

রেনেসাঁর সার্থক উত্তরসূরি বলেই হয়তো এক মাধ্যমে বেশিদিন আটকে থাকা না-পসন্দ ছিল হকনির। সেকালের দা ভিঞ্চির রীতি মেনেই শিল্প মাধ্যমের ব্যবহারে তুমুল হইহল্লা বাধিয়ে দিলেন হকনি। মানুষের চোখ যা দেখে, স্মৃতি সেই দৃশ্যেরই সম্পাদক। ছবি আঁকার মধ্যে সেই স্মৃতির সঞ্চয় একে একে সেলাই করে এক সুবিশাল দৃশ্যের অবতারণা করতে চাইলেন।
‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’-র একচেটিয়া উপহার হিসেবেই হোক, কিংবা দেহসুগন্ধি হিসেবে চকোলেটের গন্ধ বিক্রি করার প্রবণতায়, অথবা যৌনক্রীড়ার বিবিধ উপকরণে চকোলেট ফ্লেভারের পরিচিত ব্যবহারে– চকোলেটকে বারবার ‘অ্যাফ্রোডিসিয়াক’ হিসেবে পেশ করার ধরনটি পরিচিত।
আগে পাণ্ডবানী অভিনয় করত শুধু ছেলেরা। সেখানে স্বচ্ছন্দে ঢুকে পড়েছিলেন তীজন বাই। বেছে নিয়েছিলেন ‘কাপালিক’ জাতের পাণ্ডবানী, যেখানে স্মৃতিনির্ভর পুরো পারফরম্যান্সটি দাঁড়িয়ে, হেঁটে-চলে, নেচে-গেয়ে করতে হয়। একই গাথা, কিন্তু প্রতি অভিনয়ে আলাদা আলাদা হত তাঁর উপস্থাপনা।
শাস্ত্রবিরোধী আন্দোলনের আদর্শে গল্প লিখতে এসে বলরাম মুখরোচক কাহিনি কিংবা জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য উপস্থাপন করেননি কোনও গল্পে। শুধু অন্তর্জীবনের অনুভূতিটুকু তাঁর গল্পে ফুটে উঠেছে সচেতন শব্দ সমাবেশে। গতানুগতিক গল্পপাঠে অভ্যস্ত পাঠক দুর্বোধ্য বাহানা দিয়ে বলরামের গল্পগুলিকে বাতিল করতেই পারেন, কিন্তু সংখ্যা নয়, বলরাম দাবি করেন সহানুভূতি, সূক্ষ্ম সংবেদন।
এক বছর কিছু লিখবেন না– এই মর্মে আনন্দমেলা সম্পাদক দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি চিঠি লিখেছিলেন বুদ্ধদেব গুহ। চিঠিটি কোনও বিদায়পত্র নয়, কোনও ক্লান্তির বিবরণও নয়। এটি যেন এক শিল্পীর আত্মার দিকে ফিরে তাকানোর মুহূর্ত। যেন তিনি বলছেন– আমি লিখতে জানি, তাই থামতেও জানি।
আজ বিশ্ব চিকিৎসক দিবস। বাংলা সাহিত্যের অনেক কবি শারীরিক দিক থেকে ছিলেন অসুস্থ। আর্থিক দূরাবস্থা কিংবা স্বেচ্ছাচার সেই প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করেছে। এখন কবিদের শারীরিক স্বাস্থ্য ফিরেছে, কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্য তলানিতে। আজ কবি তীব্র এক মনোবিকারে আচ্ছন্ন, লোভী অথবা গুপ্তচর।
‘অটিজম’ কথাটার সঙ্গে এখন কমবেশি সকলেই পরিচিত। আমরা অটিস্টিক শিশুকে দেখলেই বুঝতে পারি। তাদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণের অনেক জায়গা এখন গড়ে উঠেছে। কিন্তু ‘বর্ডারলাইন অটিজম’ কী এবং কেন, তা নিয়ে আলোচনা কোথাও দেখি না!
চিকিৎসকের পেশাদারিত্বও দরকার; কিন্তু সেই পেশাদারিত্বের সঙ্গে যদি সহমর্মিতা, সেবার মন এবং মানুষের প্রতি দায়বোধ না থাকে, তবে চিকিৎসা তার মানবিকতা হারায়।
বলরামদার লেখার বিষয়, আঙ্গিক, রূপকথার মোড়ক, জাদুবাস্তবের নির্মোক এক অন্য মাত্রা এনে দিয়েছিল। ছোটদের লেখা লিখতে হলে মন ছোটদের মতো তৈরি করে নিতে হবে। দিন দিন ছোটদের কল্পনার আকাশ ছোট হয়ে যাচ্ছে। সেই আকাশকে বড় করে তুলতে হবে। এই বিশ্বাস বলরাম বসাককে ছোটদের প্রিয় সাহিত্যিক করে তুলেছে।
আজ পরিণত বয়সে পৌঁছে, আমার বাড়ির দলিল ঠিক কোথায় রাখা আছে আমার খেয়ালও থাকে না, কিন্তু একটি-একটি করে পাওয়া কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহর ১৪১টি চিঠির একটি সম্ভার ধীরে ধীরে আমার সর্বস্ব সম্পত্তি হয়ে উঠেছে– গত প্রায় চার দশক ধরে তার প্ৰতিটি শব্দে, যতিচিহ্নে, আঁকিবুঁকিতে, অক্ষরে, সাক্ষরে!
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved