

প্রবাল দাশগুপ্ত কেবল একজন ভাষাবিজ্ঞানী বা ভাষাতাত্ত্বিক ছিলেন না, ছিলেন চিন্তক। বিশ্বাস করতেন– ভাষা কেবল ভাব বিনিময়ের মাধ্যম নয়, বরং তা মানুষের মুক্তির পথ; ভাষাগত বৈষম্য দূর করার মাধ্যমে পৃথিবীর মানুষ একে অপরের আরও কাছাকাছি আসতে পারে, আর সেই সেতুবন্ধনের মাধ্যম হিসেবে তিনি এসপেরান্তোকে বেছে নিয়েছিলেন।
অনীকের সঙ্গে যতবার কথা হয়েছে আমার, সিনেমা নিয়ে নয়, জীবনবোধ নিয়ে, মনে হয়েছে আমার, সে বেছে নিয়েছে কার্নিশ দিয়ে চলার পথ। উপনিষদ যাকে বলেছে, ক্ষুরের ধার দিয়ে চলা।
দিনকয়েক আগেও আমার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল অনীকের। আমার কাছে আসবে, দেখা করবে, এমনটাই বলেছিল। কী কথা, ফোনে কি বলা যায়? জিজ্ঞেস করাতে বলেছিল, ‘না, না। সামনাসামনি গিয়ে কথা বলব।’ দুর্ভাগ্য, সেই বসাটাও হল না, কী কথা যে ওর বলার ছিল, সেটাও আর জানার কোনও উপায় রইল না।
রকেটের মধ্যে কৃত্রিম মাধ্যাকর্ষণ শক্তি হঠাৎ চলে যাওয়ায় গ্লাসের হুইস্কি বলের মতো হয়ে ভেসে যেতে থাকে, আর ক্যাপ্টেন আকুল স্বরে বলতে থাকেন, ‘আরে, হুইস্কি, তুমি এত অবাধ্য কেন? এসো... গেলাসের মধ্যে ফিরে এসো!’
পপুলারিটি তেমনই জন্তু, যা অজগরের মতো আমাদের একান্ত মৌলিক ও লৌকিক নৈঃশব্দ্যগুলোকে গিলে খেয়ে নেয়। নির্জন ও নিভৃত পরিসরকে বিধ্বস্ত করে ফেলাই তার অন্যতম পলিটিক্যাল এথিক্স। তবু দেবদাসের ভোরকালীন মৃত্যুকে নির্বাচনী জয়-পরাজয়ের উল্লাস ঢেকে ফেলতে পারল না। কলঙ্কিত করতে পারল না অহেতুক লোক-দেখানো শোকপ্রস্তাবের মেকি অশ্রু দিয়ে।
নজরুলের কারাজীবন। অনশন। হার-না-মানা হার গলায় পরা। জন্মদিনের আবহে, তাঁর সৃষ্টি ও জীবনকে সমান্তরালে রেখে এই পাঠ।
নজরুলের সবচেয়ে উপেক্ষিত নাট্যকার সত্তাটির হয়ে ওঠার নেপথ্যের ইতিহাস বড়ই চমকপ্রদ এবং মাটির কাছাকাছি। তাঁর নাট্যশিক্ষার কোনও প্রথাগত বা প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি ছিল না। তাঁর প্রথম পাঠশালা ছিল রাঢ় বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতি– লেটো গানের দল।
‘কায়নাত: আ ব্লুম ইন দ্য ইউনিভার্স’। ভেলভেটের ওপর ব্রোকেড ও সুতোর কাজ। তাতে পাখি, গাছ, গোলাপ। কাশ্মীর উপত্যকার স্মৃতি। ওই স্মৃতিতেই, রংবেরঙে আজও অমলিন গুড্ডা– রোহিত বাল।
১৯ মে শ্রেষ্ঠত্বের দাবি রাখে তার প্রকৃত ইতিহাসের নিরিখে, বৈচিত্রে, তার সংগ্রামের ব্যাপকতার নিরিখে। বরাক উপত্যকার সদর শহর শিলচরের রেল-স্টেশনে পুলিশের গুলিতে জীবন আহুতি দিয়েছিলেন ১১ জন তরুণ-তরুণী। ভাষাকেন্দ্রিক গণ অভ্যুত্থানের এমন আপামর ব্যাপ্তি অন্য কোনও ভাষা সংগ্রামে পাওয়া যায় না।
টুটুবাবু চলে গেলেন। মাথার ওপর থেকে ছাতা চলে গেলে, যা হয়, এখন অবস্থা সেরকমই। একলা লাগে ভারি।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved