বাংলা ভাষা আর বাঙালিদের সঙ্গে তাঁর বিনিময় ছিল না বললেই চলে। তাঁর কবিতা বাংলা ভাষায় নয়ের দশকের আগে অনুবাদ হয়েছে বলে মনে পড়ছে না। রমাকান্ত রথও বাংলা কবিতা পড়তেন না। বাংলা বর্ণমালা শেখেননি আর সে কথা নিজের মুখে আমাকে বলেছিলেন। কেন শেখেননি, সে কথাও জানিয়ে ছিলেন। অনেক ওড়িয়া কবি বাংলা কবিতার প্রভাবে তাঁদের নিজস্ব ভাব ও কাব্যভাষা হারিয়ে ফেলেন। রমাকান্ত চেয়েছিলেন অন্ধের মতো হাতড়াতে হাতড়াতে নিজের পথ খুঁজে নিতে। এককথায় ভাব ও ভাবনায় স্বাধীনতা চেয়েছিলেন।
কবি রমাকান্ত রথ (১৯৩৪-’২৫) ১৬ মার্চ ভোরে ভুবনেশ্বরে চলে গেলেন। আজ পুরীতে তাঁর শরীর পঞ্চভূতে বিলীন হল। আধুনিক ওড়িয়া সাহিত্যের এক অপূরণীয় ক্ষতি হল। ভারতীয় সাহিত্যেরও কম শূন্যতা তৈরি হল না। তিনি যে-ভাষায় ও যে-ধারায় কবিতা লিখতেন তাঁর অনুসারীর সংখ্যা হাতে গোনা। ফলে তাঁর চলে যাওয়া মানে অনেক কিছুই হারানো।
বাংলা ভাষা আর বাঙালিদের সঙ্গে তাঁর বিনিময় ছিল না বললেই চলে। তাঁর কবিতা বাংলা ভাষায় নয়ের দশকের আগে অনুবাদ হয়েছে বলে মনে পড়ছে না। রমাকান্ত রথও বাংলা কবিতা পড়তেন না। বাংলা বর্ণমালা শেখেননি আর সে কথা নিজের মুখে আমাকে বলেছিলেন। কেন শেখেননি, সে কথাও জানিয়ে ছিলেন। অনেক ওড়িয়া কবি বাংলা কবিতার প্রভাবে তাঁদের নিজস্ব ভাব ও কাব্যভাষা হারিয়ে ফেলেন। রমাকান্ত চেয়েছিলেন অন্ধের মতো হাতড়াতে হাতড়াতে নিজের পথ খুঁজে নিতে। এককথায় ভাব ও ভাবনায় স্বাধীনতা চেয়েছিলেন।
এই স্বাধীন সত্তাই ব্যক্তি ও কবি রমাকান্ত রথের সব চেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য। যে পরিবারে বড় হয়েছিলেন সেখানে অর্থনীতির চেয়ে নীতির গুরুত্ব বেশি ছিল। ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন আর অধ্যাপনা দিয়ে জীবন শুরু করেছিলেন কিন্তু পরে ভারতীয় প্রশাসনিক পদে যোগ দেন। প্রথমে কাজের দায়িত্ব পান নিরন্ন কালাহান্ডিতে। রাজধানী ভুবনেশ্বরে ফেরার বা দিল্লি উড়ে যাওয়ার জন্য কোনও তাড়াহুড়ো করেননি। চেষ্টা করেছিলেন সেখানের মানুষজনের পাশে দাঁড়াতে। সে-সব কথা একেবারেই গল্প বলার ভঙ্গিতে বলেছিলেন। আসলে সাহিত্য অকাদেমি কালাহান্ডিতে আদিবাসী সাহিত্য ও নৃত্যের আয়োজন করেছিল। সে কথা শুনে খুশি হয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন কালাহান্ডির মানুষজন কেমন আছেন।
কত কিছুই না শেখার ছিল মানুষটার কাছে! সাহিত্য অকাদেমির যে-কোনও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আলোচনাচক্রে সভাপতিকে উদ্বোধক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এটা পুরনো রীতি। এমন বহু অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে লিখিত বক্তব্য পেশ করতেন রমাকান্ত রথ কিন্তু সম্মানদক্ষিণা নিতেন না। বলতেন যে, পদাধিকারী হিসেবে তিনি সাধারণ পাঠকের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাত্র আর তাই সম্মানদক্ষিণা তাঁর প্রাপ্য নয়। আবার ডাকলেই যে-কোনও প্রতিষ্ঠানের যে-কোনও সভায় বক্তৃতা দিতে যেতেন না। বলতেন ওই সব বিষয়ে বলার তিনি অধিকারী নন। অযথা সময় নষ্ট হয়। অথচ তরুণ লেখকরা সাহিত্য অকাদেমির ভ্রমণভাতা নিয়ে দেখা করতে গেলে এই মানুষই এক ঘণ্টা সময় ব্যয় করতেন। যত না বলতেন, তার চেয়ে বেশি শুনতেন। এটা ছিল সাহিত্যের উত্তরসূরিদের জন্যে তাঁর দায়বদ্ধতা।
ওঁর অন্য এক দায়বদ্ধতার কথাও মনে পড়ে। জীবনানন্দ দাশের নির্বাচিত কবিতা একটি কর্মশালার মাধ্যমে ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়েছে। কর্মশালা পরিচালনা করেছিলেন সুকান্ত চৌধুরী, মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এবং স্বপন মজুমদার। বইটি রমাকান্ত রথ উদ্বোধন করবেন। তিনি আমাকে সব কবিতার মূল ও অনুবাদ পাঠাতে বললেন। আমি ভুবনেশ্বরে সে-সব পাঠিয়ে দিলাম। সে সঙ্গে জীবনানন্দের উপরে চিদানন্দ দাশগুপ্তের ছোট ইংরেজি বইটিও। রমাকান্ত রথ ভুবনেশ্বরের একজন বাঙালিকে ডেকে সব কবিতার বাংলা শুনলেন আর পাশাপাশি ইংরেজি অনুবাদ পড়লেন। একটি বইয়ের উদ্বোধনের জন্যে এটা তার প্রস্তুতি। অনুষ্ঠানের আগের দিন প্রবল জ্বরে পড়লেন। ওষুধ খেয়ে রাতের ট্রেনে চড়লেন। মঞ্চে লিখিত ভাষণ পড়ার আগে ওষুধ খেলেন। তারপর রাতের ট্রেনে জ্বর নিয়ে ভুবনেশ্বরে ফিরে গেলেন। যাওয়ার সময় চিদানন্দ দাশগুপ্তের বইটি কিনতে চেয়েছিলেন। খুব ভালো লেগেছিল ওঁর। আমি জোর করে অকাদেমির উপহার হিসেবে দিই। এই দেওয়া আমার একটা সাফল্য কারণ অফিসে এলে যে এক বোতল মিনারাল ওয়াটার খেলে তার দামও দিয়ে দিতেন। পরের দিকে জোর খাটিয়ে সেটা বন্ধ করি। তবে পানের খিলির টাকা নিতেই হত।
ভেবেছিলাম রমাকান্ত রথের কবিতার কথা দিয়ে শুরু ও শেষ করব কিন্তু তাঁর ব্যক্তিজীবনের কথা এসে গেল। একদিকে ভালোই হল এখন না বললে হয়তো কোনও দিনই বলা হত না। সাহিত্য অকাদেমির ওড়িয়া পুরস্কারের নির্বাচন উপলক্ষে ভুবনেশ্বরে গেছি। বেলা এগারোটা নাগাদ সভা শেষ হয়েছে। নির্বাচন হয়ে গেছে। মনে হল রমাকান্ত রথকে না জানিয়ে কলকাতা ফেরা ঠিক হবে না। কারও কাছে পরে জানতে পারলে ক্ষুণ্ণ হবেন। আমি ফোন করে বললাম সাহিত্য অকাদেমির একটা কাজে ভুবনেশ্বরে এসেছি আর কেমন আছেন জানতে চাইছি। তিনি তখন সাহিত্য অকাদেমির সভাপতি কিন্তু কোন মিটিং বা কীসের মিটিং জানতে চাইলেন না। লক্ষ্মণরেখা শুধু সীতার চারপাশে নয়, নিজেদের চারপাশেও দিতে হয়। তাহলে অযথা নিজেকে বা প্রতিষ্ঠানকে অপ্রিয় প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় না।
রমাকান্ত রথ শুধু জিজ্ঞেস করেছিলেন, দুপুরে কোথায় খাব। স্টেট গেস্ট হাউসে খাব বলাতে বললেন দুপুরে ওঁর বাড়িতে খেতে আর সাড়ে বারোটার মধ্যে তৈরি থাকতে। ঠিক সাড়ে বারোটার সময় রমাকান্ত রথ নিজে গাড়ি চালিয়ে নিতে এলেন আর দুপুরে ওঁর স্ত্রী শান্তি দেবী ভাত ও নানা তরকারি খাওয়ালেন। একেবারেই মাতৃসমা তিনি। রমাকান্ত রথের প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে তাঁর অবদান যথেষ্ট ছিল বলে ওড়িয়া মানুষজনের কাছে শুনেছি। তবে সেদিন দুপুরে খাওয়ার পাশাপাশি একজন বাঙালি পেয়ে তিনি ‘দেবদাস’ ছবি নিয়ে অনেক কথা বলেছিলেন। তখন সদ্য ‘দেবদাস’ সিনেমা হল-এ এসেছে। তিনি তুলনা করে বোঝাচ্ছিলেন শরৎচন্দ্রের কাহিনি, প্রমথেশ বড়ুয়া অভিনীত দেবদাস চরিত্র আর শাহরুখ অভিনীত চলচ্চিত্রের কথা। বলছিলেন শাহরুখ অভিনীত সিনেমা মূল থেকে কতখানি সরে এসেছে। সত্যি কথা বলতে, প্রমথেশ বড়ুয়া ছবির কথা ততটা মনে ছিল না। তাই ‘হুঁ’ দেওয়া ছাড়া বিশেষ কিছু করার ছিল না।
আর একটি ব্যক্তিগত ঘটনা দিয়ে ব্যক্তিপর্ব শেষ করি। রমাকান্ত রথ একদিন বললেন, চলো, তোমার স্ত্রী আর মেয়ের সঙ্গে আলাপ করে আসি। আমার বড় মেয়ে অমৃতা তখন ছ’-সাত বছরের। রমাকান্ত রথ তার সঙ্গে মেতে গেলেন। কোট, প্যান্ট, টাই পরা লম্বা মানুষ আমার মেয়ের সঙ্গে চক দিয়ে মেঝেতে অঙ্ক ও ইংরেজি লেখা শুরু করলেন। আমার মেয়ে তখন সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলে পড়ত। ফলে শেখার পরিবর্তে আন্টির ভঙ্গিমায় রমাকান্ত রথকে শেখাতে লাগল। রমাকান্ত রথও খুব মন দিয়ে শিখছিলেন। মনে পড়ে পিকাসোর সেই কথা, আমি শিশুর চোখ দিয়ে সব কিছু নতুন করে দেখি।
২.
রমাকান্ত রথের প্রথম কবিতার বই ‘কেতে দিনর’ (কতদিন আগে) প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে। তখন ওঁর বয়স ২৮। ওড়িয়া পাঠকেরা অবাক হয়েছিল কবিতার ভাব ও ভাষা পড়ে। রোমান্টিকতার কোনও ছোঁয়া মেলেনি সেখানে যদিও আমাদের শিক্ষার অঙ্গনে আর সাহিত্য প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে সেটাই মূল স্বর। আবেগের ঘনঘটা ছাড়া আমাদের কাব্যলক্ষ্মী পিঁড়িতে বসেন না। কিন্তু রমাকান্ত রথ সে পথ অনুসরণ করলেন না। আর একটি পরিচিত পথ ছিল প্রগতিশীলতা। বিশ শতকের তিনের দশক থেকে ভারতীয় প্রগতি সাহিত্যে জোয়ার আসে। এ ধারায় ওড়িয়া সাহিত্যিক সচ্চি রাউত রায়ের (১৯১৬-’০৪) ‘পাথেয়’ প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৩২-এ আর পরের তিন দশকে তিনি যথেষ্ট জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। কিন্তু রমাকান্ত সে পথেও গেলেন না।
বাইরের দিকে তাকানোর পরিবর্তে রমাকান্ত রথ ভিতরের দিকে তাকালেন। তিনি যেন নিজেকেই খুঁড়তে চাইলেন, খুঁজতে থাকলেন অধরা নিজেকেই। এমন এক উল্টো যাত্রার কথা আমাদের শাস্ত্রে আছে কিন্তু উৎসে ফেরার যে আশ্বাস ও আনন্দ পুরাণে ছিল, আধুনিক কালের কবি রমাকান্তের তা নেই। তাঁর আত্মানুসন্ধানের মধ্যে বিদূষকের স্বর ঢুকে পড়ে আর আত্মগরিমা অবলুপ্ত হয়ে যায়। শব্দ ব্যবহারে অসম্ভব মিতব্যয়ী রমাকান্ত কেরোসিন, ধোঁয়া, সলতের শিখা আর কিছু পোকা দিয়ে একটা লণ্ঠনের ধাতব পরিবেষ্টনী তৈরি করলেন আর সে কবিতার শেষ তিন পংক্তিতে লিখলেন–
সেই তুমি কী কখনও দেখতে পাও প্রজ্বলিত অস্তিত্ব আমার?
অনুমান কী করতে পার, আমি জ্বলছি তো জ্বলছি তীব্র বেদনায়
খাটো ধুতি আর ইস্ত্রি-করা হাফ-শার্টের ভেতরে?
কবির এই-যে উচ্চারণ এতে কোনো নাটকীয়তা নেই, ভাবালুতা নেই কিন্তু তীব্র দহন আছে।
‘ধানক্ষেত’ নামে একটি কবিতা শুরু করলেন এভাবে—
বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত খাঁ-খাঁ করছে, শুধু তার গোড়াগুলি হলদে,
গোড়া থেকে পড়ছে টপ টপ স্ফটিক শিশির জল,
ধানক্ষেত যার , মনে যেমন থাকে, সুখদুঃখ কিছু নেই; খালি
আছে কেবল কিছু নিরুদ্বিগ্ন স্মৃতি কবেকার।
পংক্তি চারটিতে বিস্তীর্ণ ধানখেতের খাঁ-খাঁ চেহারা, হলদে গোড়া, সুখ-দুঃখহীন খেতমালিক আর পুরোনো উদ্বেগহীন স্মৃতির সমাবেশ দেখে মনে হয়েছিল শীত চলে যাওয়ার সময় অনেক কিছুই ভেঙে দিয়ে চলে যাবে। সত্যিই তাই ঘটল। প্রতিটি রহস্য ও প্রতিটি গর্ব ভেস্তে গেল। বালক, গাভী আর হাতিয়ার হয়ে ভেঙে দিল। কবিতার শেষ দু’টি পংক্তিতে কবি লেখেন—
আমাদের দেহের পরিণাম নেই, শুধু শোক তির তির করে
বয়ে যাচ্ছে ফ্রেমে বাঁধা ছোটো ছোটো ফোটোগুলোর দিকে।
১৯৬২ সালের পর ১৯৬৭ সালে রমাকান্ত রথ ১৮টি কবিতা নিয়ে প্রকাশ করেছিলেন দ্বিতীয় বই ‘অনেক কোঠরি’ ( বহু ঘর)। তৃতীয় বই ‘সন্দিগ্ধ মন’ প্রকাশিত হয় ১৯৭১এ আর ‘সপ্তম ঋতু’ ১৯৭৭-এ। বই প্রকাশে কোনও তাড়া ছিল না রমাকান্ত রথের আর নিজের লেখা ছড়িয়ে দেওয়ার কোনও উদ্যোগও ছিল না। তার বিপরীতে নিজেকে আরও সংহত করার তাগিদ ছিল। শেষ দু’টি কবিতার বই পড়লে বোঝা যায় প্রতীকের প্রতি তাঁর টান কতখানি বেড়েছে আর বিস্তারের প্রতি টান কতটা কমেছে। ধ্রুপদি ঘরানার কবি রমাকান্ত জীবনের ধ্রুবপদটির জন্যে প্রায় চাতকের মতো প্রতীক্ষা করতেন।
পরের দু’টি কবিতার বই হল ‘সচিত্র অন্ধার’ (সচিত্র আঁধার, ১৯৮২) এবং ‘শ্রীরাধা’(১৯৮৫)। ‘সচিত্র আঁধার’ বইটিকে গোধূলি পর্ব ধরলে তার দু’-দিকে দু’জন রমাকান্ত আছেন। দ্বিতীয় পর্বে লেখা ‘শ্রীরাধা’য় একটি পৌরাণিক চরিত্রকে রমাকান্ত একষট্টিটি কবিতার কেন্দ্রে এনে হাজির করলেন। শ্রীরাধার মধ্যে দু’টি দিক আছে। একটি হল সে নারী আর দ্বিতীয়টি হল তার প্রেম সামাজিক ভাবে স্বীকৃত নয়। ফলে তার প্রেম সত্য হলেও দু’-বাহুর বন্ধনে তাকে বাঁধা যায় না। পূর্ণ হলেও সে প্রেম শূন্য। দু’-নম্বর কবিতার শেষ দিকে শ্রীরাধা বলছে–
আমি সবসময় চাতকিনী, অন্তরীক্ষ পর্যন্ত
প্রসারিত আমার দুটি সীমাহীন বাহুর ভেতরে
আমি এক উৎকণ্ঠিত শূন্যস্থান।
কেবল একটা শূন্যস্থান হয়েই রয়ে যাব
কারও কারও কপালে তো তা-ই থাকে।
গ্রিক ট্র্যাজেডির নায়কদের মতো রমাকান্ত রথের চরিত্রগুলি যেন নিয়তি নিয়ন্ত্রিত। সেই বিয়োগান্ত দৃশ্য ফিরে ফিরে এসেছে তাঁর কবিতায়। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের শেষে মৃতদের উদ্দেশে অন্ন ও জল দান করে কৃষ্ণ। তার চোখ ভারী হয়ে আসে। দিনান্তে কৃষ্ণ আত্মাদের বলে স্বস্থানে ফিরে যেতে কারণ তার কাছে আর দেওয়ার মতো কিছু নেই। নিজের অন্ন আর জলও সে দিয়ে দিয়েছে। যা বাকি আছে সেটা তার প্রাণ। তা কাউকে দেওয়া যায় না। ওই প্রাণের ভূমিকা শুধু দহনের, শোক পালনের।
(এই লেখাটির সমস্ত উদ্ধৃতি মূল ওড়িয়া থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন কৃষ্ণা ভট্টাচার্য। সম্পূর্ণ কবিতাগুলি পাওয়া যাবে রামকুমার মুখোপাধ্যায় সংকলিত ও সম্পাদিত ‘ভারতজোড়া কাব্যগাথা’ বইটিতে)