Robbar

Sangbad Pratidin Robbar

রবীন্দ্রনাথ যেভাবে নিহত হতে চাননি

ওপার বাংলায় তাঁর গান জাতীয় সংগীত থেকে বাদ দেওয়ার তোড়জোড় চলছে। এপারে শোনা যাচ্ছে বাংলা ভাষা বলেই কিছু হয় না। রবীন্দ্রনাথ নিহত হচ্ছেন প্রতিদিন। প্রতিমুহূর্তে। উদযাপনের জন্যে আমরা কেবল বাইশে শ্রাবণ দিনটা পছন্দ করেছি।

→

তাহলে কি রবীন্দ্রনাথ ‘বাংলাদেশি’ ভাষায় ‘সোনার বাংলা’, আর বাংলায় ‘জনগণমন’ লিখেছিলেন?

কে বলে বাংলাভাষার পিঠ ঠেকে গিয়েছে দেওয়ালে? দিল্লি পুলিশ পর্যন্ত যেখানে ভাষাতত্ত্ব নিয়ে তীব্র পড়াশোনা করে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ সম্পর্কে জানান দেয়, তখনও আমাদের চিন্তান্বিত বুদ্ধিজীবীদের শান্তি হয় না? পুলিশের কাজ আইনরক্ষা ও ফাইনরক্ষা, কিন্তু এদেশ এমন পড়ুয়া ও ভাষাবিজ্ঞানী পুলিশের পাল্লায় পড়েছে কখনও? এজন্যই প্যাশন ছাড়তে নেই। শুধু একটাই বিনীত প্রশ্ন সেই কেন্দ্রীয় পুলিশের প্রতি: রবীন্দ্রনাথ কি ‘সোনার বাংলা’ বাংলাদেশি ভাষায়, আর জনগণমন বাংলা ভাষায় লিখেছিলেন? তা-ই হবে।

→

মূঢ় নয় মূর্তি, ছবি নয় কেবলই ছবি

রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি ও ভাস্কর্য। দেশি ও বিদেশি শিল্পীরা নানা সময় এঁকেছেন তাঁর ছবি, গড়েছেন ভাস্কর্য। তাঁরা কারা? সেই ছবি ও ভাস্কর্যই বা কোনগুলি?

→

মৃত্যুর আগেও রবীন্দ্র-জীবনে এসেছিল মৃত্যুদীর্ণ বাইশে শ্রাবণ

কবির জীবনেও এসেছিল এক মৃত্যুদীর্ণ ২২ শ্রাবণ, ১৩৩৯। ৭ আগস্ট, ১৯৩২। অনন্তপারে চলে গিয়েছিলেন কবিগুরুর অত্যন্ত আদরের দৌহিত্র নীতীন্দ্রনাথ। কবির নীতু। কবির কনিষ্ঠা কন্যা মীরাদেবীর একমাত্র পুত্র।

→

শৌচাগার নেই, এই অজুহাতে মেয়েদের চাকরি দেয়নি বহু সংস্থা

আনন্দবাজারে শিক্ষানবিশ হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু আনন্দবাজারের তৎকালীন সম্পাদক সন্তোষ কুমার ঘোষ একরকম রুক্ষ ব্যবহারই করেন আলপনার সঙ্গে। বলেন কাগজের দপ্তরে মেয়েদের বাথরুম নেই, তাই মেয়েদের নেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে পরিকাঠামো বানিয়ে নিতে হবে এই স্বাভাবিক কথাটা তাঁর মনে হয়নি, কারণ তাঁর তীব্র পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব।

→

মঞ্চে গাইতে গাইতে হঠাৎ কণ্ঠ হারিয়ে ফেলেন হান্না চ্যাপলিন, শেষ লাইনটি গেয়ে মায়ের সম্মান রক্ষা করেন ছ’বছরের চার্লি

নারীর কণ্ঠ বন্ধ হয়, আর তার জায়গায় তৈরি হয় পুরুষের ইতিহাস। একদিকে হান্নার নিঃস্বতা, অন্যদিকে চার্লির প্রতিভা। কিন্তু কে সেই ‘প্রতিভা’র ভিত্তি নির্মাণ করে? সমাজ কীভাবে ভাঙা গলাকে অপদার্থতা ভাবে, অথচ সেই কণ্ঠ হারানোর মধ্য দিয়েই তো তৈরি হয় এক ট্র্যাজিক মুখাভিয়ন। চার্লি নিজেই বলেছিলেন, ‘My mother taught me not through speech, but through silence.’

→

‘বাংলা’ নামক এই বিরাট ভূখণ্ডের অসংখ্য রূপভেদকে মেনে নিলে আজ ‘বাংলা ভাষা’-র মৃত্যু ঘোষণা সম্ভব হত না

আসলে বিষয়টা ভাষার নয়। ভাষা এখানে গহীন চিত্রনাট্যের প্রচ্ছদ মাত্র। এবং বড় অস্ত্রও। অমিত মালব্যরা খুব ভালো করেই জানেন, দেশজুড়ে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর নানা অন্যায়ের বিরুদ্ধে যদি বাঙালি ভাবাবেগ একজোট হতে চায়, তাহলে তাকে ভাষা দিয়েই কাটতে হবে। তাই ‘বাঙালি’ ও ‘বাংলাদেশি’ তত্ত্বের অবতারণা।

→

ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসই সেই বৈপ্লবিক সূত্র, যিনি প্রথম বিজ্ঞানের দর্শনকে হাজির করছেন বস্তুবাদী দৃষ্টি থেকে

একজন অভিজ্ঞ যোদ্ধা হিসাবে উনিশ শতকের ইংল্যান্ডে শ্রমিক আন্দোলনগুলিতে ধারাবাহিকভাবে অংশ নিয়েছেন, এমনকী ফরাসি বিপ্লবকালে, যখন একদিকে তিনি ও তাঁর প্রিয় পার্টনার দুনিয়া কাঁপানো ইশতেহার লিখছেন, এঙ্গেলস অগুনতি যোদ্ধাদের সঙ্গে বরফ পাহাড় ডিঙিয়ে রাইফেল কাঁধে পা মিলিয়ে পাড়ি দিচ্ছেন প্যারিসে।

→

পুরুষরা যে কতদূর অপদার্থ, ড্রেসিং টেবিলের দেখানো পথে মেয়েরা প্রমাণ করে দেবে

‘মল ফ্ল্যান্ডারস্’ উপন্যাসের নায়িকা মলির মতো একটা মেয়ে, সাহিত্যে না পাই, জীবনে কি পাইনি? পেয়েছি তার ড্রেসিং টেবিলের সৌজন্যে। সেই ড্রেসিং টেবিলে ছিল তিনটে আরশি। তিন মুকুর মায়ার মধুপুর, বলেছিলুম সেই সাজুগুজুর টেবিলকে।

→

বাংলা ভাষা ভাগ হবে হিন্দু-মুসলমানে?

বাঙালি এইসব মামুলি ব্যাপারকে ধর্তব্যের মধ্যেও আনত না। মাত্র এক দশক আগেও এসব নিয়ে কেউ ভাবেনি। অথচ আজ বাঙালিকে এসব নিয়ে ভাবানো যাচ্ছে। কে ভাবাচ্ছে? বাঙালির একশ্রেণির লোকজন। যাদের মূল লক্ষ্য এই ভাষার হিন্দু-মুসলমান করে গোবলয়ের সঙ্গে তফাতটা আরও কমিয়ে আনা যাবে।

→