Robbar

অবলুপ্তির দোরগোড়ায় বনরুই

Published by: Robbar Digital
  • Posted:February 20, 2026 8:59 pm
  • Updated:February 20, 2026 8:59 pm  

বিশ্বে যেসব স্তন্যপায়ী প্রাণীদের চোরাচালান করা হয় তাদের মধ্যে সর্বাধিক চালান করা হয় প্যাঙ্গোলিন, জীবিত ও মৃত দুই অবস্থাতেই। আসলে এদের শরীর যে কেরাটিন দিয়ে তৈরি আঁশে ঢাকা, সেই আঁশের চোরাবাজারে বাজার মূল্য অনেক। মুলত চিন ও ভিয়েতনামে সবথেকে বেশি পাচার করা হয় প্যাঙ্গোলিনের দেহাংশ ও আঁশ। এইসব দ্রব্য বিশেষ ধরনের ওষুধ তৈরির প্রধান উপাদান হিসাবে ব্যবহার করা হয়, এছাড়াও উত্তর-পূর্ব ভারতে গুপ্ত তন্ত্র সাধনায় এইসব জিনিসের বিশেষ চাহিদা রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। শুধু এই নয় প্যাঙ্গোলিনের মাংসের স্বাদের এবং ঔষধিগুণের জন্য চাহিদা আছে বাজারে। আর এই চাহিদা পূরণের তাগিদে বহু অসাধু মানুষ সামান্য অর্থের লোভে এই নিরীহ প্রাণীটি হত্যায় শামিল হয়েছে।

অমর কুমার নায়ক

প্রকৃতি তাঁর সন্তানদের নানা উপহার দিয়েছেন সৃষ্টির শুরু থেকে। এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে সবার কিছু না কিছু বিশেষ ক্ষমতা আছে। আজ এমন এক প্রাণী নিয়ে কথা বলব, যে-প্রাণীটির শরীরের গঠন যেমন তার সবথেকে বড় ক্ষমতা, তাই-ই আজ তার দুর্বলতার কারণও। বনরুই এমন এক প্রাণী, যার সারা শরীর শক্ত আঁশে ঢাকা। সামান্যতম বিপদের আশঙ্কা করলে সে নিজেকে গুটিয়ে-পাকিয়ে নিতে পারে। আর তার শক্ত আঁশের আবরণ ভেদ করে ক্ষতি করে এমন ক্ষমতা নেই কোনও শক্তিশালী শিকারিরও। কিন্তু এই আঁশের জন্যই আজ সে মহাবিপন্ন।

একটা সময় ছিল যখন গ্রামবাংলায় নানা জীবের বাস ছিল মানুষের বসতির কাছাকাছি। কখনও কখনও উভয়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ হত। কিন্তু উভয়পক্ষই নিজের নিজের ডেরায় ফিরে যেত নিরাপদে। কিন্তু আজকের দিন বড়ই ভয়ানক। মানুষ তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষী চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে সরে এসেছে প্রকৃতি থেকে। লোভ আর স্বার্থের বশে বশীভূত হয়ে তাঁর আশপাশে বাস করা না-মানুষদের ভিটেমাটি ছাড়া করেছে।

বনবিড়াল, খেঁকশিয়াল আর গোসাপের মতোই বনরুই প্রাণীটিও আমাদের গ্রামাঞ্চলে মাঠেঘাটে অল্প জঙ্গলে বাস করত একসময় নিরাপদে নিশ্চিন্তে। কিন্তু এক ধারাবাহিক ও নিরবচ্ছিন্ন উচ্ছেদের ফলে আর অত্যধিক চোরাচালান ও শিকারের চাপে এই প্রাণীটি আজ আর দেখা যায় না একেবারেই। বনরুই স্বভাবে নিশাচর এবং গর্তবাসী, তাই এদের দেখা মেলা ভার। কিন্তু তাহলেও আগে দেখা যেত প্রাণীটিকে। কিন্তু বিগত প্রায় দুই-তিন দশক ধরে এরা হারিয়ে গিয়েছে গ্রামবাংলা থেকে। এখন কয়েকটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ হয়ে আছে এদের বাসস্থান। এই অবস্থা শুধু আমাদের এখানে নয়, সারা দেশে, এমনকী, সমগ্র বিশ্বব্যাপী যেসব দেশে এদের পাওয়া যেত, সর্বত্রই এদের অবস্থা বেশ উদ্বেকজনক। বর্তমানে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংগঠন থেকে এদের সংরক্ষণের প্রয়াস চালানো হচ্ছে, কিন্তু তার মধ্যেও খবর আসে এদের চোরাশিকারের, চোরাচালানের এবং দেহাংশ পাচারের। দুর্ভাগ্যের কথা, বিশ্বব্যাপী যত স্তন্যপায়ী প্রাণীদের চোরাচালান চালানো হয়, তাদের মধ্যে অন্যতম এই বনরুই।

বনরুই চোরাশিকার এবং দেহাংশ পাচার চলছে অবাধে

গ্রামবাংলা থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়া এই প্রাণীটি বিশ্বব্যাপী অবলুপ্তির দোরগোড়ায় এসে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা আই.ইউ.সি.এন-এর লাল তালিকা অনুযায়ী এরা আজ ‘বিপন্ন’। আগামিদিনে এদের সুরক্ষিত করতে বিশ্বের বিভিন্ন বন্যপ্রাণ সংরক্ষণকামী সংগঠন প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসের তৃতীয় শনিবার ‘ওয়ার্ল্ড প্যাঙ্গোলিন ডে’ পালন করে বিশ্বব্যাপী। বিশেষ দিন পালনের মধ্যে দিয়ে এই প্রাণীটি রক্ষা করার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয় প্রতিটি প্রান্তে। কিন্তু কেন এই প্রাণীটিকে এত বেশি চোরাচালান করা হয় আর কেনই বা এদের চোরাশিকার করা হয়– এই প্রশ্ন আসে মনে, তবে সেসব আলোচনার আগে জেনে নেওয়া যাক এই বিশেষ প্রাণীটির সম্পর্কে।

আমরা যাদের বনরুই বলে চিনি, তাদের ইংরেজি নাম ‘ইন্ডিয়ান প্যাঙ্গোলিন’ বা ‘স্কেলি অ্যান্টইটার’। এদের বিজ্ঞান সন্মত নাম ম্যানিস ক্র্যাসিকডাটা। এরা ম্যানিডি পরিবারের সদস্য। ভারতে ইন্ডিয়ান প্যাঙ্গোলিনের সঙ্গে চাইনিজ প্যাঙ্গোলিনও পাওয়া যায়। এরা ইন্ডিয়ান প্যাঙ্গোলিনের থেকে আকারে সরু, ছোট এবং ছোট ও গাঢ় রঙের আঁশযুক্ত। এই দুই প্যাঙ্গোলিনেরই চোরাশিকার করা হয়। ইন্ডিয়ান প্যাঙ্গোলিন লম্বায় ৬০-৭০ সেমি এবং ৯-১১ কেজি ওজনবিশিষ্ট এই প্রাণীটির সারা শরীর শক্ত আঁশে ঢাকা থাকে এবং আঁশের ফাঁকে লোম দেখা যায়। এদের গায়ের রং লালচে ধূসর। মুখ সরু, দাঁত নেই এবং আঠালো লম্বা জিভ থাকে। এদের সামনের পায়ের নখের সাহায্যে এরা উইঢিবি এবং পিঁপড়ের বাসা ভাঙে আর এই দুই পায়ের সাহায্যেই বাসা বানানোর জন্য ৮-১২ফিট অবধি গর্ত বানায়। সামান্য বিপদের আশঙ্কা করলে মুখ পেটের দিকে ঢুকিয়ে লম্বা লেজ মাথা অবধি এনে বলের মতো পাকিয়ে নেয় শরীর। বিরক্ত হলে হিস্‌হিস্‌ আওয়াজ করে। এরা যেখানে বাস করে, তার আশপাশে সাধারণত ছোট ছোট ঝোপঝাড় থাকে। পাথরের খাঁজের নিচেও বাসা বানায়। এরা খুব ধীরেসুস্থে চলাফেরা করে এবং মাঝেমাঝেই পিছনের পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। এমনিতে একাকী জীবনযাপন করলেও প্রজননের সময় জোড়ায় গর্তে বাস করে এবং একটি বা দু’টি বাচ্চার জন্ম দেয়।

প্রাচীন বইয়ের ছবিতে প্যাঙ্গোলিন

এদের প্রায় সারা ভারতেই পাওয়া যায়, একমাত্র শুষ্ক মরুভূমি অঞ্চল এবং হিমালয়ের উঁচু এলাকা ছাড়া। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান, বাঁকুড়া, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর ২৪ পরগনা থেকে এদের পাওয়া গিয়েছে। উত্তরবঙ্গে জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, দার্জিলিং, কালিম্পং প্রভৃতি জায়গা থেকে পাওয়া গেলেও, এক্ষেত্রে দ্বিমত আছে কারণ অনেকেই এগুলিকে ‘চাইনিজ প্যাঙ্গোলিন’ মনে করেন। তবে বর্তমানে পুরুলিয়ার বেশ কয়েকটি নির্দিষ্ট জায়গায় এদের দেখা পাওয়া গিয়েছে (ট্র্যাপক্যামেরার ছবি অনুযায়ী)।

পরিবেশে এদের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এরা গর্ত খুঁড়ে মাটিতে বিভিন্ন জৈব উপাদান, জল এবং বাতাসের আদানপ্রদানে সাহায্য করে তাই পরিবেশবিদরা এদের ‘ইকোসিস্টেম ইঞ্জিনিয়র’ আখ্যা দিয়েছেন। এরা প্রকৃতিতে উইপোকা ও পিঁপড়ের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। শুধু এই নয়, খাদ্য ও খাদক শৃঙ্খলে এদের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। তাই সার্বিকভাবে এদের সমাজের জন্য উপকারী প্রাণী বলা যায়।

বিশ্বে যেসব স্তন্যপায়ী প্রাণীদের চোরাচালান করা হয় তাদের মধ্যে সর্বাধিক চালান করা হয় প্যাঙ্গোলিন, জীবিত ও মৃত দুই অবস্থাতেই। আসলে এদের শরীর যে ‘কেরাটিন’ দিয়ে তৈরি আঁশে ঢাকা, সেই আঁশের চোরাবাজারে বাজার মূল্য অনেক। মুলত চিন ও ভিয়েতনামে সবথেকে বেশি পাচার করা হয় প্যাঙ্গোলিনের দেহাংশ ও আঁশ। এইসব দ্রব্য বিশেষ ধরনের ওষুধ তৈরির প্রধান উপাদান হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও উত্তর-পূর্ব ভারতে গুপ্ত তন্ত্র-সাধনায় এইসব জিনিসের বিশেষ চাহিদা রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

শুধু এই নয়, প্যাঙ্গোলিনের মাংসের স্বাদ এবং ঔষধিগুণের জন্য চাহিদা আছে বাজারে। আর এই চাহিদা পূরণের তাগিদে বহু অসাধু মানুষ সামান্য অর্থের লোভে এই নিরীহ প্রাণীটির হত্যায় শামিল হয়েছে। ভারতে এদের সুরক্ষার জন্য উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছে ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড’ (WWF) ও ট্র্যাফিক (TRAFFIC) সংস্থা দু’টি। এদের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০৯-’১৭ অবধি ভারতে প্রায় ৫৭৭২টি প্যাঙ্গোলিনকে চোরাচালান ও শিকার করা হয়েছে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে ‘কনভেনশন অন ইন্টারন্যাশানাল ট্রেড ইন এনডেঞ্জার্ড স্পিসিস অফ ওয়াইল্ড ফনা অ্যান্ড ফ্লোরা’ (CITES), ২০১৬ সালে বিশ্বব্যাপী পাওয়া যায় এমন মোট আটটি প্রজাতিকে অ্যাপেন্ডিক্স-১ এ সর্বোচ্চ সুরক্ষা প্রদানের সুপারিশ দেয় এবং এদের নিয়ে সমস্থ বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যকে নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করে। ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড ও ট্র্যাফিকের ২০১৮-’২২ অবধি রিপোর্ট অনুযায়ী, ১২০৩টি প্যাঙ্গোলিন চোরাচালান উদ্ধার করে। এর মধ্যে ১৯৯টি জীবিত এবং ৮৮০ কেজি শরীরের অংশ উদ্ধার করা হয়। এখনও অবধি ওড়িশা থেকে সবথেকে বেশি জীবিত প্যাঙ্গোলিন উদ্ধার করা হয়েছে। এদের সংরক্ষণের দায়িত্ব নন্দনকানন জুওলজিক্যাল পার্কের। কিন্তু দুঃখের কথা এই যে, এরপরেও প্রায়ই বিভিন্ন মাধ্যমে খবর আসে যে নানা জায়গা থেকে জীবিত প্যাঙ্গোলিন বা দেহাবশেষ উদ্ধার হচ্ছে।

২০২৩ সালে ‘ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া’ (WTI) ‘কাউন্টারিং প্যাঙ্গোলিন ট্র্যাফিকিং প্রোজেক্ট’-এর সূচনা করে। এই প্যাঙ্গোলিন সংরক্ষণ সম্পর্কে কয়েকটি নির্দিষ্ট সংস্থার মতোই সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই জীবটি সম্পর্কে জানাতে এবং এর সংরক্ষণের দাবিকে জোরালো করতে প্রতি বছর বিশেষ দিন হিসাবে ‘ওয়ার্ল্ড প্যাঙ্গোলিন ডে’ পালন করা হয়। ২০২৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এই দিনটি পালিত হল বিশ্বজুড়ে। ‘প্যাঙ্গোলিন ক্রাইসিস ফান্ড’ এই ব্যাপারে উদ্যোগী। পশ্চিমবঙ্গেও প্যাঙ্গোলিন সুরক্ষার জন্য বেশ কিছু কাজ করা হচ্ছে। যেমন ২০২১ থেকে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলাগুলিতে চলা ‘ওয়েস্টবেঙ্গল জ্যু অথারিটি’র (WBZA) প্রকল্প, ২০২৪ থেকে পুরুলিয়া জেলায় চলা ‘হিউম্যান অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অ্যালায়েন্স লিগ’-এর (HEAL) প্রকল্প এবং ‘আশোকা ট্রাস্ট ফর রিসার্চ ইন ইকোলজি অ্যান্ড দ্য এনভায়রনমেন্ট’ (ATREE)-এর উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে চলা প্রকল্প।

২০২৩ সালে ‘ওয়ার্ল্ড প্যাঙ্গোলিন ডে’ উপলক্ষে একটি আলোচনা চক্র, সচেতনতা ও ছবি আঁকা এবং প্রবন্ধ লিখন (বিষয়: বনরুই) প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়েছিল দুর্গাপুর গভর্নমেন্ট কলেজে। ২০২৪ সালে অনলাইনে পোস্টার তৈরি ও কুইজ (বনরুই সম্পর্কে) প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়। ২০২৪ সালে দার্জিলিংয়ে ‘প্যাঙ্গোলিন রিসার্চ ইন দ্য হিমালয়া’ নামে একটি আলোচনা চক্রের আয়োজন করা হয়েছিল ATREE-এর উদ্যোগে। ২০২৫ সালে বাঁকুড়া ক্রিশ্চিয়ান কলেজ ও পুরুলিয়া নিস্তারিণী কলেজে প্যাঙ্গোলিনের ওপরে সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিল।

১৯ শতকের এনগ্রেভিং ছবিতে বনরুই

২০২৬ সালের মূল ভিত্তি বিষয় হল ‘যে প্রজাতির অস্তিত্ব সম্পর্কে আপনি জানেন না, তাকে রক্ষা করতে পারবেন না’– কথাটি সঠিক। যেকোনও প্রজাতিকে রক্ষা করতে গেলে আগে সেই প্রজাতিটি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। সচেতনতাই বদলে দিতে পারে এই প্যাঙ্গোলিনদের বর্তমান অবস্থা। সাধারণ মানুষ সচেতন হয়ে উঠলে রুখে দেওয়া যেতে পারে চোরাচালানের অসাধু প্রয়াসকে। তাই যেকোনও প্রজাতির সংরক্ষণের জন্য প্রথম প্রয়োজন সেই প্রজাতি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে তোলা। এছাড়াও এদের আরও দু’টি সমস্যা হল আবাসস্থল নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং বর্তমানে কীটনাশক ও রাসায়নিকের ব্যবহারের ফলে পিঁপড়ে এবং উই– যা কি না বনরুইয়ের মূল আহার্য উপাদান, তাই-ই হারিয়ে যেতে বসেছে। তবুও আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে বনরুই আমরা বাঁচাবই।