সর্পদেবী হিসাবে বাংলায় বৌদ্ধদেবী জাঙ্গুলি অতি জনপ্রিয় দেবী ছিলেন। সাপের ওঝাকেও একসময় জাঙ্গুলিক বলা হত। সেইদিক থেকে দেখলে জগৎগৌরী আসলে চণ্ডী, মনসা ও জাঙ্গুলি তারার সমন্বয়ী দেবী।
আমাদের ‘মৃত মেধা’ বা অলসতা আসলে AI-এর কাছে কাঁচামাল। আমরা যত কম ভাবব, যন্ত্র আমাদের হয়ে তত বেশি ভাববে, আর ততই আমরা সেই যন্ত্রের মালিকের হাতের পুতুলে পরিণত হব। এটাই আধুনিক দাসত্ব– যেখানে শিকল দেখা যায় না, কারণ শিকলটা আমাদের হাতে নয়, আমাদের মগজে পরানো হয়েছে।
মারমুখী যুবাদের সামনে তার পরিচয়, ভাষা বা আইডেন্টিটি ইন্ডিয়ান– এমন জবাবদিহি অনিবার্য হয়ে পড়েছিল অ্যাঞ্জেল চাকমার জন্য। কথা হল, এই চারটে শব্দ: ‘আমি ভারতীয়, চিনা নই’, সীমান্তবর্তী এলাকার এক মৃতপ্রায় যুককের মুখ থেকে শুনে কী ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনীতির আঁচ আমরা পাই?
একবার ভেবে দেখা যাক আরবল্লি নেই। গরম বালি ক্রমশ গলা টিপে ধরেছে পশ্চিমের ছোট ছোট নদীগুলোর; ক্রমে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশের পশ্চিম প্রান্ত বালিতে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে; গঙ্গার গতিপথ হারিয়ে যাচ্ছে গরম বালিতে; ভারতের জলবায়ুর ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। সব কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে– তাই না?
এই মেয়ের শরীর এমন এক মুদ্রিত বিবরণী, যার সমস্তটা তালিকাভুক্ত করা যায় না। এই নারীর শরীর এক অন্তহীন তথ্যপঞ্জি, যার শেষ পাতায় বেচারা রিচার্ড কোনও দিন পৌঁছতে পারবে না।
আমাদের গিয়েছে যে উলের দিন, একেবারেই কি গিয়েছে? কিছুই কি নেই বাকি? শীত পড়েছে যখন জাঁকিয়ে, পুরনো গরম জামার মধ্যে থেকে, কখনওসখনও বেরিয়ে পড়ে আমাদের পুরনো শীত, পুরনো উলে-বোনা গরম জামার দিনকাল। নয়ের দশক থেকে ধীরে ধীরে এই বদলে যাওয়া পৃথিবীতে, সেই উল-বোনা জামা অনেকটা টাইমমেশিন।
জপমালার প্রতিটি দানা শরচ্চন্দ্র ব্যবহার করতেন পথ মাপার জন্য। প্রতি ১০০ কদম হাঁটার পর তিনি একটি করে দানা সরাতেন। তাঁর প্রার্থনাচক্র বা জপযন্ত্রের ভেতরে পবিত্র মন্ত্রের বদলে লুকনো থাকত কম্পাস এবং জরিপের মানচিত্র। এমনকী তাঁর লাঠির খোপে লুকনো থাকত থার্মোমিটার।
গত বছর এই ক্যালেন্ডারের বিষয় ছিল, আমাদের দেশের মানুষের খাবারের বৈচিত্র। ২০২৬ সালকে ধরলে, এই ক্যালেন্ডার এবার পঞ্চম বছরে। এবারে এই ক্যালেন্ডার চেষ্টা করেছে শিল্পের মাধ্যমে প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধের জীবন্ত গল্পগুলিকে তুলে ধরতে।
যখন কার্টুনিস্ট চণ্ডী লাহিড়ীর সঙ্গে কাজ করতাম, তখন একটা অদ্ভুত জিনিস জানলাম। ওঁর লেখা, মানুষ কী করে মানুষ হল– এই বিষয়ের ওপরে একটা বইয়ে বলেছেন: কড়ি যেমন ছোট ছোট পয়সা, তেমনই তার চেয়ে বড় পয়সার জন্য কাঠঠোকরার মাথায় আয়োজন। আশ্চর্য! কাঠঠোকরার মাথার খুলি না কি ছিল কড়ির চেয়ে দামি মুদ্রা!
গত শতকের আটের দশকের সূচনায় শান্তিনিকেতনের গুরুপল্লীতে এক পৌষসন্ধ্যায় নির্বাপিত হল নিভৃত বিপ্লবী সত্যেন সেনের প্রাণপ্রদীপ। কিছু নিকট আত্মীয়স্বজন ছাড়া শান্তিনিকেতনে তাঁর আট বছর অবস্থানের কথা জানবার চেষ্টা করেননি কেউ। অথচ উভয় বঙ্গের কমিউনিস্ট আন্দোলনের, কৃষক আন্দোলনের অন্যতম রূপকার ছিলেন এই অকৃতদার মানুষটি।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved