
নকট্যুরিজমের ডেস্টিনেশন ইতিমধ্যে জনপ্রিয় উঠেছে পৃথিবীর বিভিন্ন শহরে। নিয়ন আলোয় সজ্জিত টোকিও শহর বিনোদনের জন্য বিখ্যাত। একই রকমভাবে প্যারিস নিশিভোগের ডাক দেয় সুরা ও সুন্দরীর হাত ধরে। নিউইয়র্ক শহরের ব্রডওয়ে দিনে যতটা নিরুত্তাপ, রাতে ঠিক ততটাই বর্ণময়। এছাড়া ব্যাংকক সিডনি-সহ তাবর শহরগুলোর মূল আকর্ষণ লুকিয়ে আলো-ভেজা রাতে। সেখানেই সৌন্দর্যের চোখে জমে ওঠে ঘোরার নেশা। একটি জনপ্রিয় বুকিং ওয়েবসাইটের সার্ভের হিসাব অনুসারে দেশের ৭৮ শতাংশ ভ্রমণকারী বলেছেন যে, তারা দিনের আলোর ভিড় ছেড়ে মধ্যরাতের ম্যাজিকের জন্য আগ্রহী।
সেদিন রাতে ট্যুর অপারেটরকে ধন্যবাদ জানাতে ভুলে গেছিলেন কল্যাণ ভট্টাচার্য!
১০ দিনের কনডাকটেড ট্যুরে রাজস্থান ঘুরতে গিয়েছিলেন কলকাতার এক নামী ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে। সারাদিন থর মরুভূমির বুকে ঘোরার পর বিকেলবেলা টেন্টে এসে বিশ্রাম ও সেইসঙ্গে নানারকম কালচারাল প্রোগ্রাম। ট্যুর প্যকেজে মরুভূমিতে একরাত কাটানোর অংশ হিসাবে রাতে ক্যাম্পফায়ার। সেখানে রাজস্থানি লোকসংগীতের সঙ্গে নাচগান খাওয়া-দাওয়া পানাহার। ডিনার শেষে সবাই যখন মোটামুটি টেন্টে গা এলিয়ে দিয়েছেন, ট্যুর অপারেটর তখন বললেন, ‘চলুন, ঘুরে আসি’।
–ঘুরে আসি মানে? এত রাতে কোথায় যাব? এখন কি ঘোরার সময়!
আকাশ থেকে পড়েন কল্যাণ ভট্টাচার্য। ট্যুর অপরেটর হেসে বললেন, ‘অবাক হচ্ছেন? তবে জেনে রাখুন আগামী দিনে এটাই হতে চলেছে আদর্শ ঘোরার সময়।’

সেই নিশুতি রাতে থর মরুভূমির ঢেউ খেলানো বালিয়াড়ির ওপর দাঁড়িয়ে দেখলেন পূর্ণিমার আলোয় মরুভূমির ভিন্ন রূপ, দিনের আলোর থেকে একেবারে আলাদা। খেয়াল করে দেখলেন, তিনি একমাত্র নন, আরও অনেক টুরিস্ট ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। মাঝেমধ্যে সিগারেট জ্বালানোর আগুন আর মোবাইলের সেলফির ফ্ল্যাশ তাদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। দিনের বেলায় যতখানি ভিড় ছিল রাতে অবশ্য তার অনেকটাই কম মনে হল। এমন পূর্ণিমার রাতের জ্যোৎস্নাভেজা বালির সমুদ্র না দেখলে অজানা থেকে যেত প্রকৃতির এক অনন্য রূপ। রাতের মরুভূমি।
‘মনে আছে, সেদিন দোল-পূর্ণিমা। ফুলকিয়া বইহারের পরিপূর্ণ জ্যোৎস্না-রাত্রির রূপ এই আমি প্রথম দেখিলাম। কখনও সে-রকম ছায়াবিহীন জ্যোৎস্না জীবনে দেখি নাই। সেই নীরব নিশীথ রাত্রে জ্যোৎস্নাভরা আকাশতলে দাঁড়াইয়া মনে হইল এক অজানা পরীরাজ্যে আসিয়া পড়িয়াছি। জীবনে একবারও সে জ্যোৎস্নারাত্রি দেখা উচিত।’
গভীর রাতের সৌন্দর্যকে এভাবেই সুরে বেঁধেছেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ‘আরণ্যক’ উপন্যাসে। কিংবা রবীন্দ্রনাথের ছিন্নপত্রাবলীতে দেখতে পাই সাজাদপুরের নদীর বাঁকে বাঁধা বোটে বসে কবি লিখছেন, ‘পূর্ণিমার চাঁদ উঠেছে, জলে একটিও নৌকা নেই– জ্যোৎস্না জলের ওপর ঝিকঝিক করছে– পরিষ্কার রাত্রি– নির্জন তীর– বহু দূরে ঘনবৃক্ষবেষ্টিত গ্রামটি সুষুপ্ত– কেবল ঝিঁ ঝি ডাকছে– আর কোনও শব্দ নেই।’
মনে করা যেতে পারে, রামদেওরা রেল স্টেশনে নির্জন রাতে ট্রেনের অপেক্ষা করতে করতে তোপসে শত বিপদের মধ্যেও অভিভূত হয়েছিল রাতের আকাশ দেখে। ‘চিত হওয়ামাত্র আকাশের দিকে চোখ গেল, আর তক্ষুনি বুঝতে পারলাম যে, একসাথে এত তারা আমি জীবনে কখনও দেখিনি।’
ট্যুরিজম বা ভ্রমণ দিনের বেলা নয়, বরং রাতে। এবং শুধু রাতেই। অন্ধকার ঘনালে ভ্রমণে বেরিয়ে পড়া। সিকি শতাব্দীতে এটাই এখন জনপ্রিয় ট্রেন্ড। আর এরই নাম ‘নকট্যুরিজম’। প্রচলিত কনসেপ্টকে ভেঙে দিয়ে দিনের বদলে রাতে ভ্রমণের নামে ‘নকট্যুরিজম কনসেপ্ট’ বিশ্ব জুড়ে জনপ্রিয় হতে চলেছে। সেই জনপ্রিয়তা এতটাই যে পর্যটন ব্যবসায় জড়িত সংস্থাগুলির ধারণা, এ বছরটা নকট্যুরিজমের ফুলেফেঁপে ওঠার সময়। ব্যবসায়িক দিক থেকে এক বিস্তৃত রেঞ্জকে রাখা হয়েছে নকট্যুরিজমের আওতায়। মানে, ঠিকঠাক বাণিজ্যিক মোড়কে পুরে ব্যবসা করতে পারলে সোনার ডিম পাড়বে নকট্যুরিজম। অথচ তার জন্য নিজের পকেট থেকে বাড়তি কোনও পয়সা গুনতে হবে না।
রবীন্দ্রনাথ বিভূতিভূষণ যে নিশি-সৌন্দর্যের কথা বলেছেন, পক্ষান্তরে সেটাই এখন নকট্যুরিজমের ইউএসপি। পূর্ণিমা রাত্রির মত্ততা জাগে-কে কবিতা বইয়ের পাতা থেকে তুলে বাজারে খাটিয়ে ইনকামের নতুন পথ খোলা। অথচ আইডিয়া তো একেবারে নতুন নয়! পূর্ণিমা রাতে তাজমহলের অপূর্ব রূপ, জোছনা-ধোওয়া তাজমহল দেখার চাহিদা বরাবরের। সেজন্য মাসে দু’বার করে, পূর্ণিমার আগেপিছে দু’দিন ধরে মোট চারদিন রাতে তাজমহল দর্শনের বিশেষ ব্যবস্থা আছে। ভ্রমণপ্রেমী উৎপল বসু যেমন ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করতে বসলেই ক্যালেন্ডারে আগে খোঁজ করেন পূর্ণিমা কবে। হিসেব করে ছুটির মধ্যে পূর্ণিমার দিনটিকে রাখেন, যাতে শুধু দিনে নয় পর্যটন-স্থানের রাতের সৌন্দর্যটুকু চেটেপুটে নিতে পারেন। সেরকমই হিসেব করে দোল পূর্ণিমায় আগ্রা যাওয়ার টিকিট বুক করেছেন। সেই সঙ্গে অনলাইনে পূর্ণিমা রাতে তাজমহল দর্শন।

এমন কিছু ট্যুর আছে যা দিনে নয়, শুধু রাতে দেখার পক্ষে আদর্শ। দিনের বদলে রাতের অন্ধকারে সে রূপ আরও খোলতাই হয়। যেমন, অরোরা বেরিয়ালিস, তা কেবলমাত্র রাতের অন্ধকারেই বোঝা যায়। প্রকৃতিক এক ভিন্ন রূপ উন্মোচন হয় শুধুমাত্র অন্ধকারের বুকেই। কিংবা ধুমকেতু, তারা-নক্ষত্র-আকাশ পর্যবেক্ষণ।
মার্কেটিংকে মাথায় রেখে ট্যুরিজম-গুরুরা যে বিষয়গুলোকে নকট্যুরিজমের আওতায় রেখেছে তার মধ্যে অনেকটাই আপনি-আমি নিয়মিত উপভোগ করে থাকি। তা জেনেই হোক অথবা অজান্তে। যেমন নকট্যুরিজমের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য অন্য দৃষ্টিকোণে ডেস্টিনেশন এক্সপ্লোর করা।
দিল্লি, মুম্বই, হায়দরাবাদ, জয়পুর থেকে শুরু করে কন্যাকুমারী, আহমেদাবাদ, বেঙ্গালুরু শহরে ঘুরতে গেলে দিনের ঘোরা বাদেও বিকেল সন্ধেবেলা অনেকেই বেরিয়ে পড়েন শহরের রাতের রূপটি দেখতে। শহরের ল্যান্ডমার্ক বা ঐতিহাসিক স্থানগুলো আলোকিত অবস্থায় দেখা এবং ছবি তোলা এক অন্য সৌন্দর্যের ডাক দেয়। দিনের বদলে রাতে ঘুরে দেখা ও মার্কেটিং, সেই সঙ্গে চেখে দেখা নতুন শহরের খাবারদাবার। এসবই খুব পরিচিত অভ্যাস। আর এগুলোকে সযত্নে লিস্টি করে তুলে ধরা হয়েছে নকট্যুরিজমের মানচিত্রে। তবে যেগুলো নতুন বা গতানুগতিক নয়, তার মধ্যে যেমন রয়েছে রাতের অন্ধকারে আকাশ পর্যবেক্ষণ কিংবা ভূতের বাড়ি বা হানাবাড়িতে রাত কাটানো। সেই সঙ্গে ট্রেন্ডে নতুন সদস্য, গভীর রাতে জঙ্গল, পাহাড়, নদী কিংবা মরুভূমি ঘুরে দেখা।

কোনও কোনও ক্ষেত্রে বাধানিষেধ থাকলেও আস্তে আস্তে ট্যুরিজমের চাহিদা মেনে দিবালোকের পাশাপাশি রাতেও খুলে দেওয়া হচ্ছে জনপ্রিয় স্পটগুলি। যাতে নকট্যুরিজমের হাত ধরে আরও কিছু উপার্জন বাড়ানো যায়। সরকারি লাল ফিতের ফাঁস আলগা হচ্ছে বাড়তি রেভিনিউয়ের হাতছানিতে।
দিনের খটখটে আলোয় যে রূপ দেখা যায়, রাতের আলো-আঁধারিতে তাই যেন ধরা দেয় ভিন্নমাত্রায়, নতুন রূপে। সেটাকেই বারবার ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ভ্রমণের বৈচিত্র আনার ক্ষেত্রে আধুনিকতার ছাপ রেখেছে নকট্যুরিজম। কিন্তু এতে উপকারটা কী হবে?
একই বহু পুরনো পরিচিত বহুবার দেখা জায়গাটাকে একটু অন্যরূপে দেখা। ট্যুরিজম বিশেষজ্ঞরা বিষয়টাকে তুলনা করেছেন ছবি তোলার সঙ্গে। ড্রোন ক্যামেরা আসার পর ঠিক যেমনটা ছবির জগৎ ওলটপালট হয়ে গেল। পাহাড়, সমুদ্র, নদী, মন্দির– একই রকম অ্যাঙ্গেলে একই রকম ছবি দেখার বদলে ধরা দিল অন্য রূপে, আমাদের চোখে। ড্রোন ক্যামেরার মাহাত্ম্য এতটাই যে বাড়ির পাশের মজা পুকুরটাও আকাশপথে তোলা ছবিতে সৌন্দর্যের পীঠস্থান বলে মনে হতে থাকে। ঠিক এমনটাই মনে করছেন ভ্রমণ ব্যবসায়ীরা। দিনে যেসব জায়গায় প্রবল ভিড় হয়, শান্তিতে উপভোগ করার উপায় থাকে না, সেখানেই নিরিবিলিতে, ভিড় এড়িয়ে ডেস্টিনেশনে রাতের রূপ দেখা। দিনের বেলাকার ভারী যানজট এড়িয়ে যাতায়াত করাটাও আরেক পজেটিভ দিক।

আমাদের মতো গরমপ্রধান দেশে নকট্যুরিজম জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ, বহু দর্শনীয় স্থানে গরমকালে দিনের বেলার প্রচণ্ড তাপ, গা-জ্বালানো গরম এড়িয়ে আরাম করে রাতের বেলা ঘুরে দেখা। যে রাজস্থান, গুজরাত বা দক্ষিণ ভারত মে-জুনের তীব্র গরমে ট্যুরিজম প্রায় তলানিতে এসে পৌঁছয়, সেখানে দিনের ঝলসানো লু এড়িয়ে রাতের বেলা ঘুরে দেখা দ্রষ্টব্য ঐতিহাসিক স্থানগুলি। আর দিনের গরমে বিশ্রাম হোটেলের ঠান্ডা ঘরে। ট্যুরিজম ব্যবসায় এ ধরনের কনসেপ্ট যে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে, তা বলাই বাহুল্য। দিনের প্রচণ্ড গরমে ঘামতে ঘামতে গলা শুকিয়ে ক্লান্তিকর ঘোরার বদলে রাতে আয়েশ করে দেখা।
নকট্যুরিজমের ডেস্টিনেশন ইতিমধ্যে জনপ্রিয় উঠেছে পৃথিবীর বিভিন্ন শহরে। নিয়ন আলোয় সজ্জিত টোকিও শহর বিনোদনের জন্য বিখ্যাত। একই রকম ভাবে প্যারিস নিশিভোগের ডাক দেয় সুরা ও সুন্দরীর হাত ধরে। নিউইয়র্ক শহরের ব্রডওয়ে দিনে যতটা নিরুত্তাপ, রাতে ঠিক ততটাই বর্ণময়। এছাড়া ব্যাংকক সিডনি-সহ তাবর শহরগুলোর মূল আকর্ষণ লুকিয়ে আলো-ভেজা রাতে। সেখানেই সৌন্দর্যের চোখে জমে ওঠে ঘোরার নেশা। একটি জনপ্রিয় বুকিং ওয়েবসাইটের সার্ভের হিসাব অনুসারে দেশের ৭৮ শতাংশ ভ্রমণকারী বলেছেন যে, তারা দিনের আলোর ভিড় ছেড়ে মধ্যরাতের ম্যাজিকের জন্য আগ্রহী। বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং সমুদ্র সৈকতের গন্তব্যস্থলের ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে পর্যটকরা সচেতন হওয়ার সঙ্গে ৭৩ শতাংশ, তার মধ্যে বেশিরভাগ মহিলা, বলেছেন যে তাঁরা শীতল গন্তব্যস্থলে গিয়ে রাতের পর্যটনের চেষ্টা করেন, সূর্যের আলো এড়াতে চান।

এ দেশের নকট্যুরিজম নতুন-পুরনো মিলিয়ে রয়েছে। কিছু জানা, কিছু সদ্যোজাত। যেমন হেরিটেজ ভ্রমণের মধ্যে জয়পুরের আমের দুর্গ, গোলকোন্ডা ফোর্ট, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, সোমনাথ মন্দিরের মতো অসংখ্য টুরিস্ট স্পটের লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো। টুরিস্টদের চাহিদা ও আকর্ষণের কথা মাথায় রেখে সেই লিস্টে ঢোকানো হয়েছে বেনারস, অযোধ্যা ও হরিদ্বার ঘাটের সন্ধ্যা-আরতি।
কিন্তু নতুন হিসেবে যেগুলো উঠে এসেছে তার মধ্যে সবথেকে আকর্ষণীয় হয়তো রাতে জঙ্গল সাফারি। রনথম্বোর অভয়ারণ্যে চালু হয়েছে নাইট সাফারি। ঠিক একই রকম ভাবে কেরলের পেরিয়ার লেকে চলছে রাতে বোট সাফারি। থর মরুভূমিতে তারার আলোয় ডিউন (Dunes) সাফারি কিংবা ঘরের পাশে সুন্দরবনে লঞ্চ নিয়ে রাতে অভিযান– তালিকায় যোগ করা যায়।
ট্রেন্ড ও চাহিদা দেখে রাতের অরণ্য ভ্রমণের অবকাশ খুলে দেওয়া হয়েছে পেঞ্চ জাতীয় উদ্যান, সাতপুরা জাতীয় উদ্যান, জিম করবেট ন্যাশনাল পার্ক ও পান্না ন্যাশনাল পার্কে। তবে সেক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ ও কড়াকড়িও রয়েছে। নাইট সাফারির ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়কে বিশেষভাবে মনে রাখতে হয়। যেমন দিনের বদলে রাত ভ্রমণের অনেকটাই পার্থক্য। সেখানে অতিরিক্ত চিৎকার হাঁকডাক করে রাতের পরিবেশকে নষ্ট করা যাবে না। তেমনই সন্ধের ঝোঁকে নেশা করে সাফারিতে বেরিয়ে বেল্লালাপনা একেবারেই বরদাস্ত নয়। নির্জনতার সুযোগ নিয়ে জাতীয় সম্পত্তির ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আর অবশ্যই নির্বাচন করতে হবে নাইট সাফারির উপযুক্ত গাইড। ফরেস্ট সাফারিতে রাতে জন্তু-জানোয়ারদের স্বাধীন বিচরণের সময় কোনও রকমেই তাদের বিরক্ত করা যাবে না। তেমনই শহর পরিক্রমায় নাগরিকের মাঝরাতের ঘুম ভাঙিয়ে, ‘এই আপনাদের শহর দেখতে এলুম’ বলে আদিখ্যেতা একেবারেই বরদাস্ত নয়।

যেসব ট্যুরিস্ট সংস্থা দিনের বেলা ভ্রমণে নিয়ে যেতে অভ্যস্ত, তারাই আলাদা স্পটে আলাদা প্যাকেজে নকট্যুরিজমের জন্য নতুন করে কোমর বাঁধছে। সব থেকে বড় ও সেরা নকট্যুরিজম তো প্রতিবছর হয়েই থাকে। দুর্গাপুজোর রাত জেগে প্যান্ডেল হপিং। ফি বছর নিয়ম করে একাধিকবার। বাঙালির কাছে এর থেকে বড় আর কী হতে পারে? আপনি হয়তো জানেন না, অজান্তেই সেরে ফেলেছেন বেশ কিছু এ ধরনের ভ্রমণ। নামটাই যা জানা ছিল না আপনার।
আর হ্যাঁ, নকট্যুরিজমের বাংলাটা জানেন তো? অনুবাদ করলে তা দাঁড়ায় একটি শব্দ– ‘নিশাচর’। মিল পাচ্ছেন নিজের সঙ্গে?
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved