Robbar

Ritwik Ghatak

ঋত্বিক-মানিক রবীন্দ্রসেতু

সত্যজিৎ ও ঋত্বিক। ছবিতে রবীন্দ্রসংগীতকে ব্যবহার করেছেন দু’জনেই। সত্যজিতের ব্রাহ্ম প্রেক্ষাপট, শিল্পী নির্বাচন কিংবা তালবাদ্য ব্যবহারের অনীহা– গায়কি-বিষয়ক আমাদের সন্ধানকে গাঢ়তর করে তুলতে পারে। অপরদিকে গণনাট্য আন্দোলনের কর্মী হিসেবে ঋত্বিক, জ্যোতিরিন্দ্র, দেবব্রত প্রমুখ রবীন্দ্র-গানকে জনসমাজে ছড়িয়ে দেবার পন্থী। কম্যুনিকেশনের দর্শন ও ‘পলিসি’টি আলাদা।

→

লেখার বিরতিও আসলে লিখনপদ্ধতি

এক বছর কিছু লিখবেন না– এই মর্মে আনন্দমেলা সম্পাদক দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি চিঠি লিখেছিলেন বুদ্ধদেব গুহ। চিঠিটি কোনও বিদায়পত্র নয়, কোনও ক্লান্তির বিবরণও নয়। এটি যেন এক শিল্পীর আত্মার দিকে ফিরে তাকানোর মুহূর্ত। যেন তিনি বলছেন– আমি লিখতে জানি, তাই থামতেও জানি।

→

বলো কোথায় তোমার দেশ

৭০ বছরের এপার-ওপার মিলিয়ে দিচ্ছে রোজিনা ও টোবা টেক সিং-কে। মিলিয়ে দিচ্ছে জন লেননের ইমাজিন গানটাকে। কত কথা! কত আলোচনা! কিন্তু এই আশ্চর্য সময়ে সব কিছুই বড় ক্ষণস্থায়ী। রোজিনাকে আমরা হয়তো ভুলে যাব। আমাদের হয়তো জানা হবে না, সে তার ‘দেশের বাড়ি’র সন্ধান পেয়েছিল কি না!

→

স্বেচ্ছামৃত্যু হৃদয়বিদারক, তবু সম্মানজনক

‘চরক সংহিতা’য় চিকিৎসায় আরোগ্য অসম্ভব এমন রোগীদের ক্ষেত্রে ‘প্যাসিভ ইউথেনাসিয়া’-র পক্ষে সমর্থন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রাচীন গ্রিসের হিপোক্রেটিসের মতোই প্রাচীন ভারতের চিকিৎসকরাও হাজার চিকিৎসাতেও ‘সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকা অসম্ভব’– এমন রোগীর ক্ষেত্রে পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যুকে সমর্থন করতেন।

→

ছাব্বিশের বইমেলা বাণীপ্রধান!

মেলার চারদিকেই শব্দের বাগান, স্বপ্নের দৃশ্য। চোখ কচলে, গায়ে চিমটি কেটে নিজেকে আশ্বস্ত করার প্রয়োজন নেই। যাহা ঘটিল, তাহাই সত্য। স্টলে স্টলে দলে দলে লোক যে ভেসে যায়।

→

কিশোর ঋত্বিকের ছিল অনন্তকাল বেঁচে থাকার সাধ

ছেলেবেলার ঋত্বিক ঘটক। বড়বেলার ঋত্বিককে কতটা প্রভাবিত করেছে? হাতে-লেখা পত্রিকা থেকে স্যুইমিং– চকোলেট-সিগারেট থেকে ডিপথেরিয়া বাঁধানো– বিচিত্র তাঁর ছেলেবেলা। তবে, সবথেকে বিস্ময়কর, আরব্য রজনী পড়ে শখ জেগেছিল তাঁর, অনন্ত যৌবনের অধিকারী হবেন। ঋত্বিক, অনন্ত যৌবনের অধিকারী হতে পারেননি। কিন্তু বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে, তাঁর স্থানাঙ্কটি অনড়, অনন্তকালের জন্য ‘বুকড’।

→

বাংলার ১৩০০ নদীর জল নির্গত হয় ঋত্বিকের ক্যামেরায়

ঋত্বিক ঘটক জন্মগ্রহণ করেন ঢাকার জিন্দাবাহার লেনের মামাবাড়িতে। এ বছর ঋত্বিকের জন্মশতবর্ষ পালিত হচ্ছে, আগামী বছর মহাশ্বেতা দেবীর জন্মশতবর্ষ পালিত হবে। ঢাকার যে বাড়িতে মহাশ্বেতা দেবী জন্মেছেন সেই বাড়িটি এখনও অক্ষত রয়েছে।

→

সারাজীবন নিজেকে জানার জন্যেই লিখে গিয়েছেন সমরেশ বসু

‘উত্তরঙ্গ’ পড়ে উচ্ছ্বসিত ডি কে বলেছিলেন, এই উপন্যাসের লেখককে সোনার কলম দেওয়া উচিত। এবং সত্যিই তিনি সমরেশ বসুকে বাড়িতে ডেকে একটি দামি কলম উপহার দেন। সমরেশদার জীবনের প্রথম পুরস্কার⎯ একটা ফাউন্টেন পেন পাওয়া তখন তাঁর কাছে প্রায় স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতোই ছিল।

→

নবারুণ চেয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ কবিতার সিরিজে তিনিও থাকুন, কিন্তু হল না

‘উপন্যাসসমগ্র’ প্রকাশের বছর দুয়েক পর একদিন বিকেলে নবারুণদা অপুকে ফোনে মজার সুরে বলেন, দে’জের ক্যাটালগে এত কবির ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ আছে অথচ তাঁর নেই কেন? অপু পালটা জানায় তিনি পাণ্ডুলিপি দিলেই তাঁর ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ ছাপা হবে।

→

সত্যজিৎ-মৃণাল-ঋত্বিক ত্রয়ীর মধ্যে ঋত্বিকের লেখাই আমরা প্রথম ছেপেছিলাম

‘চলচ্চিত্র মানুষ এবং আরো কিছু’ বইটি প্রকাশের পরে পাঠকমহলে যথেষ্ট সাড়া পড়ে যায়। দু’-মলাটের মধ্যে ঋত্বিকের এতগুলো লেখা এর আগে কখনও আসেনি। তবে এ-কাজটিও সুরমা বউদি এবং ঋতবান ঘটকের সাগ্রহ অনুমোদন ছাড়া করা সম্ভব হত না।

→