Robbar

bengali language

বাংলা ভাষার থেকে আমি কী পেলাম

বাংলা লেখক হিসেবে আমি অনেক বেশি ‘আমি’। বহু চেষ্টা করে শেখা ইংরেজি এখন আর বলতে বা লিখতে ইচ্ছে করে না। বাংলা ভাষা অনেক বেশি নিজের। সেখানে আমার চলাচলের স্বাধীনতা অনেক বেশি। আর ওই হিন্দি উপত্যকা তো আমার দেশই নয়!

→

বাংলা ভাষার থেকে আমি কী পেলাম

সন্তানকে ঘুমপাড়ানি গান শোনাই মারাঠি আর বাংলায়, অফিসে হিন্দি, ওড়িয়া, ইংরেজি, বাড়িতে মারাঠি আর ইংরেজি; নানা ভাষার তির সঞ্চালনায় আমার চিত্তাকাশ আলো-অন্ধকার। এদিকে কবিতার পাশাপাশি যেসব আখ‍্যান-কাহিনি হয়ে গড়ে উঠছে আমার মনের মধ‍্যে, তাদের কোন ভাষায় লেখা যায়, বাংলা ছাড়া?

→

বাংলা ভাষার থেকে আমি কী পেলাম

জীবনের টানে আর কাজের প্রয়োজনে আমি অনেক জায়গায় গেলাম, অনেক মানুষের সঙ্গে মিশলাম, তাদের ভাষা শুনলাম, তাই আমার বাংলা ভাষার মানচিত্রটা অনেকটা বড় হয়ে গেল। এ আমার মস্ত প্রাপ্তি। সঙ্গে সঙ্গে সেই মানচিত্র জটিলও হল, কাঁটাতারের দাগ লেখা হল তার গায়ে, আমার ভাষা রক্তাক্ত হল।

→

বাংলা ভাষার থেকে আমি কী পেলাম

আমি এই ভাষাতেই গল্প-কবিতা-উপন্যাস-চিঠি লিখব। আমি সেই ভাষাতেই তিরস্কার করব, সেই ভাষাতেই সোহাগ-আদর করব। সে কারণে ‘আয় বাবা’ বলে আমার মা আমাকে জড়িয়ে ধরতেন– যেন মনে হত ভাষাই হাত বাড়িয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরছে।

→

‘বাংলা’ নামক এই বিরাট ভূখণ্ডের অসংখ্য রূপভেদকে মেনে নিলে আজ ‘বাংলা ভাষা’-র মৃত্যু ঘোষণা সম্ভব হত না

আসলে বিষয়টা ভাষার নয়। ভাষা এখানে গহীন চিত্রনাট্যের প্রচ্ছদ মাত্র। এবং বড় অস্ত্রও। অমিত মালব্যরা খুব ভালো করেই জানেন, দেশজুড়ে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর নানা অন্যায়ের বিরুদ্ধে যদি বাঙালি ভাবাবেগ একজোট হতে চায়, তাহলে তাকে ভাষা দিয়েই কাটতে হবে। তাই ‘বাঙালি’ ও ‘বাংলাদেশি’ তত্ত্বের অবতারণা।

→

বাংলায় কথা বলাই আজ নাকি অপরাধ!

ভারতের মতো বহুভাষিক দেশে স্কুলের ছেলেমেয়েদের একটা ভাষা-সাক্ষরতা দরকার। ভারতের ভবিষ্যৎ নাগরিক হিসেবে তাদের জানতে হবে ভারতের ক’-টা প্রধান ভাষা আছে, ভারতের সংস্কৃতিতে তাদের গুরুত্ব কী রকম। ভাষা সংক্রান্ত অশিক্ষা আর কুশিক্ষাও অনেক নাগরিক সমস্যার মূলে।

→

আজকের কলকাতায় বাংলা বলা দুষ্কর?

বাংলা ভাষা, কলকাতার রাস্তায়, রক্তমাংসে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাকে দু’বেলার অন্নসংস্থান দেবেন না ধ্রুপদী ভাষার মুকুট, আপনারা দেখুন।

→