Robbar

‘গোমাতার সন্তান’ বনাম স্বামী বিবেকানন্দ!

এই বাংলায় সেই কোন কালে জয়রামবাটি নামের এক অজ পাড়া-গাঁয়ে সারদামণি নামের এক বামুনের বিধবা আমজাদ নামের এক মুসলিম জোলার এঁটো পাত কুড়িয়ে তাঁকে সন্তানের সম্মান দিয়েছিলেন, এই কথাটি ভুলে গেলে চলবে?

→

বইমেলার বিবিধ কৌতুকী

এক ফোক্কড় যুবককে গীতা বেচতে এসেছিলেন এক টিকি-রসকলি ভক্ত-সেলসম্যান। যুবকের চটজলদি উত্তর: ‘হরেকৃষ্ণ, আমি সিপিয়েম করি’ এবং পলায়ন। আরেক জন, ৫৫০ নম্বরে আদমের স্টলের ভেতরে এক সুন্দরীকে দেখে মন্তব্য করে গেলেন– ‘দ্যাখ, দ্যাখ, আদমের স্টলে ইভ!’ আবেগপ্রবণ হয়ে কবিতা পাঠ করতে গিয়ে একটি ছেলে, স্পষ্ট শুনলাম, মাইকে বললেন– ‘শীৎকার কবে আসবে, সুপর্ণা!’ মেলা ভাঙার পরে পশ্চিমবঙ্গ মণ্ডপে ঢুকতে বাধা পেয়ে এক যুবক বন্ধুকে ফোনে জানালেন– পশ্চিমবঙ্গে লকআউট, নিশ্চয়ই বাম সরকার ফিরছে।

→

বিজ্ঞান পরিবেশনা ও মিউজিয়ামের অজানা গল্প

প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পশিক্ষার বাইরে মিউজিয়ামে প্রদর্শনী সাজাতে গিয়ে শুরুতে দুটো জিনিস খুব মজার লেগেছিল। ‘ডায়োরামা’ আর ‘ট্যাক্সিডার্মি’। ডায়োরামা একেবারেই নাটকের একটা মঞ্চের মতোই। আর কোনও জন্তু-জানোয়ারের তার নিজস্ব লোমওয়ালা চামড়াটা ব্যবহার করে, ভেতরে খড়কুটো বা তুলো ভরে সেটাকে সত্যিকারের সাইজে তৈরি করার নাম ট্যাক্সিডার্মি।

→

প্রায় শতবর্ষ প্রাচীন ‘পাক-প্রণালী’ থেকে ভেসে আসে চিৎপুরের সেকেলে ঘ্রাণ

মূলত সচেতন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালির রসনাতৃপ্তির কথা ভেবেই শরৎচন্দ্র দাস লিখেছিলেন তাঁর বইটি। এজন্য লেখক বর্ণিত বেশিরভাগ রান্নাই প্রয়োজনীয়। তবে যুগপৎ একঘেয়েমি এড়াতে ও বৈচিত্র আনতে সূচিতে স্থান পেয়েছে ‘হাবসী পোলাও’, ‘ফরাসী কালিয়া’, ‘গোলাপ ফুলের পোলাও’, ‘মোগলাই সিঙ্গারা’, ‘আমের বর্ফি’-র মতন পদ।

→

মেলায় পাবেন শ্রেষ্ঠ শত্রুর জন্য উপহারের বই!

শনিবারের বারবেলায়, নিশ্চিতভাবেই বহু বাঙালিই পরস্পরের পাদুকায় পদাঘাত করেছেন, নেহাত বইমেলার সঙ্গে সংস্কৃতির একটা ঘাঁতঘোঁত আছে, বাস-ট্রাম-মেট্রো-ট্রেন হলে একটা এসপার-ওসপার হয়ে যেত নিশ্চিত! তবে মেলাতেও খাস বাংলায়, সাংস্কৃতিক পদ্ধতিতে খিস্তি করার বেশ কিছু উপায় আছে। সত্রাজিৎ গোস্বামীর ‘অকথ্য শব্দের অভিধান’, অভ্র বসুর ‘বাংলা স্ল্যাং: সমীক্ষা ও অভিধান’, কিন্নর রায়ের ‘খিস্তোলজি’র মতো বই অনায়াসে শত্রুপক্ষকে গিফট করে বলুন, ‘সব আপনারই জন্য!’

→

অস্তিত্বের সংকটে পেপারব্যাক বিপ্লবের আদিপুরুষ

দূরপাল্লা আর বই, এককালে সমান্তরালে চলত। জানলার পাশে আলগা আলোয়, ফুরিয়ে যেত কত ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনি, কত রহস্য় উদ্ধার হত স্টেশনের পর স্টেশন পেরিয়ে গেলে। বই ও ভারতীয় রেলের সম্পর্কটি দূরসম্পর্কের নয়, তারা ছিল নিকটবন্ধুই। এ এইচ হুইলার সেই বন্ধুত্বের প্রমাণ। ক্রমশ নানা সরকারি নীতিতেই রেলস্টেশন থেকে হারাচ্ছে বইয়ের দোকানগুলি, অথচ ‘ইন্ডিয়ান রেলওয়ে লাইব্রেরি সিরিজ’ নামে বেশ কিছু বই ছাপা হয়েছিল এককালে। পেপারব্যাক বিপ্লবের সেই আদিপুরুষ, এ এইচ হুইলার হয়তো হারিয়েই যাবে চিরতরে। হুইলারের সার্ধশতবর্ষের গোড়ায়, সেই ইতিহাস ফিরে দেখা, আজকের দৈন্য সময়ের ক্লান্ত বিশ্লেষণ।

→

বিফের মতো সুপাচ্য, পুষ্টিকর মাংস ভূ-ভারতে নেই, মেয়েকে চিঠিতে লিখেছিলেন বুদ্ধদেব বসু

একুশ শতকের ভারতে, এমনকী কখনও বাংলাতেও বিশেষ রাজনৈতিক মদতপুষ্ট ব্যক্তিরা হুংকার ছাড়েন আমিষ বর্জনের। খবরে প্রকাশ, দেশের কোথাও-কোথাও না কি নবরাত্রির সময় (হায়! আমরা আগে রামনবমী নয়, অন্নপূর্ণা পুজো বলতাম) হপ্তাভর আমিষ খাওয়া নিষিদ্ধ। কলকাতায় চিকেন প্যাটিস বিক্রেতা রিয়াজুলকে হেনস্তার খবরও অজানা নয়। কিন্তু বু.ব.-র লেখায় পড়ছি স্বয়ং বাল্মীকি তাঁর কাব্যে বনবাসী রাম-লক্ষ্মণকে প্রায়ই দেখিয়েছেন মৃগয়ায় পাওয়া রাশিকৃত পশু নিয়ে ঘরে ফিরতে।

→

‘না কিনুন, একবার হাতে নিয়ে দেখুন!’

ভিড়ভর্তি মেলার মাঠে দু’ হাত অন্তর ছবি! হাতছানি দিয়ে ডাকছে, কতকটা আদ্যিকালের ছাপানো বিজ্ঞাপনের অদৃশ্য সুরে– ‘না কিনুন, একবার হাতে নিয়ে দেখুন!’ বিস্তর শিল্পী, লেখক, সম্পাদক, ছাপাখানার কর্মীদের সমবেত সম্মেলনে এক মহা ধুমধাম। বইয়ের ছবি? ছবির বই? নাকি ছবিতে গল্প? কোনটা? বোধহয় সবগুলোই সত্যি।

→

পানীয় সংবাদ

মদ নিয়ে বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে অজস্র বইয়ের নাম করা যায়। যখন হাতের কাছে নেই কোনও পানীয়, ধীরে ধীরে চুমুক দিন এইসব বইয়ের পাতায়। তবে মনে রাখবেন পাস্তুরের সেই অমোঘ উক্তি: ‘A bottle of wine contains more philosophy than all the books in the world.’

→

কোনও পসরাই অবিক্রিত পড়ে থাকে না বৈরাগ্যতলার ভাঙামেলায়

বৈরাগ্যতলার ভাঙামেলা যেন মেলার ক্লাইম্যাক্স। কিছুটা সস্তায় পাওয়া যায় বলে লোকে আরও ভিড় জমায়। মেলায় দোকানদারদের কথায় বাবা গোপালদাসের কৃপায় মেলার কোনও জিনিস অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে থাকে না।

→