
বিজ্ঞানীরা অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি করে, অনেক মানুষের উপরে পরীক্ষা চালিয়ে একটা পরিসংখ্যান তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। আত্মপর্যালোচনা, বিনয়, সহানুভূতি এবং ভিন্ন মত শোনার মতো চর্চাগুলো মানুষকে কীভাবে আরও প্রাজ্ঞ করে তোলে তারই পরীক্ষা, বিজ্ঞানীদের মতে। অনেকগুলো প্রশ্ন-উত্তর থেকে সংগ্রহ করে এখানে মোটামুটি এক ডজন বেছে নিয়েছি। কোনও প্রতিযোগিতা নয়, শুধু আপনার নিজের কাছে নিজেকে চেনার এটা একটা সহজ খেলা। সেটাই খেলব এখন।
২৭.
শিক্ষকের একটা প্রশ্নের উত্তর না-দিতে পেরে ছাত্র অনেকক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। শিক্ষক বললেন, ‘বোঝো কিছু?’ ছাত্র নিরুত্তর। শিক্ষক আবার বললেন, ‘বোঝো না?’ ছাত্র তখনও নিরুত্তর। এবার শিক্ষক কিছুটা বিরক্ত হয়েই বললেন, ‘বোঝো কি বোঝো না, তাও বোঝো না?
ছাত্র-শিক্ষকের কথোপকথন খানিকটা কৌতুকের হলেও প্রশ্ন জাগে, আমরা কতটুকু বুঝি? আমাদের সত্যিকারের জ্ঞানই বা কতটুকু? ‘জ্ঞান ও প্রজ্ঞা’ বিষয়ে প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি: ‘আমি জানি যে আমি কিছুই জানি না’– এটাই আমার একমাত্র জ্ঞান।
প্রজ্ঞা কী, এবং তা কি শেখানো যায়? বিজ্ঞানীরা বলছেন, হ্যাঁ। জ্ঞানী ব্যক্তিদের গুণাবলি চিহ্নিত করার এবং সেগুলো অর্জনের উপায় বের করার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। প্রজ্ঞা বা জ্ঞানবোধকে মাপা যেমন কঠিন, তেমনই তার সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়াও সহজ নয়। এ নিয়ে একটি বড় বিতর্ক হল– প্রজ্ঞা কি কিছু নির্দিষ্ট গুণের সমষ্টি, নাকি জটিল পরিস্থিতিকে আমরা যেভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করি, সেই প্রক্রিয়াটিই প্রজ্ঞা?
‘প্রজ্ঞা’ হল একটি উচ্চাঙ্গের সংস্কৃত শব্দ, যা জ্ঞানের অপরিহার্য গুণকে বোঝায়। জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, বোঝাপড়া এবং ভালো বিচার-ব্যবহার করে চিন্তা করার এবং কাজ করার ক্ষমতা। ভালো কথা! তবে এমন এক সময়ের মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি, এখন তাতে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত, মধ্যমেধার মানুষদের কাছে কী ভালো ভালো শব্দ সহ্য করার মতো মানসিক অবস্থা আছে? ধী, প্রজ্ঞা, মনীষা, জ্ঞান, বিদ্যা, তত্ত্বজ্ঞান। সহজ কথায়, জ্ঞান হল কোনও কিছু জানা, আর প্রজ্ঞা হল সেই জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সঠিক পথে চলা।
একসময় মনে হয় ধীরে ধীরে সমস্ত সুবুদ্ধি হারিয়ে মানুষ একেবারে পুরনো দিনের সেই পেশি-শক্তির দিকেই যেন ফিরে যাচ্ছে। তবুও ‘বিনাশকালে বিপরীত বুদ্ধি’ তো মাথায় রাখতে হবে। সচেতন থাকতে হবে। প্রজ্ঞা-র সহজবোধ্য প্রতিশব্দেরও অভাবে নেই। বিচক্ষণতা, সুবুদ্ধি, কাণ্ডজ্ঞান। লোভ, ক্রোধ, প্রেম, করুণার সঙ্গে এরাও থাকে মানুষের মাথার ভেতর।

কাণ্ডজ্ঞান আপনাকে রাস্তার দিকে নজর রেখে পথ চলতে শেখায়, বৃষ্টির দিনে ছাতা সঙ্গে নিতে বলে। সুবুদ্ধি শুধু তাৎক্ষণিক বিপদ এড়াতে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল নিয়ে ভাবে। সুবুদ্ধি তাই একটু ধীর, একটু চিন্তাশীল, আর একটু নৈতিকও বটে। বিচক্ষণতা– এর মধ্যে সবচেয়ে অভিজ্ঞ। বিচক্ষণতা যেন বিচারক! কী ঠিক আর কী ভুল তা নয়, বরং কোন পরিস্থিতিতে কোনটা প্রযোজ্য, তা বুঝতে পারে। সে জানে, সত্যি কথাও কখনও কখনও ভুল সময়ে বললে অসত্যের মতো ক্ষতিকর হতে পারে।
অতএব, শত অগোছালো জীবনযাত্রার দিনেও জানতে ইচ্ছে করতে পারে, আমরা কতটা জ্ঞানী?
বিজ্ঞান বিষয়ক নানান পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করছিলাম। দেখলাম বিজ্ঞানীরা অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি করে, অনেক মানুষের উপরে পরীক্ষা চালিয়ে একটা পরিসংখ্যান তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। আত্মপর্যালোচনা, বিনয়, সহানুভূতি এবং ভিন্ন মত শোনার মতো চর্চাগুলো মানুষকে কীভাবে আরও প্রাজ্ঞ করে তোলে তারই পরীক্ষা, বিজ্ঞানীদের মতে। অনেকগুলো প্রশ্ন-উত্তর থেকে সংগ্রহ করে এখানে মোটামুটি এক ডজন বেছে নিয়েছি। কোনও প্রতিযোগিতা নয়, শুধু আপনার নিজের কাছে নিজেকে চেনার এটা একটা সহজ খেলা। সেটাই খেলব এখন।
নিচে আপনার মানসিক অবস্থান, সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি রইল। আপনি কতটা একমত, তা আপনার মত করে ১ থেকে ৫ এর মান হিসেবে ভাগ করে নিন। যেখানে ১ মানে ‘আপনি একদম মানেন না’ এবং ৫ মানে ‘সম্পূর্ণ একমত’। এরপর আপনি যতটুকু সম্ভব, সততার সঙ্গে প্রতি ক্ষেত্রে নিজের মতামতের নম্বর দিন। এখানে আমরা নিজেরাই খেলব, নিজেরাই পরিসংখ্যান, মূল্যায়ন যাই হোক তৈরি করব। শেষে ফলাফল বিষয়ে আলোচনা করছি।

১. ‘আমার মনের শান্তি সহজে বিঘ্নিত হয় না’।
অর্থাৎ, যারা জীবনের ওঠানামাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেন এবং নিজের মানসিক শান্তির দায়িত্ব নিজে নেন, তাদের মন সহজে অশান্ত হয় না।
২. ‘নিজেকে নিয়ে আমার রসবোধ বেশ ভালো’।
নিজের ভুল ও ত্রুটিগুলোকে সহজভাবে গ্রহণ করা, আত্ম-বিচার এড়িয়ে চলা এবং নেতিবাচক পরিস্থিতিতেও হাসি-খুশিতে থাকার রাস্তা বের করা ভালো অভ্যেস। অন্যদের সাথে ইতস্তত বা মাথা নত করে কথা বলার ধরন আত্মবিশ্বাসকে কমিয়ে দেয়। এটি অন্যদের সামনে কাউকে দুর্বল হিসেবে প্রকাশ করে। কখনও ভুল না হলে ভুল স্বীকার করার দরকার নেই। তবে ভুল করলে তা অবশ্যই স্বীকার করার মানসিকতা রাখতে হবে। দুর্বল নয়, বিনয়ী হতে হবে।
৩. ‘আমার জীবনে আমি বহু ধরনের মানুষের সংস্পর্শে এসেছি’।
বহু ধরনের মানুষের সংস্পর্শে আসার লাভ আছে। ভিন্ন মত ও পথের মানুষের সঙ্গে কথা বললে নিজেদের চিন্তাধারার সীমাবদ্ধতা দূর হয় এবং নতুন কিছু শেখার সুযোগ তৈরি হয়। বিভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া এবং বিভিন্ন স্বভাবের মানুষের সঙ্গে মানিয়ে চলার দক্ষতা তৈরি হয়, যা মানসিক বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধি করে। অনেকেই সহজে বলতে পারেন, আমি অন্যদের কাছ থেকে জীবনে অনেক মূল্যবান শিক্ষা লাভ করেছি।
৪. ‘আমার সুখ অন্য মানুষ বা জিনিসের উপর নির্ভরশীল নয়’।
সুখ ও শান্তি বাহ্যিক কোনও মানুষ বা বস্তুর ওপর নির্ভর না করা একটি উচ্চতর মানসিক অবস্থা, যা নিজের ভেতরেই বাস করে। যখন কারও সুখ অন্যের আচরণ বা জাগতিক জিনিসের ওপর নির্ভর করে না, তখনই প্রকৃতপক্ষে মানসিক স্বাধীনতা ও শক্তি অর্জন করা সম্ভব। এই স্বনির্ভরতা অন্যের দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত বা হতাশ হওয়া থেকে রক্ষা করে।
৫. ‘আমি সবকিছুর অনিত্যতা মেনে নিতে পারি’।
হ্যাঁ, সবকিছুর অনিত্যতা বা পরিবর্তনশীলতা মেনে নেওয়া সম্ভব এবং এটি মানসিক শান্তি ও পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষমতা বৃদ্ধির একটি চাবিকাঠি। বৌদ্ধ দর্শন অনুযায়ী, অনিত্যতা বা পরিবর্তন হল জীবনের স্বাভাবিক নিয়ম। একে প্রতিরোধ না করে গ্রহণ করলে জীবনের কঠিন পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জগুলোর সাথে লড়াই করার ক্ষমতা বাড়ে।
৬. ‘বই পড়া আমাকে ভিন্নভাবে ভাবতে উৎসাহিত করে’।
বই পড়লে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নতুন এবং ভিন্নভাবে ভাবার ব্যাপক উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়। বই মানুষের চিন্তাধারার পরিধি বাড়ায়, কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটায় এবং সমানুভূতি তৈরি করে, যা জীবনের সমস্যাগুলোকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে শেখায়। বই– ভিন্ন সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং দর্শনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়, যা পুরনো ধারণা ভেঙে নতুনভাবে চিন্তা করতে শেখায়। কল্পনায় নতুন দৃশ্য তৈরি করতে বাধ্য করে, সৃজনশীলতা বাড়ায়।

৭. ‘আমি আমার নিজের আবেগ সম্পর্কে সচেতন’।
সারা দিনের অনুভূতি লক্ষ করা প্রয়োজন। ‘আমি কেমন অনুভব করছি?’– নিজেকে দিনে কয়েকবার এই প্রশ্নটি করা। কোনও তীব্র প্রতিক্রিয়ার আগে কিছুটা সময় নেওয়া এবং নিজের আবেগের কারণটি বোঝার চেষ্টা করা জরুরি। কোনও কিছু ভুল হলে খুব রেগে যাওয়া অথবা হতাশ হয়ে পড়া ঠিক নয়। সেই সঙ্গে অন্যের আবেগ বোঝারও প্রয়োজন আছে।
৮. ‘আমি প্রায়শই প্রকৃতির সাথে একাত্মতা অনুভব করি’।
প্রকৃতির সাথে একাত্মতা অনুভব করতে নিয়মিত প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানো দরকার। খালি পায়ে ঘাসে হাঁটা, গাছ লাগানো, বাগান করা কেবল গাছের যত্ন নেওয়া নয়, এটি মাটির সাথে সরাসরি সম্পর্ক তৈরি করে এবং মানসিক প্রশান্তি যোগায়। ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দূরত্ব রেখে প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যে থেকে প্রাকৃতিক শব্দ, পাখির ডাক, বাতাসের আওয়াজ শুনে বা প্রকৃতির বর্ণ, গন্ধ অনুভব করাতেই মানসিক একাগ্রতা বাড়ে।
৯. ‘আমি বুঝি ব্যক্তিগত জীবন এক বৃহত্তর সত্তার অংশ’।
ব্যক্তিগত জীবন যে একটি বৃহত্তর সত্তা বা মহাজাগতিক চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশ, এই উপলব্ধি আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গভীর। এটি আমাদের আত্মাকে পরমাত্মা বা সমষ্টিগত চেতনার সাথে সংযুক্ত করে, যেখানে মানুষের অস্তিত্ব কেবল দৈহিক নয়, বরং এক উচ্চতর শক্তির অংশ। এই দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের অহংবোধ কমিয়ে, একে অপরের সাথে সংযুক্ত হওয়ার বোধ জাগিয়ে তোলে এবং জীবনের গভীর উদ্দেশ্য খুঁজে পেতে সাহায্য করে।
১০. ‘কিছু মানুষ আছে যাদের আমি কখনওই পছন্দ করব না’।
কিছু মানুষকে পছন্দ না-করা বা তাদের এড়িয়ে চলা কখনো আত্মসম্মান ও মানসিক শান্তির জন্য জরুরি হতে পারে। অহেতুক তর্কে না জড়িয়ে, ভদ্রতা বজায় রেখে, এবং কারও ব্যক্তিত্ব ও তেজকে যারা ভয় পায় বা ঈর্ষা করে, তাদের উপেক্ষা করাই শ্রেয়। এটি অহংকার নয়, বরং নিজের ভালো থাকার জন্য একটি প্রয়োজনীয় সামাজিক দূরত্ব। একজনের ব্যক্তিত্ব বা তেজ যাদের ভেতরের দুর্বলতাকে উত্তেজিত করে, তারা কখনও তাকে পছন্দ করবে না। আসলে সবাই, সবাইকে ভালোবাসে না।
১১. ‘আমি যে ক্ষতিগুলো থেকে ভুগেছি, তার ফলে আরও পরিণত হয়েছি’।
জীবনে ঘটে যাওয়া ক্ষতি, কষ্ট বা ভুলগুলো মানুষকে অভিজ্ঞ করে তোলে এবং মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী বা পরিণত করে তোলে। এই অভিজ্ঞতা আমাদের জীবনের মানে বুঝতে, নতুন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে এবং নৈতিক আঘাত থেকে বেরিয়ে এসে আরও স্থিতিশীল হতে সাহায্য করে। কঠিন সময় পার করার পর মানুষ সাধারণত আগের চেয়ে বেশি ধৈর্যশীল এবং শান্ত হয়, মানসিক দৃঢ়তা বাড়ে।
১২. ‘আমি সবসময় একটি সমস্যার সব দিক দেখার চেষ্টা করি’।
অনেক সময় আমরা শুধু নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিষয়টিকে দেখি, ফলে অন্যের উদ্দেশ্য বা পরিস্থিতি বুঝতে ভুল হতে পারে। সব দিক দেখলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসে। সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করতে পারলে সেটি স্থায়ীভাবে সমাধান করা সম্ভব হয়। অন্যথায় ভুল সমাধানের কারণে সমস্যাটি আবার ফিরে আসতে পারে। আবেগতাড়িত হয়ে বা হঠকারী সিদ্ধান্তে ঝাঁপিয়ে না পড়ে শান্তভাবে সব দিক বিশ্লেষণ করলে অহেতুক দুশ্চিন্তা ও আতঙ্ক কমে যায়। একটি সমস্যাকে বিভিন্ন কোণ থেকে দেখলে নতুন নতুন এবং সৃজনশীল উপায়ে তা সমাধানের পথ খুলে যায়।

উপরের বিবৃতিগুলোর ভিত্তিতে বিজ্ঞানীদের যে পরিসংখ্যান তৈরির আয়োজন, আর তার ভিত্তিতে আপনার আমার জ্ঞানের পরিমাপ করা বা মূল্যায়ন করার এক খেলা খেলব বলেছিলাম। এখন আমি মত বদলেছি। আজ আমরা খেলাটি খেলব না।
আজকের দিনে আমরা শেষপর্যন্ত বিজ্ঞানকেই আঁকড়ে ধরতে চাইছি সবচেয়ে বেশি করে। এ যেন আমাদের এখনকার ‘আইন আদালত‘। আসলে এই খেলা সত্যিকারের সমস্যাজনক। কারণ জ্ঞানী ব্যক্তিরা নিজেদের ভুল স্বীকার করতে অভ্যস্ত। তাই বিনয় ও নম্রতাবশত তাঁরা নিজেদেরকে সেইসব মানুষের চেয়ে কম নম্বর দিতে পারেন, যাঁরা, সক্রেটিসের ভাষায় অন্যভাবে বলতে হয়– জানেই না যে, তারা কিছু জানে না।

অন্যদিকে আরও একটা জিনিস মাথায় চেপে বসেছে। আজকাল জগতে অনেক কাজ আছে যেগুলো আমাদের সবার পছন্দ নয়, যেগুলোকে আমরা খারাপ কাজ বলি। সেই খারাপ কাজগুলো, সে অসৎ বাণিজ্য, মানুষের অনিষ্ট করা, মারামারি, যুদ্ধ, যাই হোক, সেগুলোকে ‘সফল’ করতে হলেও সুগভীর জ্ঞান, উপলব্ধি, অভিজ্ঞতা, তীক্ষ্ণ বুদ্ধি বা সঠিক বিচারবোধের সঙ্গে কাজ করা ছাড়াও তো কোনও উপায় নেই। অতএব, কারও কিন্তু জ্ঞানের কোনও অভাব নেই। তবে, সব জ্ঞানের নাম ‘প্রজ্ঞা’ নয়।
…পড়ুন অল্পবিজ্ঞান-এর অন্যান্য পর্ব…
পর্ব ২৬: আয় ঘুম যায় ঘুম
পর্ব ২৫: ধুলোবালির পর বালিধুলো
পর্ব ২৪: তালাচাবির বন্ধুত্ব
পর্ব ২৩: বেঁধে থাকা বেঁধে রাখা
পর্ব ২২: এই দুনিয়া ঘোরে বনবন বনবন
পর্ব ২১: শরীরের ক্যানভাসে আঁকা শিল্প
পর্ব ২০: বিজ্ঞান পরিবেশনা ও মিউজিয়ামের অজানা গল্প
পর্ব ১৯: মরণের পরেও, এই পৃথিবীর জন্য আপনি রইলেন
পর্ব ১৮: মন রে কৃষিকাজ জানো না
পর্ব ১৭: গুপ্তধন কিম্বা লুপ্তধন
পর্ব ১৬: ছবির শরীর, শরীরের ছবি
পর্ব ১৫: মাপ করুন, সৃষ্টিশীলভাবে!
পর্ব ১৪: মাপের ভুলভাল, পাগলের মাপজোখ
পর্ব ১৩: শব্দ কল্প দ্রুম
পর্ব ১২: হ্যালো, তুমি শুনতে পাচ্ছ কি?
পর্ব ১১: ‘শব্দ’ শুধুই আওয়াজ নয়
পর্ব ১০: শিল্পকলায় বিষ্ঠা মানে ব্যঙ্গ, বিদ্রুপ অথবা প্রতিবাদ
পর্ব ৯: বাস্তব আর ভার্চুয়ালের সীমান্তে দাঁড়িয়ে হাইব্রিড আর্ট প্রশ্ন করতে শেখায়– শিল্প কী?
পর্ব ৮: মগজে না ঢুকলে শিল্পও আবর্জনা
পর্ব ৭: ছবির অসুখ-বিসুখ, ছবির ডাক্তার
পর্ব ৬: বিসর্জনের মতোই একটু একটু করে ফিকে হয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর রং ও রূপ
পর্ব ৫: জীবন আসলে ক্যালাইডোস্কোপ, সামান্য ঘোরালেই বদলে যায় একঘেয়ে নকশা
পর্ব ৪: কুকুরেরই জাত ভাই, অথচ শিয়াল সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি?
পর্ব ৩: অন্ধকারে অল্প আলোর মায়া, ফুরয় না কোনওদিন!
পর্ব ২: বজ্রবিদ্যুৎ ভর্তি আকাশে ঘুড়ি উড়িয়ে আমাদের চিরকালের নায়ক হয়ে আছেন বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved