

কেউ ধর্ষক হয়ে জন্মায় না। সমাজ, রাষ্ট্র, পরিবার ধর্ষক তৈরি করে। একজন ধর্ষককে পিটিয়ে মারলে বা ফাঁসি দিলেও ধর্ষণ বন্ধ হয়ে যায় না, যাবে না, যতদিন না ধর্ষক তৈরি হওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটাকে আমরা পালটাতে পারি।
পূজা– এক শিক্ষিত স্পষ্টভাষী তরুণী, সে যখন কমলেশকে তাদের বাসররাতে অরুণের জোরপূর্বক যৌন-আক্রমণের কথা জানায়, তখন কমলেশ অবিশ্বাস-ভরে তাকেই চড় মারে। ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ নিয়ে চিন্তার এই আকাল সমাজের মানসিকতার বাস্তবিক উপস্থাপনা মাত্র। এর প্রতিফলন দেখা যায় আমাদের আশপাশে ঘটে যাওয়া অগুনতি ঘটনায়।
ভাড়াটে ভোটার, মাইগ্রেটেড, ডুপ্লিকেট, সংখ্যালঘু, মৃত, অবৈধ অনুপ্রেশকারী, কতরকমের অ্যালিগেশন! কাল দেখলাম একজন লিখেছেন, প্রচুর মেয়ের নাম বাদ এবারের ভোটে। বোঝো! সংখ্যালঘু আর মহিলাদের কেন যে সরকার এমন যমের মতো ভয় পায়, কে জানে!
আমরা কোনওদিনই গরিব, বস্তিবাসীদের ঠিক আমাদের সমতুল্য মানুষ ভাবিনি, ভাবি না। তার ওপর সেই মানুষদের কেউ যদি ধর্মে মুসলমান হন, তাহলে তো কথাই নেই! আমরা ধরেই নিই, মুসলমান মানেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী!
আজ ইরান যে মুক্তি চায়, তার আলো তেহ্রানের হাইরাইজে কার্পেটে-মোড়া লিভিং রুমে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তার স্বাদ ও সম্ভাবনা পৌঁছে দেবে সেই প্রত্যন্তবাসিনীদের অবগুণ্ঠনের অন্তঃপুরেও– কবিগুরুর কলম ধার করা বাংলার সেই ‘সাধারণ মেয়ে’র মতোই যারা ‘ফরাসী জর্মান জানে না, কাঁদতে জানে’।
লেখা শেষ করে জানলাম, রিয়া-রাখির বিয়ে মোটেও রাখির গ্রামে হয়নি, তাদের এক বন্ধু সাংবাদিক তার নিজের গ্রামে তাদের নিয়ে আসে, বিবাহ অনুষ্ঠান সেখানেই সম্পন্ন হয়। কেন নিয়ে আসতে হল? পরিস্থিতি কি তাহলে অনুকূল ছিল না? পাঠক, এই ধোঁয়াছবি দেখতে দেখতে অপেক্ষা করুন।
উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল সম্প্রতি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনারে ছাত্রীদের লিভ-ইন অর্থাৎ সহবাসের সম্পর্ক থেকে দূরে থাকতে বলেছেন। সতর্কবার্তা হিসেবে মনে করিয়েছেন সহবাসে বাঁচা মেয়েদের শরীর পঞ্চাশ টুকরোয় ছিন্নভিন্ন হয়ে পাওয়ার কথা। এদিকে জাতীয় অপরাধ সূচির তথ্য বলছে, ভারতে মেয়েদের ওপর হিংসার সবচেয়ে বেশি ঘটনাই গৃহহিংসা এবং তথাকথিত বিয়ের সম্পর্কের মধ্যে হয়ে থাকে।
যে পুরুষ সাংবাদিকরা সেদিন ভিতরে বসেছিলেন, তাঁদের অনেকেই পরে সমালোচনামূলক পোস্ট লিখেছেন– কিন্তু তখন, সেই মুহূর্তে, কেউ হাঁটেননি বাইরে। হয়তো পেশাদার নীরবতাই তাদের শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে।
‘ভাইরাল’ হতে পারা ইনফ্লুয়েন্সারদের সর্বতো আকাঙ্ক্ষা, আমরা জানি, কিন্তু একটি দুর্বল গোষ্ঠীর মানুষদের যতরকম ভাবে পারা যায় অনলাইন-হেনস্তা করে সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা তো আদতে একটা অপরাধ। ‘থ্যাইল্যান্ড’ দেশটার যে কেবল রূপান্তরকামী মানুষদের দেহব্যবসা দিয়ে পরিচয় তা এরা না-থাকলে জানা হত না।
যুক্তিপূর্ণ এবং সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের কিছু অযৌক্তিক এবং বস্তাপচা উত্তর হয়, যা মূলত ট্র্যাডিশন ও পরম্পরাধর্মী। যেমন, এত বছর ধরে চলে আসা এই সাবেকি নিয়মই এদেশের ঐতিহ্য, ইত্যাদি ও ইত্যাদি। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved