Robbar

লাইমলাইট

সিঙ্গল স্ক্রিন সিনেমা হলের সংস্কৃতি মাল্টিপ্লেক্স বহন করেনি

বর্তমানে ভারতের অধিকাংশ সিঙ্গল স্ক্রিন হল বন্ধ হয়ে গিয়েছে, নয়তো অস্তিত্ব সংকটে। সাধারণ জনগণের জন্য তৈরি হয়েছিল এই হলগুলো, বর্তমানে তাদের জায়গা দখল করে নিয়েছে উচ্চমূল্যের মাল্টিপ্লেক্স সংস্কৃতি। একে তো টিকিটের উচ্চ দাম, তার ওপর পপকর্ন-জলের বিল, আর অতিরিক্ত যাতায়াত খরচ– সব মিলিয়ে চলচ্চিত্র দেখা যেন এখন অভিজাত শ্রেণির বিনোদনে রূপান্তরিত।

→

নগ্ন সত্যকে দেখানোর জেদই জাফর পানাহির চলচ্চিত্রভাষা

পানাহির সিনেমার প্রতিটি ফ্রেম বুঝিয়ে দিয়েছে ইরানের সরকার, নীতি-নির্ধারক মন্ত্রালয় এমনকী পুলিশও শিল্পের ভাষা ও শক্তিকে কী পরিমাণ ভয় করতেন। অনিশ্চয়তায় ভুগতেন সরকারি আধিকারিক ও প্রতিষ্ঠান, তাই ‘ফ্রিডম অফ স্পিচ’ ব্যাপারটা এদের অভিধানে ছিল না। তাই কুড়ি বছরের জন্য সিনেমা-নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা।

→

জাফর পানাহির চলচ্চিত্রভাষা বদলাচ্ছে, তাঁর পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবিটি কি একটি রিভেঞ্জ ড্রামা?

‘ইট ওয়াস জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট ’ পাঁচজন লোকের কথা বলবে, যে পাঁচজন রাজনৈতিক বন্দি একসময় একটি লোককে খুঁজে পায়, যাকে দেখে তাদের মনে হয় এই সেই লোক, যে জেলখানায় তাদের ওপর অত্যাচার করেছিল। তারা লোকটিকে অপহরণ করে এবং ঠিক করে তাকে একটি নির্জন মরুপ্রান্তরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করবে। তাহলে পানাহির এই ছবি কি একটি রিভেঞ্জ ড্রামা?

→

জীবনের দরজার বাইরে আমাদের একখানা করে দুঃখের নুড়ি পড়ে আছে

জেসি আইসেনবার্গের ‘আ রিয়াল পেইন’ আমাদের শিখিয়ে দিয়ে যায় যে আমাদের প্রত্যেকের বাড়ির দরজার বাইরে একটা নুড়ি পড়ে আছে। যখনই কষ্ট পাব আমাদের ভাবতে হবে আমাদের পূর্বসূরিরা এর থেকেও বেশি ব্যথা নিয়ে পৃথিবীতে টিকেছিলেন। জীবনের রণে ভঙ্গ দিয়ে আমাদের সরে গেলে চলবে না।

→

বং জুন হো-র সাম্প্রতিক সিনেমা ‘মিকি সেভেন্টিন’ এমন কোন প্রশ্ন তুলল, যার জন্য প্রচারে এল না সিনেমাটি?

সাধারণত কোনও পরিচালকের সিনেমা অস্কার পেলে সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে তাঁর পরের সিনেমা দেখার জন্য। এবং প্রোডাকশন কোম্পানি সেই মতো প্রচার চালায়, যাতে আরও বেশি মানুষ সিনেমা দেখেন এবং কোম্পানির মুনাফা হয়। বং জুন হো-র এই সিনেমা কোথাও সেভাবে প্রচার করা হল না বিশ্বজুড়ে।

→

আজকের কিশোররা বেঁচে আছে ম্যানোস্ফিয়ারে, এ এমন এক ভার্চুয়াল জগৎ যেখানে তৈরি হচ্ছে পৌরুষের চেহারা

বছর খানেক আগে হাওড়ায় রাম নবমীর মিছিলে কিশোর সুমিত শা-এর ছবি ভেসে ওঠে, যে বন্দুক উঁচিয়ে হুংকার দিচ্ছিল ‘জয় শ্রী রাম’। মনে পড়ে যায় পহেলু খানকে পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত দুই কিশোরের কথা যারা অ্যাডোলেসেন্সের জেমির চরিত্রের মতোই সাজা কাটাচ্ছে বিশেষ সংশোধনাগারে।

→

যৌনকর্মী অ্যানি সেই শ্রমজীবী নারীমুখ, যাকে পরিচালক যত্ন নিয়ে দু’ঘণ্টা উনিশ মিনিটের জার্নিতে গড়ে তুলেছেন

শন বেকার প্রান্তিক পেশার মানুষগুলোর কথা দ্বিধাহীন বলতে চান। এবং তা বাজার অর্থনীতির বোদ্ধাদের খবরদারি না শুনেই।

→

এ সিনেমা এক ক্ষমাহীন অপমানের, এক উদ্বাস্তুর, এক অপমানিতের

‘দ্য ব্রুটালিস্ট’ সিনেমার নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে অনেক কিছু। যে যুদ্ধ পরবর্তী আমেরিকান সমাজ আমরা সিনেমায় দেখতে পাই, তার মধ্যে অবশ্যই এক নীরব পাশবিক মুড রয়েছে। যা প্রতি মুহূর্তে আমাদের চোখের সামনে ‘রিফিউজি’ শব্দটির এক ভয়ংকর উপাখ্যান তুলে ধরে।

→

অপরাধ ঢাকতে নারীতে পাল্টে‌ যাওয়া যে ছবির বিষয়, সেখানে চাপা রূপান্তরকাম-বিদ্বেষ থেকে যায়

মানিতাসের 'এমিলিয়া পেরেজ়'-এ পরিণত হওয়াটা দেখে মনে হয় পরিচালক যেন জানেনই না আজও পৃথিবীতে একজন রূপান্তরকামী মানুষের জীবন কতটা দুর্বিসহ।

→

রসুইঘরে ঝাঁজ কিছু কম পড়িয়াছে!

রান্নাঘরের মতো অস্তিত্ব গিলে-খাওয়া একাকিত্বের হাতকড়া যে এমনিতেই জীবন জুড়ে দগদগে ঘায়ের মতো বয়ে বেড়াতে হয়, তা বোঝানোর দায়টা কে নেবে?

→