

‘জয় নয়, অংশগ্রহণই আসল’: অলিম্পিক্সের মহাবাক্য যাই হোক না কেন, এখন সাফল্য বলতে ভারতীয়রা নিরীহ প্রচেষ্টাকে পাত্তা দেয় না। বোঝে পদক আর প্রতিষ্ঠা। এবারের কমনওয়েলথ তাই পদকের আড়ালে এক নিঃশব্দ আন্দোলন, এক গোপন ক্রীড়া-বিপ্লব।
আমেরিকার যে কৃষি-মডেলের ফাঁসে বিপর্যস্ত সেখানকার কৃষকদের জীবন, সেই কর্পোরেট মডেল ভারতের মতো দেশে ক্ষুদ্র কৃষকদের আদৌ কি আশার আলো দেখাতে পারবে? বরং আমেরিকার নীতি থেকে শিক্ষা না নিয়ে সেই একই কর্পোরেট-নির্ভরতার পথে হাঁটলে তা ভারতীয় কৃষকদের জন্য ডেকে আনতে পারে ঋণের মরণফাঁদ।
যতদিন পৃথিবীতে যুদ্ধ থাকবে, যতদিন বোমার আঘাতে শিশুরা কাঁদবে, ততদিন ‘ফ্লাওয়ার পাওয়ার’ দর্শন আমাদের মনে করিয়ে দেবে, মারণাস্ত্রের চেয়েও মানুষের ভালোবাসা অনেক বেশি স্থায়ী। শক্তির জোরে সাময়িকভাবে জয়ী হওয়া যায়, কিন্তু পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রাখতে গেলে শেষ পর্যন্ত ভালোবাসারই শরণাপন্ন হতে হবে। সেখানেই মানুষের চূড়ান্ত মুক্তি।
ফরসা নয় কালো। ‘দ্য ওডিসি’-তে এভাবেই হেলেন এবং এবং ক্লিটেমনেস্ট্রাকে ভেবেছেন পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান। চরিত্রের সেই ভার বহনের জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন অভিনেত্রী লুপিটা নিয়ং’ও-কে। সেই ছকভাঙা ভাবনার নেপথ্যে কোন ভূমিকা পালন করেছে নোলানের লেখার টেবিল?
বিক্ষোভ-বিদ্রোহের কোনও শীর্ষচূড়া হয় না, যেখানে পৌঁছে গেলেই লিখে ফেলা যায় ‘We won’। জয়ের জন্য এই পৃথিবীতে কোনও বিদ্রোহ বোধহয় আয়োজিত হয়ও না। বিরুদ্ধাচরণ এক ধরনের যাত্রা, যা শুধু দাঁড়িয়ে থাকে শাসককে প্রশ্ন করার মধ্যে দিয়েই। সেই ইতিহাস যতখানি লিখিত নথি, ঠিক ততখানিই জরুরি সেই ইতিহাসের ছবি।
‘গ্লোব স্কিমার’। হলদে বা কমলা রঙের এই বিশেষ ফড়িং বাংলায় দেখা যায় মূলত বর্ষাকালেই। তাদের এই আর্বিভাবের নেপথ্যে থাকে এক সুদীর্ঘ পথযাত্রা। ভারত থেকে মধ্য এশিয়া হয়ে আফ্রিকা– গ্লোব স্কিমারদের এই পরিযাণ-চক্রের পরিসীমা প্রায় ১৮,০০০ কিলিমিটারের। বিস্ময় বটে, কিন্তু ঘোর বাস্তব!
‘Palermo Shooting’ এবং ‘Blow-Up’ চলচ্চিত্র– দুই নিরাসক্ত আলোকচিত্রীর জীবন নিয়ে। ফটোগ্রাফির যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য উভয়েই মরিয়া। দিনের পর দিন, একই রকমের ছবির ভিড়ে, তারা আর নিজেদের অস্তিত্ব খুঁজে পাচ্ছে না। আমাদের সকলের মতো: তাদেরও কাঙ্ক্ষিত: মুক্তি।
পূর্ণেন্দুদা বইয়ের ছাপাছাপি নিয়ে খুঁতখুঁতে ছিলেন। তবু নিজের লেখা বা বইয়ের নাম ভুল ছাপা হওয়ায় তাঁকেই সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বিত হতে হয়েছে বলে শুনেছি। প্রথম উপন্যাসের বিজ্ঞাপনে না কি ‘দাঁড়ের ময়না’ ছাপাখানার ভূতের কারসাজিতে ‘দাঁতের ময়লা’ ছাপা হয়েছিল।
রবীন্দ্রনাথের বন্ধু হওয়া তো সোজা ব্যাপার নয়! জগদীশচন্দ্র হয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ স্বীকার করেছেন যে, ঠাকুরবাড়ির বাইরে জগদীশচন্দ্র বসুই তাঁর প্রথম বন্ধু। স্বীকার করেছেন, তাঁর নিঃসঙ্গ জীবনের কোণ থেকে জগদীশচন্দ্র তাঁকে টেনে বের করেছিলেন।
গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্যের জীবনকাহিনি আজ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, বড় কিছু করার জন্য সবসময় প্রাচুর্য বা বড় ডিগ্রির প্রয়োজন হয় না, যা প্রয়োজন তা হল একাগ্রতা, নিষ্ঠা এবং চারপাশের প্রকৃতিকে ভালোবাসার এক সত্যান্বেষী মন।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved