Robbar

থিয়েটারের দুনিয়ায় ‘ব্র্যান্ড’ হয়ে উঠতে পেরেছিলেন রতন থিয়াম

Published by: Robbar Digital
  • Posted:January 19, 2026 8:51 pm
  • Updated:January 19, 2026 8:51 pm  

রতন থিয়াম আদর্শ, কারণ– রতন থিয়ামের থিয়েটারের অন্যতম আকর্ষণ হল সৌন্দর্যবোধ। অর্থাৎ, যা মনোজ্ঞ। মনকে হরণ করে এমন অতিরিক্ত কিছু। থিয়েটারের ‘বিষয়’ নির্বাচন, প্রয়োগ-কৌশল, আলোকসজ্জা এবং মঞ্চ-ভাবনা প্রভৃতি বিষয় সম্বন্ধে সম্যক ধারণা থাকার পাশাপাশি এই নান্দনিকতাটুকুও যে দরকার সেটা তাঁর থেকে শিক্ষণীয়। থিয়েটার একটি স্বতন্ত্র শিল্পমাধ্যম। তাই মঞ্চে সিনেমার প্রয়োগ-কৌশল ব্যবহার না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। থিয়াম মনে করতেন, মঞ্চে একজন অভিনেতা যা দেখাতে চাইবেন দর্শক তাই দেখবেন। তাই অভিনেতার জানার পরিধি যত বেশি বিস্তৃত হবে অভিনয়ের মান তত বেশি গভীর এবং যথার্থ হয়ে উঠবে। 

অনির্বাণ বল

সিল্কের জামায় ফুলের প্রিন্ট, চোখে কালো চশমা ও ব্যাকব্রাশ করা এক পুরাণপুরুষ করিডোর দিয়ে হেঁটে এগিয়ে আসছেন। আমি তখন ‘ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা’ ত্রিপুরা-তে (২০১৪-১৫) থিয়েটার-ইন-এডুকেশন নিয়ে পড়াশুনা করছি। সেই সময় রতন থিয়ামের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয়েছিল। প্রথম দিন ক্লাসে আমি কোনও কারণবশত পেন আনতে ভুলে গিয়েছিলাম। আমার অস্থিরতা লক্ষ করে তিনি বললেন, ‘পেহলে খুদকো ঢুন্ডো’ (প্রথমে নিজেকে খোঁজো)। একটা ছোট্ট কথা, কিন্তু কী গভীর ব্যঞ্জনাপূর্ণ উক্তি! প্রাথমিকভাবে অভিনয় করা (doing) এবং অভিনয় নিয়ে ভাবতে শেখা (thinking)– এই দুইয়ের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। রতন থিয়ামের ক্লাসে সেদিন শিখেছিলাম যদি শিল্পীর ‘ভাবের ঘরে’ ফাঁক থেকে যায়, তাহলে কোনও সাধনাই আর অর্থবহ হয়ে ওঠে না।

এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, রতন থিয়ামের থিয়েটার কি শুধুই নিয়মানুবর্তিতার কথা বলে? না থিয়েটারের শেষ কথা অনুশাসন? নিষ্ঠা থাকলেই কি অভিনেতা হওয়া যায়? না কি মানুষের মেধাই নির্ধারণ করে সবকিছু? তবে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বোধহয়, থিয়েটার করছি কেন? থিয়েটার করার পেছনে কি কোনও রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে? নাকি শুধুই শখের থিয়েটারচর্চা করছি? অনেকে আবার সমাজ পরিবর্তনের জন্য থিয়েটার করেন। তাহলে থিয়েটার কি সমাজসেবার একটা মাধ্যম? অন্যদিকে থিয়েটার করে যে প্রচুর অর্থ উপার্জন করা যায় এমনটাও তো নয়। তাহলে কেন দলে দলে মানুষ নাটক করতে আসেন? এ-ও ভেবে দেখবার বিষয়। কারণ থিয়েটার যেমন ভাবতে শেখায় (thinking), তেমন আবার করতেও শেখায় (doing)। এই করতে শেখা এবং ভাবতে শেখা– এই দুইয়ের অভ্যেস থিয়েটার একইসঙ্গে শেখায়। অর্থাৎ আপনি যা ভেবেছেন আপনাকে তা অভিনয় করে দেখাতে হবে এবং আপনি অভিনয় করে যেটা দেখাচ্ছেন, সেটাকেও কিন্তু যুক্তিসঙ্গত হয়ে উঠতে হবে। 

রতন থিয়াম

প্রথম দু’দিনের ক্লাসে রতন থিয়াম আমাদের জাপানের বিভিন্ন থিয়েটার সম্বন্ধে (Kabuki and Noh Theatre) পড়িয়েছিলেন। এছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মঞ্চসজ্জা, মঞ্চের নন্দনতত্ত্ব, আঙ্গিক এবং বাচিক অভিনয় সম্পর্কে বিশদভাবে বিবরণ দিয়েছিলেন। এরপর ২১ দিন আমাদের সঙ্গে ছিলেন তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গী ইবোমচা (‘কোরাস’ রেপার্টরি-এর একজন বিশিষ্ট অভিনেতা) এবং পুত্র থাওয়াই থিয়াম। তাঁদের তত্ত্বাবধানে আমরা (Physical Theatre) প্রযোজনা ভিত্তিক একটা নাটক মঞ্চায়িত করেছিলাম। তবে এই প্রযোজনা কখনওই নাটক মঞ্চায়িত করার ‘উদ্দেশ্য’ নিয়ে তৈরি করা হয়নি। বরং ক্লাস-ভিত্তিক এই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে আমরা মণিপুরী মার্শাল আর্ট (থাং তা), নাটকের সাজ-সরঞ্জাম ও পোশাক তৈরি করতে শিখেছিলাম। অনেক নামী পরিচালকদেরও দেখেছি ক্লাস-ভিত্তিক প্রযোজনা, ওয়ার্কশপ-ভিত্তিক প্রযোজনা বা কোনও কাহিনি-অবলম্বনে প্রযোজনা প্রভৃতি পদ্ধতিগুলিকে আলাদা করে দেখেন না। এর ফলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। বিশেষত ক্ষতিগ্রস্ত হয় থিয়েটারের নতুন ছেলেমেয়েরা। কিন্তু রতন থিয়ামের মতো বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্বরা জানেন যে তাঁরা কী করতে যাচ্ছেন! অর্থাৎ তাঁর ‘উদ্দেশ্য’ সম্পর্কে তিনি সচেতন ছিলেন। 

রতন থিয়াম জন্মেছিলেন এই বাংলাতেই, নবদ্বীপে। নয়াদিল্লির ‘ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা’ থেকে তিনি থিয়েটার নিয়ে পড়াশুনা করেন এবং মণিপুরে ফিরে এসে ১৯৭৬ সালে ‘কোরাস রেপার্টেরি থিয়েটার’ তৈরি করেন। তাঁর প্রযোজনাগুলির মধ্যে ‘চক্রব্যূহ’, ‘উরুভঙ্গম’, ‘উত্তর প্রিয়দর্শী’ এবং ‘অন্ধ যুগ’ অন্যতম। রতন থিয়াম ‘সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার’, ‘পদ্মশ্রী’ এবং ‘সঙ্গীত নাটক আকাদেমি ফেলোশিপ’-সহ বহু পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর থিয়েটারে উঠে এসেছে মণিপুরের ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পৌরাণিক কাহিনি ইত্যাদি। এছাড়াও মণিপুরী নৃত্য, মার্শাল আর্ট (থাং তা), সংগীত, আলোকসজ্জা, মঞ্চ-পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষিত মণিপুরী অভিনেতাদের অভিনয় প্রযোজনাগুলিকে ব্যঞ্জনা প্রদান করেছে। সাম্প্রতিককালে কলকাতার এক নামী দলের নাটক দেখতে গিয়েছিলাম, সেখানে গিয়ে দেখি মঞ্চে চাঁদ দেখানো হচ্ছে ‘রিং লাইট’ দিয়ে। নির্দেশকের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি, রতন থিয়াম বিশ্বাস করতেন– মঞ্চে যদি চাঁদ দেখাতে হয় তাহলে অভিনেতা তাঁর অভিনয় দিয়ে দর্শককে কল্পিত চাঁদ দেখাবেন। এখানেই থিয়েটারের সার্থকতা। নাটক তো আর সিনেমা নয়, যেখানে ক্যামেরা যা দেখাবে তাই দর্শক দেখবেন। নাট্যাচার্য শম্ভু মিত্রও বিশ্বাস করতেন, থিয়েটারে মানুষ অভিনয় দেখতে আসেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই আজকের প্রযোজনাগুলির মধ্যে আঙ্গিকের আড়ম্বর এত বেশি, যে অনেক দামি নাটকও গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে। তাহলে থিয়েটারের নতুন প্রজন্ম কোন পথটা অনুসরণ করবে? নাকি আজকের থিয়েটারে আদর্শ ‘শিক্ষক’-এর অভাব রয়েছে? 

রতন থিয়ামের পরিচালনায় কোরাস রেপার্টরি-র ম্যাকবেথ

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে থিয়েটারের বিজ্ঞাপন এবং বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে। অনেক নাটকের দলই এখন প্রচারের কাজে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম প্রভৃতি সামাজ মাধ্যমগুলি ব্যবহার করেন। এই সামাজ মাধ্যমগুলিতে প্রায় প্রত্যেক দলেরই নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। যে দলের কাছে যত বেশি অর্থ, সেই দল তত বেশি বিজ্ঞাপন করছে এবং দর্শক সেই বিজ্ঞাপনের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে নাটক দেখতে যাচ্ছেন। অনেক দামি নাটকও দর্শকের কাছে পৌঁছতে পারছে না পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে। কারণ অনেক সময়েই দর্শক মনে করেন বেশি বিজ্ঞাপন দিচ্ছে মানেই ভালো নাটক। তাই এই অসম প্রতিযোগিতায় অর্থই নির্ণায়ক শক্তি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। রতন থিয়াম-এর মতো বিশিষ্ট শিল্পীরা শুধুমাত্র প্রচারের আলোয় থাকার জন্য থিয়েটার করেননি। আবার এ কোথাও সত্য যে, রতন থিয়ামের একটা নিজস্ব ‘ক্যারিশমা’ ছিল। তাঁর হাঁটাচলা, চিন্তাভাবনা এবং আলাপচারিতা তাঁকে বাকিদের থেকে আলাদা করেছে। এক কথায় রতন থিয়ামকে ভারতীয় থিয়েটারের ‘স্টার’ বলা যায়। যাঁর নামেই টিকিট বিক্রি হয়েছে। থিয়েটারের দুনিয়ায় তিনি নিজেই একটা স্বতন্ত্র ‘ব্র্যান্ড’ হয়ে উঠতে পেরেছিলেন। তাঁর মৌলিক চিন্তাই তাঁকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। এই মৌলিক ভাবনার জন্ম কোনও বাণিজ্যিক কোম্পানি তৈরি করে দিতে পারে না। মৌলিকতা নিজেকে অর্জন করতে হয়। নিজস্ব পদ্ধতি, গভীর অধ্যবসায় এবং ক্ষুরধার বুদ্ধি রতন থিয়ামের মতো প্রতিভাদের স্বতন্ত্র করে দেয়। 

আমাদের এখানেও এখন অনেকে ফিজিক্যাল থিয়েটার করছেন। সে ভালো কথা। কিন্তু প্রত্যেক জায়গার কিছু বিশেষত্ব থাকে। যেমন মণিপুরের মানুষদের শরীরী ভাষা কাব্যের মতো। তা সে মণিপুরী নৃত্যই হোক বা মার্শাল আর্ট (থাং তা), যার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এই কারণেই বোধহয় মণিপুরের রতন থিয়াম, হেইসনাম কানাইলাল, সাবিত্রী হেইসনাম প্রমুখ নাট্য-ব্যক্তিত্বরা নিজেদের স্বতন্ত্র রাখতে পেরেছিলেন। তাঁরা নিজেদের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে তাঁদের থিয়েটারে তুলে ধরেছেন। ভারতবর্ষের অন্যান্য প্রদেশে যে বিভিন্ন ধরনের নাট্যচর্চা হচ্ছে তা সম্বন্ধে তাঁরা অবগত। কিন্তু নিজেদেরকে তাঁরা সচেতনভাবেই স্বতন্ত্র রাখতে পেরেছিলেন। তাই ভারতবর্ষের অন্য প্রদেশের ফিজিক্যাল থিয়েটার আর মণিপুরের ফিজিক্যাল থিয়েটারের মধ্যে পার্থক্য থেকেই যায়। যেমন বাংলা থিয়েটারের বৈশিষ্ট্য সাহিত্য-নির্ভর কাহিনি, মৌলিক নাটক ও দক্ষ অভিনয়। কিন্তু হঠাৎ করে আমরা যদি নিজস্বতা ছেড়ে দিয়ে অন্য কোনও পদ্ধতির (Practice) প্রতি আকৃষ্ট হয়ে অনুকরণ করি, তাহলে অন্ধের হাতি চেনার মতো অবস্থা হবে। হাবিব তানবির মধ্যপ্রদেশের জনগোষ্ঠীর মানুষদের নিয়ে থিয়েটার করেছেন। এভাবেই সফদর হাসমি, জব্বর প্যাটেল প্রমুখ নাট্য-ব্যক্তিত্বরা নিজস্ব বৈশিষ্ট্য তাঁদের থিয়েটারে তুলে ধরেছেন। আমি মিউজিকাল থিয়েটার করি, ফিজিক্যাল থিয়েটার করি, আবার নৃত্যনাট্যও করি– মানে আমি বোঝাতে চাইছি, আমি সবই পারি। এখানেই আসল সমস্যা। আপনাকে আপনার বিশেষত্বের জায়গাটাকে বুঝতে হবে। অর্থাৎ স্পেশালাইজড এরিয়া। আপনার সর্বগ্রাসী মনোভাবই আপনার চরম বিপদ ডেকে আনবে। রতন থিয়ামের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা নিজেদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সচেতন। একজন শিল্পীকে তাঁর সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অবগত থাকা উচিত। সবটা দেখাতে গিয়ে আপনার ভুলটাও যেন বেরিয়ে না পড়ে। সুতরাং, শিল্পীর সচেতনতাই তাঁর প্রকৃত পরিচয়। 

হেইসনাম কানাইলাল, রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের থেকে সঙ্গীত নাটক আকাদেমি ফেলোশিপ নিচ্ছেন

আজকের দিনে যে সমস্ত ছেলেমেয়েরা নতুন থিয়েটারে আসছেন, তাঁদের কাছে রতন থিয়াম একজন আদর্শ পুরুষ। কেননা, রতন থিয়াম ‘প্রশিক্ষিত’ অভিনেতা হওয়ার কথা বলেছেন। যেখানে একজন অভিনেতাকে থিয়েটারের ইতিহাস, শিল্প-সাহিত্য, পুরাণ-কাহিনি প্রভৃতি বিষয়ে পারদর্শী হয়ে উঠতে হবে। তিনি নিজে নয়াদিল্লির ‘ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা’ থেকে থিয়েটারের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন এবং তাঁর মাস্টারমশাই ইব্রাহিম আলকাজি-কে তিনি পাথেয় করেছিলেন। কেননা, কোনও একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য যা আপনার মধ্যে রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে আপনি তা অভ্যাস করে যাচ্ছেন। অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে আপনাকে এগিয়ে যেতে হবে। যেমন তিনি নিজে এবং ‘কোরাস রেপার্টারি থিয়েটার’ দীর্ঘদিন ধরে মণিপুরী মার্শাল আর্ট (থাং তা) নিয়ে কাজ করে চলেছেন। কেননা, মৌলিক ভাবনার প্রতি যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। মণিপুরের ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যবোধ এবং শারীরিক ভাষা রতন থিয়ামের থিয়েটারের মৌলিক বৈশিষ্ট্য। মৌলিক চিন্তাই নাটককে স্বতন্ত্র করে তোলে। 

থিয়েটারের নান্দনিকতা, কোরাস রেপার্টরি

রতন থিয়াম আদর্শ, কারণ– রতন থিয়ামের থিয়েটারের অন্যতম আকর্ষণ হল সৌন্দর্যবোধ। অর্থাৎ, যা মনোজ্ঞ। মনকে হরণ করে এমন অতিরিক্ত কিছু। থিয়েটারের ‘বিষয়’ নির্বাচন, প্রয়োগ-কৌশল, আলোকসজ্জা এবং মঞ্চ-ভাবনা প্রভৃতি বিষয় সম্বন্ধে সম্যক ধারণা থাকার পাশাপাশি এই নান্দনিকতাটুকুও যে দরকার সেটা তাঁর থেকে শিক্ষণীয়। থিয়েটার একটি স্বতন্ত্র শিল্পমাধ্যম। তাই মঞ্চে সিনেমার প্রয়োগ-কৌশল ব্যবহার না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। থিয়াম মনে করতেন, মঞ্চে একজন অভিনেতা যা দেখাতে চাইবেন দর্শক তাই দেখবেন। তাই অভিনেতার জানার পরিধি যত বেশি বিস্তৃত হবে অভিনয়ের মান তত বেশি গভীর এবং যথার্থ হয়ে উঠবে। 

থিয়েটারের আঙ্গিকে লোকসংস্কৃতির ব্যবহার, কোরাস রেপার্টরি

একটি তথ্যচিত্র নির্মাণের কাজের সূত্রে গতবছর একবার থাওয়াই থিয়ামের সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছিল। তখন রতন থিয়ামের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়, তিনি অসুস্থ। এরপর হঠাৎ জানতে পারি, ভারতীয় থিয়েটারের আকাশে নক্ষত্রপতন ঘটেছে ২৩ জুলাই, ২০২৫। রতন থিয়াম তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে রেখে গেলেন একাধিক কালজয়ী প্রযোজনা, মণিপুরের ঐতিহ্য এবং অসীম অনুপ্রেরণা।