অতীতের স্বদেশি আন্দোলন থেকে আজকের উত্তপ্ত রাজনৈতিক বাস্তবতা– সব ক্ষেত্রেই রবীন্দ্রনাথের গান আমাদের শিখিয়ে দেয়, সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো, মানুষকে ভালোবাসা এবং বিবেককে জাগ্রত রাখাই প্রকৃত সাহস। তাই রবীন্দ্রসংগীত আজ শুধু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নয়, আমাদের সামাজিক ও নৈতিক পুনর্জাগরণের এক অনির্বাণ শক্তি।
বিলায়েত খান আজন্ম সংগীতের ছাত্র হয়েই জীবন কাটিয়েছেন। পুরস্কারের মোহ তাঁর মতো শিল্পীকে আবিষ্ট করেনি কখনওই– ১৯৬৪ এবং ’৬৮-তে যথাক্রমে ‘পদ্মশ্রী’ এবং ‘পদ্মভূষণ’ ফিরিয়ে দিয়েছেন, ২০০০ সালে ‘পদ্মবিভূষণ’-ও গ্রহণ করেননি। ১৯৯৫-তে ‘সংগীত নাটক অকাদেমি’ পুরস্কারও নিতে অস্বীকার করেছেন।
নারীকণ্ঠ মানেই স্বর হবে মিহি-মোলায়েম আর পুরুষকণ্ঠ জলদগম্ভীর হতে হবে– এমন বৈষম্য অনেক শিল্পীকেই সহ্য করতে হয়েছে। সেই স্টিরিওটাইপকে বদলে দিয়েছিলেন গাঙ্গুবাই হাঙ্গেল। টনসিল অপারেশনের জেরে তাঁর কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিল পুরুষালি।
তিনি বিশ্বাস করতেন আমাদের তথাকথিত উচ্চাঙ্গ সংগীতের মূল নিহিত লোকসংগীতে। গানে, গায়কীতে, পরিবেশনায় এই বিশ্বাসটিকে প্রকাশ করেছেন অসামান্য প্রায়োগিক দক্ষতায়। টিবি তাঁর একটি ফুসফুস চিরতরে অক্ষম করে দিয়েছিল– সেই শারীরিক সীমাবদ্ধতাও তিনি পেরিয়ে গিয়েছিলেন নিজস্ব গায়কি তৈরি করে নিয়ে।
শান্তিনিকেতন আশ্রমিক সংঘ, কলকাতা শাখার পক্ষ থেকে ১৩৯০ বঙ্গাব্দে অন্নদা মুন্সীকে আহ্বান করা হয়েছিল ২৫ বৈশাখের জন্মোৎসব ভাষণের জন্য। সেই ভাষণ এখনও পর্যন্ত কোনও গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
সংগীতকে অন্নপূর্ণা দেবী ভক্তির সাধনা মনে করতেন– বিনিময়মূল্য ধার্য হলে, ওঁর ‘সরস্বতীর’ মানে লাগত। কলকাতায় দাদার নির্মাণ করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন, বম্বের এনসিপিএ-তেও পড়িয়েছেন কিছুকাল– হাতে গোনা শিষ্যকেই জায়গা দিয়েছেন ঘরে। যাঁদের সে জায়গা দিয়েছেন, তাঁদের কাছে পারিশ্রমিক নেননি।
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মা ছেলেমেয়ে নিয়ে আগরতলা কলকাতা হয়ে শান্তিনিকেতনে। ঈদের সময় মায়ের কিপটের মতো শুধু জর্দা পোলাও রান্না। দু’-একজন বন্ধু আসে কি আসে না। ব্যস ওইটুকুই। স্বাধীন বাংলাদেশে ফেরার পরে নানুর আশ্রয়ে কিছুদিন থেকে মা থিতু হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।ক্যাম্পাসের আবাসিক এলাকায়। প্রায় দুই দশক অন্য এক ঈদের স্বাদ।
‘এই যে এখন বিক্রম অনেক বড় বড় কথা বলছে; আপনারা জানেন না, আমি কিন্তু একসময় ওকে বেবিসিট করিয়েছি!’ বলে, মঞ্চে বসেই আমার গালে চুমু খেয়ে নিলেন। আমাদের সম্পর্কটাই এমন। স্নেহের, ছেলেমানুষির। ঈশ্বরকে স্পর্শ করা যায় না। আমি জাকির হুসেনকে স্পর্শ করেছি। উনি আমার ঈশ্বর নন। পিতা, মাতা, গুরু কেউ নন– ‘হিরো’। ‘হিরো’দের কখনও মৃত্যু হয় না।
আজকের আসামে যখন ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে উচ্ছেদের বুলডোজার চলেছে নির্বিচারে– তখন যদি ভূপেন যদি জন্মশতবর্ষে ফিরে এসে আবার গেয়ে ওঠেন, ‘মানুষ মানুষেরই জন্যে’ তবে কি তাঁকেও স্ট্যান স্বামী বা উমর খালিদের মতো দেশদ্রোহিতার অভিযোগে জেলে যেতে হবে?
বিসমিল্লা পাঁচ ওয়াক্ত নমাজ পড়তেন, তাঁরই সারাদিনের সাধনায় অসংখ্য রাধাকৃষ্ণর বিরহের সুর। আমি দেখেছি, রাধার বিরহের বাজনা বাজাতে বাজাতে খাঁ সাহেবের চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়ছে। উস্তাদ বিসমিল্লা খাঁ-র মৃত্যুদিনে, তাঁকে দিয়েই শুরু হল নতুন কলাম ‘ঘোষবর্ণ’।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved