
ছেলেবেলার ঋত্বিক ঘটক। বড়বেলার ঋত্বিককে কতটা প্রভাবিত করেছে? হাতে-লেখা পত্রিকা থেকে স্যুইমিং– চকোলেট-সিগারেট থেকে ডিপথেরিয়া বাঁধানো– বিচিত্র তাঁর ছেলেবেলা। তবে, সবথেকে বিস্ময়কর, আরব্য রজনী পড়ে শখ জেগেছিল তাঁর, অনন্ত যৌবনের অধিকারী হবেন। ঋত্বিক, অনন্ত যৌবনের অধিকারী হতে পারেননি। কিন্তু বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে, তাঁর স্থানাঙ্কটি অনড়, অনন্তকালের জন্য ‘বুকড’।
ভবা, ভবি আর খুকু। ভবি যমজ ভাই ভবার থেকে কয়েক মিনিটের বড়। ভাইঝি খুকু– দু’মাসের ছোট। কিন্তু তিনজনে ভাইবোনের মতো বড় হতে লাগল। দিনভর খেলাধুলো, ঝগড়াঝাঁটি, মারপিট, কান্নাকাটির অন্ত নেই! তবে তিনজনকে আলাদা করার জো নেই। ভবা-ভবির বাবা ব্রিটিশ সরকারের দুঁদে জেলা শাসক। বড়দা বাংলা সাহিত্যের ‘কল্লোল’ যুগের গুরুত্বপূর্ণ লেখক।
১৯৩৪ সালের ঢাকা। নলিনী কুটির ওদের বসতবাটি। বাড়ির চৌহদ্দি ঘেরা পাঁচিলের মেরামত চলছে। দেওয়ালের আঁধার ছাওয়া এক কোণে এক বিরাট মানকচু সমূলে উপড়ে ফেলা হয়েছে। কচুটা আলাদা পড়ে আছে। ভবা, ভবি, খুকু এমন একটা সাদা ধপধপে মূলের খোঁজে ছিল। তারা হাতে চাঁদ পেল। রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের অনূদিত সম্পাদিত ‘সহস্র এক আরব্য রজনী’– স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ পারস্য সাহিত্যের এই তরজমা অভিভাবকদের পাঠ্য বলে জানিয়েছেন। সাহিত্যিক দাদার লাইব্রেরিতে সে বই হাতে পেয়ে ভবা, খুকু, ভবি পড়ে ফেলেছে। আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ নয়, সিন্দাবাদ নাবিকের গল্প কি আলিবাবা চল্লিশ চোরও নয়, কোনও গল্পের এক শাহজাদি এক বিশেষ সাদা মূল খেয়ে ‘অনন্ত যৌবনের’ অধিকারিণী হয়েছে, ওরা জানে।

মানকচু পেয়েই তিনজনে গলাধঃকরণ করে ফেলল। ব্যস! আর যায় কোথায়! অমন প্রায় আঁধারে বেড়ে ওঠা সেই কচুতে যে ভয়ংকর গলা কুটকুট করে, কে জানত! তিনজনের ত্রাহি ত্রাহি রব শুনে বাড়ির সবাই ছুটে এল। বড়দা প্রবল আতঙ্কে চিৎকার করছে ‘ডেঞ্জারাস! অ্যাক্সিডেন্ট! পয়জন কেস! স্নেক বাইট!’ ভবা মানকচুর দিকে আঙুল দেখিয়ে ফ্যাসফ্যাসে গলায় বলে চলেছে, ‘খুকু খুকু…।’ তিনজনের গলায় আঙুল ঢুকিয়ে মা-জেঠিমা সরষের তেল আর তেঁতুল ঘষে ঘষে স্বাভাবিক করার চেষ্টায় ব্যস্ত। দাদা তারস্বরে জিজ্ঞেস করল, মানকচু খাওয়ার কারণ কী? ভবার সকাতর উত্তর, ‘অনন্ত যৌবন’! আবার জানতে চাইল দাদা ‘কী?’ ভবার স্বীকারোক্তি: ‘অনন্ত যৌবন।’ দাদা হতবাক!
১৯৩৭। ভবানীপুরের কাছে বকুলবাগান রো-র বাড়িতে বোন ব্রততীর বিয়ে পাশের বাড়ির নলিনী ভট্টাচার্যের সঙ্গে। বউভাতের দিন সক্কলে ব্যস্ত। এমন সময় খুকুর কানে কানে ভবা বলল রান্নাঘরে মিষ্টির ভাঁড়ার। পাহারায় কেউ নেই। কাকা-ভাইঝি চুপিচুপি সেখানে গিয়ে দেখল– কাঠের বারকোশে থরে থরে সাজানো রয়েছে ইয়াব্বড় বড় সাদা সাদা চমচম। দু’জনে যতগুলো পারে হাতে নিয়ে মুখে ভরতেই ঝালের চোটে মুখ জ্বলতে শুরু করল। সেগুলো কাঁচা মাটন চপ! গেলা যায় নাকি! ছুট বাথরুমে! সেই কাঁচা চপ কোনও রকমে মুখ থেকে ফেলে কুল্কুচি, গারগেল করেও মুখের জ্বলুনি কমে না। যখন খাওয়ার ডাক পড়ল, গালের অবস্থা একই রকম। দু’জনে কিছুই খেতে পারল না। পরের দিন সকালে দাদা মাকে জানতে চাইল, ‘ভবা-খুকু ভালো করে খেয়েছিল? তারপর প্রশ্ন করল ভাইকেও– ‘ভবা, কাল নেমন্তন্ন কেমন খাওয়া হল?’ ভবা থতমত খেয়ে বলল, ‘কেন, ভালোই তো!’ দাদা উত্তরে, ‘হুঁ! কাঁচা মাটন চপ মুখে ভরার পরে কেমন করে ভালো করে খাওয়া যায়, ঢের বুঝতে পারছি।’
বকুলবাগান রো-র বাড়ির ওপরের ঘরটয় কাচের শার্শি দেওয়া। বিকেল থেকে পরিবারের অনেকেই সেখানেই আড্ডায় জড়ো হয়। অতিথি অভ্যাগতরাও জোটে সেখানে। কারও কারও অন্যমনস্কতায় তাদের পকেট থেকে একআনা চারআনা পড়ে যেত। ভবারাও তক্কে তক্কে থাকত। একটা-দুটো যদি জুটে যায়। এমনই একদিন ভবার চোখেই পড়ল– একটা চার আনা! ভবাকে আর পায় কে! দুঃসাহসী ভবা ঘোষণা করল, মোড়ের মণিহারি দোকানে ঝটিতি যাবে চকোলেট কিনবে আর সটাকসে ফিরে আসবে! বলেই বেরিয়ে গেল। তখনকার দিনে বড় এক টাকার কয়েনের মতো দেখতে সোনালি রঙের রাংতায় মোড়া এক ধরনের চকলেট পাওয়া যেত। আরেক রকম ছিল ফিল্টার সিগারেটের মতো। তিন ইঞ্চি মতো লম্বা সাদা, একটা দিক অবিকল ফিল্টার সিগারেটের মতো বাদামি রং ! ভবা দু’পকেটে চার আনায় যে বিপুল পরিমাণে চকলেট পাওয়া গেল, নিল। সেই চকোলেট সিগারেট মুখে লায়েকের মতো বাড়ি ফিরছে– এমন সময় কে একজন সজোরে কানটি ধরে ধমকাতে লাগল– ‘বাঁদর ছেলে এই বয়সে সিগারেট খাওয়া ধরেছ!’ পাড়ার সেই কাকু, খানিক পরেই নিজের ভুল বুঝতে পেরে কাঁচুমাচু! প্রথম ভুল– তিনি ভবাকে নিজের ভাইপো ভেবেছিলেন। দুই, ভবার মুখের ওটা একটা লজেন্স মাত্র! অনুতপ্ত সেই পাড়াতুতো কাকা ভবাকে কয়েক ঠোঙা চকোলেট লজেন্স ধরিয়ে দিলেন। ভবাকে আর পায় কে! বীরদর্পে নিজের তল্লাটে ফিরে গেল। ভবি, খুকু এবং অন্যান্য ভাইবোনের কাছে সে তখন ‘হিরো’।

অবসরের পরে ভবা-ভবির বাবা কখনও কলকাতায়, কখনও-বা রাজশাহীতে থাকতেন। ভবাকে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলে ভরতি করা হল। ছেলেদের স্কুল।ভবা কান্নাকাটি জুড়ে দিল– ভবিকে ছাড়া সে ইশকুলে যাবে না। অগত্যা হেডমাস্টারকে অনুরোধ করে ভবিকে ছেলেদের পোশাকেই পাঠাতে হল। পরে অবশ্য ভবি জানতে পারে, স্কুলে খাতায়-কলমে তার নাম ছিল না। কয়েক মাস পরে ভবির ডিপথেরিয়া ধরা পড়ল। আলাদা ঘরে একা ভবির থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। টেবিলে রোগীর পথ্যি, নানা ফল এবং হরলিক্স সাজানো। ভবা চুপটি করে ঢুকে ভবির পথ্যি সাবাড় করে। একদিন মা হাতেনাতে ধরে ফেললেন। তুই এখানে কি করছিস? নিরীহ গোবেচারার মতো মুখ করে ভবা বলল, ‘এই তো ঘড়ি দেখতে এসেছিলাম!’ ভবাকে মা বললেন, ‘হাঁ কর দেখি।’ ডিপথেরিয়ার লক্ষণ স্পষ্ট। ভবা-ভবির এক ঘরেই থাকার ব্যবস্থা। দু’জনেই বেজায় খুশি। দিন পেরল। ভবি স্বাভাবিকভাবেই মেয়েদের স্কুলে। একদিন ভবার স্কুল থেকে ফেরার সময় হয়ে গিয়েছে, ফেরার নাম নেই। সব্বাই অত্যন্ত দুশ্চিন্তায়। এমন সময় কয়েক জন লোক প্রায় অজ্ঞান ভবাকে চ্যাংদোলা করে নিয়ে এল। ডাক্তারবাবু এসেই খানিক চিকিৎসা করায় ভবার জ্ঞান ফিরল। জানা গেল, তিন-চারজন ভবাকে নীল রঙের শরবত খাওয়ার লোভ দেখানোয় ভবা নির্দ্বিধায় তা গলাধঃকরণ করেছে। ভবার হাতের ঘড়ি এবং স্কুলের বেতন নিয়ে ওকে জলে ফেলে দিয়েছে। ডাক্তারবাবু বললেন, ‘ভাগ্যিস পুকুরে ফেলেছিল। ওই শরবতে নাকি ক্লোরোফর্ম ছিল!’
এরপর ভবা চলল সাহিত্যিক দাদার হেফাজতে কলকাতায়। ভর্তি করা হল পদ্মপুকুর ইন্সটিটিউশনে। ভবার স্কুলে মন বসে না। যাওয়ার সময় বাড়ির কেউ খাতায় সই করে দিতেন, ফেরার সময় শিক্ষকরা। ১৯৩৯– এই সময় দাদার মনে হল ভবাকে কানপুর শিল্পনগরীতে রেখে আসবে। কারিগরি বিষয়ে খানিক অভিজ্ঞতা থাকা ভালো। সে প্রসঙ্গে বিশদ যাওয়ার আগে ভবার দুটো কীর্তি বলতেই হবে।
দাদা বিশিষ্ট সাহিত্যিক হলে কী হবে, খেয়ালখুশিতে নানা জিনিস কিনে আনত। কখনও হান্টিং শু, কখনও-বা স্যুইমিং ট্রাংক। ভবার নজরে পড়েছিল নীল রঙের সেই স্যুইমিং ট্রাংক। তক্কে তক্কে ছিল ভবা! একদিন সবার নজর এড়িয়ে বকুলবাগান রো থেকে এক ছুট্টে ঢাকুরিয়া লেক। সেখানে গিয়ে ট্রাংক পরে ডাইভিং বোর্ডে দাঁড়িয়ে জলের দিকে তাকিয়ে ইতস্তত করছে, এমন সময় কোনও একজন ‘কুদ যা ভাইয়া’ বলে পিছন থেকে এক ধাক্কা দিল! ভবা জলে পড়ে নাকানিচোবানি! আর্ত চিৎকার– ‘আমি সাঁতার জানি না!’ বেচারা অবাঙালি ভদ্রলোক নিজে জলে ঝাঁপিয়ে ভবাকে উদ্ধার করলেন। গাড়ি করে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার পথে নিজের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে প্রচুর চকোলেট-মিষ্টি ইত্যাদি ভবার হাতে ভরে দিলেন। বাড়িতে ঢুকতেই দাদা রক্তচক্ষু! বলল, ‘কী সর্বনাশই না হতে পারত! জলে ডুবে মরে যেত ভবা। সাঁতার না জানা সত্ত্বেও মানুষ লেকে যায় কখনও!’ যখন ভবার কাছে জানতে চাইল কোন সাহসে সে লেকে গিয়েছিল– ভবা মিছিমিছি কাঁদতে কাঁদতে দাবি করল, সে ভেবেছিল ওই স্যুইমিং ট্রাংক পরলেই যে কেউ সাঁতার কাটতে পারবে!

ভবারা শুনেছিল, কল্লোলের সাহিত্যিক দাদা ও তার বন্ধুরা তরুণ বয়সে হাতে-লেখা সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ করত। অতএব, ভবা, ভবি, খুকু-সহ বাড়ির বাচ্চারা মিলে তেমন একটা পত্রিকা বের করবে। প্রথমেই বলে দেওয়া হল বড়রা কেউ যেন জানতে পারে, তাদেরকে চমকে দিয়ে প্রথম সংস্করণের আত্মপ্রকাশ ঘটবে। ভবা ওই বয়সেই অর্থাৎ, প্রায় ১৪ বছর বয়সে খুব ভালো ছবি আঁকতে পারত। সেই-ই অলংকরণের দায়িত্ব নিল। কে কী লিখছে, পরস্পরের কাছে গোপন রাখবে। এবং সেই মতো একদিন বৈঠকখানা ঘরের দেওয়ালে সে পত্রিকার আত্মপ্রকাশ ঘটল। ছোটরা আড়াল থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছে বড়দের কী প্রতিক্রিয়া। পরিবারের বেশ মজা পাচ্ছে, মিটিমিটি হাসছে কেউ কেউ। খুদে লেখকদের আসল কৌতূহল লেখক-দাদা কী বলে! সেই দাদা ‘হো হো’ করে হেসে বলল, ‘কী তোমরা বলো ভবার কোনও গুণ নেই! চমৎকার লিখেছে। আর খুকু, তোমার গল্প কিন্তু মৌলিক হয়ে ওঠেনি।’ অন্যান্যদের লেখা নিয়েও মন্তব্য করল। অলংকরণও দাদার নজরে পড়েছে, জানা গেল। কিন্তু মা ও বাড়ির মহিলাদের আপত্তিতে সেই প্রথম এবং সেই-ই শেষ ভবাদের হাতে-লেখা পত্রিকা। তার জন্য ভবা দায়ী। ভবার গল্পের সারাংশ ছিল এই বয়সেই তার জীবনে বিস্তর নারীর আসা-যাওয়ায় সে অত্যন্ত চিন্তিত ও বিপর্যস্ত! তাদের দু’জনের নাম কাল্পনিক– অরশি, মানসী। কিন্তু তৃতীয় নামটা জলজ্যান্ত এক কিশোরীর। তিরতিরে ফুলের মতো সুন্দর দশ বছরের ফুটফুটে সেই মেয়ে। পাশের ম্যাডাক্স স্কোয়ারে খুকু-ভবিদের সঙ্গে ছোটাছুটি করে, দোলনা চড়ে। ভবার গল্পে এহেন নায়িকার উপস্থিতিতে অভিভাবিকারা যারপরনাই চিন্তায় পড়লেন। তাঁরা বলে দিলেন, ‘অনেক হয়েছে সাহিত্যচর্চা! এখন পড়াশোনায় মন দেবে যাও!’
আবার আসা যাক, ভবার কানপুর পর্বে। পদ্মপুকুর ইন্সটিটিউশন থেকে কানপুর শিল্পনগরীর এক স্কুলে, ক্লাস এইটেই। বড়দার পরিচিত একজনের বাড়িতে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা হল। এখানে ভবার জীবনে একেবারেই অন্য এক অভিজ্ঞতার জগৎ খুলে গেল। কারখানার মালিকেরা কীভাবে শ্রমিকদের বিনা ওভারটাইমে অনেক বেশি সময় খাটায়। ন্য়ূনতম প্রাপ্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করে। কী নির্মম শোষণ! শ্রমিকদের হতদরিদ্র দশা বছর চোদ্দোর ভবার চেতনায় গভীর দাগ ফেলেছিল। সে অভিজ্ঞতার সাহিত্যিক প্রকাশ দেখা যাবে ১৯৪৬-এর অগ্রণী নবপর্যায় আশ্বিন সংখ্যায় ‘চোখ’, ১৯৫০-এর ‘ফতোয়া’ পত্রিকায় ‘কমরেড’ এবং ‘শনিবারের চিঠি’তে ছাপা ‘রাজা’ এবং অন্যান্য গল্পে।

তার ময়মনসিংহ,পাবনা, ঢাক, রাজশাহীর যাপিত জীবন থেকে কতটা আলাদা। অবশ্য নদীর ধারে মানে ব্রহ্মপুত্র,পদ্মার ধারে যখনই থেকেছে ডিঙি থেকে ডিঙিতে লাফিয়ে বেরিয়েছে। উঁচু কাশ গাছের গভীরে বন্ধুদের সঙ্গে দৌড়ঝাঁপ। পদ্মায় মহাজনী নৌকো, গয়না নৌকো থেকে নানা নৌকোর মাঝিমাল্লা, পাল ফুলিয়ে চলা তাদের। ভবার সঙ্গে তার গভীর আত্মীয়তাও সে সময়!
ভবি বলছে, ভবা ১৬-১৭ বছর বয়সেই ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের শরিক হতে শুরু করল। খুকুকে নিয়ে উত্তরবঙ্গের চা বাগানের শ্রমিকদের কাছে সে বার্তা পৌঁছে দিতে লাগল। এরপর দেশভাগ তাঁকে বারবার ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত করেছে। ভবার বাকি জীবন মানুষের জন্য নিবেদিত। শিল্প-সাহিত্য-নাটক-চলচ্চিত্রে তার অনিবার্য প্রকাশ।
ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘের গুরুত্বপূর্ণ কর্মী সুনীল দত্তর বয়ান, ‘‘১৯৫০ আমরা নতুন ধরনের নাটকের খোঁজ করছি। এ সময় একদিন ৪৬নং ধর্মতলা স্ট্রিটের অফিসে মৃণাল সেন নিয়ে এলেন ছ’ফুট উচ্চতার এক যুবককে। একটি পায়জামা আর পাঞ্জাবি পরা চটি জুতো পায়ে। বগলে একটা নাটকের পাণ্ডুলিপি। মৃণাল নাম বলে দিলেন ‘ভবা’! ঋত্বিক ঘটক!’’
পাঠক নিশ্চয়ই বুঝতে পেরে গিয়েছেন খুকু মানে মহাশ্বেতা ঘটক পরে ভট্টাচার্য। ভবার বড়দাদা মণীশ ঘটক কল্লোল যুগের ‘যুবনাশ্ব’! আর, ভবি– প্রতীতি ঘটক পরে দত্ত।
………………………..
এ লেখা মূলত মহাশ্বেতা দেবী, প্রতীতি দত্তর স্মৃতিচারণা এবং ঋত্বিক ঘটকের আত্মকথা অনুসৃত।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved