প্রশ্নটা শুধু একজন শিক্ষক আর বিধায়কের দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নয়। এ হল, ক্ষমতার ঔদ্ধত্যকে প্রশ্ন করা, চোখে চোখ রেখে অধিকারের কথা বলা। হ্যাঁ হ্যাঁ বলা সঙ আর ব্যক্তিত্বহীন মানুষের ভিড়ে এমন শিক্ষকও তাহলে এখনও আছেন এ রাজ্যে!
যে শহর একসময় দেওয়াল দিয়ে বিভক্ত ছিল, সেই শহরকে আজ বিশ্ব-সিনেমার এক ধরনের ‘নৈতিক রাজধানী’ হিসেবে দেখা হয়। মানবাধিকার, যুদ্ধ ও শরণার্থী সংকট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আলোচনা প্রায়শই এই মঞ্চেই শোনা যায়। অথচ ঠিক সেখান থেকেই যদি বলা হয় ‘রাজনীতি সিনেমার বাইরে থাকুক’, তখন প্রশ্ন ওঠে: সিনেমা কি আদৌ রাজনীতি ছাড়া সম্ভব?
দারিদ্র, দুর্ভোগ বা অসহায়তাকে অতিরঞ্জিত এবং চমৎকার সেনসেশনালভাবে ছোট-বড় ভিডিও, ডকুমেন্টারি কিংবা ফিকশন ফিচার ফিল্ম, কিংবা নিছক মোবাইল ফটোগ্রাফির মাধ্যমে দেখিয়ে দর্শকের সহানুভূতি, দান, ভিউ ফান্ড ফলোয়ার আদায় করা। এ হল আজকের নতুন ট্রেন্ড। পভার্টি পর্ন।
৩২ নম্বর ধানমন্ডি, শেখ মুজিবের মূর্তি বা মুক্তিযুদ্ধের সমস্ত বিধ্বস্ত চিহ্ন পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হবে কি না জানা নেই, কিন্তু আমরা বাংলাদেশকে আমরা আবার একটি শান্ত ও অগ্রমুখী রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই, শেখ হাসিনার আমলে তার যা সাধারণ চরিত্র ছিল। তা কি আবার ফিরে পাওয়া যাবে?
এইচআইভি-এইডস কীভাবে ছড়ায় আমরা জানি। কিন্তু এ রোগের চিকিৎসাও এখন ভীষণভাবে উন্নত হয়েছে। এইচআইভি আর যাতে এইডসে পরিণত না হতে পারে, ভারতে তেমন চিকিৎসা প্রায় বিনামূল্যে বিতরিত সেই প্রথম দিন থেকে, এতগুলো বছর। সঠিক চিকিৎসায় এইচআইভি না নিরাময় হলেও একজন রোগী প্রায় বাকি জীবন স্বাভাবিক ভাবে, সুস্থ ভাবে কাটাতে পারে।
নিপুণ রাজনৈতিক কৌশলে বাঙালি আর বাংলাদেশী, পরিযায়ী শ্রমিক আর উদ্বাস্তু, বাংলাদেশী আর অনুপ্রবেশকারী, এসআইআর আর নাগরিকত্ব– প্রত্যেকটা বিষয়কে একেবারে ঘুলিয়ে-ঝালিয়ে একসা করে দেওয়া হল, যার নিট ফল– মানুষ দিশেহারা, বিভ্রান্ত, আতঙ্কিত। এই ‘আতঙ্ক’-ই ভোটের বাক্সে কেরামতি দেখাবে বলে বিজেপির বিশ্বাস?
যখন চারিদিকে এই ঘৃণার পরিবেশ, যখন আমাদের চেনা শহরেও চিকেন প্যাটিস বিক্রি করার অপরাধে হেনস্তা হতে হচ্ছে, যখন একটি কলকাতার বিখ্যাত রেস্তরাঁতে একজন মুসলমান বেয়ারাকে, একটি অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য তাঁর ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ শুনতে হচ্ছে তখন উত্তরাখণ্ডের ‘মহম্মদ দীপক’ যেন রূপকথার চরিত্র হিসেবে সামনে আসছেন।
শেষপর্যন্ত তাঁদের চার বছরের লড়াইটা জিতেই গেল লাসোসিয়াসিও ফাম এ সিয়ঁস (উইমেন অ্যান্ড সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন)। এবারে প্যারিসের ইফেল টাওয়ারে খোদিত ৭২ জন নামী পুরুষের নামের পাশে থাকবে ৭২ জন বিশিষ্ট নারীর নামও।
শেষমেশ রাত ৯টার ঘণ্টাধ্বনি। একযোগে হাততালি। স্টল থেকে রাস্তায় নেমে আসা। চারপাশ দেখে নেওয়া, চারপাশের মধ্যে আকাশের পতনোন্মুখ চাঁদটিও পড়ে। চোখ ছলছল। হাতে হাত, জড়িয়ে ধরা। বন্ধুবান্ধব, অর্ধপরিচিত-অপরিচিতর দিকেও কয়েক পলক বাড়তি দৃষ্টি। মলিন হাসি। বারেবারে আর আসা হবে না। ওই যে অলীক বন্ধুত্ব দিয়ে শুরু হয়েছিল বইপত্রিকা, প্রকাশন– হয়তো প্রকাশন আর নেই, বন্ধুত্বও– তবুও আলিঙ্গন, তবু কিছু মায়া রয়ে গেছে।
বইমেলার আনাচেকানাচে পেত্নী, ব্রহ্মদৈত্য, ভূত-মুখোশ পরে উদ্দাম নাচ– ভয়াল, ভয়ংকর, আতঙ্ক, অঘোরী, পিশাচ, বই, বাণিজ্য, বিপণনে মিলে মেলার মাঠে এক্কেবারে কুম্ভীপাক! অজানার উদ্দেশে বাঙালির দুর্মর আকর্ষণ বরাবরই। আবার মোচ্ছবেও বাঙালির বেজায় আগ্রহ। সেই পথ ধরেই বীভৎস রস ক্রমে আসিতেছে।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved