যখন কার্টুনিস্ট চণ্ডী লাহিড়ীর সঙ্গে কাজ করতাম, তখন একটা অদ্ভুত জিনিস জানলাম। ওঁর লেখা, মানুষ কী করে মানুষ হল– এই বিষয়ের ওপরে একটা বইয়ে বলেছেন: কড়ি যেমন ছোট ছোট পয়সা, তেমনই তার চেয়ে বড় পয়সার জন্য কাঠঠোকরার মাথায় আয়োজন। আশ্চর্য! কাঠঠোকরার মাথার খুলি না কি ছিল কড়ির চেয়ে দামি মুদ্রা!
মানব শরীরই এক ‘মহাকাব্য’। প্রতিটি অঙ্গ, অংশ, প্রতিটি কোষ, শরীরের প্রতিটা অভিজ্ঞতা সে মহাকাব্য ছাড়া আর কিছু হতেই পারে না। শরীর সংগ্রাম, জয়-পরাজয় এবং বিবর্তনের গল্প বলে। শরীরেও থাকে শক্তি ও দুর্বলতার দ্বন্দ্ব।
মানুষ-গাছ-জন্তু-পাখি-নদী-পাহাড়-সূর্য-তারা– এ সমস্ত নানান জিনিসের একটা প্রতীকী মোটিফ মানে একটা সিম্বল থাকে অস্ট্রেলিয়ান অ্যাবরিজিনাল আর্টে। সেগুলো বেশিরভাগই ডট, মানে ফুটকি দিয়ে করা। ছবির পটে কাজটা শেষ হয়ে গেলে ওরা যেটা করে সেটাই রহস্য।
সবকিছু তো আর মেপে হয় না, আবার মাপজোখ ছাড়াও কিছু হয় না। গড়, আন্দাজ, বিশ্বাস– এসবের একটা বড়সড় ভূমিকা থাকত, সেকালের হিসেব-নিকেশে।
কুইন্সল্যান্ড মিউজিয়ামের বিরাট একটা অংশ জুড়ে আছে সাউন্ড আর্ট গ্যালারি। তার ভেতরে জাপানি শিল্পী ইউকো মোহরি-র নতুন শিল্পশৈলী, এক অভিনব প্রদর্শনী: ‘ব্রেদ অর ইকো’। দৃশ্যের সঙ্গে শব্দের আত্মীয়তা আর বিরোধ, সম্পর্ক এবং শত্রুতা নিয়ে সে এক চমৎকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
যোগাযোগ ব্যাপারটা বাদুড়দের ক্ষেত্রে অন্য রকম। বাদুড় যখন প্রতিধ্বনি পাওয়ার জন্য হাই ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ ছুড়ে দেয় সামনে, সেটাকে প্রাণীবিজ্ঞানীরা বলছেন ‘ক্লিক’। সেই ক্লিকের প্রতিধ্বনি ফিরে এসে তথ্য দেবে সামনে কী আছে। কিন্তু এক বাদুড়ের ক্লিক কি অন্য বাদুড়ের সঙ্গে মিলে যায় না?
‘শব্দ’ মানে শুধু আওয়াজ নয়, শব্দ মানে ভাষা, যোগাযোগ, অনুভূতি, অস্তিত্বের সাড়া। আমরা জন্মের পর প্রথম যে জগৎটাকে চিনি, তা আলো নয়, শব্দের জগৎ। মায়ের কণ্ঠ, বাতাসের আওয়াজ, কিংবা কোনও শঙ্খ বা ঘণ্টার ধ্বনি অথবা পশু-পাখির ডাক। শব্দ শুনে চিনে নিই জীবন, বিপদ, আনন্দ, সোয়াস্তি, এমনকী ভালোবাসা।
একসময় পাবলো পিকাসোও নাকি তাঁর মেয়ের মল দিয়ে ছবি এঁকেছেন। শিল্পীর উজ্জ্বল বাদামি রঙের সে এক রহস্য। পেজ সিক্সের রিপোর্ট অনুসারে, ‘পু-ক্যাসো’ সম্পর্কে খবরটি শিল্পীর নাতনি ডায়ানা উইডমায়ার পিকাসোর কাছ থেকে এসেছে এবং এটা ছিল অনেকদিনের পারিবারিক গোপনীয়তা। ১৯৩৮ সালের স্টিল-লাইফ সিরিজে ওঁর সেইসব ছবি প্রদর্শিত হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে।
আধুনিক শিল্প আলোচকদের ভাষায়, হাইব্রিড আর্ট আমাদের শেখায়, শিল্প থামতে জানে না। এটা একটা অবিরাম বিবর্তনের ধারা। প্রযুক্তিকে মানবিক আবেগের সঙ্গে যুক্ত করে এমন এক ভাষা সৃষ্টি করছে এখন, যা একাধারে বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক এবং নান্দনিক।
সৃজনশীল কাজ, যেমন চিত্রকলা এবং ভাস্কর্য ইত্যাদিতে নিম্নমানের কাজ বা অদক্ষতার কারণে বর্জ্য উৎপাদন অনেকাংশে বাড়তে পারে। এটি শুধু শিল্পীদের অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে না, বরং উপকরণের অপচয়, পরিকল্পনার অভাব এবং বাজারের চাপের ফলে ঘটে।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved