যে সম্পর্ক প্রেমের, প্যাশনের, প্রতীক্ষার, তার তো বৈবাহিক স্ট্যাম্প লাগে না; তা সদাই নিত্য, নিত্যই সত্য। তাই এই যৌথ সম্পর্কের পোশাকি নাম যাই হোক না কেন, এদেশের যুগলদের ভালোবাসার, ভালো-থাকার সুখানুভূতির ঘাটতি যে হচ্ছে, সেটাই বড় কথা।
চলতি এআই সামিটে ওপেনএআই-এর কর্ণধার স্যাম অল্টম্যান বলেছেন, এই মুহূর্তে ভারতে চ্যাটজিপিটি সমেত এআই টুল ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি। আমেরিকার পরেই...। তিনি চান, ভারতের মতো বিরাট জনসংখ্যার দেশে কোনও মানুষ যেন এআইয়ের সংস্পর্শ থেকে রেহাই না পায়! তবেই সারা পৃথিবীকে এনে ফেলা যাবে হাতের মুঠোয়।
‘আমরা কোথায় যাচ্ছি কে তা জানে’, তবুও প্রশ্ন আমরা কি ঘুরে ঘুরে আবার পুরনো জায়গায় ফিরে আসি? গোটা পৃথিবীটাই তার আহ্নিক গতিতে নিজ অক্ষে এবং বার্ষিক গতিতে সূর্যের চারপাশে ঘুরতে ঘুরতে আগের জায়গায় ফিরে আসে বলেই তো শুনি। এই ঘূর্ণি দুর্নিবার, এক অনন্ত ঘূর্ণিপাক।
ভাষার জন্যেই তো এত কিছু। কত কিছু? ভাষার কাজ তাকে তার মৃত্যুর পর কতদিন বাঁচিয়ে রাখবে? তা নিয়ে তার বিন্দুমাত্র দুশ্চিন্তা নেই। বাংলা ভাষার প্রতি, তার সংখ্যাহীন শ্রোতা আর পাঠকদের (যাঁদের মধ্যে তার ছাত্রছাত্রীরাও আছে) প্রতি গভীর ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতা নিয়ে, এ ভাষা বলা আর লেখার সঙ্গে জুড়ে থেকেই সে জীবন সমাপ্ত করতে চলেছে।
হাঁটতে হাঁটতে অন্নদাশঙ্কর প্রায় সারাক্ষণই গান্ধীজির অর্থনীতি ও নীতিতত্ত্ব নিয়ে একাই বলে গেলেন। যেন তিনি মুখে মুখে কথা বলে গান্ধীকে নিয়ে কোনও লেখার জন্য মনে মনে খসড়া তৈরি করছিলেন। এক ফাঁকে তাঁকে আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতির পত্রিকা প্রকাশের পরিকল্পনা জানাই ও সেই সঙ্গে তাঁর কাছে আধুনিক শিল্পের উপর লেখা চাই।
জীবনের টানে আর কাজের প্রয়োজনে আমি অনেক জায়গায় গেলাম, অনেক মানুষের সঙ্গে মিশলাম, তাদের ভাষা শুনলাম, তাই আমার বাংলা ভাষার মানচিত্রটা অনেকটা বড় হয়ে গেল। এ আমার মস্ত প্রাপ্তি। সঙ্গে সঙ্গে সেই মানচিত্র জটিলও হল, কাঁটাতারের দাগ লেখা হল তার গায়ে, আমার ভাষা রক্তাক্ত হল।
লেখালেখি জীবনের ৬০ বছর অতিক্রম করলেন লেখক, সম্পাদক, রবীন্দ্র-গবেষক অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য। তাঁর বাবা, অধ্যাপক বিজনবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন রবীন্দ্রনাথের রিসার্চ স্কলার, পরবর্তীকালে রবীন্দ্র রচনাবলি-র গুরুত্বপূর্ণ সম্পাদকীয় সদস্য। তাঁর শুরু করা রবীন্দ্র-গবেষণার বিস্তৃত ভুবনটিকে বর্তমানে আরও ঐশ্বর্যময় করে তুলেছেন অমিত্রসূদন। তাঁর লেখালেখি, পাঠ ও অন্বেষণ নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকার।
যে শ্যামলেন্দু ভালোবাসত শেক্সপিয়র পড়তে, সে যখন নিজের কর্পোরেট উচ্চাশার কাছে সমর্পণ করে ক্ষমতার নিষ্ঠুর নোনাজল মেখে ফেলে– তার গভীর আত্মগ্লানি যে ভাষায়, যে রূপকল্পে দেখান শংকর, তাতে বোঝা যায়, কীভাবে তিনি প্লটের গাঁথনিতে মিশিয়ে রাখছেন তাঁর শেক্সপিয়র ট্রাজেডির পাঠ।
কোনো শিশুকে ঘুম পাড়ানোর সময় ভূতের গল্প বলার সময়, ভূতের আগমনের সময় বাবা বা মা সব কথার আগে চন্দ্রবিন্দু যোগ করে বলেন। ভূত কথা বলে প্রতিধ্বনিতে, স্মৃতিতে, বস্তুতে— চিঠি, গান, ডায়েরি, রেকর্ডে। তাই ভূতের কণ্ঠ সবসময় শব্দ ও নীরবতার মাঝখানে, স্মৃতি ও বর্তমানের মাঝখানে দুলতে থাকে।
শংকর চলে গেলেন। রেখে গেলেন বাঙালির, চাকরিজীবী বাঙালির ও চাকরিকেন্দ্রিক বাঙালির মুখ দেখার সাহিত্য দর্পণ।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved