আত্মপরিচয়ের রাজনীতির সুত্রপাতেই কবিরা যদি, আমি একজন কবি– একজন নিগ্রো কবি নই– এই দাবি করেন, শিল্পীরা যদি নিজেদের শুধু শিল্পী হিসেবে দাবি করতে যান, তাহলে আফ্রিকি উত্তরাধিকার ছেড়ে তাঁরা সমসত্ত্ব ও হেজিমনিক আমেরিকি আধুনিকতায় গ্রস্ত হয়ে যেতে পারেন।
শিকাগো, লস এঞ্জেলেস, ডেট্রয়েট, ফিলাডেলফিয়া, নিউ ইয়র্ক। এক দেশের মধ্যে এই ‘গ্রেট মাইগ্রেশান’-এ এক হার্লেমে তিন বর্গ মাইল এলাকায় এসে বসতি তৈরি করেন প্রায় ১,৭৫,০০০ জন। নন-স্কিলড শ্রমিক থেকে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সকলেই। এইখানে কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের বসতি তাবৎ পৃথিবীতে সবচেয়ে ঘন।
প্রাচ্যবাদী ছবির ধারায় কৃষ্ণাঙ্গ নারী পুরুষের কমতি নেই। কিন্তু ফরাসি বিপ্লব ঘনিয়ে আসার আগে থেকেই ইউরোপের উঁচু তলার মহিলাদের সঙ্গী হিসেবে কৃষ্ণাঙ্গদের একটা অংশ অভিজাত সমাজে ঘোরাফেরা করছিলেন। ‘হাউ ডু দ্য সাবঅলটার্ন স্পিক’ বা আদৌ তারা কথা কয় কি না জানতে গেলে এইবার আমাদের সালোঁর দিকে ফিরে তাকাতে হবে।
এর আগে ফরাসি দেশে বা প্যারিতে শুধু পাবলিক লাইব্রেরি ছিল। সেখানে একমাত্র বসে বই পড়া যেত বলে, বিশ শতকের সভ্যতা এসে গেলেও কোনও সময়ই মহিলারা ঠিক সাহিত্যের পাঠক হয়ে উঠতে পারেননি। আদ্রিয়েঁ তাঁর দোকান-কাম-লাইব্রেরিতে বহু সংখ্যক ফরাসি মহিলাকে শুধু বই নিতে ও ফেরত দিতে জড়ো করে ফেলেছিলেন।
সালোঁ মজলিশ ও বাইরে সালোঁ প্রদর্শনীতে খুবই খোলাখুলিভাবে চলতে থাকে মাতিস ও পিকাসোর মধ্যে রেষারেষি। শোনা যায়, পিকাসোপন্থী বোহেমিয়ানরা মাতিসের ছবি তাক করে মিছিমিছি ডার্ট গেম খেলার অভিনয় করতেন।
মাদাম দ্যে স্তালের যে কোনও কিছু আলোচনা করার ঠাট হল পাশাপাশি রেখে তুলনা করা। একদিকে ফরাসি বিপ্লবের চরমপন্থায় তাঁর অনাস্থা, অন্যদিকে আলোকপ্রাপ্তির জ্ঞানের বিভব হিসেবে রোম্যান্টিক দর্শনের বিশ্বাস– এইসব মিলিয়ে ‘‘দ্যে ল’আলেমান’’ বইটিতে তিনি ফরাসি রাষ্ট্রচেতনার উল্টোদিকে জার্মানির ক্লাসিসিজমকে ইউরোপের জন্য একটা স্থিত আদর্শ হিসেবে পেশ করলেন।
সালোঁ মাদামরা বৈজ্ঞানিক-কবি-লেখকদের সঙ্গে আলাপে বেশ আত্মবিশ্বাসী থাকলেও, মহিলাদের পড়াশুনো নিয়ে পিছিয়েই ছিলেন। মহিলাদের মনন ক্ষমতার সম্যক পরিচয় পেয়েও এইসব বিদ্বৎজন, মেয়েরাও যে রাজনীতি, সমাজনীতি ও বিজ্ঞানের বিষয়গুলি পড়তে পারে তা ভাবতে পারেননি।
লিবার্টি-ইক্যুয়ালিটি-ফ্রেটারনিটি থেকে বিশুদ্ধ প্রজ্ঞা সবেরই বিশ্বজনীন কর্তা তখন শ্বেতাঙ্গ পুরুষ, এমনকী অভিজাত বাড়ির মেয়েদের অবধি বাইরে বেরিয়ে লেখাপড়ার অধিকার নেই, সেই সময় মাদামরা কেমন পাশার গুটি উল্টে সালোঁ সাজিয়ে নিলেন, স্বশিক্ষার সেই গভীর দাপট খেয়াল করার মতো।
সালঁ শুধু মহিলাদের নিয়ে নতুন করে ভাবায় না। আরও ভাবায় কী করে কাব্য শোনা ও ছবি দেখার ইন্দ্রিয়বত্তা, গায়কি ও বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার, কফির স্বাদ, সোফায় বসার ভঙ্গি, পোশাকের ফ্যাব্রিক ও ফ্রিল– সালঁতে উপস্থিত ও অনুষ্ঠিত এই ঘনিষ্ঠ উপাদানগুলি থেকে ইতিহাস লেখা যায়।
এই প্রশ্ন করে লাভ নেই যে অ্যানড্রেয়া কি তাহলে সম্পূর্ণ মিডিয়া স্ট্রাটেজি ব্যবহার করেছেন? এছাড়া আর কীভাবেই বা আমেরিকার বাজারে কবি ও আন্দোলনকর্মী টিকে থাকবেন এখন? এটা যদি আমরা আগেভাগে বুঝে নিই, তাহলেই ভালো।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved