Robbar

রোজনামচা

কেবলই ‘ছবি’ নয়

পোর্ট্রেট তুলতেন কম, অধিকাংশই ওয়াইড ফ্রেমের ক্যানডিড। ২৪-৭০ বা ২৮-৭০ এই লেন্সই উনি ব্যবহার করতেন। বেশিরভাগ ছবিই ওয়াইড ফ্রেম, লং লেন্স নিয়ে ঘুরতেনই না। সবসময় একটাই লেন্স দিয়ে সব কাজ করে সময় সাশ্রয় করতেন।

→

ভারত ফোটোগ্রাফারদের স্বর্গ, বিশ্বাস করতেন রঘু রাই

নব্বই সালের আশপাশে ওঁর একটা কলকাতার ওপর বই বেরয়। পরে আবারও আরেকটা! তখন আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘আবার কলকাতা?’ বলেছিলেন, ‘কলকাতা আশ্চর্য শহর। সবার পরিবর্তন হয়। এ শহরের পরিবর্তন হয় না।’

→

রঘু রাইয়ের কলকাতা

কখনও শেখানোর চেষ্টা করতেন না রঘু রাই। উপদেশও দিতেন না। খালি বলতেন, ছবি তুলে যাও, ছবি তুলে যাও। আজ রঘু রাই চলে গেলেন। কলকাতার প্রতি অপূর্ব প্রেম নিয়ে চলে গেলেন। ওঁর কলকাতা সিরিজ থেকে গেল।

→

রঘুর ছবি, আমার লেখা

রঘু রাইদের মতো মানুষ যে সময়টায় এসেছিলেন, আসলে দুঃখের বিষয় হল, এঁদের সঙ্গে সঙ্গে সেই সময়টারও ক্রমশ মৃত্যু হয়ে চলেছে। সকলেই ওঁর ছবির কথা বলেন, বলবেন। কিন্তু এমন অসাধারণ একজন মানুষ, তাঁর জীবনের কথাও বলা উচিত।

→

ম্যালেরিয়ার ওষুধ প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন পেরুর আদিবাসীরা

জ্বরের খবর পেয়ে, স্প্যানিশ সরকারের এক পারিষদ ভাইসরয়কে চিঠি লিখে জানান স্থানীয় এক গাছের ছালের কথা। তিনি এই গাছটির সন্ধান পেয়েছিলেন পেরুর কুইচুয়া নামের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজনের কাছ থেকে, যাঁরা শরীরে তাপমাত্রার কাঁপুনি থেকে রক্ষা পেতে এই গাছটির পাতা ও ছাল ব্যবহার করতেন।

→

নিরভিমান, প্রসন্ন হাসি লেগে থাকত সতীদির মুখে

সতীদির কাছে আমরা কিটস পড়িনি। পড়েছিলাম ওয়াল্টার স্কট-এর বিখ্যাত উপন্যাস ‘Heart of Midlothian’। এই উপন্যাসটি আমার খুবই প্রিয় এবং পরে এক সময়ে আমি নিজেও অধ্যাপক হিসাবে এটি পড়িয়েছি। সেমেস্টার-পূর্ব সেই অধ্যয়নের যুগে বেশ ক’টি ক্লাস জুড়ে বেশ রসিয়ে রসিয়ে উপন্যাসটি পড়া হয়েছিল, একথা মনে আছে।

→

অবাধ্য মেয়েটাকেই ভালোবাসতে চেয়েছি চিরকাল

ছয়ের দশকের সময় থেকে ভারতীয় নারীসমাজও নিজস্ব স্বর ফিরে পাচ্ছিল। মহানগরের আরতি চাকরি করতে বেরল, পরিবারের শত ভ্রূকুটি সত্ত্বেও। এক নব্যনারী প্রজন্মের উত্থান ঘটল, ঠাকুরঘর পেরিয়ে যারা পাবে বসল হাতে সিগারেট নিয়ে। স্বরবদলের এই সন্ধিক্ষণে আশা নতুনভাবে উঠে এলেন। বেলবটম নারীর হাতিয়ার হল, আশার গান।

→

কিছু আশা রয়ে গেল

‘যে গান তোমায় আমি শোনাতে চেয়েছি বারেবার’, এত দরদ দিয়ে গাওয়া গানটা, কে বলবে এই ভদ্রমহিলাই ফিসফিস করে ‘রাত আকেলি হ্যায়’ বলতে বলতে আচমকা বাঘের কামড়ের মতো ‘চুপ কিউ রহিয়ে’-তে পৌঁছে গিয়েছিলেন। মাইকেল হোল্ডিং-কে ‘হুইসপারিং ডেথ’ বলা হত, আশাকেও বোধহয় এক্ষেত্রে তাই বলা উচিত।

→

নির্বাকের রূপদক্ষ শিল্পী

চ্যাপলিন শব্দের বিড়ম্বনাকে মূকাভিনয়েরই একটা এক্সটেনশন বানিয়ে ফেলেন, হিঙ্কলের ভাষার মর্মার্থ অভিধানের মুখাপেক্ষী থাকে না। টুথব্রাশ গোঁফে তা দিয়ে চ্যাপলিন বলতে চান, ‘একঘেয়ে লাগল নাকি?’

→

বহু জনতার মাঝে অপূর্ব একা

বাংলা নববর্ষের অব্যবহিত পরে ইংরেজি ১৬ এপ্রিল বিকেলের দিকে দেহাবসান ঘটে আচার্য নন্দলাল বসুর। আচার্যের মৃত্যুশয্যার পাশে সুধীরা দেবীকে দেখা যায়নি। ঘরের দুয়ার তিনি রুদ্ধ করে রেখেছিলেন। এমনকী, মৃত্যুর পরেও সে দ্বার খোলেনি। ছাত্রছাত্রী আর আশ্রমিকেরা ঘিরে ছিল আচার্যের পুষ্পশোভিত দেহ।

→