Robbar

Utpal Dutta

সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতা দিয়েই শুরু হয়েছিল দে’জের ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ সিরিজ

বাংলা কবিতায় সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের আবির্ভাব চমকপ্রদই ছিল। বুদ্ধদেব এক-এক করে চিনিয়ে দিয়েছিলেন সুভাষের প্রথম কবিতার বইয়ের অভিনবত্বগুলি। তাঁর ধারণায় সুভাষ সম্ভবত প্রথম বাঙালি কবি যিনি প্রেমের কবিতা লিখে কবি-জীবনের সূচনা ঘটাননি। ‘পদাতিক’ বইয়ের প্রথম লাইন হল– ‘কমরেড, আজ নবযুগ আনবে না?’

→

রিপোর্টাজ যখন হয়ে ওঠে কথাসাহিত্য

উপন্যাস, ছোটগল্প, এমনকী রিপোর্টাজেও তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়। দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা-ভাষায়,ভাবে এবং প্রয়োগে স্বতন্ত্র। থিয়েটার, সিনেমা এবং মার্গসংগীতের পাশে অনায়াসে দ্যুতি ছড়াত সম্পাদক দীপেন্দ্রনাথের 'এথিকোপলিটিক্যাল' চর্চা।

→

সৎ প্রকাশক কম, বেশিরভাগই আলুপটলের কারবারি, বলেছিলেন প্রফুল্ল রায়!

‘‘আপনার নিজস্ব কোনও চারচাকা বাহন নেই কেন প্রফুল্লদা? এতগুলো বই, রমরম করে লোকে কিনছে। ‘এখানে পিঞ্জর’– কতগুলো সংস্করণ হয়ে গেল।’’ প্রফুল্লদা উত্তর দিয়েছিলেন, ‘‘ওরা দেয়। কিন্তু বেশিরভাগই মেরে দেয় টাকা। উল্টোপাল্টা যা হোক হিসেব দেয়। মেরে কেটে গোটা তিনেক পাবলিশার অনেস্ট, বাকিরা সব আলু-পটলের কারবারি।’’

→

উৎপল দত্ত মঞ্চে যা করতে পারে আমার পক্ষে সিনেমাতেও করা সম্ভব নয়, বলেছিলেন সত্যজিৎ

উৎপল দত্তকে নিয়ে তথ্যচিত্র, কিন্তু বামফ্রন্ট সরকার অর্থসাহায্য করল না! বিস্মিত হয়েছিলাম। কিন্তু বিস্মিত হননি উৎপল দত্ত। উৎপলদা বললেন, ‘ওরা করবে না। ট্রটস্কি আর চারু মজুমদারকে এখনও ভুলতে পারেনি।’ তখন বুঝিনি। ছবিটা করতে গিয়ে পরিষ্কার হল।

→

দেখা হলে বলে দিও, আজও বেঁচে আছি

আমাদের কবি, আমাদের নাট্যকর্মী, আমাদের লেখক, আমাদের অভিনেতা– সবাই যে যেখানে আছে, রাস্তায় যার সঙ্গেই দেখা হবে, বলে দেবে, আজও বেঁচে আছে।

→

কেষ্ট একাই এক-শো

তিনি অভিনেতা হিসেবে সবসময় পার্শ্ব কিন্তু তীক্ষ্ণ। প্রতিনিধিত্ব করেছেন সাধারণের, কিন্তু প্রতিনিধিত্ব করেছেন অসাধারণ। তিনি টলেছেন কম, টলিয়েছেন বেশি। ভারতীয় সিনেমায় তিনি একটা যুগ, যেখানে ক্ষুদ্র ভূমিকা তুচ্ছতার সঙ্গে পরিকল্পিত হত না।

→

ঋত্বিক ঘটক নয়, বেঁচে থাকলে সফদর হয়তো উৎপল দত্তের মতো কাজ করতেন

“ছোটবেলায় উৎপল দত্তের সঙ্গে আইপিটিএ-তে দেখা হয়েছিল।... ঋত্বিক ঘটকের সিনেমা বিদেশে দেখানোর জন্য সফদর প্রচুর চেষ্টা করেছিলেন।... আমার পরিচয় শুধু ‘সফদর হাশমির স্ত্রী’ হিসেবেই নয়, আমি আমার মায়ের মেয়েও!... জাভেদ আখতারের ভাষণ শুনে সীতারাম ইয়েচুরি বলেছিলেন, ‘আমাকে কেন ডাকলেন?’... সিনেমা করার ব্যাপারে সফদরের প্রচণ্ড ইচ্ছে ছিল।... হাবিব তনবিরের মতো মানুষ খুবই কম।...” মলয়শ্রী হাশমির সাক্ষাৎকারের শেষ পর্ব।

→

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে বলেছিলাম, আপনারা আন্ডারওয়ার্ল্ডের মানুষ চেনেনই না

উৎপলদার যখন ডায়ালিসিস চলত, তখন ওই প্রচণ্ড যন্ত্রণার মধ্যে উনি কানে হেডফোন লাগিয়ে বাখ শুনতেন।

→

সত্যজিৎ-ঘনিষ্ঠ প্রমাণের জন্য ঘন ঘন ‘মানিকদা’ ব্যবহার করুন

মানিকদার নাম করে এক পেয়ালা চা যদি সন্ধের দোকানে কেউ খাইয়ে দেয়, তাহলে মানিকদার তো কোনও ক্ষতি হচ্ছে না।

→

একমাত্র উৎপল দত্ত বলেই ১৪ দিনে তৈরি হয়েছিল ‘টিনের তলোয়ার’

আমি দু’বার ওঁর লাইব্রেরি পরিষ্কার করেছি। মানে, সাজিয়েছি, গুছিয়ে দিয়েছি। আমি এবং শৌভিক রায়চৌধুরী বলে ওঁর আর এক ছাত্র। ওঁর নিজের বইয়ের সংখ্যা পঁয়ত্রিশ হাজার। এবং তার সঙ্গে বাবার দশ হাজার। আমরা অবাক হয়ে দেখতাম, প্রত্যেকটি বইয়ের ক্ষেত্রেই, যেখান থেকেই পাতা ওল্টাই না কেন, দেখতে পাব সরস উক্তি-সহ কতগুলো লাইন লেখা।

→