পেলে-গ্যারিঞ্চা। পর্তুগিজ ‘O Rei’ বা ‘The King’ পেলের পাশে ‘Alegria do povo’ বা ‘joy of the people’– গ্যারিঞ্চা। এদোয়ার্দো গ্যালিয়ানো পেলে সম্পর্কে বলতে গিয়ে অমরত্বের কথা বলেছিলেন। আর গ্যারিঞ্চা? তাঁকে নিয়ে ছিল পাগলের মতো মুগ্ধতা।
১৫০ বছর আগের একটা মানুষ যেন ঘাড়ের কাছে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। শুরু থেকে একজন ব্যক্তি এবং তাঁর সঙ্গে সময়ের সম্পর্কের কথা পাঠকের অনুমান, যোগফল, সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারার স্বাধীনতা দেয়। এক নিঝুম দুপুরে আপন মনে হঠাৎ আবিষ্কারের সেই সুপরিচিত পদ্ধতিটিকে উসকে দেয় ছাপাইয়ের উৎকর্ষ।
দরগাতলায় পরে ঢোলের জারি। ঢোল-কাঁসি আর সানাই বাদনের যুগলবন্দিতে বাঁশ নাচাতে শুরু করেন মাদার ভক্তরা। বাজনার তালে-তালে বাঁশ কখনও হাতের তালু, পেট, ঘাড়, কপাল, বুক ছুঁয়ে যায় চমৎকার গতি বিক্ষেপে। নাটকীয় মূর্ছনা আর সাবলীল ব্যালেন্সের কয়েকটি নান্দনিক চিত্রমালা।
গভীর রাত্রে ঝুম্পার ‘রোমান স্টোরিজ’ শেষ করে আমার মন পৌঁছচ্ছে এক বিহ্বল প্রশ্নে: কেমন সেই লেখার টেবিল, যার বুকে ঝুম্পা লিখতে পেরেছেন ‘দান্তে আলিগিয়েরি’র মতো বিরল গল্প? যে গল্পের দান্তে-তাড়িত সন্ধানী গবেষকের মতো ঝুম্পা বলতে পারেন, আমার নিজের কোনও ভাষা নেই। আমার নিজের কোনও দেশ নেই। পৃথিবীর সব দেশ আমার। সব ভাষাও আমার।
যে শহর একসময় দেওয়াল দিয়ে বিভক্ত ছিল, সেই শহরকে আজ বিশ্ব-সিনেমার এক ধরনের ‘নৈতিক রাজধানী’ হিসেবে দেখা হয়। মানবাধিকার, যুদ্ধ ও শরণার্থী সংকট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আলোচনা প্রায়শই এই মঞ্চেই শোনা যায়। অথচ ঠিক সেখান থেকেই যদি বলা হয় ‘রাজনীতি সিনেমার বাইরে থাকুক’, তখন প্রশ্ন ওঠে: সিনেমা কি আদৌ রাজনীতি ছাড়া সম্ভব?
একটি কাব্যগ্রন্থ আর একটি সিনেমার মধ্যে আশ্চর্য একটি যোগসূত্র পেয়ে যাই যখন দেখি দু’টির কেন্দ্রেই একটি গাধা। হুয়ান রামোন হিমেনেথ-এর গদ্যকবিতার বই ‘প্লাতেরো অ্যান্ড আই’ (মাদ্রিদ, ১৯১৪) আর রবার্ট ব্রেসোঁ-র সাদা-কালো ছবি ‘বালথাজার’(ফ্রান্স, ১৯৬৬) একটি ‘নির্বাক’ প্রাণীকে ঘিরেই সম্ভব হয়ে উঠছে একটি যাত্রা রূপে।
১৯০১ সালের ২২ জানুয়ারি ইংল্যান্ড থেকে এক টেলিগ্রামে রানি ভিক্টোরিয়ার মৃত্যুসংবাদ কলকাতায় পৌঁছনোর অল্পক্ষণের মধ্যেই সেই শোকসংবাদ ছড়িয়ে পড়েছিল সারা ভারতে। এরপর থেকেই ব্রিটিশ সরকারের পৃষ্ঠপোষণায় দেশের অভিজাত সম্প্রদায় ইংল্যান্ডের মহারানির মৃত্যুতে শোকপালনের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছিল। ভারতের অগুনতি সংবাদপত্র যেভাবে নিজেদের পৃষ্ঠাগুলিকে কম্পিত ও সিক্ত করেছিল, বহু বছর পর সেগুলি দেখতে বসে করুণ রসের চেয়ে হাস্যরসের উদ্রেক বেশি হয়! রানি ভিক্টোরিয়ার প্রয়াণের ১২৫ বছরে ফিরে দেখা।
একটা বটবৃক্ষের ভিতর একটা কালো পাথরের পুজো হচ্ছে। তিনি কৃষ্ণাচণ্ডী। আগে মুখের একটা অবয়ব বোঝা গেলেও, এখন সিঁদুর লেপে মুখ আর বোঝা যায় না। তবে দেখে মনে হচ্ছিল কিছুটা বৌদ্ধদেবীর আদল।
দারিদ্র, দুর্ভোগ বা অসহায়তাকে অতিরঞ্জিত এবং চমৎকার সেনসেশনালভাবে ছোট-বড় ভিডিও, ডকুমেন্টারি কিংবা ফিকশন ফিচার ফিল্ম, কিংবা নিছক মোবাইল ফটোগ্রাফির মাধ্যমে দেখিয়ে দর্শকের সহানুভূতি, দান, ভিউ ফান্ড ফলোয়ার আদায় করা। এ হল আজকের নতুন ট্রেন্ড। পভার্টি পর্ন।
মাঠ ও মাঠের বাইরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই তীব্র হোক, ক্রিকেট শেষপর্যন্ত ছিল একটি মানবিক সম্পর্কের জায়গা। আজ, যখন হাত মেলানো নিয়েও প্রশ্ন ওঠে, তখন সেই সম্প্রীতি যেন আরও দূর সময়ের গল্প বলে মনে হয়।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved