মূলত সচেতন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালির রসনাতৃপ্তির কথা ভেবেই শরৎচন্দ্র দাস লিখেছিলেন তাঁর বইটি। এজন্য লেখক বর্ণিত বেশিরভাগ রান্নাই প্রয়োজনীয়। তবে যুগপৎ একঘেয়েমি এড়াতে ও বৈচিত্র আনতে সূচিতে স্থান পেয়েছে ‘হাবসী পোলাও’, ‘ফরাসী কালিয়া’, ‘গোলাপ ফুলের পোলাও’, ‘মোগলাই সিঙ্গারা’, ‘আমের বর্ফি’-র মতন পদ।
শনিবারের বারবেলায়, নিশ্চিতভাবেই বহু বাঙালিই পরস্পরের পাদুকায় পদাঘাত করেছেন, নেহাত বইমেলার সঙ্গে সংস্কৃতির একটা ঘাঁতঘোঁত আছে, বাস-ট্রাম-মেট্রো-ট্রেন হলে একটা এসপার-ওসপার হয়ে যেত নিশ্চিত! তবে মেলাতেও খাস বাংলায়, সাংস্কৃতিক পদ্ধতিতে খিস্তি করার বেশ কিছু উপায় আছে। সত্রাজিৎ গোস্বামীর ‘অকথ্য শব্দের অভিধান’, অভ্র বসুর ‘বাংলা স্ল্যাং: সমীক্ষা ও অভিধান’, কিন্নর রায়ের ‘খিস্তোলজি’র মতো বই অনায়াসে শত্রুপক্ষকে গিফট করে বলুন, ‘সব আপনারই জন্য!’
দূরপাল্লা আর বই, এককালে সমান্তরালে চলত। জানলার পাশে আলগা আলোয়, ফুরিয়ে যেত কত ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনি, কত রহস্য় উদ্ধার হত স্টেশনের পর স্টেশন পেরিয়ে গেলে। বই ও ভারতীয় রেলের সম্পর্কটি দূরসম্পর্কের নয়, তারা ছিল নিকটবন্ধুই। এ এইচ হুইলার সেই বন্ধুত্বের প্রমাণ। ক্রমশ নানা সরকারি নীতিতেই রেলস্টেশন থেকে হারাচ্ছে বইয়ের দোকানগুলি, অথচ ‘ইন্ডিয়ান রেলওয়ে লাইব্রেরি সিরিজ’ নামে বেশ কিছু বই ছাপা হয়েছিল এককালে। পেপারব্যাক বিপ্লবের সেই আদিপুরুষ, এ এইচ হুইলার হয়তো হারিয়েই যাবে চিরতরে। হুইলারের সার্ধশতবর্ষের গোড়ায়, সেই ইতিহাস ফিরে দেখা, আজকের দৈন্য সময়ের ক্লান্ত বিশ্লেষণ।
একুশ শতকের ভারতে, এমনকী কখনও বাংলাতেও বিশেষ রাজনৈতিক মদতপুষ্ট ব্যক্তিরা হুংকার ছাড়েন আমিষ বর্জনের। খবরে প্রকাশ, দেশের কোথাও-কোথাও না কি নবরাত্রির সময় (হায়! আমরা আগে রামনবমী নয়, অন্নপূর্ণা পুজো বলতাম) হপ্তাভর আমিষ খাওয়া নিষিদ্ধ। কলকাতায় চিকেন প্যাটিস বিক্রেতা রিয়াজুলকে হেনস্তার খবরও অজানা নয়। কিন্তু বু.ব.-র লেখায় পড়ছি স্বয়ং বাল্মীকি তাঁর কাব্যে বনবাসী রাম-লক্ষ্মণকে প্রায়ই দেখিয়েছেন মৃগয়ায় পাওয়া রাশিকৃত পশু নিয়ে ঘরে ফিরতে।
ভিড়ভর্তি মেলার মাঠে দু’ হাত অন্তর ছবি! হাতছানি দিয়ে ডাকছে, কতকটা আদ্যিকালের ছাপানো বিজ্ঞাপনের অদৃশ্য সুরে– ‘না কিনুন, একবার হাতে নিয়ে দেখুন!’ বিস্তর শিল্পী, লেখক, সম্পাদক, ছাপাখানার কর্মীদের সমবেত সম্মেলনে এক মহা ধুমধাম। বইয়ের ছবি? ছবির বই? নাকি ছবিতে গল্প? কোনটা? বোধহয় সবগুলোই সত্যি।
মদ নিয়ে বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে অজস্র বইয়ের নাম করা যায়। যখন হাতের কাছে নেই কোনও পানীয়, ধীরে ধীরে চুমুক দিন এইসব বইয়ের পাতায়। তবে মনে রাখবেন পাস্তুরের সেই অমোঘ উক্তি: ‘A bottle of wine contains more philosophy than all the books in the world.’
বৈরাগ্যতলার ভাঙামেলা যেন মেলার ক্লাইম্যাক্স। কিছুটা সস্তায় পাওয়া যায় বলে লোকে আরও ভিড় জমায়। মেলায় দোকানদারদের কথায় বাবা গোপালদাসের কৃপায় মেলার কোনও জিনিস অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে থাকে না।
টেবিল, টেবিল নয়। কাগজের চোখ। এক ঝলক চোখে চোখ রেখেছ কি টেবিলের নিজস্ব চরিত্র পড়া যাবে। কী খায়, কোন দিকে হাঁটে, আহত-আক্রান্ত হলে কত রাগে, কতটুকু কাঁদে। সবই তো টেবিলে। দাহপত্র, জারি বোবাযুদ্ধের অবিন্যস্ত মাংস কেটে কেটে ছড়িয়ে রাখা; কালি কলম ইজেলের নিপুণ গৃহিণীপনা; সবই তো টেবিলে। কড়চার এ পর্বে লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়ন।
সমীক্ষা বলছে, দেশের অধিকাংশ শ্রমিক কাজ করেন গুদাম, ছোট কারখানা বা অঘোষিত শিল্পক্ষেত্রে, যেখানে সরকারি নথিভুক্তি নেই। কঠোর অগ্নিনিরাপত্তা বা জীবনবিমা আইন মানে এই শ্রমিকদের স্বীকৃতি দেওয়া, তাদের সুরক্ষার দায় রাষ্ট্রের কাঁধে নেওয়া। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে সেই দায় নিতে কেন্দ্রীয় সরকার আগ্রহী নয়।
আমি প্রায়ই বলতাম, লীলাদি আপনি রান্নার ওপর একটা বই তো লিখতে পারেন! নানা কাজের চাপে উনি তখন না-লিখতে পারলেও, পরে, ১৯৭৯ সালে, ‘রান্নার বই’ তাঁর মেয়ের সঙ্গে লেখেন। জনপ্রিয়তার নিরিখে এ আমার নয়, সমস্ত বাঙালি জাতির গর্ব ও বিশেষ প্রাপ্তি।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved