

কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়। প্রথম ভারতীয় মহিলা চিকিৎসক। সেই সময়ে দাঁড়িয়ে, যখন তাঁর পেশা এবং রাতে রোগী দেখাকে ‘বেশ্যা’ বলে কটাক্ষ করে একটি রক্ষণশীল হিন্দু পত্রিকা, তখন তিনি রোগী দেখতে যান ফিটনে চড়ে, এগিয়ে নিয়ে চলেন বাংলার নারীমুক্তি আন্দোলনকে!
এমনটাই মনে করতেন বিজন ভট্টাচার্য। বিশ্বাস করতেন, ‘মানুষের কল্যাণে রুটির লড়াই-এর সঙ্গে প্রাণের লড়াইকে এক সূত্রে বেঁধে নাট্য আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই গণনাট্যের মর্মকথা।’ তিনি চিরকালই জনমুখী, বিজন পথের মানুষ নন।
মৃত্যু। তার সঙ্গে একদান। দাবায়। এ দৃশ্য তৈরি করেছিলেন বার্গম্যান। মৃত্যু কি এতই সহজ? এতই সহজ তার সঙ্গে সংলাপ? মৃত্যুর সৌন্দর্য ও ভয়াবহতার মিশেলে গড়ে উঠেছিল চলচ্ছবির এক নতুনতর ভাষ্য। বার্গম্যানের জন্মদিনে রইল তাঁর ছবির মৃত্যুর দর্শন।
রেনেসাঁর সার্থক উত্তরসূরি বলেই হয়তো এক মাধ্যমে বেশিদিন আটকে থাকা না-পসন্দ ছিল হকনির। সেকালের দা ভিঞ্চির রীতি মেনেই শিল্প মাধ্যমের ব্যবহারে তুমুল হইহল্লা বাধিয়ে দিলেন হকনি। মানুষের চোখ যা দেখে, স্মৃতি সেই দৃশ্যেরই সম্পাদক। ছবি আঁকার মধ্যে সেই স্মৃতির সঞ্চয় একে একে সেলাই করে এক সুবিশাল দৃশ্যের অবতারণা করতে চাইলেন।
‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’-র একচেটিয়া উপহার হিসেবেই হোক, কিংবা দেহসুগন্ধি হিসেবে চকোলেটের গন্ধ বিক্রি করার প্রবণতায়, অথবা যৌনক্রীড়ার বিবিধ উপকরণে চকোলেট ফ্লেভারের পরিচিত ব্যবহারে– চকোলেটকে বারবার ‘অ্যাফ্রোডিসিয়াক’ হিসেবে পেশ করার ধরনটি পরিচিত।
আগে পাণ্ডবানী অভিনয় করত শুধু ছেলেরা। সেখানে স্বচ্ছন্দে ঢুকে পড়েছিলেন তীজন বাই। বেছে নিয়েছিলেন ‘কাপালিক’ জাতের পাণ্ডবানী, যেখানে স্মৃতিনির্ভর পুরো পারফরম্যান্সটি দাঁড়িয়ে, হেঁটে-চলে, নেচে-গেয়ে করতে হয়। একই গাথা, কিন্তু প্রতি অভিনয়ে আলাদা আলাদা হত তাঁর উপস্থাপনা।
শাস্ত্রবিরোধী আন্দোলনের আদর্শে গল্প লিখতে এসে বলরাম মুখরোচক কাহিনি কিংবা জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য উপস্থাপন করেননি কোনও গল্পে। শুধু অন্তর্জীবনের অনুভূতিটুকু তাঁর গল্পে ফুটে উঠেছে সচেতন শব্দ সমাবেশে। গতানুগতিক গল্পপাঠে অভ্যস্ত পাঠক দুর্বোধ্য বাহানা দিয়ে বলরামের গল্পগুলিকে বাতিল করতেই পারেন, কিন্তু সংখ্যা নয়, বলরাম দাবি করেন সহানুভূতি, সূক্ষ্ম সংবেদন।
এক বছর কিছু লিখবেন না– এই মর্মে আনন্দমেলা সম্পাদক দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি চিঠি লিখেছিলেন বুদ্ধদেব গুহ। চিঠিটি কোনও বিদায়পত্র নয়, কোনও ক্লান্তির বিবরণও নয়। এটি যেন এক শিল্পীর আত্মার দিকে ফিরে তাকানোর মুহূর্ত। যেন তিনি বলছেন– আমি লিখতে জানি, তাই থামতেও জানি।
আজ বিশ্ব চিকিৎসক দিবস। বাংলা সাহিত্যের অনেক কবি শারীরিক দিক থেকে ছিলেন অসুস্থ। আর্থিক দূরাবস্থা কিংবা স্বেচ্ছাচার সেই প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করেছে। এখন কবিদের শারীরিক স্বাস্থ্য ফিরেছে, কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্য তলানিতে। আজ কবি তীব্র এক মনোবিকারে আচ্ছন্ন, লোভী অথবা গুপ্তচর।
‘অটিজম’ কথাটার সঙ্গে এখন কমবেশি সকলেই পরিচিত। আমরা অটিস্টিক শিশুকে দেখলেই বুঝতে পারি। তাদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণের অনেক জায়গা এখন গড়ে উঠেছে। কিন্তু ‘বর্ডারলাইন অটিজম’ কী এবং কেন, তা নিয়ে আলোচনা কোথাও দেখি না!
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved