Robbar

তুলির কামনা, তুলির সাহস

সমাজের ওপর অভিমান থেকেই প্যারিসের নৈশজীবনের নেশায় মেতে উঠেছিলেন পৌনে পাঁচ ফুটের তুলুস-লোত্রেক, তাঁর দানবীয় প্রতিভা আর যৌনখিদে নিয়ে। মূলত মুলারুজের পোস্টার এঁকে এমন প্রসিদ্ধি এবং বাণিজ্যিক সাফল্যে পৌঁছন তিনি যে, ইউরোপীয় শিল্পের রূপকথায় তিনি এক অনন্য রাজকুমার।

→

দানবিক ওডিসি মানবিক নোলান

নোলানের দুয়ারে দর্শক অতিথি, তিনি জানেন না তিনি যা পরিবেশন করছেন, তা থেকে দর্শক কী গ্রহণ করবে? কোনটাকে বড় করে দেখবে? হিংসাকে না আত্মোপলব্ধিকে? সমস্তরকম সম্ভাবনা সত্ত্বেও তিনি আতিথেয়তায় কোনও ত্রুটি কিন্তু রাখেননি।

→

গীতা, গীতাঞ্জলি ও গোলপোস্ট

‘গীতা পাঠের চাইতে ফুটবল খেলা ভালো’– এই বাণী অবশ্য স্বামী বিবেকানন্দের মুখে মানায়। কারণ, নরেন্দ্রনাথ দত্ত বেশ ডাকাবুকো। খেলাধুলোয় পারঙ্গম। স্বভাব আমুদে। রবীন্দ্রনাথ বিবেকানন্দের মতো খেলা-পারঙ্গম ছিলেন না। কুস্তি তাঁকে শিখতে হয়েছিল। শরীরের কাঠামোও চমৎকার। তাঁর ব্রহ্মচর্যাশ্রমে খেলাধুলোর বিশেষ গুরুত্ব ছিল।

→

মিসিং কবিতা, গল্প ও চা

মিসিং ভাষার লেখাপত্র প্রকাশের প্রতিষ্ঠানের অভাব। মিসিং সাহিত্য মূলত মৌখিক আর লিপিও কোনও নির্দিষ্ট রূপ পায়নি। মিসিং জনজাতির অধিকাংশ শিক্ষিত মানুষ অসমিয়া ভাষা ব্যবহার করতেন কারণ সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যম ওটিই। জীবন নরহের উদ্যোগেই মিসিং কথন সাহিত্য সারা ভারতে পোঁছেছিল।

→

আন্দোলনের কথকঠাকুর

শুষ্ক মরুভূমির অভিশাপ কাটিয়ে কীভাবে আজ শস্য-শ্যামল হয়ে উঠল রাজস্থানের এক প্রান্তের নেমি? সরকারি নথিতে যা আজও ‘নেমি-ডেসার্ট’! ভোলবদলের নেপথ্যে আছে যে স্বপ্ন আর পরিশ্রম– সেই লড়াইয়ের কথা আজও কেন পাহাড় ডিঙিয়ে পায়ে হেঁটে বলে চলেন চরণদাস বাবা?

→

রবি অবলা আলাপন

ইউরোপ থেকে ফেরার খবর পেয়ে ম্যাগনোলিয়া ফুল নিয়ে রবীন্দ্রনাথ অভিনন্দন জানাতে গেলেন জগদীশচন্দ্রকে। কিন্তু সেদিন সস্ত্রীক জগদীশচন্দ্র কোথাও গিয়েছিলেন। তাঁর টেবিলের ওপর ফুলটি রেখে আসেন কবি। অবলার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের বন্ধুত্বকে কোনও কোনও গবেষক ভিন্ন আলোকে ব্যাখ্যা করলেও তার মধ্যে সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায় না।

→

রাবীন্দ্রিকতার সাজপোশাক

যে রবীন্দ্রনাথ সারাজীবন প্রথার অনর্থক খাঁচাগুলি ভাঙতে ভাঙতে চলেছেন, মার্কা দেওয়ার সংস্কৃতিকে নস্যাৎ করতে চেয়েছেন– তাঁরই রচিত আশ্রম ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁরই গানের আত্মাকে আড়াল করেছে অনুষঙ্গের ভার। আর এভাবেই ‘রাবীন্দ্রিক’ শব্দটি ক্রমশ দূরে সরে গিয়েছে স্বয়ং এবং সমগ্র রবীন্দ্রনাথের থেকে!

→

ছাইফুল

৯ আগস্ট, ১৯৪৫। সভ্যতার সংকটের এক নতুন অধ্যায়ের সাক্ষী ছিল তামাম বিশ্ব। জাপানের হিরোশিমার পর নাগাসাকিতে আছড়ে পড়েছিল পরমাণু বোমা। প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছিল মানবতার অস্তিত্বকেই। ১৯৪৫-এর ৯ আগস্ট। সকাল ১১টা বেজে ২ মিনিট। হতে পারত অন্য সকাল। সে সকাল হতে চেয়েছিল মিজুকাগে পাহাড়ে এক সাত বছরের বালক ইউতোর আশ্চর্য সেই লাল ফুলের নাম জানতে চাওয়ার দিন। বদলে তাকে কী উপহার দিয়েছিল যুদ্ধের পৃথিবী?

→

আমার বন্ধু জয়

১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরে যখন জয়কে দেখলাম, চেয়েছিলাম, তিনি কিছু বলুন। কিন্তু দর্শকদের আপত্তিতে জয় মঞ্চে উঠেও কথা না বলে নেমে গেলেন। আমি গভীরভাবে ব্যথিত। জয়কে অপমান করা শুধু জয়কে অপমান করা নয়; তাঁকে যিনি মঞ্চে ডেকেছেন, সেই আমাকেও অপমান করা। কবিতাকে অপমান করা। মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে অপমান করা।

→

আমার বন্ধু তসলিমা

সাহিত্যের জন্য নিজেকে কতদূর সমর্পণ করা যায়, নিজের সংকল্পে স্থির থাকা যায়– তার মস্ত উদাহরণ হয়ে থাকবেন তসলিমা। কিন্তু প্রশ্ন: তসলিমা নাসরিনের লড়াই, সাহিত্য, জীবনের দার্শনিকতা– আত্মজীবনী, উপন্যাস ও কবিতার মধ্য দিয়ে যেখানে পৌঁছল, সেই স্বাধীন পৃথিবীর নাগরিক এখন কারা?

→