
আজ যখন পৃথিবী জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সংকটের মুখোমুখি, তখন বিরুটে গ্যাল্ডিকাসের কাজ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। গ্যাল্ডিকাসের মতে, শুধু মাঠ-পর্যায়ের কাজ যথেষ্ট নয়– রাজনীতি ও কর্পোরেট ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা জরুরি। তিনি বলেন, পৃথিবীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো না-বদলালে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। বিরুটে গ্যাল্ডিকাসের বক্তব্য আমাদের এক গভীর সত্যের সামনে দাঁড় করায়– প্রকৃতি রক্ষা করা মানে শুধু প্রাণী রক্ষা নয়, মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষা করা। তিনি আমাদের শেখান– সংরক্ষণ আমাদের দায়িত্ব।
ঘন, স্যাঁতসেঁতে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অরণ্য। মাথার ওপর জটপাকানো গাছের ছাউনি, ঘন সবুজ পাতার ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো পড়ছে মাটিতে। তৈরি হয়েছে কোথাও কোথাও আলো-ছায়ার বুনন। চারপাশে পাখির ডাক, পোকামাকড়ের ঝিমধরা শব্দ, আর কোথাও এক অদৃশ্য উপস্থিতির অনুভূতি। দূরে কোথাও ডালে দুলছে এক লালচে-বাদামি ওরাংওটাং– শান্ত, ধীর, অথচ গভীরভাবে সচেতন। মানুষের নিকটাত্মীয়। কিন্তু মানব সভ্যতার সবচেয়ে বড় শিকারদের একজন। এই নীরব জগতেরই এক নিবেদিতপ্রাণ বিরুটে গ্যাল্ডিকাস– একজন নারী, যিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন ওরাংওটাং-দের জন্য। যার জীবন-কাহিনি যেন এক দীর্ঘ, অনমনীয় ভালোবাসার উপাখ্যান।

বিরুটে গ্যাল্ডিকাসের জন্ম ১৯৪৬ সালে। গ্যাল্ডিকাসের শৈশব কেটেছে প্রকৃতির প্রতি গভীর টান নিয়ে। প্রকৃতি তাঁকে ডাকত– বইয়ের পাতা থেকে, জানলার বাইরের গাছ থেকে, কিংবা কোনও অজানা প্রাণীর গল্প থেকে। ছয় বছর বয়সী বিরুটে লাইব্রেরি থেকে এনে পড়লেন প্রথম বই– ‘Curious George’।
একটা দুষ্টু বানর আর হলুদ টুপি পরা একজন মানুষ– এই গল্পটাই বদলে দিল তাঁর জীবন। ছোটবেলাতেই বিরুটে বুঝতে শিখেছিলেন, মানুষ একা নয়; মানুষ একটি বৃহত্তর জীবজগতের অংশ। তিনি বুঝেছিলেন– মানুষের বাইরেও একটি বিশাল, সংবেদনশীল জীবজগৎ আছে, যাদের গল্প শোনা এবং বোঝা একান্ত জরুরি। গ্যাল্ডিকাস বলেন, ছোটবেলা থেকেই তাঁর কৌতূহল ছিল– মানুষ কোথা থেকে এসেছে, আমাদের পূর্বপুরুষ কারা। আকাশের দিকে তাকিয়ে তিনি ভাবতেন, ‘আমরা আসলে কে?’ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বুঝতে পারেন, মানুষের উৎস প্রাইমেটদের মধ্যেই নিহিত। এই উপলব্ধিই তাঁকে টেনে নিয়ে যায় প্রাইমেটোলজির জগতে– যেখানে মানুষের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ প্রাণী-আত্মীয়দের নিয়ে গবেষণা করা হয়।

১৯৬৪ সালে বিরুটে ও তাঁর পরিবার কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। গ্যাল্ডিকাস ইতিমধ্যেই ভ্যাঙ্কুভারের ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একবছর পড়াশোনা করেছিলেন। এরপর তিনি লস অ্যাঞ্জেলসের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৬৬ সালে মনোবিজ্ঞান ও প্রাণিবিদ্যায় স্নাতক এবং ১৯৬৯ সালে নৃতত্ত্বে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তাঁকে মুখোমুখি হতে হয়েছে তীব্র লিঙ্গবৈষম্যের। যদিও অনেক নারী শিক্ষার্থী ভালো ফল করতেন, তবুও অধিকাংশ শিক্ষক ছিলেন পুরুষ। সুযোগ-সুবিধাও ছিল পুরুষদের হাতে। তিনি বলেন, একজন নারী হিসেবে সফল হতে হলে ‘অন্যদের সমান নয়, বরং তাদের চেয়েও বেশি ভালো হতে হয়।’

বিরুটে গ্যাল্ডিকাস স্বপ্ন দেখেছিলেন ওরাংওটাং-দের নিয়ে গবেষণা করবেন। কিন্তু স্বপ্ন থাকলেই তো পথের হদিশ মেলে না– পথ দেখানোর জন্য দরকার একজন পথপ্রদর্শকের। গ্যাল্ডিকাসের জীবনে সেই মানুষটি ছিলেন লুই লিকি। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন গবেষণারত শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি প্রথম কেনিয়ার বিখ্যাত নৃতত্ত্ববিদ লুই লিকি-র সঙ্গে পরিচিত হন। লিকি বিশ্বাস করতেন, মানুষের বিবর্তন বুঝতে হলে আমাদের নিকটাত্মীয় প্রাইমেটদের গভীরভাবে জানতে হবে। বিরুটে তাঁর কাছে ওরাংওটাং-দের নিয়ে গবেষণার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু প্রথমে খুব একটা গুরুত্বই দেননি লিকি। কিন্তু গ্যাল্ডিকাস হাল ছাড়েননি। শেষ পর্যন্ত তিন বছর পর অর্থের ব্যবস্থা হয়। গ্যাল্ডিকাস পাড়ি জমান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রহস্যময় অরণ্যঘেরা বোর্নিও দ্বীপে– এক অজানা অভিযানের পথে।

১৯৭১ সালে বিরুটে গ্যাল্ডিকাস পৌঁছন ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও-র তানজুং পুটিং-এ। সেখানে না ছিল রাস্তা, না বিদ্যুৎ, না নিয়মিত যোগাযোগ। শুধু ছিল জলাভূমি, গভীর জঙ্গল, আর একদম অদৃশ্য হয়ে থাকা ওরাংওটাং। অনেকে তখনই বলে দিয়েছিলেন, বন্য পরিবেশে ওরাংওটাং-দের নিয়ে গবেষণা করা অসম্ভব তাঁর পক্ষে। কারণ, তারা অত্যন্ত দুর্লভ ও সতর্ক স্বভাবের, এবং প্রায় সম্পূর্ণ সময়ই গভীর জলাভূমির মধ্যে বসবাস করে। কিন্তু সীমিত অর্থায়ন ও অপ্রতুল পরিকাঠামো সত্ত্বেও, ১৯৭১ সালে ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিওর দূরবর্তী পিট সোয়াম্প অরণ্যে বিরুটে তৈরি করলেন ‘ক্যাম্প লিকি’– তাঁর মেন্টরের নামে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই কেন্দ্রটি বন্য স্তন্যপায়ী প্রাণীদের উপর গবেষণার ক্ষেত্রে বিশ্বের দীর্ঘতম সময় ধরে চলা ফিল্ড সাইটগুলির মধ্যে অন্যতম হয়ে ওঠে। সেখান থেকেই শুরু হল বিরুটে গ্যাল্ডিকাস-এর ওরাংওটাং-দের জীবন নিয়ে দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ।
বোর্নিওর অরণ্য শুধু গবেষণার ক্ষেত্র নয়, এটি এক জীবন্ত, স্পন্দিত সত্তা। সেখানে টিকে থাকতে হলে শুধু বিজ্ঞান জানলেই হয় না, জানতে হয় সহাবস্থানের ভাষা। বোর্নিওর অরণ্যই হয়ে উঠেছিল বিরুটে গ্যাল্ডিকাস-এর ঘর। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর তিনি কাটিয়েছেন এই অরণ্যে। পর্যবেক্ষণ করেছেন ওরাংওটাং-দের প্রতিটি আচরণ, অভ্যাস ও সম্পর্ক।

ওরাংওটাংরা নিঃসঙ্গ, ধীরস্থির এবং অত্যন্ত বুদ্ধিমান প্রাণী। ওরাংওটাং-দের জীবন মন্থর। তারা দলবদ্ধভাবে নয়, একাকী থাকতে পছন্দ করে। গাছের ডালেই ঘর বানায়। মূলত ফলভোজী। ৪০০-রও বেশিরকম খাবার খায় তারা। গ্যাল্ডিকাস ওরাংওটাংদের সামাজিক সংগঠন ও প্রজনন পদ্ধতিও ব্যাখ্যা করেন। প্রায় ৬-৮ বছর ধরে মায়েরা সন্তানকে আগলে রাখে, শেখায় গাছে ওঠা, খাবার খোঁজা, বাঁচার কৌশল। এই দীর্ঘ মাতৃত্বের সময়কাল প্রাণীজগতে বিরল– এ যেন মানবসমাজেরই প্রতিচ্ছবি। তারা একাকী হলেও স্ত্রী-প্রাণীরা সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখে। তারা জটিল সামাজিক সম্পর্ক বুঝতে সক্ষম। একটি উদাহরণ হিসেবে বিরুটে জানিয়েছেন– দু’টি প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী ওরাংওটাং বহু বছর পর দেখা হলে হাত ধরে। পরে বোঝা যায়, তারা মা ও মেয়ে। এই স্মৃতি ও সম্পর্ক চিনতে পারার ক্ষমতা তাদের অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়। গ্যাল্ডিকাসের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়ে এই গভীর আবেগের জগৎ– যেখানে একটি প্রাণীর জীবন শুধু প্রবৃত্তি নয়, সম্পর্ক, স্মৃতি ও শিক্ষার সমন্বয়। গ্যাল্ডিকাস দেখিয়েছেন, এই প্রাণীদের সামাজিক ও আবেগতাড়িত জীবন কতটা গভীর– যা আমাদের নিজেদের মানবিক সম্পর্ককেও নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। গ্যাল্ডিকাস ওরাংওটাং-দের শুধুই দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করেননি, তাদের জীবনের সঙ্গে নিজের জীবন যোগ করে নিয়েছিলেন। বৃষ্টির মধ্যে, কাদামাটির পথে, জোঁকের কামড়ে, অসুস্থতার ঝুঁকিতে– সবকিছুর মধ্যেই বিরুটে গ্যাল্ডিকাস ছিলেন অবিচল। চার বছর পর National Geographic-এ তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। সেই প্রথম গোটা পৃথিবী জানতে পারে ওরাংওটাং-দের কথা।

জেন গুডঅল দেখেছিলেন উই ধরার জন্য শিম্পাঞ্জিরা পাতা ছিঁড়ে বা বেঁকিয়ে নিয়ে ঘাসের ডাঁটি বা গাছের ডালকে বানিয়ে নেয়, ঠিক ছুরির মতো। ঠিক এমনই এক যন্ত্র-তৈরির মুহূর্ত বিরুটে গ্যাল্ডিকাসের লেখায় ধরা পড়েছে– এক পূর্ণবয়স্ক ওরাংওটাং একটি আয়রনউড গাছের ডালে বসে অন্য একটা ডাল ছিঁড়ে, সেটিকে বাঁকিয়ে পিঠ চুলকানোর কাজ করছিল। একটি শিশু ওরাংওটাং অন্য একটি ডালের ভাঙা অংশ নিয়ে মৌমাছি তাড়াতে ব্যস্ত। বিরুটের কথায়, ‘Orangutans never cease to astonish me. After 43 years, I still find them fascinating’।

কিন্তু এই গল্প শুধুই আবিষ্কারের নয়, এটি একটি সংগ্রামেরও গল্প। এই শান্ত জগতের ওপর ধীরে ধীরে নেমে আসে বিপদের ছায়া। বোর্নিও-এর জঙ্গল উজাড় হচ্ছে পাম অয়েল চাষের জন্য, অবৈধ শিকার চলছে অবিরাম। ওরাংওটাং-দের আবাসস্থল ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। সব মিলিয়ে ওরাংওটাং-দের অস্তিত্ব আজ সংকটের মুখে। এই বাস্তবতা গ্যাল্ডিকাসকে শুধু গবেষক হিসেবে নয়, একজন কর্মী হিসেবেও দাঁড় করায়। তিনি শুধু পর্যবেক্ষক হয়ে থাকতে পারেন না। তিনি হয়ে ওঠেন একজন রক্ষক, একজন সংগ্রামী।
১৯৮৬ সালে ‘ক্যাম্প লিকি’র কাজ এবং বিশ্বজুড়ে ওরাংওটাং সংরক্ষণকে সমর্থন করতে বিরুটে গ্যাল্ডিকাস ও তাঁর সহকর্মীরা প্রতিষ্ঠা করেন Orangutan Foundation International। একটি সংস্থা, যা শুধু গবেষণা নয়, যার মাধ্যমে আহত ও অনাথ ওরাংওটাং-দের পুনর্বাসন, বন সংরক্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করা হয়। তাঁর প্রচেষ্টায় বহু ওরাংওটাং আবার ফিরে পেয়েছে তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল। অনাথ ওরাংওটাং-দের লালন-পালন করে আবার অরণ্যে ফিরিয়ে দেওয়া– এই কাজ যেন এক নিঃশব্দ পুনর্জন্মের গল্প।

গ্যাল্ডিকাসের পথ সহজ ছিল না। একজন নারী হিসেবে, বিশেষ করে সেই সময়ে, এমন দুর্গম অঞ্চলে একা কাজ করা ছিল প্রায় অকল্পনীয়। প্রতিকূল পরিবেশ, সীমিত সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে ছিল সামাজিক সংশয়, অবহেলা এবং কখনও কখনও বিরোধিতাও। কিন্তু তিনি থামেননি। সবকিছুকে অতিক্রম করে তিনি নিজের কাজে ছিলেন অবিচল। এই দিক থেকে বিরুটে গ্যাল্ডিকাস শুধু একজন বিজ্ঞানী নন, একজন পথপ্রদর্শকও।
OFI-এর সভাপতি হিসেবে ড. বিরুটে মেরি গ্যাল্ডিকাস মানব ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় ধরে ওরাংওটাং-দের নিয়ে গবেষণা করেছেন। ওরাংওটাং ও তাদের বনভূমিকে রক্ষা করতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন, পাশাপাশি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছেন তাদের দুরবস্থার কথা। ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত বিরুটে গ্যাল্ডিকাস ইন্দোনেশিয়ার বন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৯৭ সালে তিনি ‘কল্পতরু’ পুরস্কার লাভ করেন– যা পরিবেশ সংরক্ষণে অসামান্য নেতৃত্বের জন্য ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ সম্মান। তিনি একমাত্র অ-ইন্দোনেশীয় জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তি এবং প্রথম দিকের নারীদের মধ্যে একজন, যিনি এই সম্মান পান। বহু বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ ও বই লিখেছেন তিনি, যার মধ্যে তাঁর আত্মজীবনী ‘Reflections of Eden’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

গ্যাল্ডিকাসের কাজ আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়– আমরা কি সত্যিই এই পৃথিবীর, আমাদের সহাবস্থানকারী প্রাণীদের প্রতি দায়িত্বশীল? ওরাংওটাং-দের সংকট কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়; এই সংকট আসলে মানুষেরই তৈরি। আর সেই কারণেই এই সংকট থেকে উত্তরণের পথও আমাদের হাতেই। তাঁর গবেষণা আমাদের শেখায়, প্রকৃতিকে কেবল ব্যবহার না করে আমাদের তাকে বুঝতে হবে, সম্মান করতে হবে। একটি প্রজাতি হারিয়ে গেলে, আমরা শুধু একটি প্রাণীকূলকেই হারাই না– হারাই একটি ইতিহাস, একটি সম্ভাবনা, একটি সম্পর্ক।
আজ যখন পৃথিবী জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সংকটের মুখোমুখি, তখন বিরুটে গ্যাল্ডিকাসের কাজ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। গ্যাল্ডিকাসের মতে, শুধু মাঠ-পর্যায়ের কাজ যথেষ্ট নয়– রাজনীতি ও কর্পোরেট ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা জরুরি। তিনি বলেন, পৃথিবীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো না-বদলালে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। বিরুটে গ্যাল্ডিকাসের বক্তব্য আমাদের এক গভীর সত্যের সামনে দাঁড় করায়– প্রকৃতি রক্ষা করা মানে শুধু প্রাণী রক্ষা নয়, মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষা করা। তিনি আমাদের শেখান– সংরক্ষণ আমাদের দায়িত্ব। নারীদের প্রতি তাঁর বিশেষ বিশ্বাস– নারীরা জীবনকে ধারণ করে, তাই ভবিষ্যৎ রক্ষায় তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

বিরুটে গ্যাল্ডিকাসের জীবনের গল্প শুধু একটি বিজ্ঞানীর কাহিনি নয়, এটি এক গভীর মানবিক আহ্বান– প্রকৃতিকে রক্ষা করার, সহাবস্থানের মূল্য বোঝার, এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যাওয়ার। অরণ্যের গভীরে, এক ডালে বসে থাকা ওরাংওটাং হয়তো কিছুই বলে না। কিন্তু তার নীরবতা আমাদের প্রশ্ন করে– আমরা কি তাকে বাঁচতে দেব? আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই, আজও কোথাও এক নারী অরণ্যের পথে হাঁটছেন– অটল, নিরলস, এবং গভীরভাবে মানবিক।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved