনপ্রিয় ছবি, মধ্যপর্বে সে পৌঁছে যায় ক্রম-প্রসরমান ইমেজ কালচারে, টেলিভিশন আর গণপরিসরের অস্বস্তিকর নানা প্রশ্নে। পাঠক কিছুটা আশ্বস্ত হতে পারেন অন্তত একটা ইতিহাসের ধারা ধরতে পারা যাচ্ছে বলে। কিন্তু শেষে গিয়ে সে আবার বেরিয়ে যায় আপাত-সময়পঞ্জী অনুসারী চলন থেকে, সেই কাজে সহায়ক হয় এমন এক পরিচালকের ছবি যাঁর রহস্যময়তা বরাবরই তাঁকে আলাদা করে রেখেছে।
মৈনাক বিশ্বাসের সদ্য প্রকাশিত ‘দৃশ্যান্তর পর্ব’ বাংলা প্রকাশনার জগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং বিরল কাজ। এই বইয়ের সংকলিত প্রবন্ধগুলি বেশিরভাগই অতীতে ছড়িয়ে ছিল অধুনালুপ্ত ‘বারোমাস’ পত্রিকায়, একটি বেরিয়েছিল ‘অবভাস’-এ, একটি বাংলা দৈনিকে, আর নানা সম্পাদিত বইয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল বাকি কয়েকটি। কিন্তু এক মলাটে তাদের প্রকাশ এই প্রথম। বাংলায় চলচ্চিত্রচর্চা সংক্রান্ত বইয়ের অভাব প্রকট, বিশেষ করে যদি ফিল্ম সোসাইটি আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে ‘ফিল্ম স্টাডিজ’ নামক একটি অ্যাকাডেমিক অবয়ব তৈরি হওয়ার কথা ধরি। ফিল্ম সোসাইটির যুগের ম্যাগাজিন-বাহিত লেখাপত্রের ঐতিহাসিক গুরুত্ব স্বীকার না-করে উপায় নেই, কিন্তু তার সঙ্গে বিদ্যায়তনিক চর্চার পার্থক্য বিপুল– উৎসাহের প্রকৃতিতে, রচনারীতিতে, বয়ান নির্মাণে, গবেষণার প্রকরণে– প্রায় সবক্ষেত্রেই। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম ফিল্ম স্টাডিজ বিভাগের গোড়াপত্তন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে, এবং তার আদিপর্ব থেকেই সক্রিয় মৈনাক বিশ্বাস। অথচ এই ডিসিপ্লিনটির তেমন কোনও প্রভাব বাংলা প্রকাশনা জগতে দেখা যায়নি, কিছু বিচ্ছিন্ন উদাহরণ ছাড়া। মালয়ালম, তামিল, কন্নড়, গুজরাতিতে ফিল্ম স্টাডিজ চর্চার হালফিলের চেহারা আমরা কিছু কিছু দেখতে পাই বইকি, ভারতীয়-পশ্চিমি ফিল্ম তত্ত্বের অনুবাদও পাই এদিক-সেদিক। বাংলায় এর অনুরূপ কিছু আমাদের চোখে তেমন পড়ে না। মৈনাক বিশ্বাসের বই এই অভাব কিছুটা পূরণ করবে এবং আগামীদিনে আরও প্রকাশনার পথ হয়তো প্রশস্ত করবে। আশা করব, পরবর্তী সংস্করণে আরও কিছু রচনা যুক্ত হবে এর সঙ্গে, যেমন নর্থ ক্যালকাটা ফিল্ম সোসাইটির ‘চিত্রভাষ’ পত্রিকার বিশেষ ‘সুবর্ণরেখা’ বা ‘কোমল গান্ধার’ সংখ্যায় তাঁর মিতায়তন রচনাগুলি।

ফিল্ম বিষয়ে ভারতীয় ভাষায় অ্যাকাডেমিক রচনার একটা বড় প্রতিবন্ধকতা অবশ্যই উপযুক্ত পরিভাষার অভাব। এই বই তার কিছুটা মীমাংসা করেছে অবশ্যই, কিছু প্রচলিত অথচ স্বল্প-ব্যবহৃত পরিভাষা ব্যবহার এবং সিনেমার প্রযুক্তির দিকটায় মূল ইংরেজি পরিভাষা অক্ষুণ্ণ রেখে এবং তাকে বাংলার বৃহত্তর বাচনের অংশ করে নিয়ে। এতে পাঠকের অস্বস্তির কারণ ঘটে না বিশেষ। আবার যে পাঠক এই ধরনের তত্ত্বের সঙ্গে ততটা পরিচিত নন তাঁদের জন্য প্রতিটি প্রবন্ধই এক ধরনের আখ্যানের আশ্রয় নেয়, যাতে পাঠকের উৎসাহের ব্যাঘাত না ঘটে। এই বইয়ের কোনও প্রবন্ধই বাংলাভাষী পাঠককে কোনও অংশে ন্যূন মনে করে না, যে দু’-একটি লেখার কোনও ইংরেজি অতীত রয়েছে (অন্তত তিনটি লেখার পূর্বরূপ আমি ইংরেজিতে পড়েছি অস্ট্রেলিয়ার অধুনালুপ্ত ‘রুজ’, বা এদেশের ‘জার্নাল অব দ্য মুভিং ইমেজ ও ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলি’তে) সেগুলিও ইংরেজির সরলীকৃত তরজমা নয়, তারা ইংরেজির সঙ্গে প্রায় একই সময়ে প্রকাশিত তাদের নিজস্ব চেহারায়।
……………………………….
মৈনাক বিশ্বাসের রচনায় টেলিভিশন ও টেলিভিসুয়াল প্রসঙ্গ আসে বইয়ের মধ্যবর্তী অংশে, বামফ্রন্টের শেষ সময়ে রাজ্য রাজনীতির দিকবদল কীভাবে ইমেজ সংস্কৃতির নানা পরিবর্তনের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছিল, রাজনৈতিক অঙ্গনের ক্রমপ্রসারণ কীভাবে তার মধ্যে টেনে এনেছিল নানা অদৃষ্টপূর্ব অংশীদারকে, বাংলা পপুলার সিনেমা আর টেলিভিশনের কিছু লক্ষণ বিচার করে তার এক ধরনের পাঠ তিনি আমাদের সামনে রেখেছেন, আর সেই রচনাটিই বইকে দিয়েছে তার নাম: দৃশ্যান্তর পর্ব। ২০১৩-য় থেমেছে এই বই, হয়তো পরের সংস্করণে/পর্বে আমরা এটিকে নিজের গণ্ডি আরও প্রসারিত করতে দেখতে পাব।
……………………………….
মৈনাক বিশ্বাস তাঁর বইয়ের গোড়াতেই এটিকে উল্লেখ করেছেন ফিল্ম স্টাডিজের প্রথম যুগের একজন দেশীয় গবেষকের বাংলায় চলচ্চিত্র চর্চার একটা উদাহরণ হিসেবে। এ-ও উল্লেখ করেছেন যে, ইতস্তত বিক্ষিপ্ত এই রচনাগুলিকে তিনি সাজিয়েছেন কোনও ক্রমপর্যায় মেনে নয়, বরং তাদের বিষয়গত সাযুজ্যের দাবি মেনে। সবচেয়ে পুরনো রচনা ১৯৯৬-এর, আর একেবারে শেষদিকেরগুলি ২০১৩-র (তাদের একটির পরিমার্জিত পুনর্মুদ্রণ ২০২৩-এ হয়েছে)। এই সময়কালের মধ্যে সিনেমা স্টাডিজ দেশে-বিদেশে নানা বাঁকবদলের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। সিনেমার প্রচলিত পাঠ ছেড়ে ইমেজ ক্রমেই প্রসারিত হয়ে গিয়েছে চেনা প্রান্তসীমার বাইরে, টেলিভিশন-কেন্দ্রিক তত্ত্বচর্চা সিনেমার পুরনো ধাঁচের নানা ভাবনাকে পরীক্ষায় ফেলেছে, তারপর নিউ মিডিয়া গবেষণা নিয়ে এসেছে অমিত সম্ভাবনা, এই মুহূর্তে যেমন প্ল্যাটফর্ম সংস্কৃতি/সমাজ, তার অ্যালগরিদমিক হালহকিকত থেকে উঠে আসা তত্ত্ব আমাদের ফিল্ম ও মিডিয়ার বহু ধারণাকেই বদলে দিচ্ছে, বদলে দিচ্ছে ফিল্ম প্রোগ্রামিং/কিউরেশনের প্রচলিত ধারণাকেও। মৈনাক বিশ্বাসের রচনায় টেলিভিশন ও টেলিভিসুয়াল প্রসঙ্গ আসে বইয়ের মধ্যবর্তী অংশে, বামফ্রন্টের শেষ সময়ে রাজ্য রাজনীতির দিকবদল কীভাবে ইমেজ সংস্কৃতির নানা পরিবর্তনের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছিল, রাজনৈতিক অঙ্গনের ক্রমপ্রসারণ কীভাবে তার মধ্যে টেনে এনেছিল নানা অদৃষ্টপূর্ব অংশীদারকে, বাংলা পপুলার সিনেমা আর টেলিভিশনের কিছু লক্ষণ বিচার করে তার এক ধরনের পাঠ তিনি আমাদের সামনে রেখেছেন, আর সেই রচনাটিই বইকে দিয়েছে তার নাম: দৃশ্যান্তর পর্ব। ২০১৩-য় থেমেছে এই বই, হয়তো পরের সংস্করণে/পর্বে আমরা এটিকে নিজের গণ্ডি আরও প্রসারিত করতে দেখতে পাব।
ইতিমধ্যে ভারতীয় সিনেমা স্টাডিজেও নানা দৃশ্যমান বদল, বলা ভালো ‘দৃশ্যান্তর’, ঘটে গিয়েছে। শুরুর প্রথম ভাগে যা ছিল ভারতীয় জাতি-রাষ্ট্রের সঙ্গে জনপ্রিয় সিনেমার নানাবিধ আদানপ্রদান, সংশয়-সংকটের তত্ত্বায়ন, তা ক্রমেই নানা মত ও পথে বিকশিত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে নতুন ধরনের ফিল্ম-ইতিহাসচর্চা ও গভীর আর্কাইভ্যাল গবেষণা, ভারতীয় সিনেমার ‘ট্রান্সন্যাশনাল’ নানা সংযোগ, জঁর ও জেন্ডার, স্টারডম ও সিনে-রাজনীতি, ‘আর্ট সিনেমা’ ও নন-ফিকশন সিনেমার নানা বয়ান। মৈনাক ঠিক এই জায়গাতেই নিজের তত্ত্ব-ভাবনাকে এনেছেন ভারতীয় ফিল্ম স্টাডিজের আদিকালের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে, আবার একইসঙ্গে নির্মোহ সমালোচনা করেছেন তার পপুলার সিনেমা বিষয়ক অতি-উৎসাহের, ফিল্ম ক্রিটিসিজমের গুণগত আলোচনাকে একেবারেই নির্বাসনে পাঠানোর, রাষ্ট্রের ফিল্ম পলিসির সাংস্কৃতিক প্রোজেক্ট সম্পর্কে সন্দিহান হওয়া এবং সর্বগ্রাসী বাজারের আধিপত্যকে একভাবে মেনে নেওয়ার। সিনেমা স্টাডিজের যেসব অপেক্ষাকৃত নতুন প্রবণতা সেগুলির নানা ইঙ্গিত ছড়িয়ে রয়েছে এই প্রবন্ধগুলিতে, যেমন ট্রান্সন্যাশনাল সিনেমা প্রসঙ্গ বা ‘স্লো সিনেমা’ (এর অর্থ কেবল ছবির মন্থরতা নয়, নানা বৃহত্তর তাৎপর্য রয়েছে) নামক একটি ধারা আদৌ কতদূর সংগত বা সম্ভব, সেই প্রসঙ্গ। প্রতিটি প্রবন্ধ উসকে দেয় এই বিষয়ে আরও চর্চার ইচ্ছে, এবং লাগোয়া গ্রন্থপঞ্জী সে কাজে সহায়ক হয়।

বইয়ের শুরুয়াতে আদিপর্বের সিনেমা বা আর্লি সিনেমা নিয়ে দীর্ঘ প্রবন্ধটি– যা বহু আগে শতবর্ষে চলচ্চিত্রের দ্বিতীয় খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছিল, বাকি প্রবন্ধগুলি থেকে কিছুটা আলাদা। এটি পশ্চিমে এবং ভারতে আদিপর্বের ছবি সম্পর্কে নানাবিধ গবেষণার খবর পাঠকের কাছে পৌঁছে দেয় মূলত, ভূমিকায় মৈনাক এটিকে চিহ্নিত করেছেন বাংলায় পড়তে ইচ্ছুক ছাত্রদের জন্য দরকারি লেখা হিসাবে। নানা তত্ত্বভাবনার একটা একত্রীকরণ হলেও এই প্রবন্ধ গোটা সংকলনেই উঠে আসা কিছু বিষয়ের সুর বেঁধে দেয় শুরু থেকেই। বাস্তববাদের নানা আপেক্ষিকতার এবং সিনেমাটিক ব্যবহারের প্রসঙ্গ এখানেই সূচিত হয়, যা ভারতীয় সিনেমা স্টাডিজের গতিপথ প্রায় শুরু থেকে নির্ধারণ করেছে, করেছে বাস্তববাদ আর মেলোড্রামার নানা মিল-বেমিল, আন্তঃসম্পর্ক। এই রচনা থেকেই সিনেমার স্থানিক-কালিক কাঠামো আর গণপরিসরের সঙ্গে তার যোগাযোগ বাকি বইয়ের নানা তর্কের সূচনা করবে। ক্রমেই সেই স্থানিক ভাবনা শহর ও সিনেমার নানাবিধ সম্পর্কের কথাও বলবে, সীমিত থেকে বিস্তারিত স্পেসে, মঞ্চ থেকে পটভূমিতে বিবর্তনের কথা টেনে আনবে, এবং তার জন্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নেবে কখনও উপন্যাসের চলন, বিশেষ করে রবীন্দ্র-উপন্যাসের, কখনও বা পাঁচের দশকের উত্তমকুমার অভিনীত সিনেজগৎ। উনিশ শতকীয় উপন্যাস, তার ইউরোপীয় রীতি-চলন ও দেশীয় বয়ান, দেশীয় আধুনিকতা প্রকল্পের সঙ্গে সংযোগ ইত্যাদি সিনেমা-চর্চার ক্ষেত্রে বিশেষ স্থান নিয়েছে স্বাভাবিকভাবেই। ভারতীয় সিনেমা স্টাডিজের আর এক প্রথম পর্যায়ের গবেষক মাধব প্রসাদের উনিশ শতকের কন্নড় উপন্যাস প্রসঙ্গে লেখা এবং সেখানে আর্লি সিনেমার তত্ত্বায়নের অবতারণার বিষয়টি এক্ষেত্রে মনে পড়ল। এটা আশ্চর্যের নয় যে এঁরা উপন্যাস এবং সিনেমা প্রসঙ্গ নিয়ে আসছেন এঁদের নিজ নিজ অঞ্চলের আধুনিকতার প্রকল্পের আলোচনায় ঢুকতে গিয়ে। মৈনাক বিশ্বাসের রচনাগুলিতে পণ্য, পুঁজি, নগরায়ণ আর সেই নগরের পরিসরে ঘুরে বেড়ানো নানা ‘ফিগার’ (‘ফিগার’ অর্থে শরীর কেবল নয়, সিনেমা তত্ত্বে এটি প্রায় সর্বব্যাপী, এর আওতায় চলে আসে নানা অবয়ব, টাইপ, নানা আইকন, ক্লিশে, জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক ইতিহাসের নানা চিহ্ন ইত্যাদি অনেক কিছুই) বারবার ঘুরেফিরে এসেছে, এবং উত্তমকুমার-সুচিত্রা সেন পর্বের বাংলা মেলোড্রামা থেকে গুরু দত্ত, দেব আনন্দ প্রমুখের বম্বের ক্যানভাসে গড়ে ওঠা নোয়া-প্রতিম ছবিগুলি হয়ে উঠেছে তাঁর পর্যালোচনার স্থান।

![]()
লাকানিয়ান মনঃসমীক্ষণ এই সংকলনের বেশ কয়েকটি রচনার প্রধান তাত্ত্বিক উপাদান। এই মনঃসমীক্ষণের রেশ ছড়িয়ে রয়েছে মাদার ইন্ডিয়া থেকে রোজার পুনর্পাঠে, ঋত্বিক ঘটক বিষয়ক রচনাগুলিতে। ভারতীয় নেশন-স্টেট আর সিনেমার ইতিহাসের পাশাপাশি চলনের সঙ্গে পাঠকের আলাপ করিয়ে দেয় প্রথমটি, এবং রোজা বিষয়ে ‘ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলি’-তে চলা ‘দ্য রোজা ডিবেট’ থেকে মাধব প্রসাদের এ সংক্রান্ত তত্ত্বভাবনা– সব কিছুর সঙ্গেই পাঠকের পরিচিতি তৈরি করে। আবার বইয়ের শেষে ঋত্বিক ঘটক প্রসঙ্গে মনঃসমীক্ষণ তাঁকে সাহায্য করে ঋত্বিকের ছবির অতিরেক, কেন্দ্রচ্যুত নানা উপাদান কীভাবে এক বিকল্প আধুনিকতার দিকে এগয়, তার একটা উত্তর খুঁজে পেতে, যে আধুনিকতা বাস্তববাদ বা মেলোড্রামা কারওর আওতাতেই ধরা পড়ে না ঠিক।
এইখানেই এই সংকলন তার গাঠনিক জায়গাটায় স্বতন্ত্র হয়ে পড়ে। তার সূচনাবিন্দু যদি হয় আদিপর্বের সিনেমা, তারপর ক্রমে শহর ও পঞ্চাশের জনপ্রিয় ছবি, মধ্যপর্বে সে পৌঁছে যায় ক্রম-প্রসরমান ইমেজ কালচারে, টেলিভিশন আর গণপরিসরের অস্বস্তিকর নানা প্রশ্নে। পাঠক কিছুটা আশ্বস্ত হতে পারেন অন্তত একটা ইতিহাসের ধারা ধরতে পারা যাচ্ছে বলে। কিন্তু শেষে গিয়ে সে আবার বেরিয়ে যায় আপাত-সময়পঞ্জী অনুসারী চলন থেকে, সেই কাজে সহায়ক হয় এমন এক পরিচালকের ছবি যাঁর রহস্যময়তা বরাবরই তাঁকে আলাদা করে রেখেছে। ফিল্মের পাঠপরিক্রমা ঋত্বিক প্রসঙ্গেই সবচেয়ে লিরিক্যাল হয়ে ওঠার সুযোগও পায়, জনপ্রিয় ছবি থেকে ‘অপর’ ছবির দিকে যাওয়া হয়ে ওঠে অনেকটাই ‘ফিল্ম অ্যাজ ওয়ার্ক’ থেকে ‘ফিল্ম অ্যাজ টেক্সট/টেক্সচুয়াল সিস্টেমের’ দিকে যাত্রা।
দৃশ্যান্তর পর্ব: চলচ্চিত্র বিষয়ক প্রবন্ধ
মৈনাক বিশ্বাস
বৈভাষিক
৪৫০
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved