Robbar

Sátántangó

সিনেমা নিজেও ভাবে ও ভাবায়, জানান দেয় বেলা তারের সিনেমা-দর্শন

সিনেমা শুধু ভাবা প্র্যাকটিস করতে যে আমাদের উদ্বুদ্ধ করে, তাই নয়, সিনেমা যে নিজেও ভাবে, ভাবতে পারে, ভাবার ক্ষমতা রাখে তাই যেন বারবার জানান দিয়ে যায় বেলা তারের সিনেমা। পৃথিবী যখন শুধুই গতির দাস, চারপাশের সবকিছুই যখন শুধুই হঠকারি হুলুস্থুল, তখন জুলে ভার্নের গল্পের মতো পৃথিবীর গহীন অন্তরে, অস্তিত্বের সুপ্ত গর্ভগৃহে যেন হানা দিত বেলা তারের ছবি।

→

বেলা অবেলা কালবেলা

বেলা তারের ‘দ্য তুরিন হর্স’-এর প্রথম ৭ মিনিট ৪০ সেকেন্ডেই ধরা পড়ে তাঁর সমগ্র সিনেমার দর্শন। নিৎসের ঘোড়ার কিংবদন্তি থেকে শুরু হয়ে ক্যামেরা, শব্দ ও নৈঃশব্দ্যের মধ্য দিয়ে খুলে যায় এক নির্দয় বাস্তবের দরজা। আন্দ্রেই তারকোভস্কির স্বপ্নদৃশ্য থেকে বেলা তারের শেষ সিনেমা– দু’টি ছবির মধ্যে যেন রয়েছে এক অমোঘ আলোকসেতু।

→

বেলা টারের ক্যামেরার স্থির থাকা কি ক্রাজনাহরকাইয়ের লেখা ছাড়া সম্ভব হত?

ঠিক সেকারণেই বেলা টার ও ক্রাজনাহরকাইয়ের যে যুগলবন্দিকে একটি উপন্যাসিক ও চলচ্চিত্রকারের জোট হিসাবে দেখলে চলবে না। কারণ ক্রাজনাহোরকাই নিজে কেবল মূল উপন্যাসের লেখক নন, তিনি ভীষণভাবে বেলা টারের ছবির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সেই কারণেই হয়তো তাঁর উপন্যাসের যে অন্তর্নিহিত ছায়া, যে সামুদ্রিক নৈঃশব্দ্য, যে কাব্যিক মায়া এবং সর্বোপরি বিপন্নতার যে গভীর বিষাদ– তা যেন পুরো মাত্রায় সঞ্চারিত হয় বেলা টারের ছবিতে।

→