Robbar

কোনও পসরাই অবিক্রিত পড়ে থাকে না বৈরাগ্যতলার ভাঙামেলায়

বৈরাগ্যতলার ভাঙামেলা যেন মেলার ক্লাইম্যাক্স। কিছুটা সস্তায় পাওয়া যায় বলে লোকে আরও ভিড় জমায়। মেলায় দোকানদারদের কথায় বাবা গোপালদাসের কৃপায় মেলার কোনও জিনিস অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে থাকে না।

→

সুর নয়, আদিতে সুরার সঙ্গেই অধিক যোগাযোগ ছিল সরস্বতীর

সরস্বতীর অপর নাম ‘কাদম্বরী’। ‘কাদম্বরী’ বলতে যে মদ বোঝায় তার মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে একাধিক প্রমাণ আছে। কালিদাসের ‘অভিজ্ঞান শকুন্তলম’ নাটকে আছে– ‘কাদম্বরী-শব্দিকে কখু পঢমং আস্মাণং শোহিদে ইসচী অদি। তা শুণ্ডিকাগালং যেব গশ্চস্ম।’ অর্থাৎ আমাদের প্রথম ভাব করতে হয় কাদম্বরীকে পূজা দিয়ে। তাই শুঁড়িবাড়ি যাই চল।

→

পৌষপার্বণের সঙ্গে মিশে গেছে টুসু, সোদরব্রত কিংবা কুড়মালি আইখানযাত্রা

বাংলার কৃষি সংস্কৃতির সিংহভাগ গড়ে উঠেছে পৌষমাসে। তুসু বা টুসু স্থাপনা, পৌষলক্ষ্মীর আরাধনা, পৌষ আগলানো, পৌষপার্বণ, পৌষ-নাহানো, পিঠে-পুলির উৎসব, পৌষবুড়ির আরাধনা ইত্যাদি বৈচিত্রময় দেবখণ্ড বঙ্গের ধান্যমঙ্গলকে কাব্যময় করে তুলেছে।

→

বাংলার মনসা ও চণ্ডীপুজোর ধারা এসে জগৎগৌরীতে মিলেছে

সর্পদেবী হিসাবে বাংলায় বৌদ্ধদেবী জাঙ্গুলি অতি জনপ্রিয় দেবী ছিলেন। সাপের ওঝাকেও একসময় জাঙ্গুলিক বলা হত। সেইদিক থেকে দেখলে জগৎগৌরী আসলে চণ্ডী, মনসা ও জাঙ্গুলি তারার সমন্বয়ী দেবী।

→

রাঢ়ের কবিগানের পালায় হিঁদু হলেন চাঁদ মুহম্মদ, কাশীনাথ মুসলিম

দুর্গাপুজো উপলক্ষে গ্রামে বসেছে কবিগানের আসর। চাঁদ মুহম্মদ আর কাশীনাথ দেবনাথ। রাঢ়বঙ্গের দুই বিখ্যাত কবিয়াল। পালার বিষয় হিন্দু-মুসলমান। দুই ধর্মের অগুনতি শ্রোতা। শ্রোতারাই পালা নির্বাচন করে দিলেন। তবে শর্ত হল, হিঁদু হবেন চাঁদ মুহম্মদ। মুসলমান কাশীনাথ।

→

খেজুর গাছে হাঁড়ি বাঁধো মন

বাংলাদেশের যশোরের পরিচিতি এক রসালো ছড়ায়– ‘যশোরের যশ/ খেজুরের রস’। পাটুলি-র নাম না কি খেজুরের পাটালি থেকে এসেছে। নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, দুই ২৪-পরগনা, বর্ধমানের দাঁইহাট-অগ্রদ্বীপ-পাটুলি-দেবগ্রাম-মাটিয়ারির সঙ্গে জড়িয়ে আছে খেজুর গুড়ের খ্যাতি। আর মিষ্টি বাণিজ্যের ইতিকথা।

→

বৈদিক যুগের ‘স্থালী’-ই আজকের প্লেট, ‘উখ্য’-ই ফ্রাইং প্যান

যজুর্বেদে ‘স্থালী’ শব্দটির প্রথম প্রয়োগ দেখা যায়। পতঞ্জলিও বড় ডিশ বলতে ‘স্থালী’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। ঋকবেদের ১/১৬২/১৩ ঋকে উখার কথা আছে। এটি যখন যজ্ঞকর্মে ব্যবহৃত হত, তখন এর গায়ে হুক লাগিয়ে যজ্ঞস্থলে ঝোলানো হত। বৌদ্ধসাহিত্য ঘটিকারসূত্র লিখেছে, ‘কুম্ভি’ নামে কুকিং-পটের কথা।

→

লোকখেলার মধ্যে মিশে রয়েছে হাজার বছরের ফেলে আসা জীবনের স্মৃতি

আনন্দ-বিনোদন খেলার মুখ্য বৈশিষ্ট্য হলেও হাজার হাজার বছরের ফেলে আসা জীবনের স্মৃতিকে প্রকাশ করার স্বভাবগত তাগাদা খেলার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়। অনেক সময় গোষ্ঠী বা জাতির ঐতিহ্য প্রকাশের মাধ্যম হয়ে ওঠে।

→

অঘ্রানের নবান্ন মূলত নববর্ষেরই উৎসব ছিল

বাংলায় শুধু আমন ধানের সঙ্গে নবান্ন উৎসব জড়িয়ে নেই। একসময় অঘ্রান ছিল বছরের প্রথম মাস। ‘অগ্র’ শব্দের অর্থ আগে। ‘হায়ণ’ মানে বছর। এই হিসাবে বাংলার নববর্ষ ছিল ১ অঘ্রান। তখন বলা হত মার্গশীর্ষ মাস। নবান্ন– প্রকৃতপক্ষে নববর্ষের উৎসব।

→

বারবণিতাদের আরাধনার মধ্যে দিয়েই শুরু হয়েছিল কাটোয়ার কার্তিক লড়াই

লোকপ্রযুক্তি ও প্রতিমাশিল্পের অনন্য যুগলবন্দী এই ‘রাজা কার্তিক’। দেশীয় যাত্রাপালা ও দক্ষিণি পুতুলশিল্পের প্রভাবযুক্ত ঐতিহ্যবাহী ‘থাকা-কার্তিক’। কাটোয়ায় কার্তিক লড়াইয়ের রঙিন আলোকোজ্জ্বল প্রচ্ছদ।

→