Robbar

রোজনামচা

শরীর শরীর, তোমার মন নেই, মণিকর্ণিকা আছে

মণিকর্ণিকা নিয়ে দু’চার কথা। মানুষ পুড়ে যাওয়ার তাপ, হাওয়ার কোপ। একজন-দু’জন নয়। একসঙ্গে অনেকে। এলোমেলো এদিক-সেদিক পড়ে আছে জীবনে ব্যবহার করা ‘জরুরি’, হয়তো বা অতিপ্রিয় বস্তুটি। তাকে এই বেলায়-অবেলা-কালবেলায় ছেড়ে যেতে হল। মন পুরোপুরি পুড়ে যাওয়ার পর, এখন শরীরের পালা।

→

গণমানুষের ইতিহাস জানতে গিয়ে জানলাম গণকবরের কথা

বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিচয় হচ্ছিল আমাদের গণমানুষের ইতিহাস আর বর্তমানের সঙ্গে, তাদের গণকবর থেকে নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ আমাকে শেখাতে থাকে, দেখাতে থাকে এই দুনিয়ার দোজখ কেমন।

→

উঁচু-নিচু জাতির শ্মশান আলাদা, মরেও শান্তি নেই!

কেউ কেউ বলে শ্মশানের থেকে পবিত্র জায়গা আর হয় না। কিন্তু পোড়া কাঠ, ভাঙা মাটির হাঁড়ি, ছেঁড়া কাপড় মিলিয়ে যে আবহ তৈরি হয় তাকে কখনও আমার ‘পবিত্র’ বলে মনে হয়নি। গা-শিরশির কমেনি।

→

শেষকৃত্য করার জন্য রবীন্দ্রনাথের পুত্র রথীন্দ্রনাথকেও শ্মশানে রাস্তা দেওয়া হয়নি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্মশানযাত্রা যখন শ্মশানে এসে পৌঁছয়, তখন আরও একটি মৃত্যু যন্ত্রণার কথা সেদিনের শ্মশানের বাতাসে মিশে গিয়েছিল।

→

একদিকে কান্না হাহাকার, অন্যদিকে নীরব কর্মপ্রবাহ

প্রতিটি গ্রামে নিজস্ব শ্মশান আছে। সেই শ্মশানের মোটামুটি দু’টি ভাগ; একটি ব্যক্তিগত। অপরটি 'সাজারে' বা সর্বজনীন। ব্যক্তিগত শ্মশানে নির্দিষ্ট বংশ পরম্পরায় দাহ করা নিয়ম। সাজারে শ্মশানে গ্রামের সব শ্রেণির অধিকার।

→

শ্মশানের সঙ্গে বৈরাগ্যের কোনও সম্পর্ক নেই, তবুও প্রবাদের মতো সত্য শ্মশান-বৈরাগ্য

একমাত্র শ্মশানে গেলেই এই ধরনের বৈরাগ্য সাময়িকভাবে মানুষের ওপর চেপে বসে। কিন্তু এরাই বাড়ি ফিরে গেলে পরপর দু’দিন যদি প্রাতঃকৃত্যের সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে তখন এরা ওই শ্মশানে যাওয়াটাকেই দায়ী করবে।

→

সূর্যাস্তে ক্লান্ত পাখিদের ফেরা আসলে আত্মসমর্পণ, যা রাগসংগীতের কাছাকাছি, মনে করতেন নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়

নিখিল ছিলেন ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক সুন্দর মিশ্রণ, ‘মহান অপবিত্র’ (Great Impurist) বলে যাঁকে পণ্ডিত রবিশঙ্কর মজা করে ডাকতেন, সেই আলাউদ্দিন খানের শিষ্য হয়েও তিনি জীবনে ছিলেন প্রগতিশীল ও মুক্তমনা। নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনে বিশেষ লেখা।

→

রাজনীতিকে তত্ত্বে আটকে রাখলে এদেশে গরিবের ভালোর চেয়ে মন্দ হয় বেশি, বলতেন অজিতেশ

মৃত্যুর কিছুদিন আগে কেয়ার মরদেহের সামনে অজিতেশ বলে উঠেছিলেন, ‘কমরেড কেয়া আমরা তোমায় ভুলছি না, ভুলব না।’ আর এদিনের মহাযাত্রায় সেই কমরেড, যিনি একদিন কোলিয়ারি থেকে ‘মহৎ উদ্দেশে পাড়ি দিয়াছিল’!

→

রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক ‘বিশিষ্টজন’দের চিনতেন, তাই কেয়া চক্রবর্তীর মৃত্যুতদন্তে সই সংগ্রহে আপত্তি ছিল অজিতেশদার

‘এই সইগুলো আমরা করাব, খবরের কাগজ সংবাদ তৈরি করবে, কিন্তু আর কী হবে? কিচ্ছু হবে না। হলে সিনেমার লোকজনরাই প্রতিবাদ করত, এগিয়ে আসত। আমার কথা মিলিয়ে নিও।’ অজিতদার দৃঢ় কথাগুলো আজ মনে হয় একদম ঠিক।

→

উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আজীবনের পথচলায় তীর্থ নয়, ভ্রমণই ছিল মুখ্য

হিমালয় ভ্রমণকাহিনি বলতেই জলধর সেন আর উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কথাই মনে আসে সবার আগে। ৯৫ বছরের দীর্ঘ জীবনকালে (১৯০২-১৯৯৭) ৮৬ বছর বয়স পর্যন্ত ঘুরে বেড়িয়েছেন উমাপ্রসাদ। সুবিস্তৃত ভ্রমণজীবনে হিমালয় থেকে কন্যাকুমারিকা অবধি ভ্রমণকাহিনি লিখেছেন। বাঙালিকে পাহাড়ের সৌন্দর্য চিনিয়েছেন। বাংলার বাঘ স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের তৃতীয় পুত্র উমাপ্রসাদের জন্ম ও মৃত্যু উভয়ই ১২ অক্টোবর। সেই উপলক্ষে বিশেষ এই নিবন্ধ।

→