শিল্পময় মানুষ বলতে যা বোঝায়, যোগেনদা সর্বাথে সেরকমই। ভারতীয় শিল্পের ‘আইকন’। আস্ত প্রতিষ্ঠান! তাঁর প্রয়াণ বিষণ্ণ করছে। পাশাপাশি মনে পড়ছে, তাঁর শিল্পের বিস্তার। অসংখ্য ছবি, অসংখ্যবার দেখার পরও, অনিঃশেষ তাকানো, সেই শিল্পদৃশ্যগুলি আমাদের পাথেয়। আমাদের বারবার প্রশ্নের মুখে এনে দাঁড় করায়: ছবি কী। ছবি কোনপথ দিয়ে যায়, যেতে পারে। তরুণ শিল্পী ও শিল্পশিক্ষার্থীদের কাছে নিশ্চিতভাবেই এক বিপুল প্রেরণা ছিলেন তিনি। এখনও কি নন? প্রয়াণে শিল্পীর কতটুকুই বা মুছে যায়?
যোগেনদা, যোগেন চৌধুরী চলে গেলেন। আজ থেকে ৪০ বছর আগে, ওঁর সঙ্গে আলাপ হয়েছিল আমার। ওঁর ছবির সঙ্গে তারও আগে। বয়সের ফারাক ছিল, কিন্তু অনুভবের সাদৃশ্য ছিল ওঁর সঙ্গে। কখনও মনে হয়নি, বয়স বা খ্যাতি এতটুকুও দূরত্ব তৈরি করতে পেরেছে কোনও দিন। যোগেনদা ছিলেন এমনই, কাছে টেনে নিতে এতটুকু দ্বিধা করতেন না।
শিল্পময় মানুষ বলতে যা বোঝায়, যোগেনদা সর্বাথে সেরকমই। ভারতীয় শিল্পের ‘আইকন’। আস্ত প্রতিষ্ঠান! তাঁর প্রয়াণ বিষণ্ণ করছে। পাশাপাশি মনে পড়ছে, তাঁর শিল্পের বিস্তার। দীর্ঘদিন ধরে, নিয়ম মেনে, ছবি নিয়ে ভাবা, আঁকতে বসার শৃঙ্খলা! অসংখ্য ছবি, অসংখ্যবার দেখার পরও, অনিঃশেষ সেই তাকানো, বিস্মিত হওয়া। সেই শিল্পদৃশ্যগুলি আমাদের পাথেয়। বারবারই প্রশ্নের মুখে এনে দাঁড় করায়: ছবি কী? ছবি কোনপথ দিয়ে যায়, যেতে পারে। তরুণ শিল্পী ও শিল্পশিক্ষার্থীদের কাছে নিশ্চিতভাবেই এক বিপুল প্রেরণা ছিলেন তিনি। এখনও কি নন? প্রয়াণে শিল্পীর কতটুকুই বা মুছে যায়?

যে ভাষা তিনি তৈরি করেছেন, তাঁর ছবিতে, তা ‘শিশুসুলভ’। যা সহজ চেষ্টায় অর্জিত নয়। অণুকরণ পারদর্শিতায় গড়ে ওঠেনি। তাঁর শিল্পমন সেই সহজ রূপ ও রেখার চর্চা করে চলেছিল। কোনও দ্বিধা ছাড়াই অনর্গল স্বাভাবিক প্রবাহ। ক্রস-হ্যাচড পেইন্টিং কিংবা লাইন ড্রয়িংয়ে তিনি আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন এই পথেই। বিষয়বস্তুকে অযথা জটিল করে দেখেননি।
দুটো আর্ট সেন্টার গড়ে তুলেছিলেন তিনি। একটি কলকাতায়, একটি শান্তিনিকেতনে। শুধু শিল্প নয়, শিল্পজগতের জন্য, শিল্পকে সাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যও চিন্তা ছিল তাঁর, চেষ্টা ছিল। শিল্পী– শিক্ষক– প্রতিষ্ঠান। এই তাঁর বর্ণময় জীবনের তিনধাপ।

দিল্লিতে থাকতেন যখন, যেহেতু তখন কাছেই থাকতাম, মাঝে মাঝেই কথা হত। আবার নিজেদের কাজে ডুবে যেতাম আমরা। এক-আধদিন, নিজে থেকেই ফোন করে বলতেন, ‘কী ব্যাপার, কতদিন কথা হয়নি! নিশ্চয়ই বড় কাজ করছ?’ আসলে যোগেনদা ধরে ফেলতেন কার কাজ কীরকম। জানতেন যে, আমার ধরনই হল ছোট ছোট দাগ দিতে দিতে বড় ছবি গড়ে তোলা। বহুবার আমার প্রদর্শনী উদ্বোধনেও এসেছেন।

ওঁর বহু ছবিই আমার খুব প্রিয়। তার মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে খুব প্রিয় টাইগার সিরিজের ছবি। ওঁর ছবি, বলাই বাহুল্য, নানা প্রদর্শনী ও আর্ট গ্যালারি থেকে সংগ্রহ করেছি নানা সময়। তাঁর কাজের দিকে আরও নিবিষ্ট হয়ে তাকিয়ে থাকার জন্যই।
যোগেনদা নেই। তাঁর ছবিগুলো আজীবন আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকবে।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved