একটি কাব্যগ্রন্থ আর একটি সিনেমার মধ্যে আশ্চর্য একটি যোগসূত্র পেয়ে যাই যখন দেখি দু’টির কেন্দ্রেই একটি গাধা। হুয়ান রামোন হিমেনেথ-এর গদ্যকবিতার বই ‘প্লাতেরো অ্যান্ড আই’ (মাদ্রিদ, ১৯১৪) আর রবার্ট ব্রেসোঁ-র সাদা-কালো ছবি ‘বালথাজার’(ফ্রান্স, ১৯৬৬) একটি ‘নির্বাক’ প্রাণীকে ঘিরেই সম্ভব হয়ে উঠছে একটি যাত্রা রূপে।
১৯০১ সালের ২২ জানুয়ারি ইংল্যান্ড থেকে এক টেলিগ্রামে রানি ভিক্টোরিয়ার মৃত্যুসংবাদ কলকাতায় পৌঁছনোর অল্পক্ষণের মধ্যেই সেই শোকসংবাদ ছড়িয়ে পড়েছিল সারা ভারতে। এরপর থেকেই ব্রিটিশ সরকারের পৃষ্ঠপোষণায় দেশের অভিজাত সম্প্রদায় ইংল্যান্ডের মহারানির মৃত্যুতে শোকপালনের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছিল। ভারতের অগুনতি সংবাদপত্র যেভাবে নিজেদের পৃষ্ঠাগুলিকে কম্পিত ও সিক্ত করেছিল, বহু বছর পর সেগুলি দেখতে বসে করুণ রসের চেয়ে হাস্যরসের উদ্রেক বেশি হয়! রানি ভিক্টোরিয়ার প্রয়াণের ১২৫ বছরে ফিরে দেখা।
একটা বটবৃক্ষের ভিতর একটা কালো পাথরের পুজো হচ্ছে। তিনি কৃষ্ণাচণ্ডী। আগে মুখের একটা অবয়ব বোঝা গেলেও, এখন সিঁদুর লেপে মুখ আর বোঝা যায় না। তবে দেখে মনে হচ্ছিল কিছুটা বৌদ্ধদেবীর আদল।
দারিদ্র, দুর্ভোগ বা অসহায়তাকে অতিরঞ্জিত এবং চমৎকার সেনসেশনালভাবে ছোট-বড় ভিডিও, ডকুমেন্টারি কিংবা ফিকশন ফিচার ফিল্ম, কিংবা নিছক মোবাইল ফটোগ্রাফির মাধ্যমে দেখিয়ে দর্শকের সহানুভূতি, দান, ভিউ ফান্ড ফলোয়ার আদায় করা। এ হল আজকের নতুন ট্রেন্ড। পভার্টি পর্ন।
মাঠ ও মাঠের বাইরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই তীব্র হোক, ক্রিকেট শেষপর্যন্ত ছিল একটি মানবিক সম্পর্কের জায়গা। আজ, যখন হাত মেলানো নিয়েও প্রশ্ন ওঠে, তখন সেই সম্প্রীতি যেন আরও দূর সময়ের গল্প বলে মনে হয়।
বাংলা থিয়েটারে নারী চরিত্রে দীর্ঘদিন নিষিদ্ধপল্লির নারীরা অভিনয় করতেন। এঁদের মঞ্চে দেখার জন্য মারামারি চলত, কিন্তু সামাজিক প্রাপ্তি শূন্য। 'রঙ্গালয়' পত্রিকা এঁদের ছবি ছাপছে, তা হাতে হাতে পৌঁছে যাচ্ছে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে। এ নিছক জনপ্রিয়তা নয়, বরং সমাজের অপাংক্তেয় মানুষদের একই পরিবারভুক্ত করে নেওয়া। তাঁদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে সামাজিক দূরত্ব ঘোচানোর প্রক্রিয়া।
৩২ নম্বর ধানমন্ডি, শেখ মুজিবের মূর্তি বা মুক্তিযুদ্ধের সমস্ত বিধ্বস্ত চিহ্ন পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হবে কি না জানা নেই, কিন্তু আমরা বাংলাদেশকে আমরা আবার একটি শান্ত ও অগ্রমুখী রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই, শেখ হাসিনার আমলে তার যা সাধারণ চরিত্র ছিল। তা কি আবার ফিরে পাওয়া যাবে?
পরিতোষ সেনের বর্ণনায় জানা যায়, মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের কাছে সংবাদ আসে যে তাঁর প্রিয় সভাসদ এনায়েত খাঁ মৃত্যুপথযাত্রী। খবরটি শোনামাত্র সম্রাট তাঁকে দেখার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন। এই মুহূর্তেই একটি ঐতিহাসিক শিল্পকর্মের জন্মের ইতিহাস সূচিত হয়। ইনায়েত খাঁ-র জীর্ণ দেহের নির্লিপ্ত প্রতিকৃতি অঙ্কনের নির্দেশ দিলেন জাহাঙ্গীর।
ভবানন্দ গাইছিল দেবভাষায়, যেন স্তবগীতি। আন্দাজ করি, আরাধ্যার রূপ-মাধুর্য বর্ণনার পরে তার কণ্ঠ ক্রমশ উদ্দীপনার তীব্রতায় আচ্ছন্ন হয়ে উঠেছিল, ‘সপ্তকোটিকণ্ঠকলকলনিনাদকরালে–’; হঠাৎ নেহাৎ প্রাকৃতভাষায় বালকোচিত অনুযোগে সে আত্মধিক্কার ব্যক্ত করে বসে– ‘অবলা কেন মা এত বলে?’ স্তোত্র নেমে আসে স্লোগানে। দার্শনিকের অধ্যাত্ম সশস্ত্র বিপ্লবের উপযোগী হয়ে ওঠে।
ডাকবাংলো মানেই কি কেবল তথ্য ও শুষ্ক ইতিহাসের ধারাবিবরণী? লেখক অভিষেক চট্টোপাধ্যায় নিজেই আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, ‘ডাকবাংলোর ইতিহাস, স্থাপত্য, প্রয়োজনীয়তা– সমস্ত কেজো তথ্যকে একত্রিত করলেও আরও একটি আঙ্গিক ছোঁয়া বাকি থেকে যায়, তা হল ডাকবাংলোর মজার গল্পকাহিনি।’
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved